আমার প্রিয় পোস্ট

পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ

ছবিওয়ালা: পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান 2

১৩ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:২০

শেয়ার করুন:                   Facebook

জনি ডেপ একটা নায়কই বটে!
সিনেমার মূল চরিত্র হয়েও প্রতি মূহুর্তে দর্শকদের ভীষনরকম বিরক্ত করে। পুরো ছবিতে অনর্গল মিথ্যে বলে যায়, নিজের স্বার্থে। বেশ কয়েকবার বিশ্বাসঘাতকতার অ্যাটেম্পট নেয়, তার বেশির ভাগ সফলভাবে সম্পাদন করে
ছবির অন্য মূল চরিত্ররা দর্শকদের সাথে একাত্ম হয়ে তার উপর বিরক্ত হয়, বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়ে হতাশ হয়, এবং এত কিছুর পরেও তার প্রতি অনুভব করে একটা অদ্ভূত টান, যেটাকে ভালোবাসা নাম দেয়া যায়। (এই জায়গাটায় আমিও ছিলাম, তবে আপনারা সেরকম অনুভব করবেন কিনা সেটা আপনাদের ব্যাপার।)
হুমমমম! ক্যাপ্টেন স্প্যারো এবার বের হয়েছে ডেড ম্যান'স চেস্ট খুঁজতে। সেই চেস্টের ভেতর রাখা আছে সাগরের ত্রাস ডেভিড জোন্সের হৃদয়। ঐ হৃদয় যার হাতে এসে পড়বে, সাগরের আধিপত্য চলে যাবে তার হাতে। জনি ডেপ ছাড়াও সেই হৃদয়ের উপর চোখ পড়েছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর। ( এই জায়গায় এসে আমার সিক্স সেভেনে পড়া ইতিহাস বইগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। দারুন মিলে গেছে এখানে। আমাদের ইতিহাস বইয়েও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে দেখিয়েছে ভিলেন হিসেবে, এখানেও তাই।) সেই কোম্পানী নায়িকাকে বন্দি করে নায়ককে জোর করে পাঠায় ক্যাপ্টেন স্প্যারো কে ধরে নিয়ে আসতে, এবং সেই সাথে ডেভিড জোন্সের হৃদয়।
ছবির কাহিনি মূলত এটাই।
আরে নাহ, পুরাটা বলি নাই। মজা নষ্ট করে দিব নাকি আপনাদের? মাথা খারাপ!
অর্থাৎ , এটাকে মুল ধরে কাহিনি এগিয়ে গেছে সিনেমার।
পুরো ছবিতে দেখার আছে অনেক কিছু।ডেভিড জোন্সের গা শিউরানো চেহারার মৃত জাহাজের আজব সব ক্রু। অক্টোপাসের রক্ত ঠান্ডা করে দেয়া হামলা। বেশ কয়েকটি কমেডিসুলভ মারামারি। এবং অবশ্যই জনি ডেপের অদ্ভূত স্টাইলে হাঁটা, আর তার চেয়েও অদ্ভূত ভাবে কথা বলা।
একটা অন্যতম মজার দৃশ্য হতে পারে, হুট করে জংলীদের রাজা বনে যাওয়া, এবং খানিক পরে সেই জংলীদের হাত থেকে বাঁচার জন্যেই জনি ডেপের প্রাণপণ দৌড়!

যেহেতু এটা সেকেন্ড পার্ট, তাই প্রথমটার সাথে তুলনা এসেই পড়ে। সেদিক দিয়েও এ ছবিটা ভীষন ভালো হয়েছে। প্রথম ছবি দেখার পর এটা নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটা নি:সন্দেহে মিটিয়েছে ডেড ম্যান'স চেস্ট।

আড়াই ঘন্টা সময়, ইংরেজি ছবির জন্যে দীর্ঘই বলা চলে। কিন্তু তার প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগ্য হয়েছে অনবরত হিউমার, মজার সব অ্যাকশন, কয়েক চিমটি সিরিয়াস ভাংচুর এবং একটা টানটান কাহিনির জন্যে।

যারা এখনো দেখেন নি, দেরি করবেন না। খুব তাড়াতাড়ি টিকেট কেটে উঠে পড়ুন ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর জাহাজে।
মনে রাখবার মতন একটা অভিযান হবে এটা, সন্দেহ নেই।

----------------------

 

প্রকাশ করা হয়েছে: পুষ্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:৪৪

 

১. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ২:০৭
কনফুসিয়াস বলেছেন: ভালো আছি হাসান ভাই। ক্লাশ বন্ধ তাই কদিন সিনেমা দেখে কাটালাম।
ছবিটা দেখে ফেলেন, ভীষন মজার। আপনাকে আজই মেইল করবো ভাবছিলাম। একটু পরেই করব। :-)
২. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ২:০৭
অতিথি বলেছেন: ছবিটা দেখিনি এখনো ।
কেমন আছো হে প্রাচ্যের প্রাচীন দার্শনিক?
৩. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ২:০৭
হযবরল বলেছেন: পড়ি নাই হে হে । রবিবার হলে গিয়া দেখব ছবি। জয় জ্যাক স্প্যারো।
৪. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:০৭
কনফুসিয়াস বলেছেন: হযু ভাই, পড়তে পারে। বেশি কিছু লিখি নাই সবার কথা ভাইবা।
যদিও হাত নিশপিশ করতেছিলো! :-))
৫. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:০৭
অতিথি বলেছেন: ফ্রাইডে নাইট আজকা, লেইট শো টা ধরার আশা আছে।
৬. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:০৭
অতিথি বলেছেন: আমি 2 নম্বর পর্বটা হয়েটসে গিয়ে দেখলাম গত পরশু। বড় পর্দায় মুভ্যি দেখার মজাই আলাদা। বিশেষত এটার গ্রাফিকস, বিশালত্ব সব মিলিয়ে ভাল লেগেছে। ভেবেছিলাম এই নিয়ে একটা পোস্ট ঝাড়ব। হাফ ড্রাফট করে ফেলেছিলাম, আর বুঝি উপায় রইল না!

জনি ডেপের চরিত্রায়নটা অদ্ভূত সুন্দর হয়েছে। অরন্যালডো ব্লুম আর কীরা নাইটলির স্বত্যন্ত্র ধরণের অভিনয় আমার বরাবরই ভাল লাগে। হিউমার, উইটিজম দারুণ ছিল। তবে পা.অ.ক্যা 1 যেই প্রত্যাশ্যা সৃষ্টি করেছিল, 2 নম্বর তা পূরণ করতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় নি। 1 নম্বরটা ইন ইটসেল্ফ একটা পরিপূর্ণ মুভ্যি, দুই নম্বর না দেখলেও চলে। দুই নম্বরটা কেমন অসমাপ্ত রয়ে গেল। এখন তিন নম্বরের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেমন সোপ অপেরা সোপ অপেরা গন্ধ চলে আসল!
৭. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:০৭
অতিথি বলেছেন: আমি 2 নম্বর পর্বটা হয়েটসে গিয়ে দেখলাম গত পরশু। বড় পর্দায় মুভ্যি দেখার মজাই আলাদা। বিশেষত এটার গ্রাফিকস, বিশালত্ব সব মিলিয়ে ভাল লেগেছে। ভেবেছিলাম এই নিয়ে একটা পোস্ট ঝাড়ব। হাফ ড্রাফট করে ফেলেছিলাম, আর বুঝি উপায় রইল না!

জনি ডেপের চরিত্রায়নটা অদ্ভূত সুন্দর হয়েছে। অরন্যালডো ব্লুম আর কীরা নাইটলির স্বত্যন্ত্র ধরণের অভিনয় আমার বরাবরই ভাল লাগে। হিউমার, উইটিজম দারুণ ছিল। তবে পা.অ.ক্যা 1 যেই প্রত্যাশ্যা সৃষ্টি করেছিল, 2 নম্বর তা পূরণ করতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় নি। 1 নম্বরটা ইন ইটসেল্ফ একটা পরিপূর্ণ মুভ্যি, দুই নম্বর না দেখলেও চলে। দুই নম্বরটা কেমন অসমাপ্ত রয়ে গেল। এখন তিন নম্বরের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেমন সোপ অপেরা সোপ অপেরা গন্ধ চলে আসল!
৮. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: ইইইইইই...কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা! কাল দেখতে গিয়েছিলাম বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স-এ, গিয়ে দেখি সব টিকেট সোলড আউট ! খেলুম না।
৯. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:০৭
অঃরঃপিঃ বলেছেন: মনে পড়ছে ডনি ব্রাসকো আর উইনোনা রাইডারের লগে অসাধারণ এক ফিকশন- এডওয়ার্ড সিজারহ্যান্ডস
১০. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:০৭
কনফুসিয়াস বলেছেন: আস্তমেয়ে,
আমি ইচ্ছে করে ডিটেইলসে যাইনি। একদম নতুন ছবি তো, তাই মজা নষ্ট করতে চাই নি।
আপনি প্রথম পার্টটা নিয়ে লিখতে পারেন, ওটাও তো সেদিনই দেখলেন। :-)
১১. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:০৭
অঃরঃপিঃ বলেছেন: ওর প্রথম ছবি যেইটা দেখছিলাম সম্ভবত ডন হুয়ান'এরপরমাফিয়াগো একটা ট্রু স্টোরি অবলম্বনে যেইটা করছিল নাম ভুইলা গেছি, আর তারপর চকলেট। ভ্যারিয়েশন মানে ভ্যারিয়েশন। ব্যাটা একটু আন্ডাররেটেড আছিল এই যা।
কনফু ভাই, বিশ্বকাপ শেষ, আমাগো না একটা কাজ নিয়া কোথায় যাওয়ার কথা ছিল!
১২. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:০৭
উৎস বলেছেন: ডেভিড না ডেভি জোন্স? ম্যাট্রিক্স-2 এর চেয়ে ভালো হয়েছে, সিকুয়েল দেখতে গেলেই হতাশ হওয়ার ভয় থাকে, সে তুলনায় যথেষ্ট ভালো ... 8/10।

আচ্ছা সিনেমা দেখা কি হারাম না হালাল?
১৩. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: সহসাই দেখব ...

জনি ডেপ আসলেই বস!!
ব্যাটার অভিনয়ের ভ্যারিয়েশান মারাত্নক!!
১৪. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ১০:০৭
কনফুসিয়াস বলেছেন: প্রজাপতি,
ঈঈঈঈ! খেলতে হইবো!
১৫. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ১০:০৭
অতিথি বলেছেন: সে কি জেনে শুনে হারাম কার্যকলাপ! অমন কিছু যুক্তি অবশ্য শুনি। আমাদের দেশে 'ইজতেমাতে' তো এই সেদিন পর্যন্ত মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল সেটা 'হারাম' বলে!

মুভ্যি হালাল কি হারাম সেটা কনটেন্টের উপর নির্ভর করে। ফিল্মির প্রসেসটা হারাম নয়। রাসুলের (সা) যুগে ফিল্মিং ছিল না, তখন ফিল্মিং থাকলে তিনি কি বলতেন, সেটা কোরআন হাদীসের মূল্যবোধ দিয়ে বিচার করতে হবে। তখন, অমুসলিমরা যখন ইসলাম বিরোধী কবিতা, গান লিখত তখন সাবিত (রা) ইসলামের পক্ষে কবিতা, গান লিখতেন, রাসুলের (সা) সম্মতিক্রমে। সুতরাং একই জিনিস হালাল বা হারাম হতে পারে তার ব্যবহার, উপযোগিতা এবং ফলাফলের উপর নির্ভর করে।
http://tinyurl.com/g73bk
১৬. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ১০:০৭
কনফুসিয়াস বলেছেন: উৎস,
মনে হয় ডেভি জোন্স। আমি কনফার্ম ছিলাম না। তাই ডেভিড লিখেছি।
হু, সিকুয়েল দেখতে গেলে আশাভংগের সম্ভাবনা থাকে, এখানে সেটা হয় নাই।
সিনেমা দেখা...., মনে হয় তো হারাম!
তাই না?
১৭. ১৪ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ২:০৭
অতিথি বলেছেন: দেখা হয় নাই ছবিটা। দেখব।

ইরানী ছবি দেখা হারাম হবে না, কিন্তু হলিউড, বলিউড, বা পাশ্চাত্য ছবি হারাম হবারই কথা।
১৯. ২৯ শে জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:২৩
মাশীদ বলেছেন: আহা...Captain Jack Sparrow ...আহা!
২০. ২৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:২৯
কনফুসিয়াস বলেছেন: গত পরশু এটার নতুন পার্ট দেখলাম। যারা এখনো দেখে নাই, তাদের চক্ষুশূল হয়ে কিছু একটা লিখে ফেলবো কি না ভাবছি! :-))
২১. ২৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৩১
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: আমার কাছে পাইরেটস-৩ টাই সেরা মনে হয়েছে! লিখে ফেলেন! আমার আবার দেখতে ইচ্ছা করছে, এত ভালো লেগেছে!

 

মোট সময় লেগেছে ০.০৫৪৩ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
পূব বাঙলার অরাজক কালের যুবক।
স্বপ্নবাজ মানুষ। কাক ভালোবাসি, কবিতাও।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ