somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেতে যেতে পথে-২... {(হরতালে বেসামাল)...(রম্য রচনা-৭)}:P

৩০ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাই, পথটা কি হাসপাতালের দিকে গেছে? রাস্তায় দাঁড়ানো এক ব্যাক্তিকে অন্য ব্যাক্তির সরল প্রশ্ন। কিন্তু তিনি প্রশ্নটার জবাব দিলেন গরল করে। তার উল্টো প্রশ্ন ‘পথটার কী ডায়রিয়া বা এইডস হইছে নাকি যে হাসপাতালের দিকে যাবে? পথ সর্বত্রই যেতে পারে। সংসদ থেকে পতিতালয়-শশ্বান থেকে আঁতুড় ঘর, রাজপ্রাসাদ থেকে রাজপথ, আবার সাধারন ভবন থেকে রাষ্ট্রভবন- পথ সর্বত্রই যেতে পারে। কিন্তু ৩০ নভেম্বর দেশের সব পথই থমথমে হয়েছিল এক অজানা আশংকাতে, যেমনটি ছিল কোরবানীর ঈদের ২ দিন আগেও। বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচি আর পুলিশের দমননীতির চিপায় পড়ে সাধারন পাবলিকের মরনদশা। অনেকেই বের হয়ে কোথাও যেতে পারেননি, আবার অনেকে আটকে গেছেন মাঝপথে।

কিন্তু বিরোধী দল অথবা সরকারী দল কেউই জনতার ভোগান্তির কথা ভাবেননি। আর নেতাদের তো এ নিয়ে ভাবার সময় নেই! মূর্খদের ভাবনা শুধু পকেট গোছানোর। এক মন্ত্রি গেছেন জাপান সফরে। জাপান সফরে যাবার পর তিনি গেছেন এক স্বয়ংক্রিয় গাড়ী তৈরির কারখানায়। সেখানে গিয়ে তো তিনি তাজ্জব বনে গেলেন। হাতে তেমন কোন কাজ হয় না বললেই চলে, প্রায় সব কাজই হয় মেশিন-দ্বারা। সেই কারখানা পরিদর্শন শেষে লিফটে করে সবাই নিচে নামছিল। হঠাৎ এক ভদ্র মহিলা বিরক্তির সঙ্গে “ক্যাগ” করে উঠল। মন্ত্রি সাহেব তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মহিলার ক্যাগ করে উঠার কারন জানতে চাইলেন, কর্মকর্তা পাশের আরেক লোককে দেখিয়ে জানালেন, লোকটি নাকি মহিলাটিকে গুতো মেরেছেন। এ কথা শুনার পর মন্ত্রি সাহেব গদগদ করে বলে উঠলেন, যাক এখানে কিছু কাজ তাহলে হাতেও করা হয়। এই হচ্ছে আমাদের নেতাদের অবস্থা। তারা সোজা রাস্তাটা চেনেন কম। জনগনের পশ্চাৎ দেশে বাঁশ দেয়ার জন্য তারা সব সময় বাঁকা রাস্তাটাই বেছে নেন।

যাই হোক শেষ আরেকটা গল্প হয়ে যাক, সাথে ফ্রি হিসেবে ছোট আরেকটা দিয়ে দিব, কারন এখন সবকিছুর সাথে ফ্রি দেবার প্রথা জোরালো ভাবে প্রচলিত। বাজে কথা না বাড়িয়ে শুরু করে দেই, এক নেতা তার চাল্লিকে বলছেন, ‘ভাবছি আগামী মাস থেকে যৌতক বিরোধী আন্দোলনে পথে নামব’। তখন তার চাল্লি (খাঁটি বাংলায় চ্যালা) বলল, এই মাসেই কেন নয় হুজুর? নেতা সাথে সাথে বললেন, ধুর বোকা, এই মাসে আমার ছেলের বিয়ে, আর আগামী মাসে মেয়ের। পথ যত বন্ধুরই হোক, পথে হাঁটতে নেতাদের কোন-রুপ অসুবিধা হয় না। এক প্রেমিক জুটি সারারাত ঘুরেফিরে সকালে মেয়ের বাসায় ফিরে এসেছে। মেয়ের বাবা সারারাত ঘুরে সকালে ফিরে আসার কারন জানতে চাইলেন। তখন ভীরু প্রেমিক বলল, জ্বি-সাতটায় আমাকে অফিস যেতে হবে কিনা। আমাদের রাজনৈতিক নেতারাও মতায় যাবার পর জনতাকে পথে নামিয়ে নিজেকে উপরে টেনে তোলে সেটা বিরোধী নেতাই হোক আর সরকার দলিও নেতাই হোক। কিন্তু শেষ দিকে আবার পথে ফিরে আসেন, কারন তখন যে আবার ভোট চাইতে হয়। অন্যদিকে ক্ষমতায় যাবার পরঃ মাকসুদের সেই গানের মতন “গনতন্ত্রকে গন-ধর্ষন করে চলেন”, হরতালের নামে, দমন নীপিড়ন নীতিতে আর আমরা সাধারন জনগন তাদের রাজনৈতির বুলডোজারের পিশনে পিষ্ট হয়েও আবারো তাদেরই সুযোগ করে দেই, কারনটা হয়ত তেমন পরিস্কার নয়, তবুও মনে হয় আমাদের কাছে আর কোন দরজা হয়ত খোলা নেই। নাকি আছে? থাকলে মতামত দিয়ে জানাতে পারেন। আছে, এই আশাবাদ ব্যাক্ত করে আজকের মত বিদায়, হয়ত ফিরবো আগামিতে অন্য কোন রম্য নিয়ে, যদি সাহস পাই।।

বিঃ দ্রঃ ইহা একটি রম্য রচনা, কারো জীবনের সাথে মিল খাইলে আমি পাগল দায়ী নই। আর জানেন তো পাগলে কিনা বলে। সবাই ভাল থাকুন, শুভ কামনা রইল।

১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×