ঘড়িতে এখন সাতটা পয়ত্রিশ। আর কতক্ষন বিশ্রামে থাকব ! সর্বোচ্চ একঘন্টা। আবার যেতে হবে। শরীরটা ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়ছে। কত আর চাপ দেয়া যায়। দুুদন ধরে রাত জাগতে হচ্ছে। কি কস্ট তবুও। জানি রাত জাগলেই এ্যাসিডিটি বাড়বে। রেনিটিডিনের প্যাকেট পকেটে নিয়ে ঘুরতে হবে। ক্ষীনকায় শরীরটা আরো ক্ষীন হয়ে যাবে। চোখ গর্তে ঢুকে যাবে। পরিচিতজন দেখলে বলবে আরে, কি অবস্থা তোর। তবুও জাগতে হয়, আজো জাগতে হবে। ভাবলেই মাথা চক্কর দেয়। কোমরটা ভেঙ্গে পড়ে লক্করঝক্কর চেয়ারের সাথে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসুতি। তাই সবাই বলে এখন যৌবন অর্জনের সময়। এখনকার কস্টের ফল পাবে বুড়ো কালে। পায়ের উপর পা তুলে দিন কাটাবে। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি বুড়ো কালে কি আসলেই পায়ের উপর পা তুলে দিন কাটানো যায়! কত ধরনের যন্ত্রনা ঘিরে থাকে মরচেধরা শরীরে যা সামাল দিতে সুখ পালায় বহুদুরে তারচেয়ে বরং গায়ে শক্তি থাকতে থাকতে আরাম যা করে নেয়া দরকার।
------------------------------
ব্যস্ততা আমার কাছে মন্দ লাগেনা। প্রত্যেকটা মানুষই কাজে ব্যস্ত থাকুক এটা আমার পরম কামনা। খবর হয়ে যায় যখন ব্যস্ততা তার সীমানা পেরিয়ে একান্ত সময়টুকুও দখল করে নিতে চায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেকবো দুটি চড়ুই ছানার লাফালাফি, মাধবীলতা ঝুলে থাকবে বারান্দায়, দক্ষিনা বাতাসে আরাম চেয়ারে চোখ বুজে শুনবো কারো মধুর কন্ঠে ভেসে আসা গানের কলি। সেটুকু যখন পাইনা। তখন মনে হয় ধ্যাৎ কি হবে এত ক্যারিয়ার দিয়ে।
------------------------
কিছুদিনের একটানা চাপে এখন দিশেহারা। ক্লান্তি এসে ভর করেছে নিতল নিসর্গ সন্ধানী মনে। চোখে ঘুম ঢুলু ঢুলু। হামাগুড়ি দিয়ে হলেও শরীর পেতে চায় বিছানার নাগাল। কোন নরম বিছানার দরকার নেই কেবল পা দুটো টান করতে পারলেই চলবে। ঢাকা শহরে পাইপ বা ঝুড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা ঘর্মাক্ত মজুরের ঘুম যে কত মজার জিনিষ সে আমি এখন বুঝি।
আর না এবার একটু বিশ্রাম চাই। পড়ে থাকল সব।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



