ব্লগে এমন কিছু লিখিয়ে আছেন পক্ষ বিপক্ষের বাধা ডিঙিয়ে যাদের লেখালেখি হৃদয় স্পর্শ করে যায়। ফারজানা মাহবুবা এমনই একজন ব্লগার। আজ তার একটা পোস্ট পড়লাম। উনি বোধ হয় ব্লগে আর লিখবেন না। ব্যান হয়েছেন ইতমধ্যে। পোস্টটা দেখার পরে কেমন একটা হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা বিরাজ করছে আমার মাথার মধ্যে।
..........................
চতুরভুজ , ফারজানা মাহবুবা, সন্ধাবাতি। তিনজনই নারী ব্লগার। সামহোয়ারে সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় তিনজনই। পক্ষে বিপক্ষে আলোড়ন তোলা। তাদের নিয়মিত পাঠকদের মধ্যে আমিও একজন। একজন আর লিখছেন না। আরেকজন, ব্যান হওয়া মাহবুবার সাথে সন্ধ্যাবাতিও লিখবেন না এমন আভাস দিচ্ছেন। চতুরভুজের দেখা নেই দুমাস ধরে। কোন ঘোষনা ছাড়া নিরবেই ব্লগ ছেড়ে দিয়েছেন এ আশংকা এখন শিকড় গেড়ে বসেছে আমার মস্তিস্কে। মাথা ঝিম ঝিম করছে। একটা ছোট্ট ঝড় বইছে । ঝড়ের আবাস আকাশেও। বিদ্যুত চমকাচ্ছে ঈশান কোনে। বারান্দায় বসে নিমগাছটার আন্দোলিত রূপ দেখছি। অন্য যে কোন সময় হলে দৃশ্যটা আমার জন্য উপভোগ্য ছিলো কিন্তু এখন কেমন পানসে। তবুও প্রানপনে চেস্টা করতে লাগলাম ভাল লাগানোর জন্য।
...........................
মাত্র পাঁচ মাসের ব্লগ জীবনে চতুরভুজের কাছে কৃতজ্ঞ থাকতেই হবে। আমার দুর্বল পোস্টগুলোতে অহেতুক উৎসাহ দিয়ে ব্লগে আটকে রেখেছেন তিনি। একের পর এক লিখে গেছি ক্রমাগত 'ভাল লিখেছেন, দারুন লিখেছেন ইত্যাদি শুনতে শুনতে। ফারজানা মাহবুবাও ইদানীং নিয়মিত পাঠক হয়ে উঠেছিলেন। সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করছিলেন বিশেষত আগের একটি পোস্টে লেখার উপরে একটা সুন্দর পরামর্শ দিয়ে আমাকে চমৎকৃত করেছিলেন। সন্ধ্যাবাতির সাথে তেমন পরিচয় নেই তবে আমি ছিলাম তার লেখার নিয়মিত পাঠক। তাদের লেখা আর পাওয়া যাবে না!
...........................
গতকাল রাতে ঘুমটা বেশ ভাল হয়েছে। মাথা একদম ফ্রেশ। তবে একটা ভাবনা ঠিকই রয়ে গেছে।
মানুষ কেন ব্লগিংয়ে সময় ব্যয় করে !
সময় নস্ট করে আসলে কি পায়!
দেশ জাতির কি আসলে কোন উপকার হয় ব্লগ থেকে!
কিছু মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে নিশ্চয়ই।
কিছু ভাল লেখকের সাথে সরাসরি কথা বলা যায়।
কিছু ভক্ত পাওয়া যায় ক্ষেত্রবিশেষে।
এই তো!
কেবল এটাই তো।
............................
যারা দিনের পর দিন ঘন্টার পর ঘন্টা সময় দিয়ে একশ দুইশ কিংবা তিনশ পোস্ট দিয়ে নিজেকে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রেখেছেন যে প্লাটফর্মের সাথে সেগুলো মুছতে কেমন লাগে। অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই সুখকর নয়। রাগের মাথায় খুব সহজ কিন্তু আস্তে আস্তে ঠান্ডা মাথায় মোটেই সহজ নয়। তবুও কাউকে কাউকে তো চলে যেতেই হবে। কেউ যাবে কেউ আসবে এটাই জগতের নিয়ম। পুরাতন মুখগুলো চলে যাবে আরো উপরে যেখানে তাদের ধরার মত যোগ্যতাও হয়তো থাকবেনা অনেকের। একদল নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটবে। চলে যদি যেতেই হয় তবে কি হয় এত গুনমুগ্ধ তৈরী করে।
............................
আমারও কি একসময় চলে যেতে হবে। অনেককেই দেখলাম বিদায় নিতে। কিছুদিন আগেও ছেড়ে দিয়েছেন উম্মু আব্দুল্লাহ. মতাদর্শ ভিন্নতার কারনে ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়লেও যার নিয়মিত মন্তব্য আমার জন্য ছিলো উৎসাহব্যঞ্জক। আরো অনেকেই বিভিন্ন সময় অপ্রীতিকর সময়ের কবলে পড়ে ছিটকে পড়েছেন।
আমাকেও কি কখনো চলে যেতে হতে পারে। ভাবতে ভাবতে আমার শরীরে হালকা একটু থিরথিরানো কাপুনী ওঠে।
.............................
যেতেই যদি হবে তবে অযথা মায়া বাড়িয়ে কি লাভ! সন্তান হত্যার মতো সমৃদ্ধ পোস্টগুলো একে একে উপরে ফেলার চেয়ে আগে থেকেই যাবার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ঠিক নয় কি। ঠিক বুঝে আসছে না। একটা অহেতুক ভাবনায় আমার মগজ আক্রান্ত। সে ভাবনার কোন সমাপ্তিতে আসতে পারছিনা। পারবো কিনা তাও বোঝা যাচ্ছেনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৮ সকাল ৭:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



