somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসমাপ্ত প্রতিশোধঃধারাবাহিক গল্পঃ অংশ ১১ (ফ্ল্যাশব্যাক ২)

১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃএই গল্প পুরোটাই কাল্পনিক।বাস্তবের কোনোকিছুরই সাথে এর মিল থাকার কথা নয়,আর মিল পাওয়া গেলেও সেটা কাকতাল ছাড়া আর কিছুই নয়।

দায় স্বীকারঃ লেখায় বানান ভুল থাকলে লেখক ক্ষমাপ্রার্থী।

অংশ ১১ (ফ্ল্যাশব্যাক ২)

সপ্নপুরীর সামনে এসে একটি গাড়ি থামল,গাড়ি থেকে বের হয়ে এল এক ২৫ বছর বয়সী টগবগে তরুণ,সদা হাস্যেজ্জ্বল এবং সুদর্শন।তরুণটি বের হয়ে সপ্নপুরীর মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই বেজে উঠল ব্যান্ডের বাজনা।ফিরে এসেছে মির্জা শাব্বির প্রায় ৩ বছর পর।খুশির বন্যা বয়ে গেল পুরো সপ্নপুরী জুড়ে।মির্জা শাব্বির প্রথমেয় এসে মা-বাবাকে (বেগম হেনা আর মির্জা আলি) জড়িয়ে ধরে সালাম করল।তারপর হাত মেলাল বড় ভাই মির্জা শাহরিয়ারের সাথে আর সব শেষে জড়িয়ে ধরল ছোট বোন বেগম শিফাকে।কুশল বিনিময়ের পর সবাই সপ্নপুরীর ভেতরে প্রবেশ করল।দরবার হলে বসে শুরু হল পারিবারিক কথোপকথন।

মির্জা আলিঃ আসতে কোনো কষ্ট হয় নি তো বাবা?

মির্জা শাব্বিরঃ হ্যা কষ্ট তো হয়েছেই,তোমরা সবাই গেলে খুশি হতাম,শুধু তো একটা গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছ।

বেগম হেনাঃআমরা সবাই চলে গেলে এখানে তোমাকে স্বাগত জানাত কে? এখানকার প্রস্তুতি ছিল না?

মির্জা শাব্বিরঃ হমম...

মির্জা শাহরিয়ারঃ (মির্জা শাব্বিরকে) তোমার ব্যাগগুলো রমিজ চাচাকে দিয়ে দাও,সে তোমার রুমে রেখে আসবে।

মির্জা শাব্বিরঃ থাক ভাইয়া,এই ৩ বছর সবকিছু নিজে নিজে করেছি,এখন না হয় নিজের ব্যাগ নিজেয় ভেতরে নিয়ে যাব।

মির্জা শাহরিয়ারঃ বাহ, কত বড় হয়ে গেছে ছেলেটা !

বেগম শিফাঃ তোমরা কি বলো তো? কিছু হলেই বকবক করতে বসে যাও,আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে,চল খেতে খেতে কথা বলা যাবে,আর (মির্জা শাব্বিরকে) ভাইয়া,আমি তোমাকে আমার জন্য যা যা আনতে বলেছিলাম,এনেছ তো?না আনলে তোমার খবর আছে !

মির্জা শাব্বিরঃ হা হা হা। এনেছি পাগলি,না এনে উপায় আছে?সব কিছুই আছে।

বেগম শিফাঃ ভাল,এবার খেতে চল (বেগম হেনাকে) মা সবাইকে খাবার টেবিলে পাঠাও তো,আমি গেলাম !

বেগম শিফা ভেতরে চলে যায়।

মির্জা আলিঃ পাগল মেয়েটা !

মির্জা শাব্বিরঃ একদমই বদলায়নি,ঠিক আগের মতই আছে।

মির্জা শাহরিয়ারঃ হমম...

বেগম হেনাঃ শিফা তো ঠিকই বলেছে,ছেলেটা এসেছে,কোথায় একটু হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে বিশ্রাম নেবে,তা না শুধু গল্প করা।ছেলে তো একেবারেই চলে এসেছে,সবসময় এখানেই থাকবে,তাই গল্প করা পরে হলেও চলবে।

মির্জা আলিঃ মা আর মেয়ে একদম এক রকম।

বেগম হেনাঃ তাই বুঝি? তুমি আর তোমার ছেলে দুটো যে একই ঝাঁকের কই !

একথা শুনে মির্জা শাহরিয়ার আর মির্জা শাব্বির হেসে দিল।এরপর সবাই উঠে চলে গেল খাবার টেবিলে।সেখানে আগে থেকেই বেগম শিফা খাবার খাওয়ার পোজ নিয়ে বসে ছিল।

বেগম শিফাঃ এতক্ষণে?

মির্জা শাব্বিরঃ জ্বী বাবা ! এতক্ষণে !

বেগম শিফাঃ দেখ আজকে সব খাবার আইটেম তোমার পছন্দের গুলো,এই যে ইলিশ ভাজা, ডিমের কোরমা, মুরগি রোস্ট, খাসির রেজালা, গরুর মাংস ভুনা সাথে আলু ভর্তা আর সজনে ডাল।

মির্জা শাহরিয়ারঃ ঐ শুধুই ওর প্রিয় খাবার?এগুলো তো আমারই প্রিয়।

বেগম হেনাঃ হমম আজকে সবারই পছন্দের খাবারগুলো আছে।আমি নিজের হাতে রান্না করেছি সবকটা আইটেম।

মির্জা শাব্বিরঃ বেশ তো ! কত দিন তোমার হাতের রান্না খাইনি।৩ বছর হয়ে গেছে !

মির্জা আলিঃ হমম তাই তো এখন বাবা পেট ভরে খাও যা যা লাগে।সবাই খাওয়া শুরু করো।

রাজকীয় খাওয়া দাওয়া হল মধুর পারিবারিক পরিবেশে।খাওয়া শেষ করে আবার সবাই গিয়ে বসল দরবার হলে।বেগম শিফা বারবার মির্জা শাব্বিরকে চাপাচাপি করছিল ও কি এনেছে তা দেখানোর জন্য।মির্জা শাব্বির অবশেষে রাজি হল ওর ব্যাগ খুলতে।ব্যাগ খুলে প্রায় ৩০টার মত প্যাকেট বের করল মির্জা শাব্বির।প্রথম প্যাকেটটি তুলে দিল মায়ের হাতে।ইউকে থেকে কেনা ভারতীয় কাপড়ে তৈরি এক জমকালো শাড়ি ছিল প্যাকেটে,আর বাবার জন্য ছিল ভারতীয় শেরওয়ানি।বড় ভাইয়ের জন্য ছিল ইউকের অরিজিনাল লেদার জ্যাকেট আর এক দামি ব্যান্ডের ঘড়ি,সবশেষে ছোট বোনের জন্য ছিল সবচেয়ে বেশি আইটেম।ভারতীয় স্যালোয়ার কামিজ,ভারতীয় লেহেঙ্গা,সোনার একটি নেকলেস,একটি দামি ঘড়ি আর একটি দামি ব্যান্ডের সুগন্ধি।বাকি প্যাকেটগুলো সপ্নপুরীর কর্মচারিদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হল।সবাই যার যার উপহার পেয়ে খুশি।

মির্জা আলিঃ এতকিছু আনার কি দরকার ছিল?

বেগম হেনাঃ তাই তো,এত কিছুর কি দরকার ছিল?

বেগম শিফাঃ মা, কি যে বলো না ! ভাইয়া ইউকে থেকে কি খালি হাতে আসবে? ভাইয়া তো আর সেখানে ফিরে যাবেনা তো একেবারে চলে আসার সময় সেখান থেকে জিনিসপত্র কেনাকাটা করবে না?

মির্জা শাব্বিরঃ এই তো আমার বোনটা বুঝে গেছে।সব কিছু ঠিক তো?পরে আবার নালিশ শুনতে পারব না যে এটা কি আনলে,ওটা আনো নি কেন

বেগম শিফাঃ না না,ভাইয়া,সব কিছুই ঠিকঠাক,আমি তো ভাবিই নি যে তুমি আমার জন্য এত কিছু আনবে !

মির্জা শাব্বিরঃ আমার একমাত্র ছোট বোনের জন্য আনব না তো কার জন্য আনব?

মির্জা শাহরিয়ারঃ হল না, বলতে হবে আমাদের ছোট বোন (বেগম শিফাকে) আরে আমি যে তোমাকে গত ৩ বছর যখন শাব্বির ছিল না,তখন যে ভুরি ভুরি উপহার দিতাম সেটা কিছু না?

বেগম শিফাঃ হা হা হা বড় ভাইয়া দেখি মাইন্ড করেছে !
সবাই একসাথে মিলে হেসে উঠল।একদম সুখি পরিবার বলতে যা বুঝায় সেটাই ছিল এই মির্জা পরিবার।কিন্তু এই পরিবারের মধুর বন্ধন কতদিন টিকে থাকবে?এই হাসিখুশি পরিবেশ আর কতদিন বজায় থাকবে?কারণ সামনেই যে এক মহা বিপদ আসন্ন।হায় যদি এ ব্যাপারে মির্জা পরিবার আগে থেকেই জানত !
(চলবে)

পরের অংশঃ ফ্ল্যাশব্যাক ৩

ব্লগ পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।


শারিফ শাব্বির

ইমেইলঃ [email protected]
টুইটারঃ http://www.twitter.com/kliptu
ফেইসবুকঃ http://www.facebook.com/kliptu
ওয়েবসাইটঃ
http://www.bdbuzz.tk
http://www.bdlinks.tk
http://www.kotharbuli.tk


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×