আমার প্রিয় পোস্ট

পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ

...যুদ্ধের দেবতা

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৫:০৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

ভিডিও ক্লাবের মেম্বার হয়ে গত ক'মাসে বেশ কিছু মুভি দেখা হয়ে গেল। এর মধ্যে কয়েকটা সত্যিই খুব ভাল লেগেছে।
এরকম একটা মুভি হলো লর্ড অব ওয়ার। নিকোলাজ কেজ-এর। আমার খুব পছন্দের একজন নায়ক।

এই ছবিটা পুরোপুরি রাজনৈতিক। অস্ত্রব্যবসা নিয়ে, অথবা বলা যায় যুদ্ধ নিয়ে যে ব্যবসা হয় দুনিয়া জুড়ে, তাই নিয়ে এই সিনেমা। একজন সাধারন মানুষ কেমন করে অস্ত্রব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে, তারপর সেখান থেকে আস্তে আস্তে হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী, তাই হয়েছে এখানে। এই অংশটুকু অবশ্য খানিকটা ফাস্ট ফরোয়ার্ডের মত মনে হয়েছে আমার। আরেকটু রয়েসয়ে দেখালে ভাল হতো মনে হয়েছে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে কেজের নিজের গলায় জীবনী বলার মত করে বানানো হয়েছে সিনেমা।
এই ব্যবসার কথা নিজের পরিবারের কাছে লুকিয়ে রাখতে গিয়ে নানা জটিলতা, এই কারণেই নিজের ভাইকেও হারাতে হয়।
মাঝখানে একটা জায়গায় এসে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শুনে চমকে যাই। এ.আর.রাহমানের কোন একটা মিউজিক শুনেছি এরকম, কোন ছবির মনে নেই, বোম্বে, নাকি রোজা? একটা বিষন্ন সুর। মনে হচ্ছে- তু হি রে...-র মত লাগলো যেন।

একদম শেষে এসে কিছু দুর্দান্ত বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় সারাজীবন ধরে তাড়িয়ে বেড়ানো ইন্টারপোলের একজন পুলিশ সিনেমার শেষ দিকে এসে নিকোলাসের নাগাল পায়, গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে তাকে। ইন্টাররোগেশান সেলে বসে যখন সে দেখে- তবু অবিচল নিকোলাস কেজ, ভীষন অবাক হয়।
মজার ব্যাপার হলো- শান্ত স্বরে কেজ তাকে জানায়, এরপরে কি হতে যাচ্ছে।-- এই সেল-এর দরজার একটা নক হবে, মার্কিন সরকারের একজন সিনিয়ার অফিসার পুলিশ অফিসারকে বাইরে ডেকে তার এই অসাধারণ কীর্তির জন্যে তাকে অভিনন্দন জানাবে, তারপর বলবে, কেজকে ছেড়ে দিতে!
খানিকপরে এই কথাগুলো একদম অক্ষরে অক্ষরে সত্য করে যখন সত্যিই কেজ বের হয়ে আসে, সেই সময়টায় পুলিশ অফিসারের ঐ অবাক চোখদুটোকে সহজে ভুলবো না।
একদম শেষে প্রায় নিরাসক্ত গলায় নিকোলাজ কেজ জানায়, বিশ্বের রাজনীতি আসলে এমনই। কেমন? পৃথিবীর প্রধান পাঁচটি অস্ত্রবিক্রেতা দেশ হলো -আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স।
এবং বড্ড হাস্যকরভাবে এই পাঁচটি দেশই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য!
এই নিদারুন বাস্তবতা হঠাৎ করে সামনে চলে এলে, এক প্রচন্ড কৌতুকবোধে আমার মুখটা বড় অসহায়ভাবে বেঁকেচুরে যায়!

 

প্রকাশ করা হয়েছে: পুষ্প  বিভাগে ।

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ২৪৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ২:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: লাইব্রেরীতে এই মুভিটা আছে-- অনেকদিন ।
কেনো যেনো দেখা হয়নি। ভালো হলো এবার দেখে নেবো ।

দেশে যাওয়ার কি হলো?
২. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ২:৫৩
comment by: ইমরান হাসান বলেছেন: অসাধারণ একটা মুভি । মেকিং টা এতো সুন্দর হয়েছে যে মাথা ঘুরে গেছে । আর বাস্তবিকতার অপূর্ব সমন্বয় আছে । কন্টেইনারের মধ্যে অফিস বানাবার আইডিয়াটা খুব পছন্দ হইছে আমার
৩. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:৩৮
comment by: অতিথি বলেছেন: হায় বিশ্ব সভ্যতার রাজনীতি!

নিকোলাস খুব পছন্দের অভিনেতা। রিভিউ পড়ে মুভিটা দেখার আগ্রহ প্রবল হলো।
৪. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:৫৬
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: হাসান ভাই, প্রজাপতি,
সিনেমাটা এক শব্দে - চমৎকার। দেখে ফেলুন।

ইমরান,
ঠিক।
৫. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:১৭
comment by: অতিথি বলেছেন: সিনেমাটা আজ্ঞুন। স্টারটিংটা দেখেই আমি কাইত। বাকি বর্ণনা তো আপনি দিয়েই দিলেন!
৬. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৩১
comment by: হাসিব বলেছেন: কঠিন জিনিস এটা । দেইখা ডিভিডিতে ভইরা রাখছি ।
৭. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:০৮
comment by: অতিথি বলেছেন: দেখতে হবে...
৮. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:১৭
comment by: অতিথি বলেছেন: কিনতে হবে, দেখতে হবে, জানতে হবে
কেজ সবসময়ের জন্য আমার ফেভারিট।

 



 


পূব বাঙলার অরাজক কালের যুবক।
স্বপ্নবাজ মানুষ। কাক ভালোবাসি, কবিতাও।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪০৫৫৬