আমার প্রিয় পোস্ট
- ঝামেলামানুষ-২; ভ্যলেরি টেইলর, আপনাকে - জানালা
- কনফুসিয়াসের সাথে করি বাংলায় চিৎকার - কৌশিক
- প্রিয় গান : উৎসর্গ-কনফু ও তার কঙ্কাবতীকে.. - চামেলী হাতে নিম্নমানের মানুষ
- ব্যক্তিগত রুপকথা:'তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে'-(প্রথম পর্ব) - চামেলী হাতে নিম্নমানের মানুষ
- স্বপ্নবাজি - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- একজন গরুর গল্প - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- ফ্লপ ফোর্থ অ্যাম্পায়ার - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- ' আর ইউ এফ্রেইড অফ ক্রোকশিয়া?' - হাসান মোরশেদ
- । । বাবা ও তাঁর নি:শ্বাস এবং 'বু জি'র জন্য এলিজি । । - হাসান মোরশেদ
- মুগ্ধ পাঠক -২ : কনফুসিয়াস (হৃদয়ে ছুরি চালানো লেখক।) - আলভী
- হবে কি দেখা? - প্রজাপতি
- সব কটি চাপা ফুল দিলো ফুটাইয়া - প্রজাপতি
কার্জন হলের মিলন ভাই: চেনা মানুষ
০৩ রা আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:০৭
" এই ক্যান্টিনেই আছি আজ বিশ বছর। তারও সাত আট বছর আগে থেইকা এই ক্যাম্পাসে...।' মহাকালের তুলায় হয়তো একেবারেই কিছু নয়, তবে আমাদের অনেকের জন্মের আগে থেকেই এই ক্যাম্পাসে আছেন তিনি।
মিলন ভাই। আমাদের খুব পরিচিত একজন মানুষ। ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের নীচতলার এক কোনায় যে ক্যান্টিনটা রয়েছে- তার পরিচয় হলো মিলন ভাইয়ের ক্যান্টিন।
সকালে দেরিতে ঘুম ভাঙলে- ছুটতে ছুটতে ক্লাস ধরার আগ মূহুর্তে হালকা নাস্তার জন্যে, অথবা- বিকেলে ল্যাব শেষে এক কাপ চা, দু'ক্ষেত্রেই আমাদের ভরসা হলো মিলন ভাইয়ের ক্যান্টিন।
দিনের পুরো সময়টাতেই সেখানে তাকে হাসিমুখে বসে থাকতে দেখা যায়। বসে আসলে নয়, তিনি থাকেন দাঁড়িয়ে। আর ব্যস্ত দু'হাতে সমানে কাজ করে যান।
কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
"ভালোই আছি ভাই। আপনাদের দেখি, ভালো লাগে। স্যার ম্যাডামরাও আমার ব্যবহারে খুশি...।'
স্বাধীনতার পরবর্তিকাল থেকে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের অনেক ঘটনারই সাক্ষী তিনি।
নব্বইয়ের গণ আন্দোলনের কথা বিশেষ ভাবে মনে আছে তার। পুলিশের ভয়াবহ মার খেয়েছিলেন তিনি। দু'হাত মেলে দেখালেন। হাতদু'টো নাকি বুট দিয়ে মাড়িয়ে আর রাইফেলের বাট দিয়ে মারতে মারতে থেঁতলে দিয়েছিলো ওরা। এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি ওগুলো।
ক্যান্টিনের কর্মচারী হিসেবে রেখেছেন নিজের এলাকার ছেলেদেরই। " নিয়া আসি ওদের, কাজ কাম নাই, একটু উপকারও হয়।' এখানে কাজ করতে করতে পরে ভালো কোথাও চাকরিও খুঁজে নিতে পারে ওরা।
বিয়ে করেছেন বারো বছর হলো। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছোট্ট সুখের সংসার। ছেলে বাপ্পী স্কুলে যায়। আর মেয়ে মিথিলার বয়স মাত্র এক বছর।
"মেয়েটারে ঠিক করছি ডাক্তার বানাবো।'
নিজের ছোট ভাইকে ঢা.বি.তেই মার্কেটিং পড়াচ্ছেন তিনি। আবার ছেলের ভবিষ্যৎও দেখেন এ ক্যাম্পাসেই। তার আশা- এখান থেকে পড়ালেখা করেই ছেলে একদিন বড় হবে।
ক্যাম্পাসে কাজ করতে করতে সব ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষকদের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। তাঁর ধারণা- এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় পাওনা।
কথা বলার সময় ঈদের ছুটি চলছিলো। জানালেন, " ভালো লাগে না ভাই। আপনারা কেউ আসেন না। আমিও আপনেগো মতন বইসা আছি- কবে ক্যাম্পাস খুলবো-।'
----------------
[ইটালিক] যুযুধান পত্রিকার জন্যে লেখা। প্রতিবেদন প্রকাশকাল : জানুয়ারি 2003 [/ইটালিক]
প্রকাশ করা হয়েছে: পুষ্প বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
হযবরল বলেছেন:
মিলন ভাইরে খুব ভাল লাগতেছে। ছবি তুমি তুলছ। আহা কত চা,সিগারেট, সিংগারার খাইলাম। দারুণ একটা মানুষ। কতবার রিকশা ওয়ালারে দেওনের লাইগা ভাংতি টাকা নিছি। সালাম মিলন ভাই।
অতিথি বলেছেন:
এইটা কোন কাম করলা , মিলন ভাইরে তুইলা দিলা? মনটাই খারাপ হইয়া গেল।কত কথা মনে পড়ে। এই মিলন ভাই কত কিছুর সাক্ষি,সে আসছিল তার মামার সাথে,সবার সাথে হাসি মুখ এইটা তর সবচেয়ে বড় জিনিস। হান্নান, মান্নান তার কর্মচারী গুলোও বেশ। নিজ ভাইয়ের মত ই ওদের দেখে।
পকেট খালি....একটা ফুটা কানা কড়ি নাই, রিকসা নিয়ে মিল ভাইয়ের কেন্টিন, নাইমা মিলন ভাই 100 টাকা দেন, সাথে রিকশা ভাড়া।কোন কথা বলত না, দিয়ে দিত।আমার টাকা পয়সাও থাকতো তার কাছে। টিউশনির টাকা মিলন ভাইয়ের কাছে দিয়ে রাখতাম,যখ ন যা লাগতো নিয়ে খরচ করতাম, কখনও হিসাব চাইতে হয়নি,সে ও কখনও বিল চাইত না,সারা দিন শেষে দিয়ে যেতাম...নয় পরে যে কোন সময়।বারান্দার কোনায় পা ঝুলিয়ে বসে, মিলন ভাই 4টা চা।
হলের কত অস্র ও থাকতো তার কাছে।এতো বছরের যত ভাল আর খারাপের সাক্ষি সে।
অতিথি বলেছেন:
আমি ফিজিক্সের লোক না , ঢাবিরও না , তবে ওনারে চিনি । অনেক মিছিলই তো কার্জন হলে শেষ হইতো...
অতিথি বলেছেন:
নাহ আমরা যেতাম ফার্মেসির কোণায় হক ভাইয়ের দোকানে। এ্যাপ্লাইড ফিজিক্সের কোণায় ছোট্ট আরেকটা দোকান ছিল। ফিজিক্সের এই ছোট রুমটাতে সিঙ্গারা খেয়েছি কখনও কখনও। কিন্তু সত্যি বলছি যার ছবি উপরে তাকে দেখেছি বলে মনে পড়লো না। খুব কম গিয়েছি বলেই হয়তো।
হাকিম ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। চা বেশি খেয়েছি হাকিম চত্বরে। টিএসসি চত্বরে সালামের দোকান। আর টিএসসি ক্যান্টিনে সোলায়মান মামুর নাম মনে আছে।
অতিথি বলেছেন:
আমারও হাকিম চত্তরটাই বেশী পরিচিত ....
অতিথি বলেছেন:
মিলন ভাই এক ফোঁটাও বদলান নি এখনও-- না দেখতে, না আচরণে। একটা দু:সংবাদ দেই, মিলন ভাইয়ের ক্যান্টিনের সামনের দুই পা ঝুলিয়ে বসার ছোট্ট জায়গাটা (সম্ভবত যেটার কথা স্বরহীন আপু বললেন) অতি সমপ্রতি ভেংগে ফেলা হয়েছে। আমাদের এখন মোকাররমে ক্লাস হয়, বেশ কিছুদিন বিরতির পর সেদিন গিয়ে এই কান্ড দেখে খুব খারাপ লাগলো।
হযবরল বলেছেন:
আমাদের ক্লাস ও মোকাররমে হয় প্রথম ইয়ারে । গিটার নিয়ে গান গাওয়া আন্দোলন করে আমরা কর্াজন হলে ফেরত এসেছি। ফলিত পদর্াথ এর ঐখানে এনাম এর দোকান , আর মিলন ভাইয়ের এক ভাতিজাও (বয়সে বড়) কারখানার সামনে দোকান দিছে । জাহাংগীর ভাই । আমাদের শেষ দিন মিলন ভাই ইস্পিশাল চা দিছিলো। তাও বিকালবেলা নতুন পাত্তি বসায়া।
প্রজাপতি ভেংগে ফেলছে রেলিং টা কি কও?
কনফুসিয়াস বলেছেন:
ঐ ছোট্ট পাটাতনটা ভেঙে ফেলছে! একবার সয়েল ডিপার্টমেন্টের কিছু পোলাপান আইসা ঐখানে বসছিলো। দেইখা আমাদেরতো খুব প্রেস্টিজে লাগলো! পরে ওদের আলাদা ডাইকা বলা হইলো- ঐখানে যেন না বসে। বসে নাই পরে কোনদিন।
ধুর, ঐটা ভাইঙা ফেললো!!
হযবরল বলেছেন:
হুম আমাগো সিঁড়িতে গোটা কর্াজন হল প্রেম করলো ..........
কনফুসিয়াস বলেছেন:
হা হা! এইটা একটা হাছা কথা! মিলন ভাইয়ের ক্যান্টিনের সামনের জবা তলার কথা মনে আছে আপনার?
স্বরহীনদিদি,
মনে আছে? ঐখানে বইসাই কার্জন হলের একটা বিরাট সময় কাটাইছি!
প্রজাপতি,
জবাতলার কি হাল এখন?
অতিথি বলেছেন:
জবাতলা বদলায় নি, আগের মতই আছে--ওর সাথের দেয়ালের বিছাগুলোসহ অপরিবর্তিত আছে। :-)
কালপুরুষ বলেছেন:
প্রজাপতি নিয়ে এবার কবিতার পোস্ট।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
কমেন্ট নাম্বার দেখাচ্ছে একটা বেশি, সর্বশেষ মতামতে কালপুরুষের নাম দেখে ঢুকলাম, কিন্তু কোনো কমেন্ট খুঁজে পেলাম না! কাহিনি কি?কালপুরুষ, আরেকবার কমেন্টটা পাঠান।
উৎস বলেছেন:
বয়স কতো মিলন ভাইয়ের? লেখা ভালো লাগলো।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
বয়েস মনে হয় 35 থেকে 40 এর মধ্যে কোথাও হবে। ঠিক শিওর না।
রাগ ইমন বলেছেন:
কালকে লেখাটা পড়তে পারি নাই। চমৎকার লেখা। আমার তো মিলন ভাই এর চা খেতে ইচ্ছা হচ্ছে, প্রজাপতি , চলে আসবো?
অতিথি বলেছেন:
মিলন ভাইয়ের ক্যান্টিন ছিলো কইয়াই পকেটে ফুটা পয়সা না থাকলেই রাজার হালে চলাফেরা করছি ক্যাম্পাসে, রিকশা ভাড়া বিড়ির খরচা কোনোটারই কোনো হিসাব মনে হয় না রাখছিলো শেষ পর্যন্ত। আসলে হিসাব করার উপায় আছিলো না এত নেওয়া হইতো. তয় জাহাঙ্গির ভাইয়ের দোকানের আচডেট দিলে ভালো লাগতো। আমি শালার এর পর দেখি ইমপোর্ট কইরা জাহাঙ্গির ভাইয়ের দোকানটা কোথাও লাগানো যায় নাকি।
হযবরল বলেছেন:
আগরা জাহাংগীর ভাইয়ের ঐখানে খাইতাম বেশী । সকালে- বিকাল দুইবেলা ডিমবন, কেক বিড়ি। খুব মাইডিয়ার লোক উনিও।
অতিথি বলেছেন:
জঝাঙ্গির ভাই সেই রকম মানুষ, ডিম বন আর কলা বন আর কনডেন্সড মিল্কের স্যান্ডউইচ যুগিয়ে অভুক্ত থাকার কাল পার করাইছে
পৃথিবীর আমি বলেছেন:
এখন আর এই ক্যান্টিন নাই।আমরা দেখিও নি।বড় ভাইদের কাছে শুনেছি।এখন আমরা খাই হয় জাহাঙ্গীর ভাই এর দোকানে অথবা এপ্ল্যাইড ফিজিক্সের চিপায়।মাঝে মাঝে জহির ভাইয়ের দোকানেও খাই।।।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















