somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নজরুলের কাঠবিড়ালী আমি দেখেছিলাম।

২০ শে মে, ২০০৮ রাত ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাচ ইঞ্চি চওড়া একটা তক্তার উপর সটান শুয়ে থাকতে থাকতে আমি আকাশ দেখছিলাম। দুপুরের রোদোজ্জল আকাশ। একটু দুরে বাশঝাড়, মাঝে মাঝেই বাতাসের দোলায় কচি বাশের মাথা ঢুকে পড়ছে দৃস্টির সীমানায়।আমাদের সেই আকাশেই হঠাৎ কাজী নজরুলের কাঠবিড়ালীর আগমন। আমি স্বাগতম জানিয়ে তড়াক করে উঠে বসলাম। তারপর শুরু হল তাড়া। সেকি তাড়ানো। এডাল থেকে ও ডালে, এ গাছ থেকে ওগাছে লাফিয়ে,ঝাপিয়ে চলছে আর আমি নিচে থেকেই বাগান জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছি। নজরুল কাঠবিড়ালীর সাথে ভালই গালগল্প জুড়ে দিয়েছিলেন কিন্তু আমার সে সময় নেই। গাছের নারিকেল নাকি একটাও থাকেনা ওর জ্বালায়। সুতরাং নো খাতির, পিটাও বাছাকে।

মেটে রঙের লম্বা লেজওয়ালা বড় সড় ইদুরের মত দেখতে বৃক্ষচারী প্রানীটাকে বেশ ছোট থেকেই চিনি। কাদামাটির মধ্যে যারা জন্ম নিয়েছেন, মানুষ হয়েছেন তারা সবাই চিনেন বোধ হয়। না চিনলেও অচিরেই ওটাকে চিনে নেবেন যখন দেখবেন আপনার গাছের নারিকেলের মধ্যে কিছু নেই। বিলেতি গাবের মধ্যখানে বিশাল এক গর্ত। বাতাবী নেবুর অর্ধেক নেই, আমের একপাশ পচে আছে মিস্টি পাকা পেয়ারাটা হঠাৎ উধাও। বুঝবেন ওটা কাঠবিড়ালীর কাজ এবং অতঃপর কাঠবিড়ালী দেখা মাত্রই আমার মত নেমে পড়বেন হৈহৈ রৈরৈ করে।

কাঠবিড়ালী বুঝেছে আজ আর ওর রক্ষে নেই। তরতর করে ওটা নেমে আসে তাল গাছ ধরে। মাঝামাঝি এসে লাফ দিয়ে পড়ে সুপারী গাছের মাথায়, ওখান থেকে দেবদারুর ডালে ঝাপিয়ে পড়ে। এরপর আবার উপরে উঠতে থাকে। ভীষন একটা ঝাকুনি দেই দেবদারু ধরে আর তৎক্ষনাৎ নুয়ে পড়া শাল গাছে ঝাপিয়ে পড়েই জামের ডাল বেয়ে দৌড়াতে থাকে। কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যায়, পাতার শিরশিরানী দেখে খুজে বের করি। আবার তাড়া, যথারীতি এডাল থেকে ওডালে দৌড়াদৌড়িকরে একসময় মাটিতে নেমে আসে একটু পড়েই বেল গাছ বেয়ে আবার উপরে ওঠে, চালতা পাতার আড়ালে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে পুকুর পাড়ের ঝুকে পড়া আম গাছ পার হয়ে পেয়ারা গাছে। পেয়ারা গাছে আসামাত্রই কবি নজরুল আমার স্মৃতিতে উকি দেয়।

নজরুলের সম্মানে কিংবা ইতমধ্যে ছুটাছুটির ক্লান্তিজনিত কারনে আমার মধ্যে কিছুটা মানবতাবোধ জাগ্রত হয়। আমি ছেড়ে দেই এ যাত্রায়। আজ না হয় একটা অবলা প্রানীকে মাফ করে দেয়া যায়। ক্ষমা বড় মহৎ গুন, ধরতে না পারলে দুর থেকে ক্ষমা করতে পারা আরো মহৎ নিসন্দেহে। এ মুহুর্তে আমি কি একজন মহৎ লোক চিন্হিত হতে পারি না !

কাঠবিড়ালী, কই পালালি
কোথায় গেলি হারিয়ে
কার পিটুনী ভুত ছাড়ালো
স্বস্তি দিলো তাড়িয়ে

পেয়ারা খাবি? সাহস আছে!
আয়না কাছে, দেখাচ্ছি
আজ না পারি, কালতো আছে
এখন তবে যাচ্ছি।


মহৎ হৃদয়ের কোলাহল আবার আকাশ দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কি সুন্দর নীল রং ছড়িয়ে আছে। কাঠবিড়ালী তার সুন্দর লেজটাকে গোলানো চুনের মধ্যে ডুবিয়ে একটা পোজ দিয়েছে আকাশের গায়ে। আর তাতেই ছোপ সাদা মেঘ ছড়িয়ে পড়ে সারা আকাশ জুড়ে। বাহ দারুন তো! আরে সত্যিই তো আকাশ দারুন সুন্দর লাগছে।

খামোখাই এতক্ষন সময় নস্ট করেছি। আমাকে আরেকবার বকা দিতেই যেন রবী ঠাকুরের এক পায়ে দাড়িয়ে থাকা তাল গাছ ওর ডানা ঝাপটাতে লাগল দখিনা বাতাসে। এই সুন্দর আকাশ ওকেও কাছে টানছে। আর থাকবেনা সে মাটির ঘরে। গোল গোল পাতা ঝাপটিয়ে পাখির মত উড়ে যাবে মহাশুন্যের পানে যেখানে কাঠবিড়ালীর সাদা মেঘ একা একা কথা বলে ।

সুন্দর আকাশ দেখে কাঠবিড়ালীর উপর আমার একটা শ্রদ্ধাবোধ চলে আসে। ওর অপরাধ সেতো নগন্য। না হয় খেলোই কটা গাছের ফল তাতেই কি দরকার ওকে নির্মমভাবে পৃথিবীছাড়া করার। ইস!

পৃথিবীর কোন মানুষেরই ওর জন্য একটু দরদ নেই। নজরুল কাজীই একটু দরদ দেখাতো ওর জন্য। ওর সাথে ভাব করতে চাইতো। মানবতার গান যে গেয়ে চলেছে আজীবন এটুকু জীবপ্রেম তার থাকা স্বাভাবিক। কাঠবিড়ালী মনে হয় নজরুল কাজীর খোঁজেই এধারে ওধারে ঘুরে বেড়ায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ৮:৪৬
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×