somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পের খোঁজে।

০৯ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্প আসলে কিছুই না বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি মাত্র। খুব জোর দিয়ে অথচ নির্বিকারভাবে বলে দিল একজন। আগে পরে কি হতে পারে তার কোন বালাই নেই। কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, কে কি মনে করতে পারে তার জন্য সামান্যতম ভাবনা নেই, যেন উনি বলেছেন তাই এটাই সত্য্ । এখন মানলে মানো না মানলে না মানো। যেভাবে ঈদের বাজারে দোকানদার একদাম বলে দিয়ে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকেন কিংবা পানের দোকানদার পান চিবুতে চিবুতে থু করে একদলা ফেলে আবার গল্পে মশগুল হয়ে যান, সেই থুথু কারো গায়ে পড়ল কিনা সেজন্য কোন দুশ্চিন্তার দরকার নেই।

গল্প কি আসলেই বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি! মানা না মানা একেবারেই আমার ব্যাপার। আমি অধীর হয়ে মাথা খাটাতে থাকি। মাথা খাটালে কি হবে মাথায়তো আসলে ব্রেনই নেই। ছোটবেলায় স্কুলের মাস্টার মশাই যখন অপদার্থ বলতেন তখন মনে মনে ভীষন প্রতিবাদ জানাতাম কারণ ওজন, আকার, এবং আয়তন সবই আমার ঠিক আছে। গাধা বললেও কোন মিল পেতাম না। তবে মাতাভর্তি গোবর আছে বললে আমি সত্যিই চিন্তায় পড়ে যেতাম। মাথায় কি আছে সে দেখতে পারিনা সুতরাং থাকলেও থাকতে পারে। আর গুরুজন যখন বলেছেন তখন নিশ্চয়ই একেবারে বানিয়ে বলেননি। হয়তো তাদের অভিজ্ঞতা আছে। হয়তো তাদের মাথায়ও গোবর ছিলো আস্তে আস্তে সেই গোবর থেকে ইউরিয়া সারের জন্ম হয়েছে। এখন তাই সেখানে ব্যাপক প্রতিভার ছড়াছড়ি। হা..হা..হা..

আমি আজকাল বেশ কল্পনা বিলাসী হয়ে পড়েছি। কোথা থেকে কোথায় চলে যাচ্ছি। ৫টনের সমগ্র বাংলাদেশেই এখন ব্যাপক প্রতিভার ছড়াছড়ি। নিত্যনতুন সারের প্রভাবে উর্বর মগজ চুইয়ে প্রতিভা গলে গলে পড়ছে চারিধার জুড়ে। অতিপুস্টিতে টিকতে না পেরে কারো কারো কেশরাশি পটল তুলে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিয়েছে। অথচ আমি এখনও অপুস্টিতে ভুগছি। একটা গল্প লিখবো অথচ গল্প কি কল্পনা হবে নাকি বাস্তব হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই দিন গেল ফুরিয়ে।

আচ্ছা সেই বাচ্চা ছেলেটাকে নিয়ে একটি গল্প লেখা যায়না। উঠোনে জমিয়ে রাখা বালুর মধ্যে হাত ঢুকিয়ে যে ইদুরের গর্ত বানাত। দফায় দফায় বৃস্টিতে সে বালুর ঢিবি ধুয়ে ছড়িয়ে পড়েছে উঠোনময়। ঠিক যেন বালুর সৈকত। বৃস্টির ধারা গড়িয়ে সে সৈকতে অদ্ভুত আল্পনা একে দিয়েছে। মাঝে মাঝে পায়ের ছাপ। চোট বড় মাঝারী কোনটাকে পাচটা আঙুলের দাগ অস্পস্ট আবার কোনটাতে অস্পস্ট হয়ে গেছে হাস মুরগীর এলামেলো দৌড়াদৌড়িতে।

উপুর হয়ে আনমনে বসে দাগ একে চলছে দশ বছর বয়সী মেয়েটা। ন্যাংটো ভাইটা অবাক হয়ে তাই দেখছে। বয়স দু বছরও হবেনা হয়তো। বালির ক্যানভাসে আকা ফুলের ছবি দেখে কি বুঝল কে জানে প্রাণখুলে হাসছে । মেয়েটা আবার আঁকে। ঘর আকে, পাখি আঁকে, ভাল হয়না তাই মুছে দেয় আবার বিড়ালের মুখ আকে। তারপর বিড়ালের মত কৃত্রিম গোফ উচিয়ে ডাকে মিউ!! ন্যাংটো বালক হেসে কুটি কুটি।

কি এক দৃশ্য দেখতে দেখতে আমার সময়গুরো পার হয়ে যায়। ভাল লাগে এই পরিচ্ছন্ন বিকেল। রংদনু রাঙা বিকেলে আমি পিচ্চিটার গাল টেনে দেই। মাথায় হাত বুলাই, বোনটিকে বলি কেমন আছো। ও সহাস্যে মাথা নেড়ে বলে হ্যা ভাইয়া ভালো, আপনি কেমন আছেন।

--ভালো আছি। এবার কোন ক্লাসে উঠেছো।
--ক্লাস ফোরে
--বাহ, বড় হয়ে গেছো।
--একা আসছেন নাকি সবাই । ও আবার জিজ্ঞেস করে। হয়তো ভাবছে ছোট বোনটা আসলো কিনা।
--নাহ, একাই এসেছি। কথা বলতে বলতে আমারা হাটতে থাকি। ভাইকে কোলে নিয়ে ও আসছে সাথে সাথে। কোন কারণ ছাড়াই তৃপ্তিতে আমার মন ভরে যায়। এটাকে কি কোন গল্প বলা যায়??

হয়তো এভাবেই একটি গল্পের সমাপ্তি হতে পারতো। অতপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো এমন টাইপের। কিন্তু গল্প যে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। ওদের মা মারা গিয়েছেন কয়েকদিন আগে। বাতজ্বর নামক আপাত নিরীহ রোগটিই মৃত্যুর দৃশ্যমান কারণ হয়ে দাড়ালো সেই নারীর। আমি কোনটাকে গল্প বলবো। বালুর ক্যানভাসে দুই ভাইবোনের স্বপ্নের ঘর বিড়ালের মুখের আঁকিবুকি নাকি তাদের মায়ের হারিয়ে যাওয়া।

দেড় বছরের দুগ্ধপোষ্য শিশুর কথা ভাবতে গিয়ে আমি পাথর হয়ে বসে থাকি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪২
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×