গল্প আসলে কিছুই না বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি মাত্র। খুব জোর দিয়ে অথচ নির্বিকারভাবে বলে দিল একজন। আগে পরে কি হতে পারে তার কোন বালাই নেই। কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, কে কি মনে করতে পারে তার জন্য সামান্যতম ভাবনা নেই, যেন উনি বলেছেন তাই এটাই সত্য্ । এখন মানলে মানো না মানলে না মানো। যেভাবে ঈদের বাজারে দোকানদার একদাম বলে দিয়ে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকেন কিংবা পানের দোকানদার পান চিবুতে চিবুতে থু করে একদলা ফেলে আবার গল্পে মশগুল হয়ে যান, সেই থুথু কারো গায়ে পড়ল কিনা সেজন্য কোন দুশ্চিন্তার দরকার নেই।
গল্প কি আসলেই বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি! মানা না মানা একেবারেই আমার ব্যাপার। আমি অধীর হয়ে মাথা খাটাতে থাকি। মাথা খাটালে কি হবে মাথায়তো আসলে ব্রেনই নেই। ছোটবেলায় স্কুলের মাস্টার মশাই যখন অপদার্থ বলতেন তখন মনে মনে ভীষন প্রতিবাদ জানাতাম কারণ ওজন, আকার, এবং আয়তন সবই আমার ঠিক আছে। গাধা বললেও কোন মিল পেতাম না। তবে মাতাভর্তি গোবর আছে বললে আমি সত্যিই চিন্তায় পড়ে যেতাম। মাথায় কি আছে সে দেখতে পারিনা সুতরাং থাকলেও থাকতে পারে। আর গুরুজন যখন বলেছেন তখন নিশ্চয়ই একেবারে বানিয়ে বলেননি। হয়তো তাদের অভিজ্ঞতা আছে। হয়তো তাদের মাথায়ও গোবর ছিলো আস্তে আস্তে সেই গোবর থেকে ইউরিয়া সারের জন্ম হয়েছে। এখন তাই সেখানে ব্যাপক প্রতিভার ছড়াছড়ি। হা..হা..হা..
আমি আজকাল বেশ কল্পনা বিলাসী হয়ে পড়েছি। কোথা থেকে কোথায় চলে যাচ্ছি। ৫টনের সমগ্র বাংলাদেশেই এখন ব্যাপক প্রতিভার ছড়াছড়ি। নিত্যনতুন সারের প্রভাবে উর্বর মগজ চুইয়ে প্রতিভা গলে গলে পড়ছে চারিধার জুড়ে। অতিপুস্টিতে টিকতে না পেরে কারো কারো কেশরাশি পটল তুলে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিয়েছে। অথচ আমি এখনও অপুস্টিতে ভুগছি। একটা গল্প লিখবো অথচ গল্প কি কল্পনা হবে নাকি বাস্তব হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই দিন গেল ফুরিয়ে।
আচ্ছা সেই বাচ্চা ছেলেটাকে নিয়ে একটি গল্প লেখা যায়না। উঠোনে জমিয়ে রাখা বালুর মধ্যে হাত ঢুকিয়ে যে ইদুরের গর্ত বানাত। দফায় দফায় বৃস্টিতে সে বালুর ঢিবি ধুয়ে ছড়িয়ে পড়েছে উঠোনময়। ঠিক যেন বালুর সৈকত। বৃস্টির ধারা গড়িয়ে সে সৈকতে অদ্ভুত আল্পনা একে দিয়েছে। মাঝে মাঝে পায়ের ছাপ। চোট বড় মাঝারী কোনটাকে পাচটা আঙুলের দাগ অস্পস্ট আবার কোনটাতে অস্পস্ট হয়ে গেছে হাস মুরগীর এলামেলো দৌড়াদৌড়িতে।
উপুর হয়ে আনমনে বসে দাগ একে চলছে দশ বছর বয়সী মেয়েটা। ন্যাংটো ভাইটা অবাক হয়ে তাই দেখছে। বয়স দু বছরও হবেনা হয়তো। বালির ক্যানভাসে আকা ফুলের ছবি দেখে কি বুঝল কে জানে প্রাণখুলে হাসছে । মেয়েটা আবার আঁকে। ঘর আকে, পাখি আঁকে, ভাল হয়না তাই মুছে দেয় আবার বিড়ালের মুখ আকে। তারপর বিড়ালের মত কৃত্রিম গোফ উচিয়ে ডাকে মিউ!! ন্যাংটো বালক হেসে কুটি কুটি।
কি এক দৃশ্য দেখতে দেখতে আমার সময়গুরো পার হয়ে যায়। ভাল লাগে এই পরিচ্ছন্ন বিকেল। রংদনু রাঙা বিকেলে আমি পিচ্চিটার গাল টেনে দেই। মাথায় হাত বুলাই, বোনটিকে বলি কেমন আছো। ও সহাস্যে মাথা নেড়ে বলে হ্যা ভাইয়া ভালো, আপনি কেমন আছেন।
--ভালো আছি। এবার কোন ক্লাসে উঠেছো।
--ক্লাস ফোরে
--বাহ, বড় হয়ে গেছো।
--একা আসছেন নাকি সবাই । ও আবার জিজ্ঞেস করে। হয়তো ভাবছে ছোট বোনটা আসলো কিনা।
--নাহ, একাই এসেছি। কথা বলতে বলতে আমারা হাটতে থাকি। ভাইকে কোলে নিয়ে ও আসছে সাথে সাথে। কোন কারণ ছাড়াই তৃপ্তিতে আমার মন ভরে যায়। এটাকে কি কোন গল্প বলা যায়??
হয়তো এভাবেই একটি গল্পের সমাপ্তি হতে পারতো। অতপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো এমন টাইপের। কিন্তু গল্প যে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। ওদের মা মারা গিয়েছেন কয়েকদিন আগে। বাতজ্বর নামক আপাত নিরীহ রোগটিই মৃত্যুর দৃশ্যমান কারণ হয়ে দাড়ালো সেই নারীর। আমি কোনটাকে গল্প বলবো। বালুর ক্যানভাসে দুই ভাইবোনের স্বপ্নের ঘর বিড়ালের মুখের আঁকিবুকি নাকি তাদের মায়ের হারিয়ে যাওয়া।
দেড় বছরের দুগ্ধপোষ্য শিশুর কথা ভাবতে গিয়ে আমি পাথর হয়ে বসে থাকি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



