somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবেকের প্রশ্নে ছাত্র রাজনীতি ও অস্ত্র

৩১ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কিছু দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম ঢাকা কলেজের ৫৮ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে নেয়া হয়েছে। কারণ হচ্ছে তাদের মধ্যে কারো কাছে এ্বং কারো হলে গোলাবারম্নদ, পিসত্মল, রামদা সহ ধারালো অস্ত্র পাওয়া গেছে। শুধু ঢাকা কলেজ নয় বর্তমানে দেশ জুড়ে সমসত্ম শিড়্গা প্রতিষ্ঠানেই এই অবস্থা বিরাজমান। এ নিয়ে গ্রেপ্তার, আলোচনা, সমালোচনা সবই হয় কিন্তু এর কোন সমাধান হয়না বরং বৃদ্ধি পায়। কেননা কোন হত্যাকান্ড কিংবা সহিংসতা কোন জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না । বরং একটা হত্যাকান্ড আরেকটি হত্যাকা কে এবং একটা সহিংসতা আর একটা সহিংসতাকে উজ্জেবিত করে। এর সহস্র উদাহরণ বিদ্যমান থাকা সত্যেও আমাদের শিড়্গা প্রতিষ্ঠান গুলোতে (বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় সহ উচ্চ পর্যায়ের) এ বিষয়টিকে কোন মূল্যই দেয়া হচ্ছে না । বরং পরস্পর পরস্পরকে আক্রমন করেই চলেছে। সহপাঠি মারছে সহপাঠিকে, হত্যাকান্ডবন্ধু মারছে বন্ধুকে (?) কবে এর সমাধান? না কি এর কোন সমাধান নেই? সমাধান নিশ্চই আছে কিন্তু আমরা সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার চেয়ে সংঘাতকেই(?) বেশী পছন্দ করি। তাই আমরা সংঘাতেই বাস করি।
প্রিয় পাঠক, একটা বিষয়ের দিকে খেয়াল করম্নন, আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা কোন কলেজে ভর্তি হই। তখন আমরা কি নিয়ে, কি উদেদশ্যে বিদ্যাঙ্গনে প্রবেশ করি তা সকলের জ্ঞাত। নিশ্চয়ই ভর্তির সময় খাতা-কলম, বই ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি না। আবার হলে উঠার সময়ও মা-বাবা তাদের ছেলে-মেয়েকে কাঁথা বালিশের সাথে ধারলো অস্ত্র, ছুরি, রামদা, পিসত্মল হাতে তুলে দেন না নিশ্চয়ই। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না করতেই ছাত্ররা এত সব অস্ত্র পায় কই? তাহলে কি বলবেন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ প্রশাসন এসবের ব্যবস্থা করেন? নিশ্চয়ই তা নয়। তাহলে এই সব অস্ত্র আসে কোত্থেকে আর ছাত্ররা তা পায় কই?
আরেকটি বিষয়ের দিকে লড়্গ্য করম্নন, এসব অস্ত্রধারী ছাত্রদের (প্রায়) সবাই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জরিত বা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জরিত ( না একে তো ছাত্র রাজনীতি বলা যায় না। এ রাজনীতি তো ছাত্রদের কোন কাজে আসে না, যে রাজনীতি ছাত্রদের জীবন বিনাশের কারণ, যে রাজনীতি ছত্রত্ব ধ্বংসের কারণ , তা তো ছাত্র রাজনীতি হতে পারে না ।) বিশেষ করে অধিকাংশ ড়্গেত্রেই এসব অস্ত্রধারী ক্যাডাররা সরকারি দলের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জরিত। তাহলে কি বলবেন ছাত্র রাজনীতি করতে হলে অস্ত্র লাগে? কিন্তু ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস তো এটা নয়। ১৯৪৭, ’৫২, ’৭৯, ’৭১, ’৯০- ই সর্ব ড়্গেত্রে ছাত্র রাজনীতির জয়জয়কার । তবে কেন আজ এ বেহাল দশা?
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সাধারণ ছাত্রদের হাতে তো অস্ত্র থাকে না , থাকে কলম-খাতা-বই। তাহলে একজন ছাত্র যখনই এই বেহাল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়ালো আর অস্ত্র পেয়ে গেলো। বিষয়টি কি তাহলে- অস্ত্র আর ছাত্র রাজনীতি একই সূত্রে গাঁথা? প্রশ্ন আপনাদের কাছে। এ ছাড়াও কয়েকদিন আগেও যশোরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে । এ বোমা আসলো কোথ্েথকে তা নিয়ে কি কোন তদনত্ম হয়েছে? হলে তা অপ্রকাশিত কেন?
ছাত্র রাজনীতির ঐতিয্যবহী রূপ দেখতে হলে যে পদড়্গেপগুলো গ্রহণ করতে হবে তা হল- ছাত্ররা কোত্থেকে অস্ত্র পায় তা আগে বের করতে হবে। কারা তাদের অস্ত্রদাতা এবং কেন দিচ্ছে তাও বের করতে হবে। ছাত্রদের সহজ-সরল ও পূর্নিমার জোঁসনার মত উজ্জল মনকে যারা ব্যবহার করে আমাবস্যার গহীন অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে তাদেরকে বের করে শাসিত্মর আয়োতায় আনতে হবে । ছাত্রদেরকে নিজের স্বকীয়তা ও অসত্মীত্বেকে ভুলে গেলে চলবে না । তাই ছাত্রদেরকে আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়বিশ্বাসী, স্বাধীনচেতা ও মেধাবী বিবেকের পরিচয় দিতে হবে। তবেই ছাত্র রাজনীতি আমাবস্যার গহীন থেকে পূর্ণিমার চাঁদের মত আপন মহীমায় উজ্জেবিত হবে।
অস্ত্র কিংবা পেশীশক্তি দিয়ে মানুষের শরীরের পতন সম্ভব কিন্তু বিবেকের নয় বরং এতে করে বিবেক জাগ্রত হয় বৈকি । আর যার বিবেকে কোন ছাপ পরে না , সে যথার্থই মৃত।



লেখক: মাহ্মুদুল হাসান কলি
ছাত্র, ভ্থগোল ও পরিবেশ বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার ও
অর্থ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট।
[email protected]


গত ৩০.০৩.২০১০ ইং তারিখে "দৈনিক যায়যায়দিন" এ প্রকাশিত।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×