somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিজ্ঞপ্তি অথবা সমার্থক একটা কিছু-
তাদের জ্ঞাতার্থে জানাই, তেমন বড় সড় কোন কারণ নেই।

এর আগেও মাঝে সাঝেই এখান থেকে সাময়িক ছুটি নিয়েছি, তার কোনটাই যদিও এবারের মতন দীর্ঘ ছিল না!

সবচেয়ে বড় কথা, এই মুহুর্তে সামহোয়্যারে কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না, আর এখানে না লেখার এটাই মূল কারণ।
ইচ্ছেটা ফিরে এলে আমিও আবার লিখতে শুরু করবো নিশ্চয়ই।

তার আগ পর্যন্ত বরাবরের মতন ব্লগস্পটে আছি।
আর আছি সচলায়তন নিয়ে, আমার নতুন বসত-বাড়িতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28718253 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28718253 2007-06-28 13:12:50
ব্লগ-প্রভূদের সম্মানে বলি- সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28714588 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28714588 2007-06-04 21:44:59
রোজনামচাঃ ১ জুন, ২০০৭ যদিও এরকমটা প্রথম শুরু করেছিলাম পেজফ্লেক্স দিয়ে, কিন্তু একইসাথে জিমেইল, অর্কুট, ব্লগস্পট, গুগলটক, গুগল-বুকমার্ক এবং সর্বশেষ গুগল-রিডার ব্যবহার শুরু করায় ওটা ছেড়ে দিলাম। এখন শর্টকাটের যুগ, এক লগইনে যদি সব হয়ে যায়, তাহলে কেই বা যাবে আরেকটা নতুন সাইট ওপেন করতে? তাছাড়া গুগলের প্রতি খানিকটা দূর্বলতা তো আছেই।

গুগলের হোমপেজে দারুন সব টুলস বসানো যাচ্ছে। আমি মোটামুটি মুগ্ধ সেসবে। প্রথম খেলনা পাওয়ার পর বাচ্চারা যেমন করে খেলে, আমি সেরকম করে সময় কাটাচ্ছি।

উপরের ছবিটা পেলাম 'আর্ট অব দ্য ডে' থেকে। একই পাতায় গ্যারফিল্ডের কার্টুন পড়তে পারছি, আছে ক্যালভিন ও হবস! আমি পাংখা!

অর্কুট বলছে, আজ আমি নতুন কিছু কাপড়চোপড় পেতে যাচ্ছি! যদিও তেমন কোন লক্ষণ নেই এখনো।
তবে সবচে' মজা পেয়েছি আজকের 'আইন্সটাইন কোট' পড়ে। বলছে- 'মানুষের প্রেমে পড়ার জন্যে মাধ্যাকর্ষন শক্তি দায়ী নয়!'
জটিলস!
জয়তু গুগল!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713935 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713935 2007-06-02 05:17:20
লোপা এলেন, লোপা গেলেন-
আমি জানি না, কারণ বহু আগেই তিনি আমাকে জয় করে ফেলেছেন। অন্য সবাই যখন তাই ফুলগুলো বুকপকেটে লুকিয়ে এনেছিলো, যদি পছন্দ হয়, তবেই তাঁকে পরাবেন ভেবে, আমি তখন ঢাকঢোল সহ লাল গালিচা নিয়ে উপস্থিত সেখানে!
তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী, আমি অবাক থাকতে পারি নি শুনে। বাকি সবার সাথে তাই প্রায়শই চেঁচিয়ে উঠেছি, আরেকবার হবে, ওয়ান মোর!

তো গাইলেন লোপামুদ্রা, পুরো শরীর আর মন দিয়ে, আমিও দেখলাম তাঁকে, শুনলাম মাত্র পনের গজ সামনে বসে। পনের গজ অনেক দূর ভাবছেন নাকি? উঁহু, ভুলে যাবেন না, ক্রিকেট পিচের দৈর্ঘ্যও মিনিমাম বাইশ গজ। তারই দু'প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে কতই না আন্ডারস্ট্যান্ডিং! পনের তার চেয়ে কম হলো না?!?

মেলবোর্ণের মূল শহর থেকে দূরে, কোন একটা খটোমটো নামের অডিটরিয়ামে দাঁড়িয়ে, তিনি সর্বমোট বিশ বা বাইশটি গান গাইলেন। গানের পছন্দগুলো এলোমেলো ছিল না। সেটা বুঝলাম যখন দর্শকদের নিজস্ব পছন্দ জানবার পরেও তিনি পুরোটা সময়েই তাঁর মত করে নিজের সিরিয়ালেই গান গাইলেন। এর ফলে যেটা হলো, সারাক্ষণই একটা উত্তেজনা ছিলো- এর পরে কোনটা গাইবেন!

পছন্দের প্রায় সব গানই গাইলেন, যাও পাখি, আমার দেশ, হল্লা রাজা...। অসাধারণ কিছু রবীন্দ্রসঙীতও গাইলেন তিনি- গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ, আমারো পরাণ যাহা চায়...।
বেণীমাধব গাইলেন অনেক পরে। আর জানালেন, লোপামুদ্রা আর বেণীমাধব আলাদা কেউ নয়, একসময় লোকে লোপামুদ্রাকে চিনতো না, চিনতো বেণীমাধবকেই।
তবে নিজের গান বাছাই করতে গিয়ে পপুলারিটি দেখেন নি তিনি। বেশ কিছু স্বল্পপরিচিত গানও গেয়েছেন। যে কোন কনসার্ট বা এ জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারটা একটু রিস্কি হয়ে দাঁড়ায়, শ্রোতাদের মনোযোগ হারানোর একটা আশংকা থাকে, কিন্তু লোপামুদ্রা দিব্যি উৎরে গেলেন!

বেশ মজা করতে পারেন তিনি। দর্শকদের সাথে কথা বলছিলেন গানের ফাঁকে ফাঁকে। পাশে দাঁড়িয়ে গীটার বাজানো ওঁর স্বামী জয় সরকারকে গান গাইবার অনুরোধ করতেই চটুল গলায় বলে উঠলেন, ''কেন বলুনতো? আমি একটু গান গেয়ে পেট চালাই, এটা আপনারা চান না বুঝি!''
তারচেয়ে জমলো যখন একজন প্রবীণ ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, ' নজরুল গীতির কি অবস্থা?'' লোপা কাঁচুমাচু মুখ করে জানালেন, ' অবস্থা তো বেশি ভালো না!'' সবার সে কি হো হো হাসি!

দর্শকদের অনুরোধ ছিলো অনেক, সেকারণেই তার বেশিরভাগই গাইলেন না তিনি। এমনিতে এ রকম জায়গায় আমি চুপ মেরেই থাকি, তবু সেদিন জড়তা ভেঙে গলায় অনেকটুকু জোর এনে বেশ কয়েকবার জানান দিয়েছিলাম আমার পছন্দ- ' সহে না যাতনা' শুনতে চাই। তিনি সেটা শুনেওছিলেন, বুঝলাম যখন কথাটা পুনরাবৃত্তি করলেন, কিন্তু শেষমেষ লোপা গাইলেন না সেটা! যদিও শুধু এই গানটা শুনবার জন্যে কাজ বাদ দিয়ে দেড় ঘন্টা ড্রাইভ করে অনুষ্ঠানে এসেছিলাম বলা যায়!

প্রায় তিন ঘন্টার এক জাদুকরী মুগ্ধতার পরে অনুষ্ঠান শেষ হলো। কেন শেষ হলো, এই অনুযোগটা যে কার কাছে করবো বুঝতে পারছিলাম না!

লোপা নেমে এলেন মঞ্চ থেকে। অনেকেই এগিয়ে গিয়ে কথা বললেন তাঁর সাথে। সুন্দর হেসে জবাব দিলেন সবার কথার। আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছিলো, কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মে জড়তা কাটছিলো না।

তবু শেষমেষ এগিয়ে গেলাম। বেশ খানিকক্ষণ দোনমনার পরে শুধু বললাম, ''খুব ভাল লাগলো।'' তিনি হাসলেন। ''সহেনা যাতনা গাইলেন না কেন?'' শুধু এটুকুই বলতে পারলাম। তিনি বললেন, ''আসলে অনেকগুলো রবীন্দ্রসঙীতের অনুরোধ ছিলো, সব কি আর গাওয়া যায়! ''

''তা যায়না, কিন্তু এ গানটা আপনার চেয়ে ভাল আর কেউ গাইতে পারে না যে! '' নাহ, মুখ ফুটে বলতে পারি নি সেটা। মনে মনেই বললাম শুধু।
তার পর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পরে 'ভাল থাকবেন' বলে চলে এলাম।

ঐ কয়েক সেকেন্ড কেউ কোন কথা বলি নি।
কেন বলি নি, সেটা নিয়ে আজ অনেকক্ষণ ভাবতেই মনে হলো, আসলে এরকমই হয়, দু'জন গ্রেট মানুষ এরকম সামনা সামনি এলে কথা হারিয়ে ফেলতেই পারে!
এ আর নতুন কি! :-))
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713646 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713646 2007-05-31 11:03:01
দিস ল্যান্ড ওয়াজ মেড ফর ইউ এ্যান্ড মি- কিংস্টোন ট্রায়োর- দিস ল্যান্ড ইজ ইওর ল্যান্ড।
আর সবচেয়ে ভাল লাগে ব্লগের শিরোনামের অংশটুকু- দিস ল্যান্ড ওয়াজ মেড ফর ইউ এ্যান্ড মি!

ডাউনলোডাতে বা শুনতে হলে ক্লিক করুন এখানে।
খুঁজে পেতে একটা ভিডিও পাওয়া গেছে, কিংস্টোন ট্রায়োর নয়, মোটামুটি চলেবল।

সাথে দিলাম লিরিক-
This land is your land. This land is my land from California to the New York island,
From the red wood forest to the Gulf stream waters. This land was made for you and me.

As I was walkin' that ribbon of a highway, I saw above me that endless skyway.
I saw below me that golden valley. This land was made for you and me.


I roamed and rambled and I followed my footsteps to the sparklin' sands of her diamond desert
And all around me a voice was sounding, "This land was made for you and me."

The sun came shining and I was strolling and the wheat fields waving and the dust clouds rolling
As the fog was lifting a voice was calling, "This land was made for you and me."
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713448 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713448 2007-05-30 17:16:28
গলাগলি আর গালাগালি- না না। ইহারা দুই ভাতৃদ্বয় নহেন। সেরম কিছু হইবার সম্ভাবনা কস্মিনকালেও নাই, তবে এই নামে দুইখানা নৌকার স্যাংশান হইবে বলিয়া শুনিয়াছি।
বাজারে গিয়া দেখিলাম সেই নিমিত্তে জোরে শোরে বৃক্ষ কর্তন চলিতেছে। আমি সব দেখিয়া শুনিয়া খুঁজিয়া পাতিয়া তিনখানা জবরদস্ত পেরেক কিনিয়া আনিলাম।

দুইখানার যে কোন এক নৌকায় উঠিতেই হইবে, এমনটা আমার বোধ হইলো না। থাকুক তাহারা তাহাদের বৃহৎ তরণী লইয়া। আমি ক্ষুদ্র মনিষ্যি, কাহারো বোঝা বাড়াইতে চাহি না।
আমি তাই আরামসে পেরেক ঠুকিয়া ঠুকিয়া আমার পুরানা ডিঙিখানা বেশ অনেকখানি সময় লইয়া মেরামত করিলাম।

অতঃপর তাহাতেই চড়িয়া বসিয়া একেলা মাঝি নদী বাহিয়া যাই,
কেউ শুনে বা না শুনে বেসুরা গলায় দেশেরই গান গাই!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713345 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28713345 2007-05-30 00:18:15
ব্লগের আবার জাত কীয়ের-
ব্লগের ভেতর খুব স্পষ্টভাবেই জাতপাত বিদ্যমান। ভাল ব্লগ বা খারাপ ব্লগ বলছি না। লেখার মানের উপর নির্ভর করে যে বিভাজন, সেটা হবেই, ভালো মানুষ বা খারাপ মানুষের মতন। আমি বলছি উঁচু জাতের ব্লগ, আর নীচু জাতের ব্লগের কথা, আশরাফ আর আতরাফ ব্লগ।

বাংলাদেশী ব্লগারদের কথা যদি ধরি, তাহলে সবচেয়ে উঁচু জাতের ব্লগার হলেন তারা যারা ইংলিশে ব্লগান। আন্তর্জাতিকতার বিবেচনা করলে অবশ্য ঠিকই আছে, সবচেয়ে বেশি ব্লগারদের কাছে পৌঁছবার জন্যে ইংলিশই ভালো। সুতরাং ইংরেজি ব্লগারদের জাত উঁচু হয়ে যাওয়াটায় কারো কোন হাত নেই। বাংলা ব্লগাররা তাই দূর থেকে ঈর্ষান্বিত চোখে তাদের দিকে তাকানো ছাড়া বেশি কিছু করতে পারবেন না।

জাত-পাত আছে বাংলা ব্লগগুলোর মধ্যেও।
এ ক্ষেত্রে উঁচু জাত হচ্ছে- যারা খানিকটা গম্ভীর বিষয়ে লিখেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি - এইসব ব্যাপারগুলো নিয়ে। অপেক্ষাকৃত মাঝারি জাতে পড়েন টেকনিক্যাল বিষয়ে ব্লগিং করেন যারা, মানে ভাইটিদের যারা আইটি শেখানোর অপচেষ্টা চালান। আর একেবারে নীচু জাতে পড়েন সেইসব ব্লগাররা, যারা ওয়েবলগ লিখেন। বুঝাতে পারলাম? মানে কি খাইলাম কি করলাম, অথবা আজকের আকাশ কেবলই কর্দমাক্ত, এই সব হাবিজাবি মনের কথা লিখেন যারা।

কবিতা বা গল্প লেখকরা আদৌ কোন জাতে পড়েন কি না, সেই বিষয়ে আমার বিস্তর সন্দেহ আছে!

এই জাত্যাভিমান চিরস্থায়ী কি না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ, তবে উত্তর আপাতত 'হ্যা'। আমাদের সামাজিক মানসিকতাটুকু আমরা পকেটে লুকিয়ে ব্লগে আসি না, তাই এখানেও সেই একই রকম দৃষ্টিভঙ্গী আসাটাই 'স্বাভাবিক'।

এই জাত-বিজাতের ভাল মন্দ বলেও সুস্পষ্ট কোন আউটপুট আসলে নেই। এটা কেবলই আমাদের মনে হওয়া, উঁচু জাতের ব্লগাররা এইসব ভেবে মানসিক আনন্দ লাভ করতে পারেন, আর নীচু জাতের ব্লগাররা এটা টের পেয়ে 'কী আসে যায়' টাইপ একটা ভাব মেরে সময় কাটিয়ে দিতে পারেন।
কারো লাভ বা ক্ষতি বৃদ্ধি তাতে হচ্ছে বলে মনে হয় না।

সুতরাং বহু প্রাচীণ কাল পূর্বে কবি যদিও বলেছিলেন, নহে আশরাফ আছে শুধু যার বংশ পরিচয়, বেচারা কবি জানতেন না, মানবসমাজ তো বটেই, এমনকি ব্লগসমাজেও তার এই কবিতা খুব বেশি পাত্তা পাবে না। জাত-পাতের ব্যবধান সেখানেও সগর্বে রয়ে যাবে!


------------
ডিসক্লেইমারঃ
১। এতক্ষণ যা কিছু হাবি জাবি বললাম, বলাই বাহুল্য এটা আমার মনের কথা নয়। সম্প্রতি ব্লগ বিষয়ক নানা জ্ঞানী ব্যক্তিদের আলোচনা-সমালোচনা পড়ে আমার এইরূপ ধারণা হলো, তাই মনে হলো এই বিষয়ে ভুল-ভাল বকে পোষ্টের সংখ্যা আরো একটা বাড়াই।
২। এই পোষ্টের নামের জন্যে চোর-এর প্রোফাইলের কাছে শতভাগ ঋণী, তার কাছে তাই অসীম কৃতজ্ঞতা!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28712617 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28712617 2007-05-26 12:34:02
মানব জন্মের নামে কলঙ্ক হবেঃ বাইসাইকেল থিফের প্রলাপ- একজন প্রেমিক ও সৈনিক হেলাল হাফিজ, যিনি সভ্যতাকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করেন, 'অশ্লীল সভ্যতা, নিউট্রন বোমা বোঝ, মানুষ বোঝ না!' যিনি আমাদের কানে কানে মন্ত্র পড়ে শোনান, 'এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।' আবার তিনিই যখন হাতের পাঁচটি আঙুলকে নিরাশ্রয়ীর ছদ্মবেশ দিয়ে প্রিয়তমাকে স্পর্শ করার ষড়যন্ত্র করেন, আমরা পুলকিত হই। জলের আগুনে জ্বলে পুড়েন যিনি, সেই হেলাল হাফিজ যখন লিখেন-
'মানব জন্মের নামে হবে কলঙ্ক হবে
এরকম দুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই,
উত্তর পুরুষে ভীরু কাপুরুষের উপমা হবো
আমার যৌবন দিয়ে এমন দুর্দিনে আজ
শুধু যদি নারীকে সাজাই। ''

-আমি তখন মুগ্ধ হয়ে পড়ি। প্রায় নিরুপদ্রব জীবনের কোন এক অবসর মুহূর্তে যখন আমি এ কবিতাটি পড়ি, মাথার ভেতরে কিছু ভাবনা কিলবিল করে ওঠে। ঠিক এমন করে জীবন পার করে দেয়াটা উচিৎ হচ্ছে কি? আমার তো একটা কিছু করার কথা ছিলো।
মানব জন্মের নামে আমারও কলঙ্ক হচ্ছে না তো?

------------------------------

প্রায় বছরকয়েক আগে, সম্ভবত গ্যোথে ইনস্টিটিউটের কোন এক হল রূমে বসে, ঢাবি-র চলচ্চিত্র পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখছিলাম 'বাইসাইকেল থিফ' সিনেমাটি।

সাদাকালো সিনেমা, অনেক বছর আগের, প্রিন্ট ভাল ছিল না তবু তারই ফাঁকফোকরে একজন অভাবী বাবা ও তাঁর সন্তানের আকুতি পড়তে একটুও অসুবিধে হয় নি। বেকার বাবা অবশেষে চাকরি পায়। শহরের দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার লাগাতে হবে তাকে। কিছুই প্রয়োজন নেই, শুধু দরকার একটা বাইসাইকেল। পরিবারের সম্বল বিক্রি করে সেটা সে কিনেও ফেলে। কিন্তু কাজের প্রথম দিনেই সেটা চুরি হয়ে যায়। তারপরে পিতা পুত্র বিষন্ন চেহারায় ঘুরে ফিরে এখানে সেখানে। আবারো অনাহারের দুশ্চিন্তা মাথায় তাদের।

ঠিক এমনি সময়ে তারা দেখে অনেকগুলো সাইকেল একসাথে রাখা, সম্ভবত কোন অফিস ছিলো সেটা, অথবা রেস্তোরাঁ, ভুলে গেছি। খানিকটা দোনোমনা করে বাবা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, এখান থেকে একটা সাইকেল চুরি করবে সে, করতেই হবে। কিন্তু সাইকেল চুরি করে নিয়ে দৌড় শুরু করতেই ধরা পড়ে যায় সে! চারপাশের লোকেরা ছুটে আসে, ছেলের সামনেই চলে নির্দয় প্রহার! প্রচন্ড আক্রোশে তারা মারতে থাকে ধরা পড়া সাইকেল চোরকে।

সিনেমাটা বোধহয় এখানেই শেষ হয়েছিল। ভাল মনে নেই। তবে মনে আছে, শেষ হবার পরেও বুকের ভেতরে একটা অস্বস্তি ঘুরপাক খাচ্ছিলো যেন। অনেকক্ষণ, কি যে সেটা বুঝতে পারছিলাম না, শুধু মনে হচ্ছিলো, এক্ষুণি একটা কিছু করা দরকার আমার! ঠিক এক্ষুণি!

ছবি শেষের ঘোর কাটবার আগেই মাইক হাতে উঠে এলো সহপাঠী আশা, মৃদু স্বরে বললো, 'আমি জানি, এ ছবি দেখার পরে আমাদের সবার ভেতরে একটা প্রচন্ড ইচ্ছা জাগছে...।' আর, তখুনি, আশা বলে দিতেই, আমি চমকে উঠে ভাবি, তাইতো! আমার তো সত্যিই এখন ইচ্ছে করছে এক ছুটে বেরিয়ে গিয়ে কোথাও থেকে একটা সাইকেল চুরি করে আনি! ঠিক এক্ষুণি!

-----------------------------

আজ অনেকদিন পরে আবার সেই অনুভূতি ফিরে এলো মনে।
অলস বিকেলে সময় কাটাতেই ব্লগে ঢুকলাম। তারপরে এক এক করে পড়লাম ভ্যালেরিকে নিয়ে লেখা আরিফ জেবতিকের পোষ্ট, আগেই পড়া ছিলো, তবু আবারো পড়লাম জানালা-র পোষ্টটাও।
আর তারপর থেকেই আমার বুকের ভেতরে একটা অস্বস্তি দানা বেঁধে আছে। কেবলই মনে হচ্ছে, একটা কিছু করা দরকার আমার, আমাদের সবার। কি সেটা জানি না, বুঝে উঠতেও পারছি না ভাল করে, শুধু বুকের গভীরে কোথাও মনে হচ্ছে, উত্তর পুরুষে আমরাও ভীরু কাপুরুষের উপমা হচ্ছি না তো?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28712469 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28712469 2007-05-25 13:19:17
যদি আপনি হন এ প্রজন্মেরই কেউ-
আমরা- বোকাসোকা কিছু মানুষ-, যদি তখন, আদর করে গল্প শোনাই আপনাকে-, কেমন করে অনেক অনেক দিন ধরে আমাদের মায়েদের অশ্রু ভিজিয়েছিলো এ মাটি; অথবা, কেমন করে আমাদের ভাইয়েদের রক্তে এ সবুজ পতাকা হয়েছিলো লাল; কেমন করে তিরিশ লক্ষ বোকা মানুষ, মৃত্যুর বিনিময়ে এনে দিয়েছিলো স্বাধীনতা...।

সব দেখে এবং শুনে, এইবার, খানিকটা বুঝদার চেহারার আপনি যদি বলেন, ' হুমম, কিন্তু সংখ্যাটা যে শুনেছিলাম- তিন লক্ষ! আর মুজিব, হু হু, তিনি কিন্তু স্বাধীনতা চান নি, আপনারা জানেন না?''

অথবা, যদি বলে ওঠেন, ' গোলাম আযম- তিনি তো অপরাধী নন, আর রাজাকারেরা, ভেবে দেখুন, তারা তো নিজের দেশ ভাংতে চায় নি শুধু, ওরাইতো সাচ্চা দেশ প্রেমিক!''

আমরা- বোকাসোকা কিছু মানুষেরা-, একটুও না রেগে তখন, অনেকগুলো বধ্যভূমি খুঁজে, গুনে গুনে ... হয়ত আপনার হাতে তুলে এনে দিবো তিরিশ লক্ষ মৃতের তালিকা। হয়ত কোন সন্তানহারা মা, আপনাকে বলে যাবে হত্যাকারী অগণিত রাজাকারের নাম...।

তবু, হ্যা, তবুও যদি আপনি বলেন, '' থাক না..., এত বছর বাদে, কেনই বা এসবের টানাটানি, আসুন তারচেয়ে, কাঁধ মিলিয়ে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই, ভাইয়েরা আসুন আমরা, কাতার সোজা করে দাঁড়াই। ''

একটুও না রেগে, বিশ্বাস করুন, কাতার ভেঙ্গে, বাবার কফিন বয়ে ভারী হয়ে ওঠা আমাদের কাঁধ টেনে নিয়ে এসে, আমরা- কিছু বোকা মানুষেরা, প্রায় একবারও আপনাকে 'ছাগল' না ডেকে, আয়নাটা নিয়ে এসে আপনার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলবো, ' ভালো করে দেখুনতো চেয়ে, মাথার উপরে দু'খানা বাঁকানো শিং দেখা যায় কি না আপনার, অথবা চারখানি লিকলিকে ছাগুলে ঠ্যাং? ''

অথবা, হয়তো, কে জানে, আমরা, আপনাকে শুধু, রোজ সকালে এক হাঁড়ি ভাতের মাড়, আর এক মুঠো লবণ মিশিয়ে, ভর পেট খেতে বলবো।
না না, স্যালাইন ভেবে নয়।

আমাদের পূর্বপূরুষদের দেখেছি- গোয়ালে বেঁধে রাখা অকাট বলদগুলোকে তাঁরা-
এভাবেই খাবার খাওয়াতেন।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28712415 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28712415 2007-05-25 00:22:21
পোষ্ট ফেরত এসেছে তো! এইবার একটু রেষ্ট নেন! ঐ পোষ্টটা প্রিয় পোষ্টের লিষ্টে ছিল, ক্লিক করতেই চলে আসলো। তার মানে আবার সেটা ফের দেয়া হয়েছে।
এই বার একটু ঠান্ডা হোন সবাই।


(এটা ডিলিট মারা হবে )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28711660 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28711660 2007-05-20 18:26:01
আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন- দেশে হলে এর মাঝেই দৌড়ে নেমে যেতাম ভিজতে। কিন্তু এখানে, আমার ভাল লাগে না। দু'একবার যে চেষ্টা করি নি তা নয়। কিন্তু, দেশে যেমন, আকাশ থেকে একগাদা দূষিত রাসায়নিকের সাথে সাথে ভালোবাসাও ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে, এখানে একেবারেই তা নয়। উলটো কেমন গা বাঁচিয়ে চলতে ইচ্ছে করে আমার বৃষ্টি দেখলেই।

কিন্তু, সম্ভবত আমি বাদে, মেলবোর্ণের সবাই খুবই খুশি। মাত্র ক'দিন আগেই পত্রিকায় দেখলাম, রিজার্ভয়ারে পানির পরিমাণ গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন সীমায় গিয়ে ঠেকেছে। কাঠা ফাটা রোদে কোন একটা চাষী জমির ছবি দিয়েছিলো তার সাথে, ঠিক যেন আশী বছরের কোন বুড়োর কুচকানো গালের চামড়া! দেখলেই শিউরে উঠতে হয়!
এ শহরের সবাই কিছুদিনের জন্যে তাই চাতক পাখীর সঙী হয়ে উঠেছিলো। সৌভাগ্যবান চাতক, এতগুলো মানুষের কল্যানে অবশেষে তারও অদৃষ্টে জল এলো!
এ কয়দিনের রিমঝিমের পরে আজকের পত্রিকায় তাই অন্যরকম ছবি! মাঠের মাঝে খেলছে ছোট্ট এক কৃষক কন্যা, তার বাবার সাথে। কি যে ভাল লাগলো দেখে!

মাঝের পাতায় আরেকটা ছোট্ট ছেলের ছবি ছাপা হয়েছে। রেইনকোট গায়ে হাসিমুখে খেলছে সে বৃষ্টিতে। প্রথম বৃষ্টি দেখে সে নাকি অবাক হয়ে তার মাকে জিজ্ঞেস করেছিলো-, ''মাম, হু টার্নড দ্য শাওয়ার অন? ''

এইটুকু পড়ে হেসে ফেলতেই এ বছরের বৃষ্টিকে আমারও ভালো লাগা শুরু হলো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28711353 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28711353 2007-05-19 05:20:43
বিবাহনামা-
জানুয়ারির কোন এক রাত। সদ্য দেশ থেকে ফিরেছি, বিবাহ করে মোটামুটি যুদ্ধ জয়ী সেনাপতির মতন নূরানী হাসি সারাক্ষণ আমার চোখে মুখে। কারো সাথে দেখা হলেই খানিক কথাবার্তার পর পেটের মধ্যে ভুটভাট শুরু হয়ে যায়, কেবলই উশখুশ করতে থাকি কি করে নিজের বিয়ের গল্প বলা যায়। হাওয়া অনুকূল দেখলে শেষ মেষ গলা খাঁকারী দিয়ে বলেই ফেলি, ' তা শুনেছেন নাকি, কাহিনি তো একটা ঘটিয়ে ফেলেছি!' শ্রোতা তখন আগ্রহী হয়ে বলেন, তাই নাকি? কি করেছেন?
আমি তখন প্রসন্ন হাসি দিয়ে বলি, 'আর বইলেন না, বিয়ে করে ফেলছি!'
তারপরে শুরু হয় আমার প্যাচাল। এর আগে বহুবার বলে বলে আমি যেটাতে বিশাল দক্ষতা অর্জন করে বসে আছি। আমার সেই প্রাঞ্জল বর্ণনায় শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে যান, আমিও গল্প শেষে আয়েসী ভঙ্গিতে একটা ঢেকুর তুলি।

তো, তেমনি একদিন, আলাপের কেউ নেই, তাই ইয়াহু চ্যাটে লগইন করে বসে আছি, এমন সময়ে অনলাইনে এলো আমার কলেজের এক বছরের জুনিয়ার এক ছোট ভাই। ও কানাডায় থাকে, অনেকদিন ধরে, পড়ছে, প্রেম করে ইউএস এ থাকা এক মেয়ের সাথে।
আমি তো তারে দেখে মহা খুশি। নক করে নানা কথা বার্তা বললাম, তারপরে আস্তে ধীরে রসিয়ে রসিয়ে বললাম, 'তা, শুনছো নাকি? কান্ড তো একটা ঘটাইয়া ফেলছি!'
সেই ছোট ভাই আমাকে বলে, 'আপনেরটা পরে শুনমু, আমি যে একটা কান্ড ঘটাইছি সেইটা জানেন নাকি?'
আমি একটু থমকে গেলাম। আলাপটা এগোলনা! :-(
জিজ্ঞেস করলাম, 'তাই নাকি? কি করছো?'
ও অতি উৎসাহে বলে, 'আর বইলেন না ভাই, লাস্ট সামারে ইউ এস গেছিলাম, ঐখানে গিয়া তো ওরে বিয়া করে ফেলছি!'
আমি চুপসে গেলাম। বলে কি! এইটা তো দেখি আমার চেয়ে বড় কাহিনি! বললাম, 'খাইসে! গ্রেট ব্যাপার! কেমনে কি হইলো?'
ও খুব মজাসে নিজের কাহিনি বলা শুরু করলো। মেয়ের বাবা কেমন করে বাগড়া দিচ্ছিলো প্রেমে, কিন্তু কেমন করে সে মা-কে ম্যানেজ করে তাদের বাসায় হাজির হয়। অতঃপর ওখানে একা একাই পুরা ফ্যামিলিকে ম্যানেজ করে বিয়ে করে ফেলে!
আমি নিজের কাহিনি গেলাম ভুলে, ওর কাহিনি শুনে নিজেই টাসকি খেয়ে বসে আছি! বলি, 'ভাল ভাল, খুব ভাল। এখন কি অবস্থা? কেমন আছো?'
ও বলে, 'এখন কঠিন অবস্থা! খুব মজা করছি দুইজনে। ক্যান ইউ ইমাজিন ম্যান দুইজনে টানা দুই সপ্তাহ একসাথে ছিলাম! এক রুমে!'

আমি একটু গলা খাঁকারি দিলাম। ছেলে বলে কি! তারপরে আমতা আমতা করে বলি, 'না না, তাতো হবেই। বিয়ে করছো..., এখন তো একসাথেই...।'
কীয়ের কি! আমারে পাত্তাই দিলো না। এক নাগাড়ে বলতে থাকলো, 'এখন বস ভাল কইরা আপনার লাইগা দোয়া করেন!'
আমার তো জান শুকিয়ে গেলো! ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'ক্যান, আমি আবার কি করলাম!?'
ও মুহাহাহা টাইপ একটা ভিলেনের হাসি দিয়া কইলো, 'আরে না, আপনে কি করবেন? করছি তো আমি! এখন মনে প্রাণে দোয়া করেন এত অল্প বয়সে আপনি আবার চাচা-কাকা না হইয়া যান!'

আমি বিরাট এক ঢোঁক গিললাম। আস্তে ধীরে লিখতে থাকলাম, 'ছি ছি, তোমরা আজকালকার বৈজ্ঞানিক যুগের পোলাপান, কী সব যে বলো না... ।'
ওর উচ্ছাসের ঠেলায় আমার এইসব কথাবার্তা মেসেঞ্জারের কোন চিপায় যে হারাইয়া গেলো, পরবর্তী কয়েক দিবস-রজনীও তাহাদের খুঁজিয়া পাইলাম না!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28710568 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28710568 2007-05-14 15:57:54
দূরালাপনী- বালিশের তলায়, বিছানার নীচে- আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজি, কিন্তু কোথাও পেলাম না আমার কেন মন খারাপ!
বাইরের মাঠে, ঘাসের ডগার আড়ালেও খুঁজলাম অনেকক্ষণ। কি মুশকিল! সেখানেও নেই নেই নেই।
মুখ তুলে তাকাতেই দেখি ঘাসফড়িং, তাঁকে দেখে যেই না লুকাবো, ও মা, সে দেখি আমার দিকে চেয়ে ফিক ফিক হাসে! আমি তার ডানা ধার নিয়ে উড়ে উড়ে উড়ে সো-জা- মেঘের ওপরে! ওখান থেকে উঁকি দিয়ে দেখি, না তো, সেই নদীটার গায়েও লেখা নেই কেন আমার মন খারাপ।
এমনকি ওই বদমাশ পাহাড়টাও জানে না!
আমি ধ্যুত্তোরি বলে রাগ দেখালাম। তারপরে রংধনু বেয়ে নেমে এলাম ঘরের ভেতর। বিছানার কাছটায় এসে মনে পড়লো- আরে, চাঁদকে তো জিজ্ঞেস করি নি! জানালা খুলে যেই না ডাকতে যাবো, ওমনি ব্যাটা আমার ঘরে এসে হাজির। আর কি নির্লজ্জ! বসলো গিয়ে ঠিক তোর মাথার কাছটাতে। আমি চোখ রাঙিয়ে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলি, চুপ! শব্দ কোরো না! ঘুমাচ্ছে তো! তারপর জোছনার আলো সরিয়ে চাদরটা তোর গায়ে টেনে দিতে দিতে হঠাৎই মনে পড়লো, তাই তো! কাল যে তুই আমাকে গুড নাইট না বলেই ঘুমিয়ে গেলি!
আমার মন খারাপ হবে না বল?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28710311 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28710311 2007-05-13 06:14:41
কনফুরে বাগে খাইলো- কর্তৃপক্ষ বাঁচান- লগ ইন করিয়া দেখি আমার ড্রাফটে 'সুদিন আসবেই একদিন' নামে একখানা পোষ্ট এডিট অথবা ডিলিট খাইবার অপেক্ষায় বসিয়া আছে। ভাল করিয়া দেখিয়াও উহাকে চিনিতে পারিলাম না। তারপরে বুঝিলাম, অন্য কাহারো পোষ্ট আমার বাড়িতে আসিয়া চুপটি করিয়া বসিয়া আছে।
না না, তিনি আসিয়াছেন, আমি তাহাতে মাইন্ড খাই নাই, আদর করিয়া বসিতে দিয়াছি। কিন্তু ভাবিতেছি আমার দুই একখান ছানাপোনা যদি ভুল করিয়া অন্যের শয়নকক্ষে উঁকি ঝুঁকি মারিতে গিয়া ধরা খায়, আর বাড়ির মালিক যদি নির্দয় ভাবে তাহাকে ডিলিট মারিয়া দেয়!
কি সর্বনাশ! আমি আর নতুন করিয়া পোষ্টহারা হইতে চাহি না।
কর্তৃপক্ষ, দয়া করিয়া ব্যবস্থা করেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709919 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709919 2007-05-10 10:59:17
রঙীন 'একটি ফুলে দুইটি ভ্রমর-' তো এইরকম গোলমালের মাঝখানে সিনেমার শেষপ্রান্ত হাজির হয়ে যায়। নায়িকাকে কিডন্যাপ করে ফেলে ভালো মানুষ-ভিলেন, আর সহযোগী ভিলেন। ওখানে তুমুল মারামারি, নিজেদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝি ভেঙে দুই নায়ক 'বুকে বুক মিলিয়ে' যুদ্ধ করে ভিলেনদের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যায়ে ভিলেন ছুরি হাতে এগিয়ে আসে নায়ককে মারতে, আর বন্ধুকে বাঁচাতে সেই ছুরির সামনে পিঠ পেতে দেন অন্য নায়ক। লাভের মধ্যে লাভ- নায়িকার কোলে মাথা রেখে মৃত্যু হয় তাঁর। শেষমেষ নায়ক নায়িকার মিলন ঘটে। সিনেমারও শেষ হয়।
এতক্ষণের কাহিনি পড়ে যদি ভাবেন, এই সিনেমার নাম রঙীন একটি ফুলে দুইটি ভ্রমর, তবে পাঠক, আপনার দোষ দিব না। বিশ্বাস করুন- সিনেমার শুরুতে যদি স্ক্রীনে না দেখাতো, তারচেয়ে বড় কথা- সাথের টিকেটের গায়ে যদি স্পষ্টাক্ষরে লেখা না থাকতো- আমি বিশ্বাসই করতাম না এই মাত্র যেই ছবিটা দেখলাম, সেটার নাম- স্পাইডার ম্যান-থ্রি!
হায়, সেলুকাস! হলিউডের পরিচালকেরা যে ইদানীং মনোযোগ দিয়ে বাংলা সিনেমা দেখা শুরু করেছেন, সিনেমার শেষে ক্রেডিট ডিসপ্লেতে এই তথ্যটাও যোগ করা দরকার ছিলো।
যারা এখনো দেখেন নি, তারা বেঁচে গেছেন। আর যারা বাঁচতে পারেন নি,আসেন ভাই, আমরা গলা ছাইড়া কান্দি! :-((

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709779 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709779 2007-05-09 11:39:37
রচনা রবীন্দ্রনাথ- এরকম একটা মানুষকে নিয়ে লেখা আমার সাধ্যের ভেতর নেই। এবং সত্যি বলতে কি- সেই চেষ্টার ধারে কাছেও আমি আজ যাবো না।
জীবনের নানা প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে নানা কথা ধার করে কাজ চালাই। আজ রবীন্দ্রজয়ন্তীতে তাঁকে রেহাই দেবার সুযোগ পেলাম। এবারে হাত পাতলাম সুনেত্রা ঘটকের কাছে। তাঁর লেখা 'রচনা রবীন্দ্রনাথ'- আমার মনের প্রায় সব কথাই বলা হয়েছে যেখানে। নির্দ্ধিধায় বলতে পারি- রবি ঠাকুরকে নিয়ে লেখা এর চেয়ে সুন্দর কোন কিছু আমি আজ অবদি পাই নি, , এবং আমার দৃঢ় ধারণা আর কখনো পাবোও না।
সৌভাগ্য এই যে, 'রচনা রবীন্দ্রনাথ'-এ কণ্ঠ দিয়েছেন আমার আরেকজন প্রিয় আবৃত্তিকার- শিমুল মুস্তাফা।
দুইয়ে মিলে আমি যতক্ষণই শুনতে থাকি- মুগ্ধতার সাগরে সারাক্ষণই ডুবি ভাসি।
শুনতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে।


[wjsK=http://www.esnips.com/doc/e33f2376-8e71-4842-972e-d35b9c6e680d/rochona-robindronath][/wjsK]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709638 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709638 2007-05-08 14:45:55
একটি আইটিঘটিত কল্পকাহিনি- তাতে কারই বা কি আসে যায়? কাগজটা নরম নয় বলে এমনকি টয়লেট পেপার হিসেবেও তার ব্যবহার নেই। অথবা কে জানে, যাদের শক্ততেও চলে, তারা হয়ত রোল করে বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখেন 'সংগ্রাম'।

বাজারে পর্ণ ম্যাগাজিনের অভাব নেই। কাউন্টারের তলদেশ থেকে সর্বদাই উঁকি দিতে থাকে রসময়ের চটি বই। তবু যদি এ শহরের প্রধানতম নটী ঘোষনা দেন, 'সতী নারীর কিসসা!' নামে গল্প লিখবেন তিনি, তবে অনেকেরই হয়তো জিভ লকলকিয়ে উঠবে। এটুকুই তো! বখে যাওয়া কিশোরেরা সেই তো সেটা হাতে নিয়ে বাথরুমেই ঢুকবে!

আমি ভাই বিবাহিত সদ্বংশীয় পুরুষ, আমার এসবে কাজ নেই। বাথরুমেও ঝুলে থাকে নরমানরম টয়লেট টিস্যু।
তবে হ্যাঁ, আমাদের পাড়ার ডাস্টবিন নিয়ে বড়ই চিন্তায় আছি। কাল রাতে কে যেন সেটা তুলে নিয়ে গেছে, সেই সাথে ঘোষনা দিয়ে গেছে ওটার আর কোন দরকার হবে না। এখন আইটির যুগ, লেখাপড়া থেকে বাজার সদাই সবকিছুই অনলাইন, তো ডাস্টবিনটাই বা বাকি থাকে কেন?
শুনলাম জোর গবেষনা চলছে। অনেক পয়সা ঢালা হচ্ছে তাতে, খুব শিঘ্রীই আপনারা মাউসে ক্লিক করেই পেয়ে যাবেন ঝকঝকে নতুন অনলাইন ডাস্টবিন!

অপেক্ষায় থাকুন!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709066 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28709066 2007-05-04 12:23:25
একজন জননীর জন্যে- আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এমন করেই তাঁর স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, জাহানারা ইমামকে প্রথম দেখে তিনি চমকে উঠে ভেবেছিলেন কোলকাতা থেকে এত দূরে, ঢাকায়, কি করে অবিকল একই রকম একজন সুচিত্রা সেন থাকতে পারে, যিনি পর্দার অলীক নায়িকা নন, বাস্তব মানুষ!
'৯৪ এ লেখা এই প্রবন্ধটি প্রায় এক যুগ বাদে প্রথমবারের মত পড়বার সময় আমি নিজেও চমকে উঠেছিলাম! বস্তুত, জাহানারা ইমামকে শহীদ জননী হিসেবেই জানি, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির প্রধান হিসেবে জানি- তিনি একজন সাধারণ মানবী নন, একজন অতিমানবী। ঠিক এরকম ভাবনাগুলোর সাথে সুচিত্রা সেন-এর ছবিটা মিলছিল না, সে কারণেই যখন তাঁরই সমবয়েসী ও সমকালীন সায়ীদ স্যারের লেখায় জানলাম, তৎকালীন যুব সমাজের কাছে তিনি ছিলেন ঢাকা শহরের সুচিত্রা সেন, এই প্রথমবারের মত অনেক কাঠিন্যের পেছনে তাঁর মানবী রূপটিও যেন সহসাই চোখে পড়লো।
অনেক রকমের স্মৃতিচারণের মাঝে এই নতুনত্বটুকু বেশ উপভোগ্য লাগলো।
----------------

এইট বা নাইনে পড়ি, কলেজ লাইব্রেরীর বাংলা বইয়ের শেলফের কোন এক কোনায় একটা বই সবসময়ে চোখে পড়তো, ক্যান্সারের সাথে বসবাস। লেখক- জাহানারা ইমাম। কখনো পড়িনি, পড়বার আগ্রহও বোধ করি নি, বরং ফেলুদার কীর্তিকলাপ বেশ কয়েকবার রিভিশান দেয়াতেই আগ্রহ ছিল বেশি। সেসময়েই একবার মুহম্মদ জাফর ইকবালের কোন একটা লেখায় জাহানারা ইমামের কথা পড়লাম, সহজ সরল জলের মতন ভাষায় জাফর ইকবাল কি লিখেছিলেন মনে নেই, তবে সেটা পড়ে চোখ ভিজে গিয়েছিল মনে আছে। পরের লাইব্রেরী ক্লাসেই ইস্যু করি ক্যান্সারের সাথে বসবাস। তারপরের সপ্তাহে- একাত্তরের দিনগুলি। এবং মন্ত্রমুগ্ধের মতন পড়ে যাই। একবার নয়, বেশ কয়েকবার। ফেলুদার বদলে রুমি-জামিই আমার খুব কাছের মানুষ হয়ে গিয়েছিল তখন। প্রায় চেনা ভঙ্গিতে এমন সুন্দরভাবে লিখেছেন তিনি, যেন তাঁকে সঙ্গী করেই সকল আনন্দ বেদনা অনুভব করতে করতে '৭১ এর ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ালাম বেশ কয়েকটা দিন।

তারপর, ক্রমশ বড় হই, বড় হতে হতে এই ভীষন বড় মানুষটার কথা যখন আরো বেশি করে জানতে পারি, শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে যাই।

--------------
আজ শ্রদ্ধেয় জাহানারা ইমামের জন্মদিন। কাছের মানুষেরা তাঁকে আম্মা বলে ডাকে। অথবা কে জানে, আম্মা ডেকেই হয়ত সবাই তাঁর খুব কাছের মানুষ হয়ে যায়!

জন্মদিনের দিন মৃত্যুর কথা বলতে নেই। তবু যে মানুষটা চলে গেছেন, তাঁর জন্মদিনেও যেন তাঁকে হারাবার বেদনাটাই বেশি করে বুকে বেজে ওঠে।
ঢাকার রাস্তায় যখন জাহানারা ইমামকে কালো কফিনে শুইয়ে বিদায় জানানো হচ্ছিল, সেই কফিনবাহী লাশের পাশ দিয়ে যেতে যেতে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের কথাটুকু দিয়েই শেষ করি বরং-
" একটা ভারী কষ্ট গলা অব্দি উঠে এসে বুক চেপে বসে রইল। আমার চোখ ছাপিয়ে পানি টলমল করে উঠল, কিন্তু মাটিতে পড়লো না। আমরা এখন আর কাঁদি না। বয়সের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জেনেছি, যে দুঃখের অশ্রু একবার মাটিতে ঝরে, সে দুঃখকে মানুষ হারিয়ে ফেলে।''
-------------

আপনার জন্যে বুকের গভীর থেকে উঠে আসা ভালবাসা জানাই শহীদ জননী। কখনো কোন মানুষের জন্যে যদি অমরত্ব প্রার্থনা করার সুযোগ পেতাম, নিঃসন্দেহে সেই মানুষটা আপনিই হতেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28708837 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28708837 2007-05-03 11:53:10
আরিল যেটা করতে পারেন-


গত কদিনের ব্লগ ঘুরে গেলে, এর চেয়ে শান্তিময় আর কোন উপায় আছে বলে মনে হচ্ছে না আমার।
ইস্যুটা স্পষ্ট, এই ব্লগে জামাতী আর স্বাধীনতা বিরোধীদের দৌরাত্ম দেখে রীতিমতন চমকে ওঠার জোগাঢ়! নিজামী-গো আ-সাঈদীর গুণগান করে পোষ্ট হচ্ছে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ভাইয়েরা তাদের সংগী হবার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, এই ব্যাপারগুলো সহ্য করা মুশকিল।
কিন্তু এর প্রতিকার কি হতে পারে? তাদেরকে ব্যান করা? অথবা ঐ পোষ্টগুলোকে সামনের পাতায় আসতে না দেয়াটা?
ব্যাপারটি সম্ভব নয়। করতে হলে প্রায় সারাক্ষণই কর্তৃপক্ষের কাউকে ব্লগ মনিটর করতে হবে, এবং সেই সাথে মডারেট করতে হবে। এটা তারা পারবেন না, তখন সমাধান দেয়া হবে ব্লগারদের মধ্য থেকেই কাউকে মডারেটর বানানো, কিন্তু সেটাও সমর্থনযোগ্য হবে না।
আমরা তাহলে কি করবো, ব্লগটা রাজাকারদের দালালে ভর্তি হয়ে গেছে এরকমটা ভেবে ব্লগ ছেড়ে চলে যাব?
সেটাও বুদ্ধিমানসুলভ আচরণ হবে না।
প্রত্যেকের নিজেদের জন্যে কাস্টমাইজড ফ্রন্ট পেজের একটা অপশনের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এ ব্যাপারটিও আমার খুব একটা 'জুইতের' মনে হচ্ছে না। সামহোয়্যারের মূল মজাটাই হলো এই ফ্রন্ট পেজ। ব্লগিং তো ব্লগস্পটেও করা যায়, কিন্তু ফ্রন্টপেজের মজাটা সেখানে নেই। তাই কাস্টমাইজড ফ্রন্টপেজ ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হলেও সম্ভবত আমি সেটা গ্রহণ করবো না।
বর্তমান অবস্থাতেই আমি বরং অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ ও নিরাপদ বোধ করি। রাজাকার-পুত্র ও অন্যান্য দালালরা আমার চোখের সামনেই যা লিখবার লিখছে, আমি জানতে ও বুঝতে পারছি তাদের চিন্তা ধারা এখন কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে- এ ব্যাপারটিই বরং অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হয়।
শত্রুকে চিনে নেয়া ভাল, বিপদের সম্ভাবনা কমে তাতে।

স্কুল ব্লগিং শুরু হলে বাচ্চা কাচ্চারা অথবা অন্য নতুন ব্লগাররা এসব পোস্ট দেখলে খুব বেশি প্রভাবিত হবে, আমার সেরকমও মনে হয় না। কারণ আমরা তো পোস্টানো বন্ধ করে দিচ্ছি না, আমরা বরাবরের মতই আমাদের দেশের জন্মযুদ্ধের কথা লিখে চলব, দেশকে ভালবাসার কথা লিখতে থাকবো। নতুন ব্লগাররা তখন তথ্য-প্রমাণের মুখোমুখি হবে, প্রকৃত ইতিহাসের মুখোমুখি হবে তারা এবং দেশের জন্মলগ্নে যারা তার বিরোধীতা করেছিল এবং এখনো সেই ঘৃণ্য কর্মের সাফাই গেয়েই চলছে, তাদেরকে ঘৃণা করতে শিখবে।

আরিল অথবা সামহোয়্যারইনব্লগের অন্যান্যদের কাছে আমার তাই ব্লগের কন্টেন্ট সম্পর্কিত কোন অনুরোধ নেই। আমাদের মতপ্রকাশের জন্যে আপনারা খুব সুন্দর একটি জায়গা করে দিয়েছেন, অগণিত ধন্যবাদ জানাই সে কারণে। কি করে সাইটটিকে আরো বেশি দৃষ্টিনন্দন করা যায়, অথবা আর কি কি সুবিধা বাড়ানো যায়, আসুন সেই নিয়ে আমরা আলাপ করি।

ব্লগের পোষ্টগুলো নিয়ে আপনাদের খুব বেশি মাথা ঘামাবার দরকার নেই। এই ব্যাপারটা আমাদের মানে ব্লগারদের হাতেই ছেড়ে দিন বরং ।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28708292 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28708292 2007-04-29 05:23:19
অরাজনৈতিক রোজনামচা- " তারপরে কি হইতে কি হইলো, নিমেষের মধ্যেই শত্রুর বন্দুক বনহুরের হাতে চলিয়া আসিলো। '' রাজনীতিকে ঠিক এরকমই ভোজবাজি মনে হয় আমার কাছে চিরকাল, যেখানে সদা সর্বদাই কি হইতে কি হইয়া যায়! আগে ভাগে কিছু বুঝে উঠতে পারাটা সব সময়েই যেখানে দুষ্কর।

রাজনীতিবিদদেরও আমার পছন্দ নয়। সেই ছোটবেলার কথা। কোন কেলাশে পড়তাম তাও ভুলে গেছি। কোন এক সুন্দর সকালে দাঁত মাজতে মাজতে বাসার বাইরে গিয়ে দেয়ালে তাকিয়ে দেখি, খুব বড় বড় করে সেখানে লেখা- " দ-খ-লে- কা-ল্লু- মিয়া- ''। আমি তো সেই দেখে আর্ত চীৎকার! বলে কি! আমাদের বাসা দখল করে নিয়েছে! হই হই চেঁচামেচি করে বাসার সবাইকে জড়ো করে ফেললাম, সবাই বলে কি হলো, কি হলো? আমি কোন এক ফাঁকে কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, তোমরা দেখতে পাওনা, কাল্লু মিয়া যে আমাদের বাড়ি দখল করে নিয়েছে??!!
তারপর সবার সে কি হাসি! অবুঝ আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হলো, বাড়ি নয়- নির্বাচনী প্রচারের জন্যে দেয়ালে চিকা মারা হয়, সেটারই দখল নিয়ে রেখেছে কাল্লু মিয়ার কর্মীরা, ভয়ের কিছু নেই।
সেদিন 'বুঝ' পেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেই যে মন বেঁকে বসলো রাজনীতিবিদদের উপর, সেটা আজ অবধি সোজা হয় নি।

দুই হাজার সাতের এই শীত শীত সকালে এসে আমি এখন আর সেই পুঁচকে ছোঁড়াটি নই। রাজনীতিক নন, সুতরাং এ কথাও জোর দিয়েই বলা যায় যে আমাদের উপদেষ্টারাও নিশ্চিত কাল্লু মিয়া নন। জরুরি অবস্থার শুরুতে একের পর এক যখন দূর্নীতিবাজেরা ধরা পড়ছিলো, খানিকটা হলেও আশা পাচ্ছিলাম, এবার বোধহয় বিচার হবে তাদের কৃতকর্মের। কিন্তু, তারপরে কি হইতে কি হইয়া গেল, দেখি চিত্রনাট্য নতুন করে লেখা হচ্ছে, ঘটনার নেপথ্যে দর কষাকষি চলছে, রাঘব বোয়ালেরাও টপাটপ দেশ ছাড়তে রাজি হয়ে যাচ্ছেন। চারপাশে ফিসফিস শুনছি, বাংলাদেশ নাকি হাঁটছে পাকিস্তানের দেখানো পথেই!!! তবে??? সোনার বাংলার ভবিষ্যত কি তাহলে পেয়ারা পাকিস্তান??

জেগে জেগেই দুঃস্বপ্ন দেখছি এখন- আমাদের মানচিত্রের গায়ে খুব মেপে মেপে জলপাই রঙে লেখা হচ্ছে- ' দ- খ- লে- ... ... ''। বছর দশেকের সেই ছোট্ট ছেলেটা আজ আবার গাল ফুলিয়ে বলছে- আমাদের দেশ যে দখল হয়ে গেল, তোমরা দেখতে পাওনা??

আমরা কি দেখতে পাচ্ছি?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28707313 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28707313 2007-04-22 06:21:09
তবু মুখোমুখি এক আশাতীত ফুল আছে- জীবনানন্দের কবিতা কখনোই শুধু মুখে পড়ে নিস্তার পাই নি, সে কবিতার আবেশ এরকমই তীব্র ছিলো যে বইয়ের পাতায় ছাপানো কালো অক্ষরগুলোয় আঙুল বুলিয়ে চলতাম পড়ার সময়, যেন ছুঁতে চাইতাম শব্দগুলোকে, শব্দের প্রানস্পন্দনকে। একেকটা দিন ছিলো, যখন, শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে, আমার প্রিয়তম এই লাইনটি ঠিক কেমন করে লেখা হলো, কোন সেই তীব্র পার্থিব চোখ নিয়ে তাকিয়েছিলেন কবি যে এরকম একটি লাইন তার মাথায় চলে এলো- এই সব ভাবনা ভাবতে ভাবতে সারাটাদিন কাটিয়ে দিতে পারতাম, লিখে ফেলতে পারতাম হয়তো হাজার দশেক শব্দের চেয়েও দীর্ঘ কোন প্রবন্ধ।
সেইসব দিন গুলোকে আজকাল অনেক দূরের দেশ বলে মনে হয়। আয়নায় না তাকিয়েই ভয় পাই, সেখান থেকে যদি অন্য আমি বলে ওঠে, বুড়ো হয়ে গেছ তুমি বুড়ি পৃথিবীর মত! শিউরে উঠে ভাবি যদি আমাকেই উপহাস করে লক্ষীপ্যাঁচা বলে ওঠে, আজও চমৎকার!
বিশাল সৌরজগতে সূর্যের বিশালত্বের চেয়েও বরং তার একাকীত্বকে আমার বেশি করুণা হয়। দোয়েল অথবা শালিকের জীবনের সাথে কেন আমার দেখা হবে না, এরকম একটা তীব্র রাগে আমি একের পর এক পাতা উলটে চলি, আমরা যাইনি মরে আজও কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়, মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জোছনার প্রান্তরে।
ফেলে আসা, প্রায় অবহেলায় ঠেলে দেয়া অনেক আগের সেই আমি হয়ে উঠতে আবার ইচ্ছে করে আমার। বুড়ি চাঁদেরা প্রতিদিন বেনো জলে ভেসে যায়, আমিও আমাকে কেবলই খুঁজে চলি।
কোথাও রয়েছ, জানি, তোমারে তবুও আমি ফেলেছি হারায়ে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28704549 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28704549 2007-04-01 13:13:31
[is=#4E9258] eyw না, উৎসাহের অভাব ঘটেনি, আর্থিক টানাটানিই মুল কারণ। কোন সরকার কখনো তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে নি, কেউ কোন আর্থিক সাহায্যও করেন নি।

করবে কেন? আমাদের কি আর কাজ নেই? এম এ হাসান না হয় পাগল কিসিমের মানুষ, আমরা তো নই! এত বছরের পুরোনো ইতিহাস ঘাটায় আমাদের তাই উৎসাহ নেই। কানের পাশ থেকে যখন ঘাতকদের পরবর্তী প্রজন্ম খলখলিয়ে হাসি দিয়ে বলে, প্রমাণ কই, প্রমাণ? বুকের ক্ষতটারেতো আর বাইরে টেনে এনে দেখানো যায় না, আমরাও তাই অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে মরি। কিন্তু প্রমাণ পাই না।

থাক, দরকারই বা কি? এই তো বেশ ভালো আছি। বেঁচে আছি, প্রতিদিন রুটি-গোশত খাচ্ছি। ডা: এম এ হাসান, আপনিও প্লিজ এইবারে অফ যান। দয়া করে পুরোনো জিনিস নিয়ে আর টানাটানি করবেন না। সিংগাপুর এয়ারপোর্টে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আপনার টিকেট ছিড়ে ফেলেছিলো? বেশ করেছে। আমাদের সরকারী গোয়েন্দা বাহিনী আপনার ফোন ট্যাপ করে, সারাক্ষণ অনুসরন করে আপনার গাড়ি, নানারকম হুমকি ধামকি দেয়। দেয়াই তো উচিৎ। কি দরকার এসবের বলুন তো?

যথেষ্ঠ করেছেন। আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন। আপনাকে আমরা নিশ্চয়ই একদিন মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করবো। 920 টি বধ্যভূমির হাহাকার বুকে নিয়ে আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকবেন, আমরা তখন সভা সেমিনারে গিয়ে স্মৃতিচারণ করবো, ডা: এম এ হাসান, আহা, বড় ভালো লোক ছিলেন, আর ভীষন বোকা, আমাদের শহীদ পিতাদের কবর খুঁজতে চেয়েছিলেন।
আহা, বেচারা!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28704101 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28704101 2007-03-29 11:06:48
কলংক জমাই.. দেশ বিদেশের ডাকটিকিটও জমায় বহুজনায়। আমাগো শমিতদা অনেক এস্মার্ট। উনি গুগল জমান!
খুঁজে পেতে দেখি, জমানোর মতন কি বাকী আছে আর?

নাই নাই নাই, সককলে জমায়ে জমায়ে এখন বিরাট জমিদার।
জমিদার না হই, আমি না হয় জমাদারই হইলাম।

শেষমেষ তাই,
আমি নিজ দেশের কলংক জমাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28703946 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28703946 2007-03-28 12:58:33
সাহানার গান: নতুন করে পাবো বলে- গত কদিন ধরে একটানা শুনে যাচ্ছি সাহানার গান। বাইরে যতক্ষন আছি, সারাক্ষনই কানে বাজছে । বাসায় ফিরেও শুনেই চলেছি।

পুরো এলবামটাই ভাল লাগার মতন। গানগুলো বেছে নেয়া হয়েছে অনেক যত্ন করে। রবীন্দ্রনাথের অল্প কিছু গানই ঘুরে ফিরে শুনতে পাওয়া যায়। যারা রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশেষ ভক্ত, তাঁরা বাদে বাকিদের জন্যে কিছু অপ্রচলিত গানও গেয়েছেন সাহানা।

এমনিতে অর্ণব-সাহানা জুটি আমার খুব পছন্দের। সাহানার লেখা অর্ণবের সব কয়টা গান আমার খুব প্রিয় । দু'জনে মিলে ইতিমধ্যেই বাংলা গানকে অনেক দিয়েছেন, নতুন করে পাবো বলে- নামের এই এলবামটা নিঃসন্দেহে তার সাথে খুব ভাল একটি সংযোজন।

সাহানার গলা অদ্ভুত ভাল। খানিকটা ছেলেমানুষী ভাব রয়ে গেছে, এবং একটুখানি বিষন্ন যেন, খুব মনোযোগে শুনতে থাকলে বুকের ভেতরে কোথাও যেন হুট করে ফাঁকা লাগা শুরু করে। কিছু গানের বিশেষ কিছু জায়গা বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো..., এখানে মাতালো বলে যে টানটা দেয়, আমি বারবার পিছিয়ে গিয়ে শুনি। তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে... এ গানটাও অদ্ভূত ভাল গেয়েছে সাহানা। আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে- গানটার শুরুতে বেশ খানিকক্ষণ মিউজিক বেজে চলে, এ কাজটাও অনেক সুন্দর। একেই কি কম্পোজিশান বলে? তাহলে অর্ণব আসলেই গ্রেট।

এমনিতে যারা রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনে না, বিশেষ করে নতুনরা, তাঁরা খুব পছন্দ করবে গানগুলো। সাহানার কারণে বেশ কিছু শ্রোতা রবিবাবু পেয়ে যাবেন বলে মনে হচ্ছে। আমি সুর বা লয়ের কোথাও কোন পরিবর্তন পাই নি, কম্পোজিশান খুবই ভালো, প্রজাপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছে নোটেশান নাকি বদলায় নি, এটা যে কি জিনিস, তাও ভাল করে বুঝি না, তবে ওর কথা শুনে বুঝতে পেরেছি, রবীন্দ্র সঙ্গীতের ব্যাপারে বিশুদ্ধতাবাদীরা সাহানাকে নিয়ে আপত্তি করবেন না হয়তো।

একনাগাড়ে শুনতে শুনতে একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম, লম্বা বাক্যগুলোয় সাহানা মাঝে মাঝে দম টেনে নেন। অথবা যেখানে খুব বেশি টান দিতে হয়, সেখানে, একটু খেয়াল করলেই তাঁর নিঃশ্বাস টানার শব্দ শোনা যায়। সাধারণত অনেকদিন চচ্র্চা না থাকলে ভালো গায়কদেরও এই সমস্যাটা হয়। সাহানা নিশ্চয় চচ্র্চা ছাড়াই এই এলবাম বের করেন নি, তার মানে, ওঁর গলার বৈশিষ্টই এই। মজা হচ্ছে- এ ব্যাপারাটা খুব খারাপ লাগে না কিন্তু, বরং বেশ মিষ্টি লাগে শুনতে।

একটা সাহানা, একটা লোপামুদ্রা- এমন করে সাজিয়েও শুনলাম টানা দু'দিন। ভালো গানের কথা এলেই আমি লোপামুদ্রাকে টেনে আনি বলে আমার বউ মাঝে মাঝেই ক্ষেপে যায়। কিন্তু সামলাতে পারি না।
কোন তুলনায় যাওয়াই ঠিক নয়। তবু মনে হলো- সাহানার গানে লোপামুদ্রার মতন স্বচ্ছতা নেই। লোপার গান শুনলেই পরিষ্কার বা ঝরঝরে যে অনুভূতি জাগে মনে, সেরকমটা হয় না সাহানার গান শুনলে। তবে যেটা হয়- খানিক্ষণ একলা বসে থাকতে ইচ্ছে করে সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে। দরজা আটকে অনেক আগের ভুলে যাওয়া কোন দুঃখের স্মৃতি মনে করে মন খারাপের মাঝে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। কি দারুণ করেই না গেয়েছেন সাহানা- তুমি কোন পথে যে এলে, আমি দেখি নাই তোমারে- শুনতে শুনতে পৃথিবীকে আসলেই মায়াবী নদীর পারের দেশ বলে মনে হয়, সেই নদীর পাশের নির্জনতায় যে মানবী অপেক্ষা করে আছে আমার জন্যে, তাকে কাছে না পাওয়ার বেদনা তখন খুব বড় হয়ে বেজে ওঠে মনের ভেতর।

এবং বলতে দ্বিধা নেই, এই অনুভুতিটাকেও আমার ভীষন ভাল লেগে যায়। ভাল লাগে সাহানার গান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28703202 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28703202 2007-03-23 02:51:17
হালুম হুলুম ক্রিকেট খেলুম- http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702692 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702692 2007-03-18 13:20:27 দুই বাংলার মানুষ ও দু'টি ওয়েবসাইট নিয়ে কিছু কথা- সেসবের ফাঁকে ফাঁকেও দুটা জায়গায় নিয়ম করে ঠিকই হাজিরা দিই। সামহোয়্যারইনব্লগ ও [link|http://www.guruchandali.com/|]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702395 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702395 2007-03-16 08:04:29 নন্দীগ্রাম বিষয়ক একটি লেখা- -- ইন্দ্রনীল ঘোষ দস্তিদার

--------------
কাল সারাটা দিন হাসপাতালে নানান ঝুট-ঝামেলায় কেটেছে। যেমন আর পাঁচটা কাজের দিন যায়, তার থেকে একটু বেশীই। সাঁঝের ঝোঁকে সোফাতে একটু গা এলালেই নয় যখন, ডক্টর"স রুমে ঢুকতেই কলকল করে বন্ধু ও সহকর্মীরা জানাল -আবার বাংলা বন্ধ। শুক্রবার।
কে ডাকল?
কে আবার, দিদি ছাড়া?
কেন হে?
নাকি নন্দীগ্রামে কিসব ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট হয়েছে।
আ-ব্বার বন্ধ, শুক্কুরবারদিন যে আমার চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি! কিছু বাছা বাছা খিস্তি ঠোঁটে আসছে, এক-আধটা বলেওছি, সুরঞ্জনাদি বলল-নারে, অনেক লোক মারা গেছে।
তখনো ভাবছি-নিশ্চয়ই কৃষিজমি বাঁচাও কমিটির সঙ্গে সিপিএম ক্যাডারদের খুচরো ক্যালাকেলি। তো, ধরো অনিকেশদাকে। অনিকেশদা (নাম পাল্টে দেওয়া হল) আমাদের কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট ও মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র; মাই ডিয়ার লোক।

অনিকেশদা জানাল, না, সিপিএম নয়, ক্যাডার নয়, বিশাল পুলিশবাহিনী ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে মানুষ মেরেছে। মেয়েরাও মারা গেছে। বুদ্ধবাবু (উত্তেজিত গলায়) মেদিনীপুরকে শেষ না করে থামবে না।
হতাশ ও ক্রুদ্ধ; অভিমানী।
এই অনিকেশদাই নন্দীগ্রামের প্রথম ঘটনার পরে বলেছিল- এর নাম মেদনিপুর(না, মেদিনীপুর বলে নি, এব ংগলায় ভূমিপুত্রসুলভ অ্যাক্সেন্ট ছিল), ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার আগে ওখানটা স্বাধীন হয়েছে।

তারপর তো বেশীরাতে বাড়ি ফিরে এসে দেখলাম টিভিতে। বন্যার মত টেলিভিশন ফুটেজ আছড়ে পড়তে লাগল চোখে ও মাথায়। অপটিক নার্ভ , কায়াজমা , অপটিক ট্র্যাক্ট হয়ে মাথার পেছনদিককার অক্সিপিটাল কর্টেক্সে রক্ত এসে লাগতে থাকল, লিটার লিটার রক্ত, মানুষের রক্ত-মেয়েমানুষের রক্ত, পুরুষমানুষের রক্ত, বাচ্চা-বুড়ো-পাগল-মুনিষ-মাইন্দর-নকশাল-তৃনমূল-সিপিএম-পুলিশের রক্ত। যতটা রক্ত বেরোলে পরে মানুষ অনিবার্য হাইপোভোলেমিক শকে চলে যায়, ফেরে না আর কিছুতেই, হদৃযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়, অবসন্ন।
যতটা রক্ত বেরোলে পরে মাথার ভেতরে নিও-কর্টিক্যাল এরিয়াতে সিগন্যালেরা সব ঘুলিয়ে যায় পথহারা, বুদ্ধিশুদ্ধি ঠিক তেমনি হাড়গোড়ভাঙা দ হয়ে যায়, যেমন হয়ে রয়েছে পুলিশে খোবলানো নন্দীগ্রামের মানুষেরা, তাদের ভাঙা কলার বোন, হাত-পা ও পাঁজর নিয়ে।
ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়া নয়া বাংলা গড়বো? না:, বুদ্ধবাবু, এই গান আর উঠে আসেনা,এ গান একদা আপনিও গুণগুণিয়ে গাইতেন কিনা সে প্রশ্নও উঠে আসেনা আর ।
শুধু ক্রোধ, পাশবিক; শুধু ঘৃণা, তাল তাল ও জমাট- বাঁধা- কালো, যতটা কালো হতে পারে জমাট বাঁধা রক্ত, মানুষের রক্ত। নকশালী রক্ত? তৃণমূলী রক্ত? আপনি ভাল জানবেন, হে সংস্কৃতিবান পুলিশমন্ত্রী; আরো ভাল জানবেন আপনার প্রিয় বয়স্য, সখা, কৃষকসভা নেতা বিনয় কোঙার, যিনি বলেছেন- পুলিশ কি ফুলের পাপড়ি ছুঁড়বে?
প্রমোদ দাশগুপ্ত একদা বলেছিলেন-পুলিশের বুলেটে কি নিরোধ লাগানো আছে, নকশালরা মরে না কেন? হরেকৃষ্ঞ কোঙার নির্দোষ প্রশ্ন করেছিলেন-পুলিশ কি তবে রসগোল্লা ছুঁড়বে? আর কারা যেন একদা কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় শ্লোগানে শ্লোগানে ভরিয়ে দিয়েছিল-পুলিশ, তুমি যতই মারো/মাইনে তোমার একশ' বারো।
হা:, রঙ্গপ্রিয় ইতিহাস!

খবরে প্রকাশ , মৃত অন্তত: চোদ্দ, আহতের সংখ্যা পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। হতাহতদের প্রাথমিকভাবে নন্দীগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত্ জানি, যাঁরা বেঁচে ছিলেন, তাঁদের যথাযোগ্য চিকিত্সা ঐ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবশ্যই হয়েছিল, কেননা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতই নন্দীগ্রামেও কি আর যথেষ্ট পরিমাণ হজমের ওষুধ, কৃমি ও আমাশার বড়ি এব ংগর্ভনিরোধক পিল (তেমন তেমন হলে চাই কি এক-আধখানা স্টেথোস্কোপ-ও !)ছিল না !

বিভাস চক্রবর্তী বললেন- বুদ্ধবাবুর সাদা পাঞ্জাবীতে কিন্তু রক্তের ছিটে লেগেছে, এব ংলেডী ম্যাকবেথের মত( "আমি নাটকের ভাষাই ব্যবহার করছি'-উনি বললেন) উনিও ওঁর হাতে লেগে থাকা রক্তের দাগ তুলবার চেষ্টায় প্রাণান্ত হয়ে যাবেন, কিন্তু পারবেন না।
লেডী ম্যাকবেথ? বুদ্ধবাবু? কল্পনা করবার চেষ্টা করলাম বুদ্ধবাবুর র ংও রুজ মাখানো গাল , স্বর্ণাভ উইগ ও মানানসই অ্যাটায়ার-রক্তাক্ত হাত নিয়ে তীব্র বেগুনী আঁধারে তীক্ষ্ণ চীত্কার করে প্রাসাদ অলিন্দ দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন। হাসি পেয়ে গেল।
কেননা আমরা তো নাটক দেখিনা সে আজ বহুকাল। বাচ্চাটা হওয়ার পর ওকে নিয়ে নাটক দেখতে যাওয়া যায় না, তাছাড়াও ওর পেছনে সময় দেওয়া, আমার হাসপাতাল, আরো পড়াশুনো, সঙ্গীতার অফিস। কফি উইদ অর উইদাউট করণ। সিটি সেন্টার, কাফিলা;তার ডেকর পেশওয়ারী, তার দেয়ালে ঝোলানো সাজানো বন্দুক, হায় কি অসহায় নির্বিষ !

হাসি ছাড়া তাই কিছু আর নেই আমাদের। চিনিহীন কালো কফির মত তেতো হাসি, ঈষত্ বাঁকা, মুখটেপা ও কাষ্ঠ-কিন্তু কোনমতেই হা হা নয়-এমন হাসি। এই হাসি মেখে আমরা ট্রামে-বাসে চড়ি , সিট নিয়ে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করি, বিকেলে বিষণ্ন হই,সকালে কোষ্ঠসাফ ও রাতে সঙ্গম করি, শিশুকে আদর করি, বসকে হ্যা-হ্যা বলি । আর গর্তে ঢুকি। মেট্রোরেলের, রাজারহাটের,ওপেল অ্যাস্ট্রার .....

প্রসঙ্গত:, বিভাসবাবু সহ আরো বেশ কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্ব-কৌশিক সেন, সুমন মুখোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু এব ংসম্ভবত: মনোজ মিত্র ও অশোক মুখোপাধ্যায়ও -নাট্য একাডেমির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বিভাসবাবু আরো বললেন- শঙ্খদার(কবি শঙ্খ ঘোষ) সঙ্গে একদিন দেখা হল, উনি বললেন- বুদ্ধবাবু যে বলেছিলেন, এইসব নিয়ে একদিন কথা বলবেন, কই , বললেন না তো !
বুদ্ধবাবু হাজারো কাজের মানুষ, সবার সঙ্গে কথা বলার সময় না-ও থাকতে পারে। ভুলে যেতেই পারেন নন্দীগ্রামের মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার কথা, ঝঊত -এর আওতায় তাঁদের গ্রামটিকেও ঢোকানো নিয়ে নোটিশ পড়বার আগে। ভুলে যেতে পারেন নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকানোর আগে এলাকার সিপিআই বিধায়ককে অবহিত করবার কথা। আর, এমনই বা কে মাথার দিব্যি দিয়েছে যে ভুলে যাওয়া যাবেনা- বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নামের একজন মানুষ একদা একটি দল করতেন , যার নাম মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি , ট্রামভাড়া ন্যূনতম বাড়লে যারা কলকাতা অচল করে দিয়েছিল, খাদ্য আন্দোলন আর শিক্ষক আন্দোলনের সামনে তারাই ছিল, হ্যা হ্যা, সেইসব মানুষেরা যারা পুলিশকে ইঁট-পাটকেল ছুঁড়তে পিছপা হয় নি, দরকারে বোমা ও পাইপগান। এব , ংআমি বিশ্বাস করি, তারা ভুল কিছু করেনি। বুদ্ধবাবু, আপনি?
তবে , ভুলে যাওয়া কিছু বুদ্ধদেবের একচেটিয়া নয়। পৃথিবী জুড়ে অ্যামনেশিয়া-ডিমেনশিয়ার বাড়বাড়ন্ত, মানুষ-সব মানুষ সব কিছুই ভুলে যায়, সালভাদর আলেন্দে ও পিনোশে, গুলাগ ও হিরোশিমা, লুমুম্বা ও গেভারা, তেভাগা-তেলেঙ্গানা ও মরিচঝাঁপি। করন্দার কথা তো লোকে কব্বে ভুলে বসে আছে। নন্দীগ্রাম? মাসখানেক সময় দেবেন তো মশায়! তাছাড়া সামনে যখন ইলেকশন নেই ও ব্রান্ড বুদ্ধ যখন সেলি ংলাইক হট কচুরিজ, হ্যা, এখনো, এই আতান্তরেও,জাতীয় নিউজ চ্যানেলের ংসং পোলে।
তাছাড়া , আমরা ই কি চাইনি, গোপনে ও প্রকাশ্যে কত মজলিশে-এদেশের বুকে আর্মি আসুক নেমে !

আজ সকালটাও শুরু হয়েছিল বড় অদ্ভুতভাবে। বিধাননগর স্টেশনে নেমে দেখি ভিড় ঠেলে ওভারব্রীজে ওঠা যাচ্ছে না, এত লোক ! সার বেঁধে দাঁড়িয়ে কি যেন দেখছে। নিশ্চয়ই কোনো অ্যাক্সিডেন্ট । আমি তো ওসব দেখব না, ও বড় অশ্লীল, ভয়ুরিস্টিক, তাই মানুষ ঠেলে সটান এগিয়ে যাই। কিন্তু কোন বিড়ালই বা কবে বেঁচেছে কৌতুহলের কাছে ! তাই একটিবার তাকাই এব ংদেখতে পাই একটি মুন্ডহীন ধড়, আদ্যন্ত পরিষ্কার , তাতে রক্তের ছিটেফোঁটা লেগে নেই, শুধু হাত-পা- ক"টি শরীরের সঙ্গে অদ্ভুত কোণ রচনা করে মুচড়ে রয়েছে, যেন পিকাসোর বাউন্ডুলে কোনো ছবি। হনহনিয়ে এগিয়ে যাই,একেই যথেষ্ট দেরী হয়ে গেছে ... তাছাড়া ও তো মরেই গেছে, আমার মাঝখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরী হয়ে যাবে।
রাতে টিভি দেখে মনে হল, নন্দীগ্রামের প্রতিবাদও ঐভাবেই মুখ মুচড়ে পড়ে রয়েছে, একদা সোনালী ডানার চিল ছিল হয়তো বা, যখন আমরা, আমাদের বাপ-দাদারা স্বপ্নে দেখত যৌথ খামার। অবিকল পিকাসোর বাউন্ডুলে কোনো ছবি। লেননের ফার-ফেচেড ইমাজিনেশন।
কিন্তু সে আজিকে হল কত কাল। ওসব এক্কেবারে মরে গেছে, অত্যাধুনিক ইনস্যাস রাইফেলের ঠেলায় কি আর কেউ টেকে ! এতেও না শানালে সেনা ছিল, এ কে ৪৭/৫৬ ছিল .. থাগগে। কেমিক্যাল হাবের সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটোটেলও হলে পর, সালেম গ্রুপ যখন, একবার বর ংঘুরে আসা যাবে উইকএন্ডে,ছোট পরিবার, সুখী পরিবার।

বারংবার হটে হটে হঠাত্ হটেনটট যোদ্ধা যেন ছুটে যায় সিংহের দিকে/ এরকমই স্বপ্নে ঘুমে বুকের ভেতরে যেন গুরগুর ... তুষার রায় একদা লিখেছিলেন।
কিন্তু তুষার রায় তো এখন মৃত। আর মৃতেরা এ পৃথিবীতে ফেরে না কখনো। তাদের কবরের ওপর আর কেউ নয়, কিছু নয় শুধুই তুষার, শুধু ধূ ধূ প্রান্তরে বনে কেবলই তুষার ঝরে, শুধুই তুষার।


আর, যারা ফেরে, তারা তো প্রেত। তুষার ঠেলে ঠেলে ছাই র ংমুন্ডহীন কবন্ধ, শুকনো মামড়ি-ওঠা ঠোঁট, কাটা হাত তুষারযোনি অশরীরী।
দেশ যাদের কোনো মাতৃভাষা দেয় নি কখনো।।

------------------------------------------
লেখাটা পেলাম [link|http://guruchandali.com/guruchandali.Controller?portletId=8&porletPage=2&contentType=content&uri=content409|MyiyP]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702352 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702352 2007-03-15 21:46:28
যায়যায়দিন ও ব্লগ বিষয়ক লেখা নিয়ে হাবিজাবি কথা- ভাগ্য ভালো যে প্রাকৃতিক ভাবেই সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।

যায়যায়দিনের ওপর নানা কারণে রাগ। ওদের বানানরীতি নিয়ে অনেক আপত্তি করা যায়, আনন্দবাজারের চেয়ে কোন অংশে কম যায় না তারা। তারচেয়ে বড় কথা, একটা দীর্ঘসময় ধরে যায়যায়দিন আমাকে বোকা বানিয়ে এসেছে! আওয়ামীলীগের ক্ষমতার পুরোটা সময়ে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত যায়যায়দিন পড়তাম। সে সময়ে সরকারের ধারালো সব সমালোচনা করতো পত্রিকাটি। নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো- এরকম ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ভাবতাম, কি দারুন সাহস এদের, সরকারকেও ছাড়ে না, কি দারুন দেশপ্রেম!
পরবর্তীতে বিএনপির আমল শুরু হলে মাসকয়েক যাবার পরেই আমি যায়যায়দিনের আসল চরিত্র বুঝতে পেরে সে পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিলাম। এখন একেবারেই পড়ি না।

ব্লগ নিয়ে ইদানীং নানা পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক ব্যপার। আমাদের ব্লগের কৌশিক আহমেদ এরকম লেখকদের মধ্যে একজন। তাঁর সর্বশেষ লেখা- "[link|http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=1386| ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702305 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702305 2007-03-15 09:01:23
বাংলাদেশ নিয়ে হতাশা কেন?
আড্ডাগুলোর যে ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে অপছন্দ, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এলেই দেখা যায় সবাই চরম হতাশাবাদী হয়ে উঠেছে। নাক কুচকে ভুরু বাঁকিয়ে কাঁধ নাড়িয়ে সবাই উদাস গলায় বলে, নাহ, এই দেশ দিয়ে কিছু হবে না।
আমি তখন গলা নরম করে জিজ্ঞেস করি, কেন হবে না বলুনতো, কি মনে হয় আপনার? কোথায় সমস্যা?
এরকম সরাসরি জিজ্ঞাসায় বক্তা সাধারণত একটু বিহবল হয়ে যান। এদিক ওদিক তাকিয়ে দুয়েকজন সমর্থক খোঁজার চেষ্টা করেন। কারণ সম্ভবত আর কোন আড্ডায় এরকম হতাশ দীর্ঘশ্বাসের পরে তাকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নি। অন্য যারা দীর্ঘশ্বাস রেডি করেছিলেন, তারা সম্ভবত আমার আক্রমণাত্মক ভাবভঙ্গি দেখে সেগুলো আর বেরুতে দেন না, আটকে ফেলেন। আর মূল বক্তা তখন গলা খাঁকারি দিয়ে বলে ওঠেন, না, এই যে দেখেন, চারিদিকে সন্ত্রাস, দূর্নীতি জীবনের নিরাপত্তা নেই, এরকম হলে একটা দেশ কেমন করে উঠবে বলেন? দেখেন আমাদের পাশের দেশ সিঙাপুর, মালয়েশিয়া ওরা কত উন্নতি করে ফেললো তর তর করে...।

অন্য কোন দেশের সাথে তুলনা চলে এলেই আমার রাগ হয় খুব। সিঙাপুর বা মালয়েশিয়ার ইতিহাসের সাথে আমাদের মিল নেই। বাঙালি জাতিই একটা মিশ্র জাতি। যুগে যুগে নানাদেশের নানান রকম মানুষ সম্পদের লোভে এইখানে এসে বসতি গড়েছিলো, তখন থেকেই এই অঞ্চলের মানুষের রক্তে মিশ্রণ শুরু হয়ে গেছে। আজ এতদিন বাদে যদি তাকাই তো দেখি বাঙালি কারো সাথে কারো চেহারায় মিল নেই। একেকজনের চেহারার গঠন বা বৈশিষ্ঠ একেকরকম। এবং আমি নিশ্চিত যে বাইরের চেহারার সাথে সাথে তাদের মনের গঠনেও রয়েছে বিভিন্নতা ও বৈচিত্র! ঠিক এরকম একটা মিশ্র ইতিহাস সাথে করে নিয়ে একটা জাতিকে "এক'' হয়ে উঠতেই বিস্তর সময়ের প্রয়োজন। আমরা কি আদৌ সেই সময়টা পেয়েছি? আমার মনে হয় না।

খুব সামপ্রতিক সময়ের মধ্যে অবশ্য নানা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইস্যুতে আমরা একসাথে গর্জে উঠেছি ঠিক। 52, 69, 71 বা 90- এ সবই সেসবের একেকটা বহি:প্রকাশ। এবং আমি মনে করি, ভেতর ও বাইরের এরকম বিভিন্নতা ভুলে কিছু সময়ের জন্যে এক হয়ে যাবার যে প্রবণতা- তার সুফলও আমরা হাতে নাতেই পেয়েছি- নিজেদের ভূখন্ডের স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা, পেয়েছি নিজেদের ভাষার অধিকার। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে না যে আমাদের "হবে''- বাংলাদেশের কিছুই হবে না নয়, বাংলাদেশের অনেক কিছুই হবে?

সঠিক নেতৃত্ব না আসার দূর্ভাগ্যও আমাদের উন্নতিতে দেরি হবার ( উন্নতি না হবার- কথাটা ভুল বলে মনে করি আমি ) পেছনের একটা বড় কারণ। আমাদের স্বভাবের মাঝেই অসততা বা দূর্ন ীতি ঢুকে বসে আছে- এরকম কোন ধারণাও ভুল। ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান সারা দেশের মানুষের সমর্থন পেয়েছে। দূর্ন ীতিবাজ রাজনৈতিক নেতাদের ঢালাও গ্রেফতারেও সাধারণ মানুষ খুশি। যে কোন ভালো উদ্যোগেই দেশের মানুষ নিজের সবটুকু শ্রম দেয়। অমিত নামের ছোট্ট ছেলেটির জন্যে সারা দেশের মানুষের নি:স্বার্থ ভালোবাসার কথা আমরা ভুলে যাই নি। ব্লগের এ ছোট্ট পরিসরেও যখন প্রাপ্তির কথা উঠলো, প্রায় সবাই তার সাধ্যমতোন চেষ্টা করেছে। প্রথম আলোর মঙ্গাপীড়িতদের জন্যে অথবা এসিডদগ্ধদের জন্যে যে তহবিল সেখানে প্রতিদিনই জমা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এবং দেখা যাচ্ছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই সেখানে বড় অংকের টাকা জমা দিচ্ছেন। যার মানে হলো, তাদের অনেকেই মন থেকে সেবা করার উদ্দেশ্যেই দান করছেন।
এসবই আমাদের মনের ভেতরকার ভালোত্বের প্রকাশ। যত দিন যাবে, ছোট ছোট ভালো গুণ মিলিয়ে আমরা আমাদের হৃদয়টাকে অনেক বড় করে তুলবো অবশ্যই, আমাদের বাঙালি হৃদয়ও তখন পরিচিত হবে সৎ ও দূর্ন ীতি বিরোধি হিসেবে।

কিছু সৎ নেতৃত্ব দরকার আমাদের, কিছু শক্ত আইন দরকার, সেই আইন রক্ষার জন্যে দরকার কিছু নিষ্ঠাবান প্রশাসক। এবং আমার ধারণা, এই চাওয়াগুলো আকাশকুসুম কোন কল্পনা নয়। এসবই সম্ভব। পঁয়ত্রিশ বছর গিয়েছে, জানি এটা অনেক সময়, আমরা হয়তো একটু লেট লতিফই হলাম। পঁয়ত্রিশে পারি নি, সত্তরে হোক!

আমি বরং খুব নিকট ভবিষ্যতে খুব সুন্দর একটি বাংলাদেশ দেখতে পাই। আমাদের বয়েসী যারা আছে, আমাদের সমমনা বন্ধুরা, আমি তাদের অনেকের মাঝেই দেশের জন্যে অপরিসীম ভালোবাসা দেখেছি। সৎ জীবন যাপনের অঙ্গীকার দেখেছি। আমি জানি, এরকম মানুষের সংখ্যা হয়তো এখনো অনেক কম, কিন্তু সেটা একসময় বাড়বে নিশ্চয়। আমাদের এ আশাবাদী চিন্তাগুলো যদি আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি সবার মধ্যে, যারা হতাশায় কেবলই মাথা নাড়েন, তাদের মাথাটাকে শক্ত করে চেপে ধরে যদি বলি, দেখুন, বাংলাদেশের উন্নতি হবে, খুব তাড়াতাড়িই হবে যদি আপনি মাথা নাড়ানো থামিয়ে দেশের জন্যে একটা ভালো কিছু করার সংকল্প করেন, তবেই সেটা সম্ভব।

হতাশাবাদীদের মুখে ঝাঁটার বাড়ি, আমি ভাই সারাজীবনই আমার দেশ নিয়ে আশাবাদীদের দলে। আপনি?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702034 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28702034 2007-03-13 07:56:27
রাইট অর রং- http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28701898 http://www.somewhereinblog.net/blog/konfusiasblog/28701898 2007-03-12 08:51:03