somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জীবনের কিছু আজাব নামা...পর্ব-৯ ( এ্যাফেয়ারের ইন্টারভিউর দিন এইডা কি হইল?)

(মেয়ে মানুসের ছবি দেওন নাকি ঠিক না, তাই নিজের ছবি দিলাম)

হটাত মনে হইল... আরে চুল গুলা একটু বেশী বড় হইয়া গেছে... হালকা একটা ছাটা দেওনের দরকার....
১১টার দিকে ভাবলাম যাই চুলে একটা কাট দিয়া গোশল কইরা নামজে যামু.. ইন্টারভিউ তো বিকালে ৪টায়...
চুল কাইট্যা সাড়ে এগারোটায় বাহির হইতে না হইতে ফোন আইল... জিগায় কি করি? কইলাম একটু বাহিরে গেছিলাম... এখন বাসায় ফিরতাছি... রিক্সায় বইস্যা বইস্যা পরী দেখি...

পরীর কথা শুইন্যাই মাথাটা গরম হইয়া গেল... কয় "তোমার চরিত্রের বদ অভ্যাসটা গেল না... মেয়ে মানুষ দেখলে চোখ কি সরাইতে পার না, চোখের আরাম লাগে না?"

আরে আমি তো অবাক? কইলাম.. আমার দুই চোক্ষের নজরের মধ্যে কোন মাইয়া মানুষ নাই.... কসম কাইট্য কইতাছি....

কয়, আবার মিথ্যা কথা... আমি না তোমাকে বলছি.. আমার সাথে সব সময় সত্যি কথা বলবা... এই মাত্র বললা পরী দেখতেছে... কি সুন্দরী মেয়ে দেখে মাথা কি সাথে সাথে নষ্ট হয়ে গেছে?

আমি হাইস্যা কইলাম আরে এই পরি সেই পরী না... এইটা হইল... আমার সামনের রিক্সার পিছনে একটা পরীর ছবি আকা আছে ওইটা দেখতাছি.....

আমার কথা শুইন্যা হাইস্যা দিল, মনে হইল যেন কিছুই হয় নাই ইমুন ভাব নিয়া কয়, শোন ফাজলামি করবা না... আমি যে কারনে ফোন করছি.. সেটা হল আজ বিকেলের দেখা করা কথা মনে আছে তো?

আমি কইলাম.. কিযে বল... মনে থাকব না আবার...

কইল.. হুম... টাইম মত রেডি থাকবা... আমি এসে তোমাকে নিয়া যাব...

কইলাম কোথা থেকে আমাকে তুলে নিয়া যাবা?

কইল.. তুমি ধানমন্ডি ২৭ এর মাথায় রাপা প্লাজাতে ঠিক ৩.৩০ এ থাকবা... আমি সময় মত চলে আসব.... একটু যেন দেরী না হয়। তোমার তো টাইম সম্পকে কোন হুস নাই। আজ যদি দেরী হয় তা হলে তোমার খবর আছে....
আর ভাল কথা, আসার সময় গত রাতে যে ভাবে ড্রেসআপ করে আসতে বলছি ঠিক সেই ভাবে আসবা... মনে আছে তো কিভাবে ড্রেসআপ করতে হবে?

কইলাম.. হ্যা তোমার সব কথা ঠিক ঠিক মনে আছে... কুনু ভূল হইব না... তুমি নিশ্চিন্ত থাকো...

কইল... আর ভাল কথা তোমার মাথার চুল যেন মাঝখানে সিথি করা না থাকে (আমার আবার চুল মাঝে সিথি করার অভ্যাস, এইটা নিয়া বহুত কথা শুনছি)

আমি কইলাম... "আরে এর জন্যইতো এই মাত্র সেলুন থেকে চুল কেটে টাক করে আসছি..."
আমার কথা শুইন্যা অবাক হইয়া কইল.. মানে????
মানে হইল... এতক্ষন তো আমি সেলুনে ছিলাম... সেলুন থেকে বাসায় যাইতেছি.... সেলুনে আইজ মাথাটা কামাইয়া একদম টাক কইরা ফেলছি....

আমার কথা শুইন্যা হায় হায় কইরা উঠল...
কয়, "সর্বনাস তুমি এইটা কি করলা...."
কি করলাম মানে? একদম ন্যাড়া মাথা... চাকচকে টাক্কু... একদম ক্লিয়ার,,, কইয়া হাসতে থাকলাম...

আমার কথা শুইন্যা একদম চুপ মাইরা থাকল... আমি কইলাম... কি ব্যাপার চুপ কইরা আছো ক্যান?

দেখি মন একদম ভাইঙ্গা গেছে... এদম ঠান্ডা গলায় কইল... "নাহ.... কিছু না... আমি তো ওদের বলে ফেলেছি আজ আসার জন্য.... তোমার সাথে দেখা করিয়ে দিব... এখন কি করে দাওয়াত ফিরিয়ে নিব, ভাবতেছি.... "

আমি কইলাম কেন? দাওয়াত ক্যানসেল করাবা ক্যান? আবার কি হইল...?

কইল... তোমার টাক মাথা নিয়া আমি কি ভাবে ওদের সাথে পরিচয় করে দিব?

আমি কইলাম... মাথা টাক করা এই যুগের একটা ফ্যাশন...এইটা কি তুমি জান? রোনান্ডো রে দেখছ? ওই কত বড় বড় প্রোগামে যায় টাক মাথা নিয়া... আর আমি টাক কইরা কি দোষ করলাম? ইউরোপ আমেরিকার বহুত বড় বড় মডেল গুলা মাথা টাক কইরা রাখে... ফ্যাশন টিভিতে টাক মাথা ওয়ালা একটা মাইয়া মডেলও দখছিলাম... উন্নত দেশে মাইয়া মানুসেরও টাক করনে রেওয়াজ আছে....

আমার লেকচার শুইন্যা চিক্কর দিয় উঠল... তুমি তো মডেলদের বাপ... সো তোমার মাথা তো এখনই টাক করতে হবে.... টাক করার আর সময় পেলা না.? তোমাকে না বলছি কিছু একটা করার আগে আমার সাথে আলোচনা করে করবা?

আমি কইলাম... গত রাতে তো তুমি চুল সম্পর্কে আমাকে কিছুই বলো নাই.... তাই সকালে উঠে চিন্তা করলাম... তুমি সব কিছু কম্পর্কে ইর্ন্সট্রাকশন দিছো, আর যেহেতু চুল সম্পর্কে কিছু বল নাই, তাই চুল নিয়া একটা কিছু করলে তোমার কোন আপত্তি থাকব না...

আমার কথা শুইন্যা মনটা খারাপ কইরা কয় "তুমি তো আমাকে ঝামেলায় ফেলে দিলা... কি যে করি? "
বহুত পেরেশান মনে হইল.... চিন্তা করলাম... আর পেচানো ঠিক হইব না.. সত্যি কথা কইয়া দেই... নাইলে আবার ঝাড়ি খাইতে হইব...

কইলাম...আরে তুমি চিন্তা কইরো না... আমি আসলে মাথা টাক করি নাই... জাস্ট চুল একটু কাটিয়েছি... সামান্য একটা ছাটা দিসি...তোমার সাথে মজা করলাম...

মনে হইল যেন হাপ ছাইড়া বাচল.... কইল... সব সময় সিরিয়াস বিষয় নিয়া এই রকম ফাজলামী করবা না.... আমি অনেক টেনশনে পরে গিয়েছিলাম.... যাই হোক... আমি কি বলছি মন দিয়া শোনো.... মাথায় কোন প্রকার তেল টেল দিবা না.. নো জেল মাখা মাখি... তোমার তো আবার হটাৎ হটাৎ হেয়ার জেল মাখার শখ হয়।

আমি হাইস্যা কইলাম.. একটু আগে কইলে তো “বাবর“ কাট দিয়া হেয়ার জেল মাইখ্যা আসতাম... কি জোস হইত না? বাবর বাবর লাগত.... অফটার অল প্রাক্তন স্বরষ্ট্র মন্ত্রী.... <img src=" style="border:0;" />

কইল হুম... বাবর সাহেব এখন কোথায় আছে সেটা কি আপনি জানেন... বাবর স্টাইল করলে সোজা তোমাকে বাবরের সাথে পাঠাইয়া দিব....

কইলাম.. থাক বাবা, বাবরের সাথে জেলে যাবার দরকার নাই... আমাকে আর কি কি করতে হবে সেই ব্যাপারে বল...

কইল... "মাথার মাঝে সিথি হবে না... সামনের চুল একটু এলোমেলো থাকবে.... ভাল করে স্যাম্পু করা হবে.... মুখে কোন প্রকার ক্রিম ব্যবহার করবা না.. যেন তেল চকচকে না হয়.... ভাল পরফিউম ব্যবহার করতে পার... "
কইলাম তোমার দেওয়া TOMMY BOY টা কি লাগাইতে পারুম... ওইটা তো ৩ হাজার টাকা দিয়া কিইন্যা দিছিলা...
কইল হ্যা ... ""ওটা করতে পার... ওটা সুন্দর ফ্লেভারের একটা পারফিউম.... আর ভাল কথা জিনিসের নামের সাথে টাকাটা ক্যান বললা... এই ধরনের চিপ কাজ করবা না.. ওরা যদি বলে পারফিউম টা সুন্দর তখন কখনোই বলবা না যে এটা আমি কিনে দিয়েছি...

আমি কইলাম... এইটা কিমুন কথা তুমি আমারে শখ কইরা একটা পারফিউম কিইন্যা দিলা আর এই কথা আমি তোমার বান্ধবীদের সাথে বলতে পরব না... আমি কি চুরি কইরা আনছি না তুমি চুরি কইরা কিইন্যা দিসো?

আমার কথা শুইন্যা একটু গরম হইয়া কইল, যা বোঝ না তা নিয়া বেশী কথা বলবা না... যা বলছি তাই করো.....

আচ্ছা ঠিক আছে আর কি কি করতে হবে... তারাতারি বল...

কইল.. সু পরে আসবা.... সু টা যেন ভাল ভাবে পলিশ করা থাকে... আর দুপুরে কি নামাজ পড়তে যাবা?
কইলাম হুম...এখন বাসায় গিয়া গোশল দিমু তারপর ডাইরেক্ট জুম্মার নামাজে....

নামাজের কথা শুইন্যা একটু খুশি হইয়া কইল... গুড... নামাজের পর আমাদের জন্য দোয়া করবা...

আমি অবাক “আমাদের জন্য”? মানে? আমাদের ক্যান বললা?
বাহ আমার জন্যও করবা... তোমার আমার দুইজনের জন্যই দোয়া করবা...

ঠিক আছে তা করব... কিন্তু তোমার জন্য কি দোয়া করব?

কি দেয়া করবা? আমাদের মঙ্গল কামনা করে দোয়া করবা....

আমি মনে মনে কইর আইজ সূর্য কুন দিক দিয়া উঠল... আর আমি কার মুখ দেইখ্যা ঘুম থেইক্যা উঠলাম...

আমি কইলাম.. "আমি আমার জন্যা দোয়া করুম... তোমার জন্য পারুম না... তুমি কেডা.... তুমি তো আমার কেউ হও না...তুমি আমারে পছন্দ করা না... আমার লগে এ্যাফেয়ারে আইতে চাও না...আইজ কত দিন ধইরা তোমারে কইতাছি রাজি হইতে, রাজি হও না..."

যদি হয়ে যাই, কইয়া ফিক কইরা হাইস্যা দিল...

কইলাম.. যেদিন রাজি হইবা সেইদিন.. সারাদিন দোয়া করুম... তার আগে না... আমি কারো লাইগ্যা ফ্রি দোয়া করি না... ফ্রি দোয়া করে এক মাসজিদর ইমাম সাহেবরা আর পীরের দল... আমি ইমাম ও না পীরও না... তবে যদি ১০টাকা দেও তাইলে দোয়া করতে পারি....

কইল... 'নিজের মানুষের' জন্য দোয়া করতে ১০ টাকা লাগবে... ঠিক আছে দরকার নাই.... তোমার দোয়ার....

আরে!!!! "নিজের মানুষ!!!..." এইটা কি কইল.... না না... তাইলে ঠিক আছে... আমি ১০০বার দোয়া করুম... কইয়া হাইস্যা দিলাম...
নিজের মানুষ কথাটা শুইন্যা কি যে ফুর্তি লাগল... এইটা কইয়া লিইখ্যা বুজানো যাইবো না... এইটা হইল.. ফিলিংন্সের ব্যপার..... মনে হয় যেন রিক্সা থেইক্যা ফাল দিয়া পইরা .. রাস্তায় গড়া গড়ি খাই....

কইল... আমি এখন গোসল করতে যাচ্ছি... তার পর খাওয়া দাওয়া করে রেডি হব... আর তুমি দেরী করবা না, টাইম মত রাপা প্লজাতে থাকবা.. মনে থাকে যেন ঠিক ৩.৩০ এ... ওকে বাই.....

তারাতারি বাসায় গিয়া গোসল কইরা মসজিদে গেলাম.. নামাজের পর... ক্যান যানি... ওর লাইগ্যা দোয়া করতে হেভী ফুর্তি লাগতাছিল.... কি যে ফুর্তি লাগতাছিল বুজাইতে পারুম না.....দেয়া কলাম.. আল্লাহ ওরে এক্ষনি আমার কোলে আইন্যা ফালাইয়া দাও... তুমি তো সবই পারো... কত মানুষের দোয়ার মাঝে হাতের মধ্যে ফলমূল ফালাইয়া দিছ খাওনের লাইগ্যা... আমারেও সেইরকম... ওরে আইন্যা ডাইরেক্ট আমরা কোলে ফালাইয়া দাও....

অন্যান্য দিন দেখি ইমাম সাহেব.. ইমুন দোয়া শুরু করে মনে লয় যেন... আজকার দোয়া থামব না.. কেয়ামত পর্যন্ত চলব... আর শালা আইজ ... আমার দোয়া শেষ না হইতে হইতে আমিন কওয়া শুরু কইরা দিছে..... শালা.. একটু লম্বা দোয়া করলে কি অসুবিধাটাই হইয়া যাইতো? শালা আমি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পরি না বইল্যা কি একটু লম্বা দোয়া করতে দিবি না?
ইচ্ছা করতাছিল ইমাম সাহেবরে কই, ইমাম সাব আবার নতুন কইরা দোয়া শুরু করেন.. আমর দোয়া এখনো শেষ হয় নাই.... আমারটা শেষ হইল.. আমি আওয়াজ দিমু তারপর আপনি আমিন কইয়া শেষ করবেন....

তারাতারি বাসায় আইস্যা খাওয়া দাওয়া কইরা একটু টিভি দেখতাছি... মাগার ক্যান যানি টেনশন লাগতাছে... ধূর বাজে মাত্র ২.৩০ আরো ১ ঘন্টা বাকি....

সোয়া ৩ টার দিকে রেডী হইয়া রাপা প্লাজার সামনে দারাইয়া থাকলাম... দেখী আসে না... ৩.২৫ এ ফোন দিল.. জিগাইল কি করি? কইলাম.. রাপাপ্লাজার ভিতরে ঘুরতাছি.... কইল ঠিক আছে... আমি চলে আসছি... তুমি নামো... বাহির হইয়া দেখি গাড়ির ভেতরে বইস্যা আছে, এ তো দিখি একদম পরি সাইজ্যা বইস্যা আছে..... আইজ হেভী লাগতাছে.... হালকা পিংন্ক কালারের একটা ড্রেস পরছে.... যা লাগতাছে না.. মনে হয় গায়ের কালারের সাথে মিইশ্যা গেছে...

আমারে দেইখ্যা ইশারা করল... গাড়িতে গিয়া উইঠ্যা বসলাম....ড্রাইভাররে কইল গুলশান-২ এর দিকে যাইতে।
আমি তো হা কইরা দেখতাছি...
আমারে জিগায় "কি দেখ...?""
কইলাম.. আসমানের পরি দেখি.... পরি যে কুন ফাক দিয়া দুনিয়ায় চইল্যা আইছে মানুষ তা টেরই পাইল না...."
আমারে কয় বাজে কথা বলবা না.. আমি কইলাম পরি কওয়া যদি বাজে কথা হয় তাইলে... আমার কান কাইট্যা কুত্তার গলায় দিমু....

বেশ মজা পাইল... হাইস্যা দিয়া কইল... এই ড্রেসটা পাকিস্তান থেকে আনছিলাম... অনেক দিন ধরে পরা হয় নাই.... তাই একটু অন্য রকম লাগছে... ড্রেসটা একটু টাইট হয়ে গেছে....
আমি কইলাম.. হেভী সেক্সী লাগতেছে...
কথা শুইন্যা ক্ষেইপ্যা গেল... কইল... তোমার মুখে কি কোন ভাল কথা আসে না...
তার পর একটু গম্ভীর হইয়া কইল দেখী আজ তোমাকে কেমন লাগছে? কইয়া আমার দিকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করতে লাগল... দেখী জুতা... একটু সাইডে ঘোরো... ওইদিকে... ইত্যাদি কইয়া আমারে চার দিক থেকে দেখল... তার পর কইল... আজ তোমাকে জোস লাগছে....

আমি কবিতা বানাইতে লগলাম...
" আমার দেইখ্যা তোমার লাগছে জোস...
আর তোমারে দেইখ্যা আমার নাই হুস..."

বিজয় স্বরনীর জ্যামে আটকা থাকার সময় হটাৎ কয় আরে... তোমার মুখ তো ঘেমে গেছে... মুখটা মোছো.. কইয়া গাড়ি থেকে ট্যিসু পেপার নিয়া মুখটা মুইছ্যা দিতে লাগল...
আমার তো লজ্জা লাগতে লাগল... আশে পাশের গাড়ির পাবলিক দেখতেছে একটা মাইয়া পুলার মুখ মুছাইয়া দিতাছে... আমি কইলাম.. আরে আমার কাছে দাও.. আমি মুছি...
কয় না... আমি ভাল করে মুছে দিতেছি তাতে কি তোমার কষ্ট হইতেছে? মুখ এই দিকে ঘোরাও ওই দিকে ঘোরাও... হেন তেন কইয়া ট্যিসু দিয়া মুইছ্যা দিল...

হটাৎ কয় এক কাজ কর... মুখে একটু পাওডার দাও তো.. তা হলে তেল তেলে ভাবটা আর হবে না...
আমি কইলাম.. এখন পাওডার কই পামু?

কইল.. দাড়াও.. কইয়া লগের পার্সটা খুইল্যা এর ভিতার থেকে একটা ছোট চার কোনা সুন্দর একটা বক্স বাহির করল... হেইডা দেখি একটা পাওডার মেকআপ বক্স...

মেকাপ বক্স খুইল্যা তার ভিতর থেকে একটু কি যেন স্পন্জ কেক এ লাগাইয়া আমার দিকে আইতাছে... আমি কইলাম... আর আরে কি কর... আমারে মেকাপ লাগাইবা না... এই গুলা তো মাইয়া মানুসের লাইগ্যা...
একটা চিল্লান দিয়া কয় বেশী কথা বলবা না... একদম চুপ করে বসে থাকো....
আরে কি মুসকিল.... আমি কি করুম... আমি কি মাইয়া মানুস নাকি? না আইজ আমারে মাইয়া মানুস সাজাইবা.... হায় হায়... এ কি মুসকিলে পরলাম.... আমারে তো হিজরা বানাইব....<img src=" style="border:0;" />

যতই না করি... কিছুতেই কিছু বুজানো যায় না.... বহুত চেষ্টা করলাম... খালি ঝাড়ি মারে....
মেজাজটা আমারও খারাপ হইয়া গেছে.... আমারে তো মেয়ে-ছেলে সাজানুর চেষ্টা চলতাছে....

কইলাম.. দেখো প্লিজ আমি তোমার সব কথা মানি কিন্তু এই মেকাপ লাগানোর কাজটা করবা না... না হলে আমি এখন গাড়ি থেকে নাইম্যা চইল্যা যামু....
না পাইরা কয় আচ্ছা ঠিক আছে....কোন মেকাপ করব না যাষ্ট স্পন্জ টা দিয়া মুখটা একটু মুছে দিব..... এইটা না করবা না...
কি আর করা...... মনের মধ্যে দুক্ষ নিয়া রাজি হইলাম....

মুখটা স্পন্জকেক দিয়া ব্রাস কইরা দিল.... লজ্জায় আমি মইরা যাই....... তার পর কয় দেখি তোমার মাথার চুলের কি অবস্থা .... চুল দেইখ্যা কয় ঠিক মত চুল গুলা এলোমেলো হয় নাই... দাও করে দিই.... আমি কইলাম মানুষ চুল আচড়াইয়া দেয়া আর তুমি এলোমেলো কইরা দিল....
কয় বেশী বুঝবা না... কইয়া চুলা গুলা হাত দিয়া এলোমেলো কইরা দিল..... আমি কইরাম... তুমি তো আমার লাইফটারেই এলোমেলো কইরা দিবা... বেশীদিন ঠিক থাকতে দিবা না.....

যাইতে যাইতে তার বিশিষ্ট দুই বান্ধবী সম্পর্কে বয়ান দিতেছিল.....তাদের নাকি বহুত রুপ সৌন্দর্য....
আবার কইল... তাদের অভিমতের উপর নির্ভর করে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে... শুইন্যা আমার মেজাজ খারাপ হইয়া গেল...

কইলাম... তুমি যদি আমার লগে এফেয়ারর না করলে, আমি তোমার বান্ধবীদের লগে প্রেম করুম....
কথাটা কওনের সময় চিন্তা ভাবনা না কইরা কইয়া ফেলাইছিলাম.... হায় হায় এইডা আমি কি করলাম... প্রট্রোল এ আগুন লাগাইয়া দিলাম... ডাইরেক্ট আগুন... চারি দিকে আগুন আর আগুন.... আইজ আর রক্ষা নাই....

লগে লগে... বিশাল একটা চিক্কর মাইরা কয়.... "কি বললা? তোমার মুখে ইতরের মত কথা বার্ত কেন বের হয়? ওরা কারা তা তুমি জান? ওরা হল তোমার ছোট বোনের মত... ওদের দিকে বোনের দৃষ্টিতে তাকাবা.... ওদের কে তুমি আপু বলে ডাকবা...."
আমি ডরে ডরে কইলাম... আচ্ছা ঠিক আছে.. আমি আপু কইয়া ডাকুম... ওরা তো আমার থেকে বড় হবে ... সুতরাং আপুই তো হবে....

আবার বেশী কথা বলছ ক্যান? আর শোন... ওদের দিকে বেশী তাকিয়ে থাকবা না... একটু কম কম তাকাবা... তোমার তো আবার সুন্দর মেয়ে দেখলে চোখ সরে না...

আমি কইলাম.. কি যে বল... তুমি যতই না কর আমি তাকাইয়া থাকুম... আমি চোখ ফিরামু না... আমি আজই মন প্রান ভইরা রুপ সোন্দর্য দেখুম... কেউ আমারে থামাইতে পরব না...

রাইগ্যা কইরল মানে? তুমার মতলব কি? তুমি কি করতে চাও....

হাইস্যা দিয়া কইলাম.....তুমার থেকে আর কে বেশী সুন্দর হতে পারে.... তোমার মত এই রকম সুন্দর সেক্সী মাইয়ার দিকে তাকাইয়া থাকুম না তো কার দিকে তাকামু? যতই না কর তাকাইয়া থাকুমই...

পাম পট্টি খাইয়া একটু খুশি হইয়া গেল....
যথা সময়ে গুলশান ২ থেকে বারিধারা যাওনের রাস্তার দিকে "ক্যাফে ম্যাংঙ্গো" তে আসলো...

তার পর ওই নিচে থাকতেই ফোন দিল... জানতে পারল.. বিশিষ্ট দুই বান্ধবী ক্যাফের এর মধ্য বইস্যা ওয়েট করতেছে.... আমি কইলাম তোমার বান্ধবীরা কি .. "মাং" এর মধ্যে ডুইক্যা গেছে? .....

এই কথা শুইন্যা তেলে বেগুনে চেইত্যা উঠল.... কইল... এই ইতর কোথাকার... মুখে কোন কথা আটকায় না?
আমি কইলাম, আমি বাজে কথা কই কইলাম? ক্যাফে ম্যাঙ্গোরে একটু সর্ট কইরা “মাং“ কইলাম.. তাতে দোষ কোথায়?

চেচান দিয়া কয়, তোমার মত এই রকম বাজে লোক নিয়া তো ওদের সাথে পরিচয় করে দেওয়া যাবে না....না, আমি যাব না...... তুমি বাসায় চলে যাও... আমি তোমাকে ওদের সাথে পরিচয় করে দিব না... এই কথা কইয়া হন হন কইরা আবার গাড়িতে উইঠ্যা বইয়া রইল... আমি তো ধরা খাইয়া চুপ মাইরা গেছি.... হায় হায় .... তীরে আইস্যা তরি ডুবাইলাম.... অহন কি করি....

পরে হাতে পায়ে ধইরা মাপ চাইয়া বহুত কষ্টে রাজি করাইছি... কইছি আর জীবনেও বাজে কথা কমু না....

যাক ক্যাফেতে ডুকলাম.. দেখী বিশিষ্ট দুইজন অনিন্দ সুন্দরী ঠ্যাং এর উপর ঠ্যাং তুইল্যা একটা সোফায় বইস্যা আছে... দেইখ্যাই আমার মন ভাল হইয়া গেছে.... আহ... এ যেন বাহেশতের পরী আইস্যা বইস্যা আছে.... ঝারি খাওনের কথা একদম ভূইল্যা গেলাম.... মনেই আসে নাই একটু আগে আইতে আইতে কত গুলি ঝাড়ি খাইছিলাম.... জানি না আমার গায়ের চামড়া গন্ডারের মত মোটা না আমার মন ভূলা...

দেইখ্যাই বুজা যায় এই গুলা হইল... বড় লোকের আদুরের কন্যা.... মনে হয় যেন দুইট্যা মুরগীর তুলতুলে ছোট ছোট বাচ্চা বইস্যা রইছে....

পরিচয় পর্ব শেষ হইল... নাম জিগাইলাম... কি করে, কোথায় পড়াশুনা করে... ইত্যদি.. কইল..নর্থসাউথ এ বিবিএ তে পরে...
মাশাল্লা এক একজনের গায়ের রং যেন দুধে আলতায়... মাখানো... চুল কাইট্যা কত যে কারিসমা করছে.. আর সাড়া শরীরে .. কত কিযে লাগাইছে... হেইগুলা আমি চিনি না...

খুব ষ্টাইল কইরা কথা কয়... অগো সামনে কথা কইতে আমার সত্যিই সরম লাগতে লাগল... আমার নিজের খুবই ক্ষেত ক্ষেত লাগতেছিল... মাগার এখন তো পালানোর কুনু পথ নাই.... মনে হইল যেন পুটি মাছ হইয়া গেছি....

মনে হইল.. শর্ত ১ নং এর কথা... খুব কম কথা বলবা.. পার্সনালাটি নিয়া চলবা...
তাই একটু চুপ মাইরা রইলাম... কথা আর বাড়াইলাম না...

একটু পরে কইলাম... বসে না থেকে আমরা অর্ডার দিতে পারি.... কারন খাবার আসতে সময় লাগবে... সে সময়টা আমরা গল্প করতে পারব... আর আমার হাতে সময় খুবই কম.. বেশী সময় বসতে পরব না... একটা মাইয়া জিগাইল.. ক্যান আজ আবার কোথায় যাবেন?
কইলাম. একটু কাজ আজে... একটা মেটিং আছে.. সেখানে যেতে হবে... বেশী দেরী করা যাবে না...

যার যার পছন্দ মত খাবার অর্ডার দিতে কইলাম... সবার অর্ডার দেওনের শেষে আমি কইলাম... এক বোতল মিনারেল ওয়াটার তোমার জন্য নেই? আমার কথা শুইন্যা দুই বান্ধবী একটু অবাক হইয়া তাকাইয়া রইল... কইল ক্যান ড্রিংক্স তো অর্ডার দেয়া হয়েছে... আমি কইলাম তুমি তো আলাদা করে পানি একটু বেশী খাও তাই পানিটা তোমার জন্য..... মাইয়া দুইটারে বুজাইয়া দিলাম... আমি কত্ত খবর রাখি....

যাই হোক ৩ মাইয়া এক হইলে যা হয... ৩ জন মিইল্যা তুমুল গল্প শুরু কইর দিছে... পাখির মত কিচির মিচির শুরু কইরা দিছে... মাঝে মাঝে দেখি খালি ইংলিশ হিন্দি/ উদ্দু মিশাইয়া কথা কইতেছে... আমি তো আবার ওই ৩ ভাষাতেই বিশাল জ্ঞানী মানুষ তাই মাথা মন্ডু কিছুই বুঝলাম না... শুধু জ্ঞানী মানুষের মত মাঝে মাঝে মাথা নাড়াইয়া গেলাম... আমার রাডারে এইটুকুই ধরা পরল যে ওরা মনে হয় হিন্দি মুভি আর ডেইলী সোপ গুলা নিয়া আলোচনা করতাছে...

খাবার আসল... সবাইরে খাবার নিতে কইলাম... ওর দিকে খাবার আগাইয়া দিলাম.... ওর প্লেটে সস ডাইল্যা দিলাম... গ্লাসে পানি ডাইল্যা দিলাম... আর একটু খাবার নেও... এইটা বেশ মজ্যা হইছে... এইটা আর একটু নেও.... চিকেন কি আর এক পিস দিব জিগাইলাম?... আর মাঝে মাঝে ওর দিকে খাবারের প্লেট গুলা টাইন্যা দিলাম.. এক কথায় কামের পুলার মত সব কাম কইরা দিলাম....

দেখলাম খুবই খুশী হইতাছে.... এই ভাবে সেবা যন্ত কইরা খাওনের পর্ব শেষ করলাম....
খাবার শেষে আবার সোফাতে বইস্যা ৪ জন মিইল্যা গল্প করতাছি... হটাত আমি কইলাম... আমি একটু নিচের থেকে আসি... কইয়া নিচে গেলাম.... ওই চান্সে দেখী খাবারের বিল দিয়া দিছে.... উপরের আইস্যাই কইলাম... আমার হাতে টাইম কম আমাকে আর এক জায়গায় যেতে হবে... তখন একটা বান্ধবী কইল তাহলে চল আমরা আইসক্রীম খাইতে ''মূভএনপিক'' এ যাই.... ঠিক হইল.. ওরা ৩ জন যাইব মূভএনপিক এ আর আমি আমার কামে....

সিড়ি দিয়া নামনের সময় দেখি দুইটা পুলা আমাদের একটু দূরে বইস্যা ছিল... আর ওর দিকে হা কইরা তাকাইয়া আছে... আমি সিড়ি দিয়া নামতে নামতে ওরে কইলাম.. মোটকা পুলাটারে দেখ.. ক্যামনে হা কইরা তাকাইয়া আছে... মনে হয় মুখ দিয়া লোল পরতাছে.... ওই কইল... পরুক লোল ...

ওমা নিচে নাইম্যা ওরা যখন গাড়িতে উঠতে যাইবে... তখন ওই আমারে কইল.. তুমি এক কাজ কর, আমার গাড়ি নিয়ে তুমি চলে যাও... আমি বান্ধবীদের সাথে আইসক্রীম খেতে যাচ্ছি... তুমি পৌছে গাড়ি পাঠিয়ে দিও... ড্রাইভারকে কইয়া দিল কোথায় আসতে হইব....

ওরা ৩ জন ওদের গাড়িতে উঠার পর খেয়াল করলাম... ওই দুইটা পুলা দৌড়াইয়া নাইম্যা আইল... আইয়া তাগো ড্রাইভারের কইল.. “তুই এই খানে থাক..আমরা পরে আইতাছি"। এই কথা কইয়া পুলাটা নিজেই ড্রাইভ করা শুরু করতাছে.... লাগে লাগে আমার কিমুন যানি একটু সন্দেহ হইল....

ওদের গাড়ি ছাড়ার পর আমি ওদের পেছনে পেছনে বের হইলাম... দেখী ওই পুলা দুইটা... আমার পেছনে আইতাছে.... তারপর আমার গাড়ীর পাশ কাটাইয়া ওদের পিছনে পিছনে যাইতাছে....

ঘটনা তো খারপ.. ওগোরে ফলো করতাছে.... কিমুন যানি একটা ডর লাগতাছে... এই সব বড় লোকের পুলাপাইনের স্বভাব চরিত্র খু্বই খারপ....

আমি লগে লগে ওরে ফোন করলাম.. কইলাম... তোমাদের পেছনে পেছনে ওই দুইটা পুলা আইতাছে... কয় কোন পুলা? কইলাম... আমার নামার সময় যে দুইটা পুলা হা কইরা তোমারে দেখতে ছিল... আর লোল ফেলাইতেছিল.....
আমারে কইল... তুমি চিন্তা করো না, আমার সাথে আরো ২টা মেয়ে আছে.... সো চিন্তার কোন ব্যাপর নাই... আর এই রকম বহুত ধারি বাজ ছেলেপেলে আমার দেখা আছে....
মনে মনে একটু শান্তনা পাইলাম... ওই তো ছোট থেকেই গুলশান এলাকাতে বড় হইছে... সুতারাং এলাকাটা ওর খুবই ভাল ভাবে চিনা আছে... ডরানোর কুনু কিছুই নাই.... শুধু কইলাম... একটু সাবধানে থাকবা....

কইল.. তুমি কিছুই চিন্তা করো না... আমরা আইসক্রীম খেয়ে বাসায় চলে যাব....

কিছু দূর যাওনের পর মনটা কেমন যানি খচ খচ করতে লাগল.... বড়লোকের পুলা ওর পিছনে লাগছে... তাইলে মাগার আমার আর চান্স রইল না.... মনটা খুবই ছটফট করতাছে....

কি করুম বুঝতাছি না.... দোস্তো গুরু রবিনরে ফুন দিলাম.... কইলাম... দোস্তো ঘটনা তো খারাপ.... ওর পিছনে চেলী লাগতা হ্যায়.... রবিন কইল সর্ট কইরা কয়... ঘটনা কি.... প্যাচাইয়া ত্যানা বানাইস না... ক্লিয়ার কর...

পুরা ঘটনা কইলাম... কইলাম... আমার মনটা খালি ছটফট করতাছে.... কিছুতেই শান্তি পাইতাছি না...

দোস্তো রবিন সব শুইন্যা গম্ভীর ভাবে কইল.... এই গুলা বড়লোকের ছাড়া গরু... সারা দিন মাইনস্যের বাগানে চইড়া ঘাস খাইয়া বেড়ায়.... এই গুলারে কেউ বাইন্ধা রাখতে পারে না... এইগুলার দরকার “পাজুনের বারি...

দোস্তো আমি কি করুম তাই তারা তারি কয়....
রবিন কইল... এক কাজ কর.. তুই... মূভএনপিক এ চলে যা... কইবি যে যার সাথে দেখা করার কথা ছিল তার সাথে এ্যাপয়েন্টমেন্ট ক্যানসেল করা হইছে.... তাই ফিইরা আইসোস... এই ছোতা দিয়া ওই খানে বইস্যা থাকবি আর ঘটনা কুন দিকে যায় আমার জানাবি... খুব খেয়াল... ওই সব বড় লোকের "ছাড়া গরুর" সাথে সরাসরি ক্যাচাল এ যাবি না... ওগো লগে তুই পারবি না... ওগো ট্যাকার জোর অনেক বেশী... খুব খিয়াল কইরা... তবে বেশী চিন্তা করিস না....

তখন গাড়ি ইকবাল টাওয়ারে সামনে... ড্রাইভারের কইলাম.. গাড়ী ঘোরান... আপনাকে আমারে নামাইয়া দিয়া যে খানে যেতে বালছিল সেই খানে যান.... ড্রাইভার আমার ফোনের কথা মনে হয় সব শুনছে.... কইল... "ভাইয়া আপনি চিন্তা কইরেন না... আপারে তো আমি বহুত দিন ধইরা চিনি.... উনি যে কি জিনিস... হেইডা পুলা দুইটা একটু পরে বুঝব.... নাকে ক্যামনে দড়ি দিয়া হাল চড়াইতে হয় হেইডা আপা ভালই জানে...." পরে বুজলাম ড্রাইভার সত্যি কথাই কইছিল..

আমি কইলাম.. আপনি দেরী না কইরা তারা তারি যান.... মূভএনপিক এর সামনে ড্রাইভার নামাইয়া দিল.... ততক্ষনে আধা ঘন্টা পার হইয়া গেছে....

আমি মূভএনপিক এ ডুকার সাতে সাথে যে ঘটনা দেখলাম... তা এক অবিস্বরনীয় ঘটনা... যেইটা না কইলেই না.... বিরাট এলাহী কান্ড ঘইট্যা গেছে....


(অনেকে অভিযোগ করেন পর্ব গুলা নাকি বড় হয়ে যাচ্ছে তাই আগামীতে সেই ঘটনার পরবর্তী অংশ)

-------------------------------------------------------------------

(মনের কিছু দুক্ষের কথা কইতাছি.... কেউ কোন বাজে মন্তব্য করবেন না...যন্ত্রনা কিভাবে শুরু হইছে আইজ তার বয়ান দিমু.... ফান্দে পরি বগা কান্দে)

পুরাতন পর্বঃ

পর্ব-১
পর্ব-২
পর্ব-৩

পর্ব-৫
পর্ব-৬
পর্ব-৭
পর্ব-৮ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28819477 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28819477 2008-07-12 14:52:05
জীবনের কিছু আজাব নামা...পর্ব-৮ (এ্যাফেয়ারের জন্য ইন্টারভিউ ও তরিকা)
তখনো আমার সাথে এ্যফেয়ার হয় নাই। মাগার আমার কাছে মাইয়াটারে মনে ধরছে। তার স্মার্টনেস, কথাবার্তা, চালচলন, অভার অল তার চেহারা আর বডি ফিগার তো দেখার মত... ভাবলাম কয়দিন ওর লগে একটু ঘোরাগোরি ফুর্তি করি.... এই একটু হালকা এ্যাফেয়ার আর কি....



কিন্তু সমস্যা হইল .... কিছুতেই সাহস পাই না... প্রেমের অফার দিতে যে কি পরিমান সাহস লাগে হেইডা টের পাইলাম....বুকটা শুধু কাপে..

দোস্তো গুরু রবিনরে জিগাইলাম কি করা যায়? রবিন কইল..টেনশন নিস না...চামে একদিন কইয়া ফেল... কাম হইয়া যাইব...

একদিন হটাৎ গম্ভীর হইয়া কইলাম..".একটা কথা বলতে চাই, ব্যাপারটা সিরিয়াস..."
জিগাইল, কি কথা?
"শোন তোমাকে আমার খুব ভাল লাগে..."
শুইন্যা কইল... "এই ধরনের সিনেমা টাইপ ডায়ালগ দেওয়ার মানে কি?"
আমি কইলাম.. 'কেন তুমি কি কিছু বোঝ না? সত্যি বলছি তোমারে আমর খুবই পছন্দ...'

হটাৎ গম্ভীর হইয়া কইল... "শোন তুমি কি কখনো আমার হাতে থাপ্পর খাইছ? একবার থাপ্পর খাইলে... বুজবা আমি কি জিনিস... আমার ক্লাসের একটা ছেলেকে এমন একটা থাপ্পর দিছিলাম... তারপর সেই ছেলেটা আর এই টাইপ কাথা বলার সাহস পায় নাই...যদিও সেই ব্যাপারটা ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান পযন্ত গিয়েছিল..."

আমি কইলাম... 'আমি কি তোমার ক্লাস ফ্রেন্ড? আমি তো তোমার বন্ধু...'
কইল.. তাইল তো আরো সহজ... তুমি থাপ্পর খাইয়া কাকে নালিশ করবা?
আমি কইলাম.. শোন আমি কিন্তু সিরিয়াসলি বলছি...
কইল... "তোমার উচিৎ তোমার নিজের দিকটা দেখা... একটা কথা বলার আগে একটু চিন্তা করে কথা বার্তা বলবা.."
মানে ?
মানে হল .. "তুমি আমার থেকে অনেক ছোট... এই কথাটা কি ভূলে গেছ?"
কিছুক্ষন চুপ মাইরা থাইক্যা নরম গলায় কইলাম.. দেখ ব্যপারটা আমি জানি তবে.. আমার কাছে তোমাকে সত্যিই ভাল লাগে... আমি কি করব? দিনে দিনে ভাল লাগাটা বাইড়া যাইতাছে...

কলেজের প্রিন্সিপালের মত গম্ভীর ভাবে বলল... ভাল লাগলেই হবে না... বাস্তবতা বুজতে হবে.. তোমাদের এই একটা সমস্যা...

মনটা খারাপ হইয় গেল... কিছুক্ষন চুপ থাইক্যা আবার কইলাম... একটু ভেবে দেখবা... আমি উত্তরের অপেক্ষায় থাকব.../<img src=" style="border:0;" />


লগে লগে একটা চিক্কর মাইরা .. কইল... এই ছেমড়া আমার কথা কানে যায় না...... তোর সাহস তো অনেক বেশী... এত শখ থাকা ভাল না.... এই রকম কারলে আমার পক্ষে তোমার সাথে বন্ধত্ব রাখা সম্ভব না....

এই কথা কইয়া লাইনটা কাইটা দিল..../<img src=" style="border:0;" />
তুই তোক্কারি শুইন্যা রাগে দুক্ষে মনটা খারাপ হইয়া গেল... ভাবলাম.. আর ফোন দিমু না... যা শালা, কপালে যা আছে....
ফেনটা রাইখ্যা দেওনের পর কিছুতেই ঘুম আইতে ছিল না.... কারে ফোন দিমু বুজতেছি না...

প্রায় আধা ঘন্টা পারে একটা এস এম এস আইল.. তাতে লিখা... "Hello Saams sorry 4 my roude behavioure... "
আর যাই হোক এস এম আসাটা একটু ভাল লাগল... মনে হইল যেন কাটা ঘায়ে একটু মলম লাগল...

লগে লগে একটা রিপ্লাই দিলাম.. "Its ok.. ame na buje onek kotha bole felse... sorry again..i was fail 2 controlled my emotions.."
ওই রাতে আর কোন কিছুই হইল না....
পরদিন সকালে ভারসিটি থেকে ফিইরাই ফোন দিলাম... জিগাইল.. রাতে তোমার ঘুম ঠিক মত হইছিল...?
কইলাম .. কোন দিক দিয়া রাত যে পার হইয়া গেছে টেরই পাই নাই.....
শুইন্যা হাইস্যা দিল... কইল... "তুমি তো আমাকে সত্যি সত্যি ভালবাস না... এই ধরনের পাগলামী করবা না...."

আমি কইলাম.. আমি সত্যি ভালবাসি কি না, সেইটা তোমাকে আমি নিজে থেকে কইতে চাই না... যদি সত্যিই তোমার জন্য আমার ভালবাসা থাকে, কাজ করে, তা হলে সেটা একদিন তুমি নিজেই টের পাবা....
তখন একটু গম্ভীর হইয়া কইল... "এই কথাটা সুন্দর বলছ, একদিন তুমি নিজেই টের পাবা....টের পেলে তুমিও জানতে পাবা... সেই দিন আমার উত্তর পাবা..."

আমি অবাক হইয়া জিগাইলাম.. কিসের উত্তর?

কইল... যা তুমি জানতে চেয়েছ?
আমি একটু অবাক হইলাম... কবে পাব সেই উত্তর?
কইল.. "সময় হলে সবই জানতে পারবা.... ওয়েট এন্ড সি...."

তার পর বহুত দিন গেল গা... উত্তরের জন্য বহুত রিকোয়েষ্ট করছি...
খালি একটা কথা কয় আমাকে সময় দেও.....

কিসের সময় কার সময়? কিছুই বুঝি না... দোস্তো গুরু রবিনরে জিগাইলাম... রবিন বিজ্ঞের মত কইল... "আরে সামনে সুখব আইতাছে... অপেক্ষা কর...."

কইলাম.. আর অপেক্ষা করতে পারতাছি না.... দোস্তো কিচু একটা উপায় বাইর কর... রবিন কইল... চুপ কইরা ঝিম মাইরা পইরা থাক... পক্ষি খাচায় ধরা দিতাছে.... একটু ও নড়া চড়া করবি না... তাইলে পক্ষি উইড়া যাইব গা.... কয়দিন ওর লগে মন খারাপ কইরা কথা কইবি... জিগাইলে শুধু কইবি.. কিছুই হয় নাই... সব ঠিকই আছে... আর মন খারাপ থাকার মত ভাব মারবি...

রবিনের অনুমান খুবই প্রখর... এই ব্যাপার গুলা খুবই ভাল বুঝে... তাই ওর উপর ভরসা কইর চুপ মাইরা রইলাম...

রবিনের কথা ঠিক হইল.. রাতে জিগাইল.. মন খারপ ক্যান?
কইলাম.. কিছু না...

"কিছু না মানে... কিছু একট তো হয়েছে.. আমার কাছে বল... "

কইলাম...কই নাতো .. আমি ঠিকই আছি.... কিছুই হয় নাই....
কইল.. "তুমি আমার কেমন বন্ধু? সব কিছু আমার সাথে শেয়ার করতে পার না....?"

এই ভাবে ভাব মাইরা এক সপ্তাহ চালাইলাম...
ফোন করা কমাইয়া দিলাম... অল্প অল্প কথা কইতে থাকলাম... চুপ মাইরা, ঝিম মাইরা ল্যাটকা মাইরা পইরা থাকতাম....
দেখতাম খুব আদর কইরা আল্লাদ দিয়া কথা কইয়া আমার মন ভাল করার চেষ্টা করত...
আর আমি মনে মনে হাসতাম.... যাক দোস্তো রবিনের কথা ঠিক হইতাছে.... (গুরু রবিন তোমারে সেলাম...<img src=" style="border:0;" />)

এক দিন কইল.. "তোমাকে আমার কিছু বিশেষ বান্ধবীদের সাথে পরিচয় করে দিব। ওরা হল আমার খুবই স্পেশাল বান্ধবী।"
আমি বললাম খুবই ভাল কথা, আগে তো কখনো পরিচয় করে দেওয়ার কথা বল নাই.. হটাৎ কেন পরিচয় করাবা? কবে পরিচয় করে দিবা?

বলল, আমার বন্ধবীরা তোমাকে দেখতে চেয়েছে.... ওদের সাথে তোমার পরিচয় থাকা দরকার... খুবই তারাতারি দেখা করার ব্যবস্থা করব, দেখি ওরা কবে ফ্রি আছে। ওদের সাথে কথা বলে তোমাকে জানাব।

আমি কইলাম খুবই ভাল কথা, তোমার বান্ধবীদের সাথে পরিচয় থাকা দরকার। কখন আবার তোমার সাথে ক্যাচল লাগে তার ঠিক ঠিকানা নাই।
তখন কইল ব্যাপারটা সেই রকম না......
আমি বললাম মানে? তা হলে কি ব্যাপার?
বলল, "তোমাকে দেখার পর আমি তোমার ব্যপারে একটা সিদ্ধান্ত নিব। তাই ওদের সাথে দেখা করতে নিয়ে যাব। ওরা দেখলে তোমার ব্যপারে সব বলতে পারবে।"

এই কথা শুইন্যা খুশির চোটে আমি আর থাকতে পারি না.....মনে মনে কইলাম ওরা কি পীর যে আমারে দেইখ্যা আমার অতীত বর্তমান ভব্যিষ্যত কইয়া দিতে পারব....
আমি কইলাম.. এই এক কাজ কর না.. আজ বিকেলেই দেখা করার ব্যবস্থা কর...

কইল.. "না... একটু সময় লাগবে... চিন্তা ভাবনার ব্যাপার আছে...."

রাতে বইস্যা চিন্তা করতে লাগলাম...এ্যাফেয়ার হবে ওর লগে আর সিদ্ধান্ত দিব ওর বান্ধবীরা, এইটা কিমুন কথা... আর বান্ধবীরা যদি পছন্দ না করে....ব্যাপরটা কেমন কেমন জানি ইজ্জতে লাগতে লাগল... মনে হইল যেন এ্যাফেয়ার করনের লাইগ্যা ইন্টারভিঊ দিতে হইব... আজিব এই দুনিয়া...

পরদিন সকাল ১১ টায় হটাত ফোন দিল... জিগাইল.. তুমি কোথায়... কইলাম... ভার্সিটিতে... কইল. এখন কি বসুন্ধরাতে আসতে পারবা?
কইলাম.. যদি কবরে যাইতে কও তা ও যাইতে পারুম.. কখন আইতে হইব হেইডা...কও.....
তা হলে ১২টায় বসুন্ধরাতে চলে আসো.... একসাথে লান্চ করব...

১২টার সময় নাচতে নাচতে বসুন্ধরা গেলাম.. মাগার পকেট তো ফুটা.. তাই একটু ডরে ডরে ছিলাম... আগেই আজান দিয়া দিলাম.. কইলাম.. আইজ তুমি আমারে লান্চ করাইবা...
হাইস্যা দিয়া কইল... দাওয়াত যেহেতু আমি দিয়েছি.. সো সেই দায়িত্ব আমার....
লান্চ করাইয়া কইল. চল একটু ঘোরা ঘুরি করি... এক একট দোকানে ঢুকে আর সার্ট দেখে... জিগায় আমার পছন্দ হয় কিনা? আমি তো দেখি সর্বনাশ....এ কি কথা... আমার তো সার্ট আছে....
বলে আর না.. তেমন কিছু না... হাতে কিচু টাকা আছে তাই তোমাকে একট কিছু কিনে দেবার কথা চিন্তা করছি.... কিন্তু মাগার দেখি দামি দামি সার্ট দেখতাছে... এক একট সার্টের দাম.. ৩/৪ হাজার টাকা..
সার্টের দাম দেইখ্যা আমর মাথা ঘুরতাছে... এত দামী সার্ট আমি কখনো হাতাইয়া ও দেখি না...
কইলাম.. দেখ আমি সাধারন একটা মিডিল ক্লাস এর ফ্যামিলির লোক... এত দামি সার্ট আমার মানায় না... আর এত দামি সার্ট নিয়া আমি বাসায় কি কমু?
বাসায় ভাল কইরাই জানে এত দামি সার্ট কিনার ক্ষমতা আমার নাই..... আমরে বিপদে ফালাইবা না...

আমার কথা শুইন্যা কইল.." তোমাকে কি করে উপহার হিসাবে কম দামী সার্ট কিনে দেই?... আর দামী সার্ট পরে তো বড় বড় অনুষ্ঠানে যেতে পারবা... সেটা আরো সুন্দর হবে...."

কইলাম.. আমর কুনু বড়লোক দোস্তো নাই... বড়লোক বলতে এক মাত্র তুমিই আছে... আর তোমার কাছে আমি কোন কিছুই লুকাই না...

আমার কথা শুইন্য কইল.... "কোন কিছু লোকাও না বলেই তো তোমাকে আমি এত পছন্দ করি.... আমি সত লোক পছন্দ করি..." (পরে বুজছিলাম.এইটা কোন পচন্দের কথা কইছিল..<img src=" style="border:0;" /> )

যাই হোক বহুত দোকান দেইখ্যা একটা সার্ট কিইন্য দিল.... সার্টের দাম ছিল..৩৩৫০টাকা...
হাছা কথা হইল.. এত দামি সার্ট নিতে আমর খুবই লজ্জা লাগতাছিল.... এত দামি সার্ট আগে পরার কোন অভিঙ্গতা ছিল না...

লগে প্যান্ট ও কিইন্যা দিতে চাইছিল... লজ্জায় আর নিতে পারলাম না... কইলাম.. তুমি তো আমার কিইন্য ফ্যালইতেছ..... পরে আর আমি বাসায় যাইতে পারুম না..
জিগাইল.. ক্যান বাসায় যেতে পারবা না ক্যান?

কইলাম.. আমি তো তোমার কাছে বিক্রি হইয়া যাইতেছি... বিক্রি করা মাল কি মালিকের কাছে ফেরত যাইতে পারে?
শুইন্যা হাইস্য দিয়া কয়... "তোমাকে কে কিনবে? ভাল মানুষের ভাত নাই. এই দুনিয়ায়..."

সার্ট নিয়া বাসায় যাইতাছি আর ভাবতাছি... বাসায় কি কমু? যাই হোক.. বহুত চিন্তা কইরা... একটা ফন্দি বাহির করলাম... ষ্টিকারটা তুইল্যা ফেলাইলাম... আর বাসায় কইলাম.. ভাল জিনিস সস্তায় ১০০টাকায় পাইছি, তাই কিইন্যা আনলাম....

রাতে ফোন দিল কইল আগামী শুক্র বার তোমাকে আমার দুইটা ক্লোজ ফ্রেন্ড এর সাথে পরিচয় করে দিব... রেডী থাকবা...
লগে লগে বুইজ্যা গেলাম.. সার্ট কিইন্য দেওনের মজেজা....

কইলাম.. আমি কি তুমার কিনে দেওয়া সার্টটা পইরা যাইতে পারুম?

হাইস্য দিয়া কয় ..''অবশ্যই... ওইটা তো সেই কারনেই তোমাকে কিনে দেওয়া....

কথাটা শুইন্যা নিজেকে অনেক ছোট মনে হইল... মনে লইল.. আমার কি একটা ভাল সার্ট নাই ওগো মত সমাজে যাওনের জন্য.... রাগের চোটে কইলাম.. আমি তুমার সার্ট পইরা যামু না.. আমার বাপের দেওয়া সার্ট পইরা যামু... দেখ চলব কিনা?

মাল বহুত চাল্লু কইল.. "তুমি যেটা ভাবছ ব্যাপরটা সেটা না... আজকে যদি এই সার্টটা তোমার মামা কিনে দিত তা হলে কি তুমি সেটা পরে যেতা না? তাহলে আমি কিনে দিলে সমস্যা কোথায়? আমি যেটা চাইছি, সেটা হল.. ভালএর মধ্যে আরো ভাল হোক... আমি জানি তোমার অনেক সুন্দর সন্দর সার্ট আছে... কিন্তু আর একটু বেশী সুন্দর হলে তাতে কি কোন অসুবিধা আছে? তুমি ব্যপারটা ভূল বুজো না... আমি অনেক খোলা মন নিয়ে তোমাকে সার্ট কিনে দিয়েছি.... ব্যপারটা একটু সহজ ভাবে দেখ.... "

তারপর ও মনটা কেমন জানি ছোট ছোট লাগতে লাগল...

রাতে রবিনের লগে আলাপ করলাম...ওই কইল.. তোর তো কপাল খুলছে.... ওই যদি তোরে পছন্দ না করত তাইলে... ওর ফ্রেন্ডদের সাথে পরিচয় ক্যান করাইয়া দিতাছে... ? আর ওই... ওর ফ্রেন্ডদের চোখে তোরে বড় বানাইতে চাইতাছে... সুতরাং এই বিষয়টা নিয়া রাগ করিস না.... সুযোগ সব সময় আসে না... ইজ্জত বেশী নিয়া চলিস না... যা করতে কইতাছে ঠিক ঠিক তাই কর....

বৃহষ্পতি বার রাতে ফুন দিল... বহুত তালিম দিল... কইল.. ওর বান্ধবীদের সাথে কি ভাবে দেখা করতে যাব, কি ড্রেস পরে যাব... কি ভাবে ওই খানে থাকব... ইত্যাদি হেন-তেন....

কইল.. আমি যেন কোন প্রকার জিন্সের বা কর্ডের প্যান্ট না পইরা যাই.. নো টি সার্ট.... ফুল স্লিভ সার্ট পরবা... ভাল হয় আমি যেটা কিনে দিয়েছি সেই সার্টটা....
আর বেশিক্ষন বসবা না... বলবা.. তোমার অন্য কাজ আছে....এই কথা বলে চলে যাবা... একটু ব্যস্ততা দেখাবে...
আর খাবারের বিল তুমি দিবা... বিল দেবার ব্যবস্থা আমি করে দিব... আমি জিগাইলাম... সেইটা কিভাবে?
কইল... ওরা দুজন এক সাথে আসবে ...আমরা দুজন এক সাথে যাব...যাবার সময়ই আমি তোমার কাছে কিছু টাকা দিব... সো নো টেনশন...
এই বার আমার ইজ্জতে লাগল... কইলাম.. আমি তোমার কাছ থেকে টাকা নিতে পারব না... তোমাদের ৩ জন মানুষকে খাওয়াতে আর কতই টাকা লাগবে... এই টাকাটা কি আমার নাই...

একটু চুপ মাইরা থাইক্যা কইল তাহলে এক কাজ কর.. যেহেতু তুমি আগে চলে যাবা তাই বিল পরে আমিই দিয়ে দিব...
এই বার মাইন্যা নিলাম.. কইলাম ঠিক আছে...

এর পর আমারে বিভিন্ন প্রোটকল সম্পর্কে সবক দেওন শুরু করল....কইল...

আর ভাল কথা, "হা করে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকবা না... কথা খুবই কম বলবা.. খুব মেপে মেপে কথা বলবা... খুবই পার্সনাল্টি নিয়ে কথা বলবা..."

আমি জিগাইলাম.. পার্সনাল্টি নিয়া ক্যামনে কথা কইতে হয়....
একটা চিক্কর দিয়া কইল.. এত কথা বল ক্যান? যা বলছি তা মন দিয়া শোন.... এটা তোমার জন্য খুবই গুরুত্ব পূর্ন।.....
তারপর কইল... আর চেষ্ট করবা... স্মার্ট ভাবে কথা বলতে....
আর একটা কথা.... ওই খানে তুমি আমার প্রতি খুবই আগ্রহ দেখাবা.. যাতে মনে হয় আমার প্রতি তোমার খুবই ভালবাসা আছে.... সেটা যেন প্রকাশ পায়.....

আমি হাইস্যা দিয়া কইলাম... তুমি তো আমারে ভালবাস না... এক তরফা ভালবাইস্যা কি লাভ? যে আমারে ভালবাসতে দেয় না তার জন্য আমি আর ভালবাসা দেখামু না...

আমার কথা শুইন্যা কইল... "এটা তোমার জন্যই ভাল... ওরা যদি তোমাকে পছন্দ করে তা হলে... তোমার জন্য সামানে সু খবর আছে...." <img src=" style="border:0;" />

আমি কইলাম.. এ্যফেয়ার করুম তোমার লগে... আর পছন্দ করব.. ওই মাইয়্যারা... এইটা কিমুন কথা?

কইল.. সেটা না... আমার বন্ধবীদের তোমার দেখা দরকার আছে... আমি যা কারব ওদের মতামত এখানে থাকবে... সো যে টা বলছি সেটা করার চেষ্টা কর.... এখন মন দিয়া শোন আমি কি কি করতে বলতেছি.... (বুজলাম ডোমেনেটিং করার ব্যপারটা ভালই পারে....)

খেতে বসলে আমি কি খেতে চাই, কোনটাতে আমার আগ্রহ আছে, আমার পছন্দের খাবার কোনটা ইত্যদি আগে আগে বলে দিবা... মাঝে মাঝে একটু খাবার আমার প্লেটে তুলে দিবা... এটা নেও, ওটা নেও এই রকম অনুরোধ করবা। মিনারেল ওয়াটার গ্লাসে ঢেলে দিবা.... ড্রিংক্স কোনটা পছন্দ করি জান তো?
কইলাম আবার জিগায়... তুমি কোক পেপসি পছন্দ করা না... তুমি স্পাইট বা কালার লেস গুলা পছন্দ কর... ঠিক না..?

একটা মিষ্টি হাসি দিয়া কইল.. গুড.... তুমি তো দেখি আমার ব্যাপারে অনেক কিছু জানো...
পাম মাইরা কইলাম... যারে ভাল লাগে তার সব কিছুই আমার মুখস্থ।...

একটু মজা লাগাইয়া কইলাম, তাইলে এক কাজ করুম... আমি কমু যে তুমার বসতে অসুবিধা কি হইতাছে, অসুবিধা হইলে আমার কোলে উইঠ্যা বসো.... কেমন হইব...এইটা তো আরো বেশী মহব্বত প্রকাশ করব?

এই কথা শুইন্যা একটা চিক্কুর দিয়া উঠল কইল...... এত বেশী কথা বল ক্যান? রাস্তার চিপ ছেলেদের মত কথা বার্তা শুনতে আমার ভাল লাগে না..... যা বলি খুব মন দিয়া শোন, তোমারই মঙ্গল হবে...

ঝাড়ি খাইয়া মনটা খারপ হইয়া গেল... চুপ মাইরা রইলাম... মনে মনে ভাবতাছি... শালা আমারে তো দেখি কামের পুলা বানাইতেছে.... শালা দেখাই করুম না...

১ ঘন্টা ধইরা বিস্তারিত বয়ান দিল... কোন সময় কি করিতে হইব, কোথায় কোন কথা কইতে হইব... হেন তেন... ধূর বাল এই সব আর ভাল লাগে না... পুরা একটা কামের পুলা বানানোর ধান্ধা....

গুরু রবিনের লগে আলাপ করলাম... কইলাম দোস্তো আর যাই হোক এই রকম কামের পুলা বানানুর মধ্যে আমি নাই... এর মানে কি? আমার তো ইজ্জত কইয়া কিছুই থাকল না...
রবিন কইল... শোন.. ওই চাইতাছে তোর বিষয়টা ওর বান্ধবীদের কাছে বড় কইরা তুলতে... তোর যে সত্যিকারের আগ্রহ আছে এইটা যেন বান্ধবীরা বুজতে পারে.... তাইলে বান্ধবীরাও তোরে ভোট দিব... সুতরাং চান্স মিস করিস না... আরে বাল এই রকম একটা মাইয়া যদি আমারে পায়ে জুতা পরাইয়া দিতে কইত, তাইলে আমি তাতেও রাজি হইয়া যাইতাম... এই রকম একটা মাল বাগাইতে হইলে যা যা করতে হয় তা তা ই করবি.. সমস্য কি? খেয়াল রাখিস মাল কিন্তু কড়া...জিনিস... কুনু মতেই যেন হাতছাড়া না হয়....

ভাল লাগার মানুষটাকে বারে বারে মাল কওয়াতে খারাপ লাগল...কইলাম.. দোস্তো মাল কইবা না... কেমন জনি লাগে... দোস্তো হাইস্যা হয়... হুম.. এখন তো খারাপ লাগবই... ভাল লাগার জিনিস না...

তাতেও মনটা শান্ত হয় না। পরে আরেক বন্ধু রুমির লগে আলাপ করলাম... ওই ও একই কথা কইল... এইটা কোন ব্যপার না... মেয়েরা এই রকমই হয়... ওরা চায় এইটা দেখাতে যে একটা ছেলে তাকে প্রচন্ড ভালবাসে.... সেটা যেন প্রকাশ পায়.... তারপর কইল.. আরে মিয়া খেলা তো সবে শুরু এখন একটু হারো...হারতে থাকবা... তার পরে তো তোমার খেলা শুরু হইব... তখন আর তোমারে কেডা পায়.... শুধু কোপানি আর কোপানি... কইয়া দাত বাহির কইরা খেক খেক কইরা হাসতে থাকল.... আমি কইলাম... আজে বাজে কথা কইবি না.... বাল কোন কিছুই বুঝতাছি না.... রুমি অনেক বুজাইল..যেন মাথা গরম না করি....

কি আর করা... ঠিক আছে সিদ্ধান্ত নিলাম... যামু শুক্রবারে দেখা করতে, ইন্টার ভিউ দিতে....

মাগার শুক্রবার যাওনের টাইম থেকেই একটার পর একটা ক্যাচাল লাগতে থাকল... ইন্টার ভিউ দেওন আর পথের মধ্যের ক্যাচাল হেইডা একটা বড় ইতিহাস... আগামীতে কমু....

(অনেকে অভিযোগ করেন পর্ব গুলা নাকি বড় হয়ে যাচ্ছে তাই আগামীতে পরবর্তী অংশ)


-------------------------------------------------------------------

(মনের কিছু দুক্ষের কথা কইতাছি.... কেউ কোন বাজে মন্তব্য করবেন না...যন্ত্রনা কিভাবে শুরু হইছে আইজ তার বয়ান দিমু.... ফান্দে পরি বগা কান্দে)

পুরাতন পর্বঃ

পর্ব-১
পর্ব-২
পর্ব-৩

পর্ব-৫
পর্ব-৬
পর্ব-৭ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28817665 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28817665 2008-07-07 12:54:18
জীবনের কিছু আজাব নামা...পর্ব-৭ (কোপা জ্বরের মধ্যে কোপানি খাইয়া চিৎপটাং)
উত্তরে আমাকে বলতে হচ্ছে, নদীর এপাড় ছাড়িয়া কহে নিশ্বাস ও পাড়ে যত সুখ, ওপাড় ছাড়িয়া কহে নিশ্বাস এ পাড়ে নয় ওপারেই যাত সুখ আমার দৃড় বিশ্বাস।



যাই হোক প‌্যাচাল ছাইড়া ঘটনা শুরু করি।

গত সপ্তাহে আমর ভাইরাস জ্বর ধরছিল, জ্বরে আমার অবস্থা কাহিল। রবিবার বিকাল থেকেই জ্বর জ্বর লাগতাছিল। সন্ধার পর দেখি সারা শরীরে ব্যাথা করতাছে, কি আর করুম মটকা মাইরা শুইয়া থাকলাম। জ্বর আইলে টিভি দেখতে ও ভাল লাগে না... দূর শালা কি যে করি।

রাতে ফুন দিল জিগাইল, কি অবস্থা বিকাল থেকে তোমার কোন খবর নাই, নতুন কোন মেয়ের পাল্লায় পড়লা?

কইলাম তুমার বদ নজর লাগছে, জ্বর আইছে.... শরীর টা জুইত লাগতাছে না, আজে বাজে কথা কইরা মাথাটা গরম কইর না। আইজ ঝগড়া করতে পারুম না।

কইল ওহ... আমি ঝগড়া করি? আজে বাজে কথা বলি? তা জনাব আপনার জ্বর হইয়াছে তাহা আমি কেন জানি না?

কোন উত্তর দিতে পারলাম না, চুপ মাইরা থাকলাম...
কইল "চুপ করে আছো ক্যান? নাকি আমার সাথে কথা বলতে রুচিতে লাগছে? ..." তারপর কইল জ্বর কখন আসছে?"
কইলাম বিকাল থেকে জ্বর আসছে, শুইন্যা একটা চিল্লান দিয়া কইল, বিকাল থেকে তোমার জ্বর আর আমি জানি না... ঘটনা কি?
কইলাম জ্বর তো মাত্র আসল সো জানাবার সময় পেলাম কোথায়?
"ওহ... তাইতো সময় কোথায় পাবা? সন্ধ্যা থেকে এখন পর্যন্তা কত ঘন্টা হল? তা জনাব আপনি কি নিয়া এত ব্যস্ত ছিলেন? আপনার কয়টা মেটিং ছিল?.."

আমি চুপ মাইরা থাকলাম...
পরে জিগহাইল.. ডাক্তার দেখাইছি কি না...
কইলাম না, আগামী কাইল দেখামু...
কিছুক্ষন চুপ মাইরা থাইক্যা কইল... ডাক্তার দেখানোর পরে আমার সাথে কথা বলবা... এই কথা কইয়া লাইন টা কাইটা দিল...
বুজলাম আইজ টেম্পারেচার হাই... লগে লগে ফুন দিলাম...
ফোন টা ধইরা কইল.. ফোন করছ ক্যান?
কইলাম আরে তুমি রাগ কর ক্যান? আমি তো ডাক্তারের কাছে যাবই.. এত রাতে ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবে না...

আমার কথা শুইন্যা একটা ভেংচি কাইট্যা ব্যাংঙ্গ কইরা কইল.. "স্যার আপনি আগামী কাল ডাক্তার দেখিয়ে তার পর এই নম্বারে যোগাযোগ করবেন... তার আগে দয়া করে কোন প্রকার যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন না... "
কইয়াই লাইন টা কাইট্যা দিল... /<img src=" style="border:0;" />

বুজলাম আর ফুন কইরা লাভ নাই... এই বার ফুন করলে কড়া ঝাড়ি খাইতে হইব... সো একটা ঘুম দেওন ই বুদ্বিমানে লক্ষন..

পরদিন ডাক্তার দেখাইয়া ফুন দিলাম... ডাক্তার দেখাইছি শুইন্যা কইল.. সোনা মানিক ডাক্তার তোমাকে যেইভাবে ঔষধ খেতে বলছে ঠিক টাইম মত সেই গুলা খাবা... একটু ও যেন ভূল না হয়... কখন কখন তোমার ওষধ খেতে হবে বল , আমি তেমাকে টাইম মত ফোন দিয়ে মনে করিয়ে দিব...

যাই হোক ২/৩ দিন টাইম টু টাইম ফোন দিয়া খোজ খবার নিল..
বুধবার দিন বিকাল ৪টায় হটাৎ ফুন দিল কইল.. সোন মানিক কি কর..?
কইলাম টিভি দেখি...
তখন কইল.. এক কাজ কর.. আমি একটু পরে বসুন্ধরাতে আসছি, তুমি তারাতারি চলে আসো...
হায় হায় কি কি কয়? কইলাম.. আমর তো অনেক জ্বর কিভাবে আসব?
একটু গরম হইয়া কইল.. জ্বর তো কি হয়েছে? তুমি ডাক্তারের পরামর্শ মত ঔষধ খাচ্চনা?
কইলাম ঠিক মত ওষধ খাইতাছি.. কুনু ঔষধ মিস করি নাই...

তা হলে আর সমস্যা কি? কোন কথা না, আমি ৫.৩০ এ বসুন্ধরাতে থাকব... দেখা হবে...বাই...

যতই বুজাই কুনু কাজ হয় না... কয়.. "ঔষধ খেয়ে তো জ্বর কমে গেছে সুতরাং আসতে সমস্যা কোথায়? বেশী কথা বলবা না, যা বলছি তাই কর... তোমার জ্বর তো আমার জানা আছে.. একটু পরে যদি তোমার দোস্ত-বন্ধুরা ডাক দেয় তাহলে তা উড়ে চলে যাবা.... আর সারা রাত তাদের সাথে থাকতে পারবা। আমার সাথে দেখা করতে গেলে শুধু তোমার জ্বর আসে..."

ফোনটা রাখার আগে শুধু কইল 'আমার ফুপুর সাথে আমি বসুন্ধরা যাব.. সো সাবধানে থাকবা.. আমি আসতে না বলা পর্যন্ত দেখা করবা না... দূরে দূরে থাকবা....”

কি আর করা ৫.৩০ এ বসুন্ধরা গিয়া দাড়াইয়া থাকলাম... ফুন দিলাম.. কইল অপেক্ষা কর... সময় মতো ডাক দিব...
অনেক্ষন বইস্যা রইলাম.. বইয়া থাকতে থাকতে টয়লেট ছোটটা চাপল...
ফ্রেশ রুমে গেলাম... যেই ছোটটা শুরু করলাম.. তখনই ফুন দিল...
ফুন ধরলাম.. কইল .. 'তারা তারি 'পানসুপারি' দোকানের সামনে আসো.... দেরী করবা না..'
কি আর করা... কোন মতে ছোটটা শেষ কইরা দৌড় দিলাম... 'পানসুপারী' দোকানের সামনে গিয়া দেখি দাড়াইয়া আছে, আমারে দেইখ্যা কইল.. কোথায় ছিলা? কইলাম.. এই তো.... কোথাও না...
কইল.. তোমাকে দেখলাম.. ওই দিক থেকে আসছো... ঘটনা কি... কোন মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলে?
কইলা... আরে ছোট রুমে গেছিলাম....
কইল.. শোন ফুপু দেখলে সমস্যা হবে.... তোমার সাথে বেশিক্ষন কথা বলা যাবেনা,...

কইলাম.. তাহলে জ্বরের মধ্যে ডাকলা ক্যান? আমারে কইল.. কই দেখি তোমার জ্বর কতটুকু...? কপালে হাত দিয়া জ্বর দেইখ্যা কয়, আরে এইটা তো জ্বর না.. সামান্য গা গরম হইছে... আরে আমরা যখন র্ভাসিটিতে কলা ভবন থেকে "এল টি" ভবনে যাই তখন রোদে আমাদের শরীর আরো বেশী গরম হয়ে থাকে....

আমি কইলাম.. ওহ সেই কথা... আমি যখন সুস্থ থাকি তখন তো তুমারে দেখলে আমর গায়ে আরো বেশি জ্বর থাকে... অটোমেটিক আমার গায়ে 104 ডিগ্রি জ্বর আসে...... <img src=" style="border:0;" /> সেইটা কি বুজ?

আমারে কইল.. এক কাজ করা.. আমার পান খেতে ইচ্ছা করছে....আমি এখন পান খাব.... একটা পান কিনে দাও...

আমি তো অবাক... কইলাম তুমি আবার কবে থেকে পান খাওয়া শিখলা?
কইল... আরে এখন আমার পান খেতে ইচ্ছা করছে , আমাকে পান কিনে দাও....

পানের দোকানে গিয়া দেখি একটা সুন্দর মাইয়া এক পুলার লগে পান কিনতাছে...
তাই পেমেন্ট কাউন্টারের অপেক্ষা করতে লাগলাম... মাইয়াটারে পেছন থেকে হেভি সেক্সী লাগতাছিল.... একটু পরে যখন মাইয়াটা কাউন্টার ছাড়ল.. আমি গেলাম.. পান কিনতে ... জিগাইলাম. .. কোন পান খাবা... দেখি আড় চোখে মাইয়াটারে দেখতাছে...

জিগাইলাম.. মাইয়া মানুষরে তুমি কি দেখ? দেখুম তো আমি.... মনে মনে কইলাম.. অগো জন্ম হইছেই তো আমাগো দেখনের লাইগ্যা,,,,
কইল.. আরে পেছনটা দেখে ভাবছিলাম মেয়েটা সুন্দর হবে.. কিন্তু মোটেও সুন্দর না...

আমি কইলাম. .. কোন মাইয়া? দেখি... কইয়া যেই চাইছি... লগে লগে আমরে একটা ধমক দিয়া কয়... এইটা কোন ধরনের অভদ্রতা? তোমার নজর এত খারাপ ক্যান? এই ভাবে খারাপ দৃষ্টিতে কেউ কি মেয়ে মানুষের দিকে তাকায়?

আমি তো বেক্কল হইয়া গেছি.... আমি খুবই সাধারন ভাবে তাকাইছিলাম....
কইলাম.... আমি আবার কি ভাবে তাকাইলাম?...

কইল.. একটা পান কিনতে এত সময় লাগে ক্যান? মেয়ে মানুষ দেখলে হুস থাকে না...
আমি কইলাম... আরে ধূর কি যে কও...আমি মাইয়াটারে দেখার টাইম পাইলাম কই?... তুমিই না কইলা.. মাইয়াটা সুন্দর না....
আরে আমি তো তোমার মত সুন্দর মাইয়া দেখতে দেখতে আর কোন মাইয়া আমার চেক্ষেই লাগে না... অন্য সব মাইয়াগুলারে তো আমার কাছে.. গার্মেন্স গার্মেন্স লাগে....
তোমাকে আজ যা লাগছে না... ওয়াও.... হটাৎ তুমি ফসা হইয়া যাইতাছ.. ঘটনা কি?
দেখি পাম পুট্টিতে কাম হইছে... হাইস্যা দিয়া কয় আরে না... গরম লাগছিল তো... তাই একটু ফেস পাউডার মাখছি... কইয়া আমার হাতের বাহুতে জরাইয়া ধরল...

আমি কইলাম.. তোমার ফুপুর সাথে পরিচয় করাইয়া দিবা না?
কইল.. মাথা খারাপ.... ফুপুকে তুমি চিন না.... ভীষন কড়া...
আমি কইলাম "ফুপু কড়া মাল...."
শুইনা কইল, এই বেয়াদপ... ফুপুকে সম্মান করে কথা বলবা.. উনি মুরুব্বি মানুষ..

পান কেনা শেষে আর ২/৩ মিনিট কথা বলে চলে যাওয়ার সময় কইল... এক কাজ কর... আমরা "এ্যমেরিকান বাগারের" সামনে বসে আছি... আমি যাবার ৫/৭ মিনিট পরে ওই দিক দিয়ে যাবা... এমন ভাব করবা যেন আমাকে হটাৎ দেখতে পেয়েছ..... তারপর আমাদের টেবিলের কাছে গিয়ে আমার সাথে কথা বলবা.. সুবিধা মনে করলে আমি বসতে বললে আমাদের সাথে বসবা.. .. না হলে... সোজা রাস্তা মাপতে থাকবা.....

কইয়া চইল্যা গেল.... একটু দূরে গিয়া কয়... আরে পান তো তুমি কিনে দেও নাই...আমার টাকায় কিনেছি.... তাহলে এক কাজ কর... আমাকে একটা মিনারেল ওয়াটার কিনে দাও..... পানির বোতল নিয়া নাচতে নাচতে চইল্যা গেল... আর আমি বইস্যা রইলাম....



৫ মিনিট পরে ভাবলাম.. ওই দিকে যামু যেই টেবিল থেকে উঠলাম.. দেখি হায় হায় এখন তো দেখি আমার দিকেই এক মহিলা সহ আসতাছে....




কাছে আসার পরে একটা হাসি দিয়া জাগাইল.. কেমন "আছেন"?... আমি তো অবাক... "আছেন"? এ তো দেখি "আপনি" কইরা কথা কওয়া শুরু করছে....

কইলাম জ্বি ভাল.. তুমি কেমন আছে... কোথায় আসছিলা....ইত্যাদি নাট্যকারি কথা বার্তা... যেন হটাৎ দেখা হইছে....

কথার মাঝে... হটাৎ কইল.. "আপনার" সাথে পরিচয় করে দেই...উনি আমার ফুপু.... আর ফুপু.. উনি হল "সামস".. আমাদের ডিপারমেন্টের সিনিয়র ভাইয়া... উনি অনাসে ফাষ্ট ক্লাস ফাষ্ট হয়েছিলেন..... মাষ্টাসেও ফাষ্ট হবে..."
হায় হায় কয় কি..... আমি তো এখনো অনাস ই পাস করি নাই... আর এখন তো দেখি আমারে ফাষ্ট ক্লাস ফাষ্ট বানাইয়া দিছে..... আবার মাষ্টাসও পরিক্ষা দেওয়াইয়া দিছে....

আমি লজ্জায় হাইস্যা দিয়া কইলাম.. মাস্টাসে কি হবে এখনো বলতে পারছি না... ফুপু কেমন আছেন.... কখন আসছেন... ইত্যাদি... হাবিজাবি... ভদ্রতা সূচক কথা বার্তা...

ফুপুকে কইলাম.. আমাদের সাথে কফি খান...
ফুপু কইল.. না বাবা... এখন আমরা চলে যাব...
চইল্যা যাওনের সময় পেছনে ফিইলা.. একটু মুচকি মারইরা চইল্যা গেল......

কি আর করা... ৫ মিনিটের দেখা পব শেষ হইয়া গেছে..... অহন বাড়ি যাইতে হইব... বাহিরে আইস্যা দেখি হালকা বৃষ্টি হইতেছে... রাস্তায় কোন খালি সিএনজি নাই.... বহুত কষ্টে বৃষ্টিতে ভিইজ্যা বাসায় আইলাম....

রাত যত বাড়ে জ্বর দেখি আরো বাড়তাছে..... রাত ১২ টার দিকে দেখি জ্বরে সাড়া শরীর কাপতাছে.... প্রচন্ড শীত লাগতাছে.... একটা কম্বল গায়ে দিলাম.... কিছুইতে কিছুই হয় না.... তার পর ও শীত লাগে... হায় হায়.... এই মে মাসে সবাই ফ্যান এসি ছাইড়া ঘুমাই... আর আমার শীত লাগে... কম্বল গায়ে দিয়া... শুইয়া আছি....

হটাত দেখি ফুন দিছে.... ফুন ধইরা.. কথা আর কইতে পারি না... দাত শীতে ঠক ঠক করতাছে.... বহুত কষ্ট কইরা কইলাম... জ্বরে শীত লাগতাছে.... কম্বল গায়ে দিয়া শুইয়া আছি.......

আমার কথা শুইন্যা কিছুক্ষন চুপ মাইরা রইল.... আমি শুধু কইলাম... আমারে বসুন্ধরা নিয়া যাও... তাইলে আমার জ্বর চইল্যা যাইব.... <img src=" style="border:0;" />

আমার কথা শুইন্যা হাউ মাউ কইরা কাইন্দা দিল.....কইল আমি কি জানি তোমার জ্বর আবার আসবে... কইয়া কানতে থাকল...
আমি শুধু মনে মনে কইলাম.... এই তো জ্বর যাওনের ঔষধ দেওয়া শুরু করছে.... আর একটু কান্দন শুনলেই আমার জ্বর পালাইয়া যাইব....আমি সুস্থ হইয়া যামু..... আপসোস এই মাইয়া মানুষ গুলার জন্য..... /<img src=" style="border:0;" />

এর পরের ৩দিন আমার জ্বর ছিল.. ১০৩/৪ .....
মানুষের শখ মিটানুর শখ টের পাইলাম...


---------------------------------------------------------------------
(মনের কিছু দুক্ষের কথা কইতাছি.... কেউ কোন বাজে মন্তব্য করবেন না...যন্ত্রনা কিভাবে শুরু হইছে আইজ তার বয়ান দিমু....)

পুরাতন পর্বঃ

পর্ব-১
পর্ব-২
পর্ব-৩
পর্ব-৫
পর্ব-৬ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28807433 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28807433 2008-06-08 13:53:25
জীবনের কিছু আজাব নামা...পর্ব-৬ ( সিদ্ধান্ত পরিবর্তন She is my life partner....nothings els.)
দুপুরে আবার ফুন দিল জিগাইল আমি খাইছি কি না? কইল দুপুরের খাওয়া যেহেতু হয়েছে তাহলে এখন ঘুমাবা, বিকালে উঠে শুধু মাত্র ছাদে ঘুরতে যাবা... বাহিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে যাবা না....
আমি মনে মনে কইলাম, তুমার লগে আমার আড্ডা মারা চিরজনমের লাইগা শেষ..... আর কয়টা দিন অপেক্ষা কর....

বিকালে দেখি আবার ফুন দিছে জিগাইল... কি করতাছি? কইলাম বাসায় বইস্যা টিভি দেখি... কইল এইটা ঠিক না, তোমার এখন মন খুব একটা ভাল না, সো একটু বাহিরের আলো বাতাসের দরকার আছে... আমি যেন একটু ছাদে যাই।
কইলাম আমার ছাদে যাওনের অভ্যাস নাই.... একটু খোচা মাইরা কইল ‘তুমি তো ছোটবেলা থেকেই ভাল, ছাদে গিয়া কখনো টাংকি মারো না.... সো আজকে একটু ছাদে যাও... তোমাকে টাংকি মারার পারমিশন দিলাম....<img src=" style="border:0;" />’

জোর কইরা ছাদে পাঠাইল.... কইল ছাদে মোবাইলটা নিয়া যাবা.... আমি তোমার লগে কথা কমু... কি আর করা ছাদে গেলাম... ওই খানে নানান কথা... আমার কি খাইতে মনে চায়, রাতে কি দিয়া খামু... আমি কইলাম আমি তো বাজার করি নাই.. আর রান্নাও করি নাই সো জানি না রাতে কি রান্না হইব।

জিগাইল সাকালে কি দিয়া নাস্তা করুম... কইলাম তুমি তো জানই সাকালে আমার বাসায় কুনু কিছুই তৌরি হয় না। হোটেল থেইক্যা ভাজি পরটা বা রুটি আসে.... কালে ভদ্রে কখনো সকালের নাস্তা তৌরি হয়।
তবে ডাক্তার এখন আমারে একটা চার্ট কইরা দিছে সেইটা মত খাইতে হইব....

কইল ডাক্তার সকালে কি দিয়া নাস্তা করতে বলেছে? কইলাম.. সকালের নাস্তা হিসাবে কনফ্লাক্স বা পাউরুটি জেলি ছাড়া বা পায়েস বা নরম জাও খাইতে কইছে। সারা দিনের একটা চাট কইরা দিছে সেই মত সকালের নাস্তা ৮টায় করতে হইব তারপর ১০ টায় কিছু হালকা খাওন আবার ১২ টায় কিচু ইত্যদি... ২ ঘনটা পর পর হাবি জাবি.. তরিকা মাইন্যা চলতে কইছে...

কইল তুমার চাটটা আমারে একটু কষ্ট কইরা পাঠাইবা... আমি দেখব... কইলাম তুমি কি ডাক্তার ওইটাতে কি ভূল আছে খুইজ্যা বাহির কারবা? কইল এত বেশী কথা কেন বল.. যা বলছি তাই করবা.... মনে মনে কইলাম জ্বি সবই ফাইনাল করার ব্যবস্থা করতাছি... আর কয়টাদিন অপেক্ষা করেন....

সন্ধার সময় কইল কই মেইল কইরা খাবারের লিষ্ট এর স্ক্যান কপি পাঠাইলা না.. তারা তারি পাঠাও....
কি আর করা খাওনের চাট পাঠাইলাম.....
রাতের বেলা শুইয়া শুইয়া টিভি দেখি আর মনে মনে ভাবি আমি কি পাগল হইয়া গেলাম... নাইলে যে মাইয়া আমরে এত গুলা মানুষের সামনে চড় মাড়ছে তার কথা মত ক্যান খাবারের লিষ্ট মেইল করলাম... তার কথা মত ক্যান কাম কাজ করতাছি.... আমি কি রোবট হইযা গেছি... না আমার ‘অরদিশা’ লাগছে... না আমি যাদু হইয়া গেছি.... বহুত কিছু চিন্তা করতাছি.. মাগার কিচুই বুজতাছি না... মনে হইল আসলেই আমি অসুস্থ না হইলে ক্যান এত উল্টা পাল্টা কথা ভাবতাছি আর করতাছি.... যার লগে সম্পকর্ শেষ করার সাদ্ধান্ত নিছি তারে এত দাম দেওনের কি আছে?.....

ভাবলাম দোস্ত বন্ধু রবিনের লগে একটু আলাপ করি... কিন্তু সমস্যা হইল.. মাগার ছড় থাপ্পর খাওনের কথা ক্যামনে কই....

মাথাটা খারাপ হইয়া গেছে... কিছুই বুঝতাছি না... লাষ্টে না পাইরা রবিনরে ফুন দিলাম... চড় খাওনের কথা কইতে পারলাম না....কইলাম দোষ্ত ধরা তো খাইছি... খুবই মাইন্ড করছিল... তারপর আমরে শত শত পাবলিকের সামেনে ইতর ছোটলোক কইয়া গালা গালি করছে...... দোস্ত আমার মান সম্মান বইল্যা কিছুই রাখে নাই.... ওই আমারে কুনুদিনই ভাল বাসে নাই.... দিলে যদি একটু ভালবাসা থাকতো তাইলে এমনে পাবলিকের সামনে আমারে গালাগালি করতে পারত?.... দোন্তো আমি সিদ্ধান্ত নিছি ওর লগে আর কুনু সম্পকর্ রাখুম না... রবিন অনেক কিছু বুঝাইল... কইল এইগুরা হইল এক ধরনের ভালবাসা...কইলাম গুল্লিমারি ভালবাসার.... মাগার কুনু কিছুই আমি বুঝি না.... কথা ফাইনাল সম্পর্ক শেষ......

রাইতে ১২ টায় ফুন দিল জিগাইল খাইছি কি না, কইল এখন থেকে রাত জেগে আর কোন গল্প হবে না.... সো তারা তারি ঘুমাইয়া পড়.... রাতে মোবাইল বন্ধ রাখবা... কেউ যেন ডিষ্টার্ব না করতে পারে..... কোন জরুরী ফোন আসার দরকার নাই.....
এই কথা কইয়াই ... হু হু কইরা কানতে থাকল.... সে কি কান্দন.... আমি জিগাইলাম তুমি কান্দ ক্যান? অসুখ তো হইছে আমার ... তোমার কি... (চড় খাওয়া) মনের রাগ গুলা ঝাড়া শুরু করলাম....
কানতে কানতে কইল ... ‘তোমার অসুখ মানে .... এইটা আমরও অসুখ....’ এই কথা কইয়া কান্দন বাইর গেল....

মর জ্বালা কই চড় খাওনের জন্য রাগ দেখামু না.... উল্টা কান্দদ শুনা লাগতাছে....

আমি যতই শান্তনা দেই কান্দদ ততই বাড়ে.... আস্তে আস্তে কান্দদ দেখি চিক্কর পাইরা কানতাছে.... আর কইতাছে তুমি না থাকলে আমি কি নিয়া বাচব... তুমি বেচে না থাকলে আমিও মরে যাব...... আমি ও কাল থেকে ভার্সিটি যাব না... আর পড়া লেখা করে কি হবে.... কার জন্য পড়া লেখা কারব... তুমি তারাতারি আমাকে বিয়া কর....

হয় হায় কয় কি... আমি মইরা যামু আর ওই কিনা একটা মরা পুলারে বিয়া করব? মাথা ঠিক আছে তো.....

কইলাম... আমি যদি মারাই যাই তাইলে আমাকে বিয়া করে তুমার লাইফটা কেন নষ্ট করবা?
ক্ইল... যাকে ভালবাসি তাকে বিয়ে করাটাই বড় সাথকতা, এতে লাইফ নষ্ট হল কোথায়। এতে লাইফ একটা পরিপূনৃতা পাবে..... তুমি আমাকে একটা বেবী দিবা সেটা নিয়ে আমি সারাজীবন বেচে থাকব...... অই বেবীটাই হবে তুমি... তুমি না থাকলেও তাকে নিয়ে আমি সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারব....

শত কষ্টের মধ্যেও একটু ফান কইরা কইলাম... ওহ... শুধু আমার একটা বেবী নেওয়ার জন্য তুমি বিয়া করতে চাও... আমাকে চাও না... তুমার কাছে আমার থেকে বেবীটা অনেক বড়..... <img src=" style="border:0;" /> ঠিক আছে তাইল কাইল আইস তুমারে একটা বেবী দেওনের ব্যবসাস্থা কইরা দিমু.... এমন কুপানু দিমু এক বারেই বেবী হইয়া যাইব.... <img src=" style="border:0;" />

শত ক্ন্নার মাঝেও হাইস্যা দিল... কইল....'শয়তান মনে শুধু কুমতলব... বিয়া না করে এই সব করা যাবে না... ওই চিন্তা বাদ দেন.... আপনারা ছেলেরা শুধু অই একটা ধান্ধাতেই থাকেন..... '
আরে তুমার বেবীটা তো তুমার মতই হবে... সো বেবীটা অনেক কিউট হবে.... আহ.. সারা দিন আমি কোলে নিয়ে রাখব.... জান বেবীটাকে আমি অনেক অনেক আদর করব.... আচ্ছা বেবীটার নাম কি রাখব... নাম কিন্তু আমি রাখব....আমর পছন্দে হবে ডাক নাম... আর তুমি রাখবা আসল নাম....



(ছবির কিউট বাচ্চাটা আমাদের না, এক বন্ধুর বাচ্চা ধার নিয়া পোজ দিছিলাম .... <img src=" style="border:0;" /> )

ইত্যাদি গল্প করতে করেত হটাৎ কইল... “আরে তোমাকে না বলছি তারাতারি ঘুমাতে... এখনো জেগে আছো ক্যান?” মনে মনে কইলাম.. আমার ঘুমটা কেডা নষ্ট করতাছে?

এর পর কইল.. সকাল ৭টায় যেন উঠে একটু হাটাহাটি করি তার পর নাস্তা করার প্রস্ততি নেই...
ফোনটা রাখার আগে কইল “একটা কথা সকালে আমি ফোন না দেওয়া পযন্ত নাস্তা করবা না, মনে যেন থাকে..”

ফোনটা রাইখ্যা হটাৎ মনে পড়ল... ঘটনা কি... ফোন না পাওয়া পযন্র্তত নাস্তা না করতে কইল ক্যান? মাথা মন্ডু কিছুই বুঝলাম না.... ঘুমাইয়া পড়লাম....

সকাল ৭টায় দেখি ফোন দিছে, কইল তারাতারি ঘুম থেকে উঠো। উঠে হাত মুখ ধোও... তার পর আমি নেক্টস ফুন না দেওয়া পযন্ত নাস্তা করবা না।
মাথা মন্ডু কিছুই বুজলাম না.... নাস্তা না করতে কইল ক্যান?

৭.৩০ এর দিকে দেখি আবার ফুন দিছে কইল.. কি কর.. কইলাম হাত মুখ ধুইয়া বইস্যা আছি... একটু পর নাস্তা করব....
কইল এক কাজ কর.... বাসার নিচে নামো...
মানে !
মানে হল আমি এখন তোমার বাসার নিচে... সো একটু নিচে নামো...
আমি কইলাম এত সকালে কি করতে আসছ?
কইল নামতে বলছি তারা তারি নিচে নামো... এত কথা বল কেন?

আমার বিশ্বাস হইতে ছিল না... নিচে নাইম্যা দেখি সত্যিই বাসার সামনে গাড়ীতে বইস্যা আছে....
আমারে দেইখ্যা দাত বাহির কইরা কইল 'হ্যালো সোনা মানিক... তারা তারি আসো....'
বাসার দাড়োয়ানের সামনে আমারে 'সোনা মানিক' কইছে শুইন্যা লজ্জা লাগল... আবার রাগও লাগল....
কাছে গিয়া জিগাইলাম... ঘটনা কি? এত সকালে... ?

হটাৎ ডর লাগল... অহন তো আবার কইব না... চল বিয়া করি... বাসার সামনে যদি সিন ক্রিয়েট করে....
ওর তো মাথা কুনু কালেই ঠিক ছিল না... যখন যা মনে লয় তাই করতে শুরু করে.... আবার নতুন কুন যন্তনা শুরু করব.... মনে মনে ঠিক করলাম আইজ একটা শিক্ষা দিমু.... এমন শিক্ষা দিমু যে, জনমের শিক্ষা হইয়া যাইব... পাগলামী ছগলামী বহুত সহ্য করছি... পাগলামী ছুটাইয়া দিমু...... আর না... আইজকা বুজামু কত ধানে কত চাইল, আর কত গমে কত আটা...

মিষ্টি কইরা কইল.. গাড়িতে উঠো.... জিগাইলাম কোথায় যাবা? আমি তো এখনো নাষ্তা করি নাই।

খুব রস লাগাইয়া কইল.. “সোনামানিক উঠো না... দুরে কোথাও নিয়া যাব না... এই তো একটু সামনে...”

গাড়িতে উইঠ্যা বসলাম.. কিমুন যানি রহস্য রহস্য লাগতাছে..... আমার চোখ মুক দেইখ্যা কইল... রাতে ভাল ঘুম হইছে?
কইলাম হ্যা...
তারপর কইল.... শুনো মানিক আমি তোমার জন্য সকালের নাস্তা নিয়া আসছি... চল দুইজন এক সাথে নাস্তা করব....
নাস্তা নিয়া আসচো মানে?
হ্যা তোমার জন্য আমি নিজের হাতে একটা নাস্তা বানাইয়া আনছি.... তোমাকে সেইটা খেতে হবে... এবং আমার সামনে...

আমি কইলাম... আমার বাসায় নাস্তা রেডী করা আছে....

এই বার গরম হইয়া উঠল... কইল “বাসায় তোমার নাস্তা তৈরি আছে সেইটা আমি তো জানি... এইটা নতুন আর কি”

তারপর বলল এখন বল কোথায় গিয়া আমরা বসব.... বসার ভাল জায়গা কোথায় আছে? যেখানে আমারা দুজন বসে নাস্তা করতে পরব।

মহা চিন্তায় পইরা গেলাম... এত সকালে তো কুনু ফাষ্ট ফুড খোলা থাকে না.. আবার কুনু হোটেলেও আমাদের বাহিরের নাস্তা খাইতে দিব না....

শেষ মেষ ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বইস্যা খাওনের প্লান করলাম..... কইলাম জীবনেও কুনু দিল লেকের পাড়ে নাস্তা করি নাই... মানুষও করে না ... আজ আমরা কারুম..
ধানমন্ডি লেকের পাড়ে ভাল একটা জায়গা খুজ করতে লাগলাম... যেখানে একটু নিরিবিলি দুইজন নাস্তা করুম... মাগার কোন জাইগাই খুইজ্যা পাইতেছি না। আর এত সকালে কোন পুলাপাইন ও লেকের পাড়ে থাকে না... শুধু আমাদের দুইজন লেকের পাড়ে বসা কেমন জানি আবাইল্যা কামের মত লাগে...

অনেক খুজার পর ধানমন্ডি ৩২ নং এর শেখ মজিবের বাড়ির সামনের লেকের বিপরিত দিকে একটা সুন্দর জায়গা পাইলাম.. যেখানে চউড়া ইটের ইউ সেপ এর বসার এটা জায়গা আছে। সেখানে বসলাম।

বসার পর কইল.. তুমি বস আমি গাড়ি থেকে খাবার নিয়া আসি.... আমিও সাথে গেলাম...
গিয়া দেখি গাড়ির ভিতর থেকে দুনিয়ার হটবক্স আর ব্যাগ বাহির করল।

ওইগুলা নিয়া লেকের পাড়ে বসলাম। তারপর একটা একটা কইরা বক্স খুলতাছে... হায় হয় এ তো দেখি মহা হুলুস্তুল ব্যপার....
একটা বক্স এ পায়েস... একটা তে সেমাই...
সেমাইটা বাহির কইরা কইল, "এই সেমাইটা আমার নিজের হাতে রান্না করছি... শুধু তোমার জন্য... বাসার কাউকে এইটা খেতে দিব না... সবটুকু নিয়া আসছি...."

একটাতে পাওরুটি...একটাতে ডিম পোছ করা... একটা ছোট ফ্লাক্সে গরম দুধ... একটা কর্ণফ্লেক্স এর প্যাকেট বাহির করল.... লগে কিছু সুগার ব্যাগ.... একটা ছোট বক্স এ ৪/৫টা সন্দেশ.... একটা মিনারেল ওয়াটারের বোতল.. দুইটা গ্লাস.. একটা প্লেট... একটা টিস্যু বক্স.... দুনিয়ার হাবিজাবি...

এত্ত কিছু দেইখ্যা জিগাইলাম.. আর বাকি কি রাখলা? চা টা বাদা পড়ল ক্যান?
দাত বাহির কইরা হাইস্যা দিয়া কইল... আরে আমি এত মন ভূলা না.. এই দেখ... দেখি আর একটা ফ্লাক্স বাহির করছে ওইটাতে নাকি গরম পানি আর সাথে টি ব্যাগ আছে... কইল.. তোমার তো এখন দুধ চা খাওয়া নিষেধ.. সো লেবু চা খাবা... এই দেখ লেবু....

আমি কইলাম.. অনেক দিনের শখ ছিল... মন ভইরা দুধ খামু শালার খাওনের চান্স আওনের আগেই ডাক্তার ওইটাও খাইতে নিষেধ কইরা দিল... <img src=" style="border:0;" /> খালি দেইখ্যই যাইতে হইব খাইতে আর পারুম না... আফসোস... <img src=" style="border:0;" />

আমারে কইল আজে বাজে কথা বললে আমি কিন্তু চলে যাব....

তার পর সবকিছু বাহির কইরা সাজানু শুরু করল... প্রথমে প্লেটে সেমাই নিল.. কইল.. এইটা স্পেশালী তুমার জন্য রান্না করছি সো এইটা সবার প্রথমে খাবা... একটা চামচ দিয়া প্লেট থেকে তুলে আমার মুখে তুলে দিল আসল...

হায় হায়... আমার তো দেখি লজ্জা লাগতাছে... দূরে কিছু টোকাই পুলাপাইর বইয়া বইয়া দেখতাছে... এই পাগলেরা কি করে.. ধানমন্ডি লেকের পাড়ে কেউ কোন দিন নাস্তা কারছে এইরকম কখনো শুনি নাই।

আমি কইলাম... দেখ লোকজন দেখতেছে.. তুমি চামচটা আমর হাতে দাও আমি নিজে নিয়েই খাই....

সাথে সাতে একটা চিৎকার দিয়া উঠল... মানে, আমি কি জানি না তোমার হাত আচে.. তুমি নিজের হাতে খাইতে পার.... আমি খাওয়াইয়া দিলে সমস্যা কোথায়?

আমি লজ্জায় মিন মিন কইরা কইলাম... লোকজন দেখতেছে তাই লজ্জা লাগতেছে...
কইল... "আমি খাইয়ে দিলে তাতে লজ্জার কি? কে দেখল না দেখল তাতে কিছুই আসে যায় না...."

তার পর নিজের হাতে সব কিছু খাওয়াইল... এটা খাও, ওইটা খাও... আর একটু নেও না.. প্লিজ সোনা মানিক... তুমি না সেমাই পছন্দ কর.. এইটা আমার নিজের হাতের রান্নাকরা... (মাগার সেমাইটা তেমন জুইতের হয় নাই... রান্না করার অভ্যাস না থাকলে যা হয়... মজা যেহেতু হয় নাই তার মানে সত্যিই নিজে রান্না করছে....)

এইটা মনে হওয়ার সাথে সাথে কেমন যানি কষ্ট লাগতে লাগল.... আমার জন্য এত কিচু করতাচে.... অথচ আমি আর কয়দিন মাত্র বাচমু.... কি লাভ একটা মরা মানুষের জন্য এত কিছু কইরা..... মনটা খুব খারাপ হইয়া গেল... <img src=" style="border:0;" />

পায়েস টা নেও..এইটা নরম খাবার ডাক্তার তোমাকে নরম খাবার খাইতে বলেছে...
আমি কইলাম ... নরম তো আরো অনেক কিছু আছে.. ওইগুলা খামু দূরে থাক ধইরাই দেখতে পারি না... <img src=" style="border:0;" /> (মনে হয় বুজে নাই.. কিছুই কইল না...)

খাবারের সাথে সাথে হাতে একটা ট্যিসু পেপার নিয়া এক চামুচ মুখে দেয় আর টিসু দিয়া আমার মুখ মুইছ্যা দেয়.... একটু পর পর জিগায় পানি খাব কি না... বোতল থেকে পানি ঢেলে গ্লাস মুখে তুইল্যা দিয়া পানি খাওয়ায়.... আবার মুখের পানি মুইছ্যা দেয়....

সোনা মানিক এইটা আর একটু খাও.. .এইটা কি ভাল লাগে না.. ঠিক আছে তাহলে.. ওইটা খাও.... ইত্যদি .. কত যে আদর কইরা খাওয়াইল.... এত আদর দেইখ্যা আমার মনে মনে খুবই কষ্ট লগতাছিল.... ভাবতেছি... আমি না থাকলে ওর আসলেই কি হইব.... এই মাইয়া বাচব কেমন কইরা....
হটাত কইল.. কি ব্যাপার!! কি খাবতেছ? কইলাম না কিছু না... এমনি...

আমি আবার পাও তুইল্যা বসছিলাম খাওয়া শেষে যাখন বসা থেকে নামতে যামু দেখি তারাতারি আমার সেন্ডেল সু দুইটা পায়ের কাছে আইন্যা দিল...
হায় হায় এইটা কি বরল...!
আমি কইলাম... আরে আরে কি কর... তুমি কেন আমার জুতা ধরে ঠিক করে দিতেছ?

আমারে কইল.. তাতে কি... তোমার জন্য এই কাজটা করতে আমার খারাপ লাগে না... তোমার জন্য আমি যে কোন কাজই করতে পারব.... কোন কাজই আমার জন্য ছোট না...

কথাটা শুইন্যা চিন্তা করতে লাগলাম... এই যুগে বউরাই স্বামীর কোন সেবা করে না...আর ওই গালফ্রেন্ড হইয়া আজ আমার এত আদর যত্ন করতাছে.... সত্যিই আজব এই দুনিয়া....

আর আমি বইস্যা বইস্যা চিন্তা করতাছি.. ওরে কি শাস্তি দিমু.... হায় হায় এইটা আমি কি চিন্তা করতাছি.... এই রকম একটা মানুষ যে তার বয়ফ্রেন্ডকে ভালবাসে তাকে নাকি আমি ছাইড়া য়াওনের চিন্তা করতাছি.... আমি কি মানুষের বাচ্চা? এই রকম একটা মেয়ে তো আমার জন্য আশিরবাদ স্বরুপ.... আমি এমন কি মহামানব যে, আমর সেবা করতে হইব... আমি তো ওরে কুনু কিছু করতে কই নাই....

আমার জন্য নিজ হাতে রান্না কইরা আনছে... কত আদর কইরা লক্ষী সোনা মানিক কইয়া আমরে খাবার মুখে তুইল্য খাওয়াইল.... আমর লাইফে আর কেউ কি ইমুন কইরা খাওয়াইব? জীবনেও না...
ছি ছি ছি... এই রকম একটা মেয়ে কে আমি ছাইরা যাওনের চিন্তা ক্যমনে করলাম....<img src=" style="border:0;" />

গালফ্রেন্ডের সেবা শশ্রুসায় আমর মনটা একদম গইল্যা গেল.... আমি আর থাকতে পারলাম না....

কিছু ক্ষন চুপ মাইরা রইলাম.... আমি চুপ দেইখ্যা কইল.. কি চিন্তা করতেছ? তোমার কি খারাপ লাগতেছে... আমি কইলা.. না.. আমি ঠিকই আছি...

হটাত কইলাম... আচ্ছা তুমি আমার জন্য এত কিছু ক্যান করতেছ?
কইল.. আজ তুমি অসুস্থ তোমার জন্য যদি কিছু না করি তাহলে এই জীবনে আর কার জন্য করব? তুমি জান আজ সকালে আমি কয়টায় উঠছি? ভোর ৫টায় উঠে তোমার জন্য খাবার তৌরি করছি.... এত সকালে উঠার জন্য মা অনেক অবাক হইছে.... আমাকে জিঙ্গাস করলে আমি বলছি.. লিজা অসুস্থ তাই ওর জন্য কিছু নাস্থা নিয়া হলে যাব... এই কথা বলে তোমার জন্য নাস্থা তৌরি করছি.....

এই কথা শুইন্যা আমি আর থাকতে পারলাম না... আমার চোখে পানি আইস্যা গেছে.... আমি শুধু কইলাম... তুমি আমারে মাপ কইরা দেও.... (সেদিনের ঘটনা মনে কইরা এখনো আমার চোখে পানি আইস্যা পড়তাছে....)

অবাক হইয়া কইল.. তোমার কি হইছে? তোমার শরীর ভাল না, এক কাজ কর তুমি বাসায় চলে যাও... রেষ্ট নেও...

আমি কইলাম না.. আমি এখন তোমার সাথে থাকব....

এর পর আমি ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকাইয়া রইলাম.... আমার মনে হইল... আমি আজ ওরে নুতন কইরা দেখতেছি..... ওরে আমার কাছে একটা নতুন মানুষ মনে হইল.....মনে হইল এই মানুষ না ফেরেস্তা ... কেমন যানি আমি কিছুই ভাবতে পারছিলাম না...

হটাত দেখি আমার দুই গালে হাত দিয়া কইতাছে.. তোমার কি হইছে... সত্যি করে বল.... কইয়া আবার কাইন্দা দিল....

আমি পাথরের মত হইয়া গেলাম... কিছুই কইতে পারলাম না....

কানতে কানতে কইল... "আমি সিদ্বান্ত নিছি আমরা খুব তারাতারি বিয়ে করে ফেলব.... সত্যি বলছি ... আমাদের তারাতারি বিয়ে করা উচিত..... আমি চাই এই অসুস্থ সময়ে তোমার পাশে থাকতে..... তুমি তোমার বাসায় বল... আমি বাসায় বলার ব্যবস্থা করতেছি.... আব্বু রাজি হবে না.... রাজি না হলে আমি বাসা ছেড়ে চলে আসব... এই ব্যপারে আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না.... তুমি আমার থেকে বয়সে ছোট তাতে কি.... ছোট বলে তো বিয়ে করতে আইন বা ধর্মে কোন বাধা নেই...."

এই কথা শুইন্যা আমার হুস ফিইরা আইল.... মনে মনে ভাবলাম... আমার মত এই রকম একটা ক্যান্সার রোগীরে কেডা বিয়া করতে রাজি হইব... উল্টা আরো ভাইগ্যা যাইব গা... আর সেই জায়গায় ওই কি না আমারে বিয়া কইরা সেবা করতে চায়......

নাহ.. গত কাল যা ভাবছিলাম.. তার জন্য অনুতপ্ত হইতে লাগল....
সিদ্ধান্ত নিলাম জীবনে আর যাই হোক ওরেই আমি বিয়া করুম... এইবার বাচি আর মরি....

চড় খাইয়া মনে মনে ভাবছিলাম শিক্ষা দিমু ওই কথার জন্য তওবা করলাম... আর নতুন কইরা শপথ করলাম... আমার লগে আর যতই খারাপ ব্যবহার করূক না ক্যান ওরে আর জীবনেও ছাইড়া যামু না..... সিদ্ধান্ত ফাইনাল.... She is my life partner....nothings els..

অনেক কথা হল... তারপর আমাকে বাসায় নামাইয়া দিয়া ভার্সিটি চলে গেল....
৫মিনিট পরে ফুন দিয়া জিগাইল.. সকালের ঔষধ খাইছি কি না.....


পুরাতন পর্বঃ

পর্ব-১

পর্ব-২
পর্ব-৩

পর্ব-৫

------------------------------------------------------------
(মনের কিছু দুক্ষের কথা কইতাছি.... কেউ কোন বাজে মন্তব্য করবেন না...যন্ত্রনা কিভাবে শুরু হইছে আইজ তার বয়ান দিমু....)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28802148 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28802148 2008-05-24 14:38:57
জীবনের কিছু আজাব নামা...পর্ব-৫ (পাচমিশালী) View this link



নিজের জীবনের কিছু একান্ত ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়া লেখতে চাইছিলাম। মাগার বেশী দূর যাইতে পারি নাই। শারীরিক অসুস্থতার জন্য মাঝখানে ৮/৯ মাস নেটে আসতে পারি নাই। আবার এখন থেকে "জীবনের কিছু আজাব নামা"র বাকী পর্ব গুলা লিখা শুরু করব।

সম্ভবত আগের মত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লিখা সম্ভব না, কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাবে।

যারা আগের পর্ব গুলা পড়েন নাই তাদের জন্য আগের পর্ব গুলা নিচে দিয়া দিলাম


আজকে শুরু করমু আমার অসুস্থতার সময় কি দিন গেল....

-------------------------------------------------------------------------

গত বছর জুলাইমানের মাঝামাঝি আমার অবস্থা খুবই খারাপ, কোন কিছু খাইতে পারি না। খাইলেই বমি হয়, কোন কিছু খাওনের সাথে সাথেই বিনা কারনে কাশি.... ইত্যাদি হাবিজাবি সমস্যা নিয়া ঢাকা এ্যাপলো হাসপাতালে গেলাম।

ডাক্তার সব শুইন্য কয় আপনাকে কিছু টেষ্ট দিতেছি ওইগুলা টেষ্ট কইরা নিয়া আসেন। ভাল কইরা তাকাইয়া দেখি ওই টেষ্ট গুলার মধ্যে একটা টেষ্ট 'ক্যন্সারের "।

ক্যন্সারের টেষ্ট দেইখ্যা আমার মাথা ঘুরতাছিল। কিছুক্ষন ঝিম মাইরা বইস্যা ছিলাম।
বইয় বইয়া চিন্তা করতাছি বাসায় কি কমু নাকি যে আমারে ক্যন্সারের টেষ্ট দিছে?।

অনেক্ষন বইস্যা থাইক্যা পরে ব্লাড টেষ্টএর সেম্পল দিতে গেলাম, বাকী কিছু টেষ্ট করতে দিলাম.. তার পর বাসায় চলে গেলাম।

মনে মনে ঠিক করলাম বাসায় কিছুই বলা যাবে না, তাইলে কেয়ামত হইয়া যাইব।
রাতে বেলা গার্লফ্রেন্ডএর সাথে খুবই নরমাল কথাবার্তা কইলাম। মাগার আমার মন কিছুতেই ভাল লাগতেছিল না, মনটা কেন যেনা ভার ভার হইয়া যাইতেছিল।

আধা ঘন্টা নানান রোমন্টিক কথা বার্তা চালাইয়া যাইতেছি ভাব মারতাছি যে আমি খুবই নরমাল আছি।
হটাং গম্ভীর হইয়া আমরে কইল "'তুমাকে একটা কথা জিগাস করি, সত্যি উত্তর দিবা।" কইলাম এইটা আর এমন নতুন কি ব্যাপার? তুমি যাই জিগাইবা সত্যি উত্তর পাইবা।
আমারে জিগাইল "সত্যি করে বল, তুমার কি হইছে?"
প্রশ্ন শুইন্যা আমর সারা শরীর দিয়া ঘাম ছুটা শুরু করছে, মনে মনে কইলাম অহন তো দেখি সত্যিই ধরা খাইলাম।

কইলাম, কই কিছুই না তো?
এই বার আরো গম্ভীর হইয়া কইল "তুমাকে না বলছি আমার কাছে কোন কিছু লুকাবা না"
আমি কইলাম তেমন কিছু হইলে তো আমিই তুমাকে বলতাম।
তখন আমরে কইল "আমি এখন যদি ফোনটা রেখে দেই তাইলে আর জীবনেও আমাকে খুজে পাবা না...."
বললাম রাতের থেকে আমার শরীর টা ভাল যাচ্ছে না।

কইল, গত কিছু দিন ধরেই তুমার শরীর ভাল দেখতেছি না।

আমি কইলাম হুম।
আমারে জিগাইল ডাক্তারের কাচে গেছি কি না?
কইলাম না, আবার কইলাম হা।
আমরে জিগাইল এর মানে কি ? একবার হা আর একবার না? মিথ্যা কথা কোথা থেকে শিখছ?
কইল "আগামী কাল বিকালে রেডি থাকবা আমি ডাক্তারের কাছে নিয়া যাব।"
আমার তো মাথা ঘুরতাছে হায় হায় ডাক্তার তো দেখাইছি... অহন কি করুম? /<img src=" style="border:0;" />

কইলাম ঠিক আছে, তুমি এপয়েন্টম্যান্ট কইরা রাইখো আমি সময় মতো চইল্যা যামু।
কইল না, আমিও সাথে যাব....
ডরে ডর কইলাম ঠিক আছে, এর পর চিন্তায় পইরা গেলাম... অহন তো ধরা খামু....
চিন্তায় রাইতে আর দেখি ঘুম আসে না....

সকালে উঠ্যা ওরে ফুন দিলাম, কইলাম ডাক্তারের ফুন নং দাও এপয়েন্টমেন্ট করি, তার পর কথা ঘুরাইয়া কইলাম ঢাকা এ্যাপলো হাসপাতালে ভাল চিকিৎসা হয় চল ওই খানে যাই। এই কথা কইয়া, কইলাম তাইলে আমি এ্যপোল তো এপয়েন্টমেন্ট করি, যাবার সময় তুমারে নিয়া যামু।
রাজি হইয়া কইল "তাহলে তাই কর. আমার দুইজন এক সাথে যাব ডাক্তার দেখাতে, আমি তোমার সাথে না গেলে এবারো তুমার ডাক্তার দেখানো হবে না... আমি তো তোমারে ভাল করে ডাক্তার দেখাতে চাই"

রাতে দোস্ত গুরু রবিনরে ফুন দিলাম কইলাম দোস্ত এইবার আবার ডাইরেক্ট ধরা। সব শুইন্যা কইল ''বাচার কুনু উপায় নাই, তুই এ্যাপলোতে গিয়া আগে ডাক্তার দেখা দেখা, ডাক্তার কি কয় শোন। তার পর ওরে ফুন দিস। পরে অবস্থা বুইজ্যা ব্যবস্থা করা যাইব।''

গার্লফ্রেন্ড কে কইলাম এ্যাপয়েন্টমেন্ট করছি ৩ দিন পরে টাইম দিছে। আর এই ফাকে ৩ দিন টেষ্ট গুলা শেষ করলাম।

৩ দিন পরে টেষ্ট এর রিপোর্ট গুলা নিয়া এ্যপলোতে ডাক্তার দেখানুর জন্য বইস্যা আছি তখন আমারে ফুন দিল, কইল "আজ তো তোমার ডাক্তারের কাছে যাবার কথা তুমি কি রেডি?" আমি কইলাম সকালে আব্বা আমাকে এ্যপলোতে নামাইয়া দিয়া গেছে এখন ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করতাছি।
আমার কথা শুইন্যা একটা চিক্কুর পাইরা কইল "হয়্যাট!!! আমাকে না নিয়া তুমি কোন সাহসে ডাক্তারের কাছে গেছ? সত্যি করে বল তুমি কি এখন ডাক্তরের কাছে কি না? " আমি কইলাম সত্যি আমি এখন এ্যপলোতে।

কইল "তাহলে তুমি থাক আমি এখনই আসতেছি।" সাথে সাথে ফুনের লাইন টা কাইট্যা দিল, আমি ফুন দিলাম দেখি ধরে না.... আমার তো ভয়ে কইলজা কাপতাছে.... ওয়েটিং রুমে বইস্যা দেয়া ইউনুস পরতাছি....'লাইলাহা ইল্লা আন্তা সোবাহানা..."

২০/২৫ মিনিট পরে দেখি আমারে ফুন দিছে কইল "আমি এখন এ্যাপলোতে তুমি এখন কোন ওয়েটিং রুমে, আজ মিথ্যা কথা বাহির করব....<img src=(" style="border:0;" />?
কইলাম ঢুকে র্ফর্মেসির পাশে ডানের ওয়েটিং রুমে বসে আছি।

একটু পরে দেখি ওয়েটিং রুমে ঢুকে আমাকে খুজতাছে... আমি হাত তুলে হাই কইলাম... আইস্যা আমার পাশে বসল ... কইল আমারে নিয়া আসলা না ক্যান?

আমি উত্তর দেওয়ার আগেই আমার হাতের রিপোর্টের খাম গুলা চোখে পড়ল... সাথে সাথে গম্ভীর হইয়া কইল তোমার হাতে কিসের রিপোট ? কইলাম গত কাল এই গুলা করছিলাম তোমাকে বলা হয় নাই শুনলে তুমিও আমার সাথে আসবা.... তোমাকে কষ্ট দিতে চাই নাই।
চুপ কইরা রইল... খালি কইল হুম.... বুঝলাম আইজ একটা কাল বৈশাখী হইব.... <img src=" style="border:0;" />

তারপর ডাক্তারের কাছে যাওনের ডাক পড়ল... একটা সুন্দর মাইয়া আইস্যা কইল আমার সাথে আসেন..... আমি মাইয়ার সাথে যাওনের আগে কইলাম তুমি বস আমি ডাক্তার দেখিয়ে আসছি।
লগে লগে কইল “না আমিও তোমার সাথে যাব.... “
হাসপাতালের এ্যটেন্ডেস মাইয়া টা কইল "পেশেন্ট তো উনি, ডাক্তার তো উনাকেই দেখবেন”

মাইয়াটারে কইল “আমি ওর সাথে গেলে আপনার সমস্যা কি?... উনি আমার কি হয় আপনি জানেন? আমার যাবার দরকার আছে....” যে ভাবে শক্ত কইরা কইল তাতে মাইয়াটাই আর কিছু কওনের সাহস পাইল না...

হাসপাতালের মাইয়া টা মূলত ডাক্তারের এ্যসিষ্টেন হিসাবে কাজ করে.... আর পাশাপাশি রোগীর অনুবাদের কাজ কইরা দেয় (ইন্ডয়ান ডাক্তারের কছ হিন্দি কইরা দেয়) .......যথারীতি ডাক্তার সব টেষ্টের রিপোট দেখল, আবার বিস্তারিত শুনল... কইল আরো কিছু টেষ্ট করতে হবে...

আমি ডরে ডরে আস্তে আস্তে ডাক্তারকে জিগাইলাম “ডাক্তার আমার কি ক্যান্সার ধলা পরছে?”

ডাক্তার কইল ... its not clear.... need more test...

ডাক্তারের কথা শুইন্যা আমার গালৃফ্রেন্ড একটা চিল্লান দিয়া কইল “ডাক্তার ওর কি ক্যান্সার হইছে?????? ... আমার দিকে তাকাইয়া কইল “তুমি একটা চোর, শয়তান ভন্ড... আমার কাছে এইটা কেন লুকাইছ? ....” এই কথা কইয়া চোখের পানি ছাইড়া দিল.... হায় হায় এইটা কি হইল...


ডাক্তার আর হাসপাতালের মাইয়াটা অবাক হইয়া ওর চিল্লনি শুনতাছে.... লজ্জায় আমি মাথা নিচু কইরা বইসা আছি.....

চিল্লানি শুইন্য ডাক্তার ওরে শান্ত হইতে কইল... তার পর ডাক্তার ওরে অনেক কিছু বুজাইল... কইল “টেনশন কইরেন না.. তেমন মেজর কিছু ধরা পরে নাই..... আরো টেষ্ট করতে হবে তারপর শিওর হওয়া যাবে রোগ টা কি.....”

ডাক্তার আরো কিছু টেষ্ট ও দুইটা ঔষধ দিয়া বিদায় করল.... ডাক্তারের রুম থেকে বাহির হইয়া ওয়েটিং রুমে আইস্যা বসার পর দেখি ওর চোখের পানি বন্ধ হ্য় নাই..... ২/৩ মিনিট আমর পাশে বইস্যা কানতে থাকল... আশে-পাশের মানুষ দেখি সব তাকাইয়া আছে.....

হটাৎ কান্দন আরো বাইরা গেল....আওয়াজ কইরা কানতাছে... আমি শান্তনা দিতে থাকলাম... আরে তেমন কিছু হয় নাই.... দেখবা এই ঔষধ গুলা খাইলেই ভাল হইয়া যামু.....

আমার কথা শুইনা একটা চিক্কুর দিয়া উঠল..... কইল.. “তুমার কি.... তুমি তো একটা শয়তান...ভন্ড" এর পর হাউ মাউ কইরা কানতে থাকল.....

কান্দন শুইনা ওয়েটিয় রুমের সব পাবলিক আমদের দিকে তাকাইয়া রইল.... আমি কইলাম আস্তে লোকজন দেখতেছে.... লগে লগে .... আরো জোরে হাউ মাউ কইরা কাইন্দা উঠল... একটা চিক্কর মাইরা কইল, "আমার কাছে লুকাইছ ক্যান.....?"

কইয়া দুই হাতে আমর মাথার চুল ধইরা মাথাই টাইন্যা মাথা ঝাকাইতে থাকল.... চুল মনে হয় সব গুলা ছিইড়া যাইতাছে...আমি কইলাম আরে কি কর, কি কর....
তারপর আরো কি যে কইল সব কথা মনে নাই.... এর পর ঘটল সবচে দূভাগ্য জনক ঘটনা টা....

হটাৎ ওর হাতে থাকা সব রিপোর্ট ছুইড়া মাটিতে ফালাইয়া দিল... তারপর ঠাশ কইরা একটা চর মারল আমার গালে ... চিক্কার দিয়া কানতে কানতে আমারে কইল ... "তুমি আমার কাছে এই গুল লুকাইছ ক্যান......?????? এই কথা কইয়া আরো ২/৩ টা চড় মারল..... চড় খাইয়া আমর আর কুনু কিছু মনে নাই... দেখি মাথা ঘুরতাছে..... <img src=" style="border:0;" />
<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
হাউ মাউ কান্দন আর আমরে চড় মারা দেইখ্যা সব লোকজন জড় হইয়া গেল..... আমি তো হত ভম্ব হইয়া গেছি... কি করুম কিছুই বুঝতাছি না..... লজ্জায় মনে লইতাছিল মাটি যদি দুই ভাগ হইয়া যাইত আর আমি ভিতরে ডুইক্যা যাইতে পারতাম... হায় আল্লাহ মান সম্মান বুঝি আর রইল... না... আমার আর কোন কথা বলার শক্তি নাই..... আমর মনে হইতে ছিল আমি কেন মইরা যাই নাই..... <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

সেই দিন যারা এ্যাপলোতে ছিলেন... অনেকই সেই ঘটনার স্বাক্ষী......

আমি আর কুনু কথা কইতে পরলাম না.... কিছু লোক জনকে কইতে শুনলাম ঘটনা কি?.... পরে হাসপাতালের এ্যটেন্ডেস মাইয়াটা আইস্যা আমারে ধইরা পাশের একটা রুমে নিয়া গেল..... সেখানে বসাইয়া রাখল... আমরে জিগাইল উনি আপনার কি হয়?.... আমি কুনু কথাই কইতে পারলাম না..... মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম ওর সাথে আর কুনু এ্যফেয়ার না.... আজ সব সম্পর্ক কবর দিয়া শেষ কইরা বাসায় যামু......

একটু পরে দেখি কানতে কানতে হাতে টেষ্টের রিপোর্ট গুলা নিয়া রুমে ঢুকল... রুমে তখনো হাসপাতালের মাইয়াটা... দাড়াইয়া আছে.....

রুমে ডুইক্যাই দৌড় দিয়া আমার দিকে আসতে লাগল... মাইয়াটা কইল আপনি ওই দিকে যাবেন না.... কে শুনে কার কথা...

দৌড় দিয়া আইস্যা আমার জড়াইয়া ধইরা কানতে থাকল..... কইতে থাকল... “তুমি কি আমাকে আপন কিছু ভাবতে পার না....? আমি কি তোমার কেউ না?...... আমার কাছে এত কিছু কেন লুকালা..... তুমি না থাকলে আমি কি নিয়ে বাচব???? তুমি ছাড়া আমর জীবনে আর কি আছে.....”

এই সব হাবি জাবি কইয়া ছুটু পুলাপাইনের মত কানতে থাকল......

আমি চুপ মাইরা আছি.... দেখি আরো দুইটা নার্স আইস্যা দড়জায় দাড়াইয়া এই ঘটনা দেখতাছে......

মিনিমাম আরে আধা ঘন্টা আমারে জড়াইরা কাণতে থাকল......

হাসপাতালের মাইয়াটা আমাদের শান্তনা দিতে থাকল..... কইল.. উনার তো রোগ এখনো ধরা পরে নাই..... সো এত টেনশন করার কোন কারন নাই... প্লিজ আপনারা এখন বাসায় যান......

কিছুক্ষন বইস্যা থাকার পর আমরে কইল... চল.. তুমাকে আজ আমি বাসায় দিয়া আসব....

তার পর আমারে ধইরা রুম থেইক্যা বাহির হইল....

বাহিরে আইস্যা দেখি ওয়েটিং রুমের সব পাবলিক আমর দিকে তাকাইয়া আছে..... লজ্জায় আর আমি মাথা তুলতে পরছিলাম না.....

হাসপাতাল থেকে বাহির হইয়া আমারে নিয়া হাসপাতালের সামনে (বসুন্ধরা বাজার নামে ) কাছের একটা ফাষ্টফুডের দোকানে বসাইল... কইল কি খাইবা.... আমি আর কুনু কথা কই না.. চুপ মাইরা আছি........

অনেক্ষন চুপ মাইরা পইরা রইলাম.... চুপ মারা দেইখ্যা আমারে অনেক কিছু বুঝাইল..... যার মর্ম অর্থ হইল.. তুমি ছাড়া আমার জীবনে আর কি আছে.... তোমার ভাল মন্দ সবই আমর ভাল মন্দ..... এখন থেকে যাই কিছু হোক আমরা সবই শেয়ার করব..... “আমার মাথা ছুয়ে বল এখন থেকে কোন কিছু লাকাবা না.....”

তার পর সেকি আদর .... আমি কি খামু কি খাইতে মন চায় .... ইত্যদি জিগাইতে লাগল... আমার মাথায় গায়ে হাত বুলইয়া দিতে থাকল.... লক্ষী সোনা মানিক ইত্যদি কইতে থাকল...

আমি শুধু কইলাম... আমার গালের (চড়ের ) লাল দাগ গুলা কি মুছে গেছে.....? লগে লগে একটা টিশ্যু ভিজাইয়া আইন্যা আমার গালে মালিশ করতে লাগল.... (হায়রে নারী জাতি.... <img src=" style="border:0;" /> )

আমি শুধু কইলাম ...... দাগ না মোছা পযর্ন্ত বাসায় যাওয়া যাবে না....

এর পর আর কি হইব ... আনেক আদর কইরা খাওয়াইল....
অনেক্ষন বইস্যা থাকলাম....
তারপর আমারে নিয়া বাসার দিকে রউনা হইল....রাস্তায় আসার সময় গাড়িতে বইস্যা আমার শরীরের কি ভাবে যত্ন নিতে হইব তার উপর ১০০টা উপদেশ দিল....টাইম মত যেন খাওয়া দাওয়া করি... দুপুরে গোসল কইরা খাওনের পরে যেন একটু ঘুমাই... রাতে তারাতারি যেন শুইয়া পরি...ইত্যদি হাবিজাবি......
তার পর বাসার নিচে নামাইয়া দিয়া বাসায় গেল গা.....

ওই বাসায় যাইতে যাইতে একটু পরে পরে রাস্তায় গাড়িতে বইস্যা ফুন দেয় আর কান্দে.....
আমি মনে মনে কইলাম.... চড় তো আমি খাইছি... কান্দন তো আমর কথা, তুমি কান্দ ক্যান?... চড় মাইরা যে মানুষ নিজেই কান্দে, এইডা আগে জানতাম না.....



----------------------------------------------
পর্ব-১
পর্ব-২
Click This Link
পর্ব-৩
Click This Link
পর্ব-৪

(মনের কিছু দুক্ষের কথা কইতাছি.... কেউ কোন বাজে মন্তব্য করবেন না...যন্ত্রনা কিভাবে শুরু হইছে আইজ তার বয়ান দিমু....)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28800884 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28800884 2008-05-21 14:31:44
কোপা সামছু IS BACK...... <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" /> একটি বিশেষ ঘোষনাঃ

কোপা সামছু জেল থেকে মুক্তি পাইয়াছে। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />



প্রশ্নঃ কোন জেল থেকে মুক্তি পাইয়াছে? কেন জেলে গেছিল?

উঃ গার্লফ্রেন্ড এর শর্ত নামক জেল থেকে মুক্তি। যে শর্তের জন্য এতদিন কোপা সামছু নেটে আসতে পারে নাই। কোপা সামছু অসুন্থ থাকায় তাকে নেটে আসা ১০০% নিষিদ্ধ করা হইছিল এবং বাসার সকল নেট কানেকশন বিচ্ছিন্ন করা হইয়া ছিল।। তাহার আইডি পাসওয়ার্ড বাজেয়াপ্ত করা হইছিল।


প্রশ্নঃ কবে জেল থেকে মুক্তি পাইছে? জেলের সাজা কি শেষ হইয়াছে?

উঃ মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ তারিখে কোপা সামছু কে মুক্তি দেওয়া হইয়াছে। বর্তমানে ডাক্তার তাকে সুস্থ বলিয়া ঘোষনা করায় তাকে নেটে ডুকার অনুমতি দিয়া মুক্ত করা হইয়াছে। আইডি পাসওয়ার্ড ফেরত দেওয়া হইয়াছে।


প্রশ্নঃ ঘটনা না পেচাইয়া বিস্তারিত বলেন।

উঃ কোপা সামছু অসুস্থ থাকায় তাকে ডাক্তারী চিকিৎসা করতে ঢাকা ও কলকাতা দৌড়াদৌড়ি করতে হইছিল। দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ।

চিকিৎসার শুরু থেকে ডাক্তার তাকে সম্র্পূর্ন বিশ্রামে থাকতে বলছিল। সেই কারনে তার গার্লফ্রেন্ড তাকে প্রমিজ করে, সতর্ক করে বলে দিয়েছিল যদি তাকে কখনো নেটে দেখা যায় (কোপার নেট আসক্তি ছিল) তাইলে তার সাথে এতদিনের সম্পর্ক চিচিং ফাক। রাস্তা মাপাইয়া বাড়ি পাঠাইয়া দিবে।
কোপা সামছুর বুকের পাটা এত বড় হয় নাই যে গার্লফ্রেন্ড এর কথা অমান্য করে।


প্রশ্নঃ মহান মে দিবসে মুক্তি পাইলে নেটে আসতে এত দেরি হইল ক্যন?

উঃ বাসায় নতুন কইরা নেট কানেকশন নিতে এই কয়দিন দেরি হইছে। তবে কোপা সামছু গত ৫ মে থেকে নিয়মিত নেটে আসিতেছেন।


প্রশ্নঃ কোপার লেখাপড়ার খবর কি?

উঃ অসুস্থ থাকায় ২ সেমিস্টার কম প্রোমশন পাইয়াছেন। তাই উনার লেখাপড়া আর আগায় নাই। আবার নতুন উদাদমে লেখাপড়া শুরু করিবেন, তাই দেশ বাসীর কাছে দোয়া চাইতেছেন


প্রশ্নঃ কোপা সামছুর "জীবনের কিছু আজাব নামা"র খবর কি?

উঃ জীবন যেহেতু চলিতেছে এবং উক্ত গার্লফ্রেন্ড যেহেতু সাথে আছে, তাই "জীবনের কিছু আজাব নামা" থামিয়া থাকে নাই। "জীবনের কিছু আজাব নামা" শ্রীঘ্রই শুরু হইবে। বর্তমান এপিসোড গুলাতে থাকিবে কোপা সামছু অসুস্থ থাকা কালীন তার জীবনের আজাব কি কি রুপ ধারন করিয়াছিল। ভালবাসার চাপে কি করিয়া মানুষ মারা যয়।

প্রশ্নঃ মুক্তি পাওয়ার পর কোপা সামছুর ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
উঃ ব্লগে আসিয়া নতুন করিয়া কোপাকোপি শুরু করা।


প্রশ্নঃ ছবিটা কিসের?

উঃ জীবন জীবিকার তাগিদে মহান মে দিবসে কোপা মহান পেশায় নিয়জিত থাকার ছবি। কোপা সামছু কাজ কে কখনো ছোট মনে করে না।


প্রশ্নঃ ব্লগারদের প্রতি কোপার অনূভূতি কি?

উঃ আপনাদের ভালবাসায় আমি অবিভূত।
ধন্য হয়েছি অগো আমি ধন্য, তোমাদের ভালবাসায় আমি ধন্য।
যারা বিভিন্ন সময় আমার খোজ নেয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতঙ্গ।

...........................................................
দিস ইজ দ্যা ষ্টোরি এবাউট সামছু..
হি ই নট ইন নরমাল ওয়ার..
হি ইজ ইন ইউর মাইন
এন মাই মাইন টু..
সো কোপাআআআআআ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28795448 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28795448 2008-05-08 13:08:53
ঢাকায় আসছি, আগামীকাল

এখানে আর ভাল লাগে না...
কলকাতা শহর টা একদম পচা....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28736730 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28736730 2007-10-10 21:04:12
জীবনের কিছু আজাব নামা

আমার ইচ্ছা ছিল প্রতিদিন একটা পর্ব প্রকাশ করব। কিন্তু অত্যন্ত দুক্ষের সাথে জানাতে হচ্ছে যে, আমি গত কিছু দিন ধরে খুবই অসুন্থ। এ্যপলো হাসপাতালে চিকিৎসা করছি। প্রতিদিন ই বিভিন্ন ধরনের টেষ্ট করার জন্য যেতে হচ্ছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যস্ততার জন্য "জীবনের কিছু আজাব নামা" পর্ব প্রকাশ করতে পারছি না।
আশা করি চিকিৎসা করে সুস্থ হবার পর আবার শুরু করতে পারব।


আমার জন্য দোয়া করবেন। অনেক গুলো টেষ্ট এর মধ্য 'বায়োপসি' করাতে হচ্ছে যার মানে হল ডাক্তার স্টমাক ক্যন্সারের সন্দেহ করছেন। আগামীকাল সকল টেষ্ট এর রেজাল্ট পাওয়া যাবে। তখন বুঝা যাবে আমার মূল সমস্যা কোথায়। তারপর চিকিৎসা শুরু হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28723755 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28723755 2007-08-01 20:38:00
জীবনের কিছু আজাব নামা...পর্ব-৩ গতপর্ব-২ঃ

গত পর্বের পরঃ
-------------
সারা দিন ঝিম মাইরা পইরা রইলাম। দোস্তোদের মাঝে যারা ব্যাপারটা জানত তার মাঝে মাঝে মুখ ঢাইক্যা চামে চামে হাসে। সাদিয়া জিগাইল কি হইসে? বন্ধুরা কইল, ওর খাচায় পাখি ধরা দিতাছে না। এই ধরনের গা জ্বালা করা কথা শুনতে শুনতে মেঝাজ তিরিক্ষি হয়ে রইল।

সন্ধ্যা বেলা নেটের সামনে বসে রইলাম... মাগার দেখা নাই... রাগের চোটে ফোন ও দেই না.... কি আর করা টিভি দেখে সন্ধাটা কাটিয়ে দিলাম।....

দোস্তো গুরু 'রবিনের' সাথে আলাপ করলাম.... সব শুইন্যা কইল... তোর এস,এমএস কি পৌছাইছে? কইলাম... হ ডেলিভারি রিপোর্ট তো পাইছি? কইল তখন ফুন করছিলি?
সকাল সাড়ে ৭টায় ডেলিভারি হইছে... কিন্তু তখন তো ঘুমাইয়া ছিলাম.... রবিন রাইগ্যা কইলো.. তাইলে অহন ও ঘুমাইয়া থাক... যার ল্যাইগ্যা সারাদিন কান্দোছ আর কখন ফুন খোলা থাকে, তখন দেইখ্যা ফোন ধরতে পারস না... দূরে গিয়া মর... আমি কইলাম.দোস্তো যা হইবার হইছে এখন একটা উপায় বাইর কর... রবিন কইল চিন্তা করতে হইব.. পরে জানাইতেছি... তবে তুই আর ফোন করবি না.. ওয়েট কর...

ওয়েট করতে করতে... রাত যায়.... রাত ১টা বাজে... বিছানায় গড়াগড়ি দিতে দিতে শেষ.. ঘুম তো আর আসে না...
আইজ কারে ফোন দিমু... না থাক গতকাল সাদিয়ার কাছে যেমন একটা ঝাড়ি খাইছি এর পর আর কাউকে ফোন দেয়া ঠিক হবে না... হটাত দেখি ১.৩০ এ ফোন দিছে... আহ... কি শান্তি এতক্ষনে আমার কথা মনে পড়ছে... তারাহুড়া করে ধরতে গিয়া ভূলে নো বাটনে টিপ মারছি... লাইন গেল কাইট্যা... লগে লগে কল করলাম..... আমরে কয় লাইন কাটলা ক্যান? আমার ফোন ধরতে সমস্যা?.. আমর সাথে আর কোন দিন কথা বলবা না...
আমি কইলাম... ভূলে কাইটা দিসিলাম... তাইতো কল বেক করছি...
কইল হুম...
এরপর কয় সারাদিন কল কর নাই ক্যান?... আমি কইলাম.. রাতে তো তোমার মোবাইল বন্ধ ছিল ... কল করে পাই নাই...

রাতে বন্ধ ছিল.. তাতে কি? দিনে তো বন্ধ ছিল না, নাকি দিনের বেলা আমার কথা মনে পড়ে না? সে কি ঝাড়ি.... মনে হইল যেন সব দোষ আমার....

আমি কইলাম.. ওই সব বাদ দেও.. আস গল্প করি... ঝাড়ি দিয়া কয়...গল্প করি মানে ? তোমার মত একটা জুনিয়ার ছেলের সাথে গল্প করার কি আছে? তুমি কি বুঝতে পার তোমার মত জুনিয়র ছেলের সাথে গল্প করলে... আমার প্রেষ্টিজ কোথায় যাবে? কথা শুইন্যা আমি তো থ মাইরা গেছি...

কইলাম...তোমের সাথে আমার পরিচয় আজ আনেক দিন হইছে... এবং তুমি ভাল করেই জান আমি তোমার জুনিয়র... এতদিন কথা বলতে তোমার সমস্যা হয় নাই.. আজ হটাৎ সমস্যা হইতেছে ঘটনা কি? সত্যি কইরা বল....

তখন দাত বাহির কইরা কয়... "হি হি হি... তোমাকে একটু পরিক্ষা করলাম, দেখলাম আমার প্রতি তোমার আগ্রহ কেমন..." মনে মনে কইলাম.. তোরে যেদিন খামু সেইদিন বুঝবি আমার আগ্রহ কেমন...
বললম, তা ম্যাডাম আগ্রহ কেমন বুঝলেন? বিজ্ঞ মানুষের মত কইল... হুম...


কিছুক্ষন কথা হবার পড়ে জিগাইলাম... আমারে আর কত পরিক্ষা করবা...
কিছু কয় না.. কিছুক্ষন চুপ কইরা থাইক্যা কয়, আগামীকাল তোমার কি কোন কাজ আছে?
আমি বললাম.. কাজ থাকলেও তোমার জন্য ফ্রি আছি...
উৎতর শুনে বলে.. গুঢ, এই রকম ডেডিকেশনই চাই.. মনে হইল যেন আমার হেড মাস্টার.... আমারে উপদেশ দিতাছে...

কইল.. এক কাজ কর.. আগামী কাল... সকাল...সাড়ে ১০টায় আমার ডিপার্টমেন্টএর সামনে চলে আসবা...
আমি মনে মনে কই.. আজ মাথা ঠিক আছে তো...ডিপার্টমেন্ট এর সামনে গেলে.. দেখা যাবে আমাকে চিনেই না...

বললাম আমি তো তোমার জুনিয়র, আমি গেলে ভাল দেখাবে না... গতকাল তো তাই বলছ... হটাৎ কেন যেতে বললা?

কিছুক্ষন চুপ করে বল... তুমি আসবা.. কিন্তু কথা হল কারো সাথে পরিচয় করে দেওয়ার সময়... তোমাকে আমার সমবয়সী বলে পরিচয় করে দিব.. আর কোন ক্লাসে পড় কেউ জিজ্ঞাস করলে বলবা, অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি...

মনে মনে কইলাম.... নারি জাতি ও চায় পুরুষ তাদের থেকে উপরে থাকুক..

এর পর শুরু হইল কি ড্রেস পরে যাব...সেটার উপর বয়ান... আমরা কি কোন ফতুয়া আছে কি না? আমি বললাম ফতুয়া তো ৫/৬টা আছে... কোন কালারের পড়ব?

বলে সবগুলার বর্ননা দাও... কইলাম.. আমি "রং" এর দোকানের ফতুয়া সবচে বেশী পছন্দ করি.. বলতে গেলে.. সবগুলোই রং এর... কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে... রং এর বাদে অন্য কোন একটা সুন্দর দেখে ফতুয়া পড়বা.. সাথে জিন্স... সাথে সানগ্লাস থাকবে... আমি বললাম তুমি যে ভাবে বলবা সেই ভাবেই হবে...

যাই হোক ফোনটা রেখে দেয়ার আগে বলল.. "ওহ.. ভাল কথা ভুলেই গিয়েছিলাম... তুমি যে ভাবে মাথা আচড়াও..ওটা একটা খ্যাত স্টাইল.... আগামী কাল.. মাথা আচড়াবা না....চুল এলেমেলো হয়ে থাকবে..."

আমি বললাম.. তাহলে আমার মাথা কি গু-বাবা না জটয়ু বাবা হবে?

বলে মানে?!

আমি বললাম.. না চুল উসকু-খুসকু তো রাস্তার গু-বাবা কিংবা জটায়ু বাবাদের মাথায় থাকে...আমাকে সেই রকম কিছু একটা সাজতে হবে?...

আমার এই কথা শুইন্রা 'কি?" বইল্যা একটা চিক্কুর মারল... কয়.. ''আমার থেকে বেশি বুঝ?...বয়স কত হইছে...? আমার থেকে বেশি বুঝবা না...ফ্যাশনের জানটা কি? যা বলছি তাই করবা"

আমি কইলাম.. অবশ্যই তাই করব....
তারপর কয়.. 'এখন তারাতারি ঘুমাইয়া পড়.. না হলে সকালে.. চোখ লাল হয়ে থাকেব... মানুষ দেখলে মনে করবে নেশাটেসা কর...আমার প্রেষ্টিজ যাবে.."

তারপর বাই বলে রেখে দিলাম...আজ আবার কি যেন হল.. সত্যিই তারাতারি ঘুম চলে আসল...

সকালে... ঘুম থেকে উঠে.... তারাতারি গোসল কারে রেডি হয়ে মাথা আচড়াবার সময় মনে হল... আজ তো আমাকে জটায়ু বাবা হতে হবে.. হটাৎ মনে হল.. এক কাজ করি... এখন মাথা আচড়িয়ে যাই ভার্সিটি ডুকে মাথা এলোমেলো করে নিব...

ভার্সিটি দৌর দিলাম....সোয়া ১০টায় ফোন দিলাম.. ফিস ফিস করে বলল.. অপেক্ষা কর ক্লাস শেষ হলে আসছি..

ক্লাস শেষে বের হয়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলল.. কলাভবনএর পেছনে এল,টি ভবনের নিচ আসতে...

৫মিনিটের মধ্যই হাজির.. আমাকে দেখে বলল..ওয়াও.. আজ তোমাকে জোস লাগছে... ফতুয়াটা খুবই সুন্দর হয়েছে...আমি বললাম ফতুয়াটা কিন্তু রং এর..একটু হেসে বলল.. আরে আমি কি জানি..রং এ যে এত সুন্দর সুন্দর ফতুয়া পাওয়া যায়...তার পর ফতুয়া টা টেনে টেনে ঠিক করে দিতে লাগল.. আর দেখতে লাগল...হটাৎ গম্ভীর হয়ে চিৎকার করে বলে উঠল..হ্য়াট! তোমর মাথা আচড়ানো কেন?... চুল না এলেমেলো করে আসতে বলেছিলাম..? এ কথা বলেই... ওর হাত দিয়ে আমার মাথার চুল গুলোকে এলেমেলো করে দিতে লাগল... তারপর আবার একটু সাইজ করে চুল গুলো বাকিয়ে দিতে লাগল.....
আমার কাছে কেমন যেন লজ্বা লজ্বা লাগতে লাগল... পরিচিত কেউ যদি দেখে ফেলে.. নির্ঘাত বলবে.. 'কিরে চুল আচরানিওয়ালী কই পাইল্য?'

আমি বললাম হয়েছে, আর লাগবে না... আমাকে একটা ধমক দিয়ে বল.. 'হয়েছে কি হয় নাই.. আমি কি বুঝি না?'

তারপর আমাকে বলল " শোন আমার বান্ধবীদের সাথে পরিচয় করে দিব..."একটু গম্ভীর হয়ে কথা বলবা.. মেপে মেপে কথা বলবা..." আমি বললাম আরে ওরা কি আমার বান্ধবী যে, গল্প জুড়ে দিব?

বলে 'এত কথার দরকার নাই.. যা বলছি তাই করবা... আর ভাল কথা কারো ফোন নম্বার নিবা না...'
আমি বললাম..জোর করে দিলেও নিব না? কেউ কিছু দিলে নিতে হয়..না বলতে নাই.. এটা অভদ্রতা..
দাত কটমত করে বলে... জ্বি আপনার বাসায় গিয়ে তো নম্বর দিয়ে আসবে..তারপর বলে আর শোন লিজার দিকে একটু কম তাকাবা...
আস্তে আস্তে বলে.. শয়তান টা যে সব ড্রস পরে.. তোমার চোখ তো ওর দিকেই তাকিয়ে থাকবে..

আমি বলি ছ্বি কি যে বল... 'আমি মেয়েদের দিকে তাকাতেই পারি না..'
বলে 'ছেলেদের আমার চেনা আছে...সারাক্ষন তো থাকবা উড়নাটা কখন সরবে...'

তারপর আমাকে সাথে করে ডিপার্টমেন্ট এর সামনে নিয়ে গেল....সেখানে কিছু মেয়েদের সাথে আমাকে পরিচয় করে দিয়ে... বলল.. এ হচ্ছে আমার খুব সুন্দর একটা বন্ধু... ওর নাম "সামস্ " মনে মনে ভাবি সামছু হইল "সামস্"
ও অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে...ইত্যাদি ইত্যাদি ..

১৫/২০মিনিট গল্প করতে করতে দেখি একটা হেভি সেক্সি মেয়ে টাইট একট্ জামা পড়া আসতেছে..আহ যা লাগতাছে... জোস একটা মাল...মাশাল্লাহ আল্লাহ দিসে দুইটা জিনিস..বড় বড়...
কাছে আসার পর পরিচয় করে দিল..এ হচ্ছে লিজা... তার পরই ব্যস্ত হয়ে পড়ল... আমাকে বলে.. আমাদের না আর এক জায়গায় যাওয়ার কথা... চল যাই, দেরী হয়ে যাচ্ছে...
আমি মনে মনে কইলাম.. আমার আর কোথাও কি যাওয়ার কথা ছিল...মনে তো পরে না..

তারপর আমাকে নিয়া গেল.. সরমা হাউজে..। সেখানে বসে বসে সরমা খেতে খেতে বলে আচ্ছা তুমি লিজার দিকে এ ভাবে তাকিয়ে ছিলা কেন? বড় বড় দেখলে চোখ ফেরাতে ইচ্চা করে না? আমি বললাম কি যে বল.. তুমি ও তো কম বড় না...(ক্লোজআপহাসি) রেগে বলে মানে.. আমি বললাম.. না তুমি কি আমার সিনিয়র না? হেসে বল.. শয়তান...
আবার আস্তে আস্তে বলে.. 'আমার টা এত বড় না হল কি হবে আমার টা অনেক সুন্দর...'
মনে মনে কইলাম... না দেখাইল কমু কেমনে কারটা বেশী সুন্দর...

খাওয়া শেষে আমাকে নিয়ে বের হয়ে বলে..ঠিক আছে আজ বাসায় চলে যাই... কাল আবার ইন কোর্স পরিক্ষা আছে.. তাকে একটা সি,এনজি তে তুলে দিয়ে বাসায় আসতে আসতে হিসাব করলাম... আজ সরমার বিল কত দিয়ে হয়েছে...


-------------------------------------

পর্ব-১

---------------------------------------
(মনের কিছু দুক্ষের কথা কইতাছি.... কেউ কোন বাজে মন্তব্য করবেন না...যন্তরনা কিভাবে শুরু হইছে আইজ তার বয়ান দিমু....গত রাতে কয় আমি নাকি কোন মাইয়ার সাথে কথা কই.. তারে আর ভাল লাগে না..গত ১ সাপ্তাহ ধরে একই প‌্যাচাল)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28723233 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28723233 2007-07-29 14:09:18
জীবনের কিছু আজাব নামা...পর্ব-২ গত পর্ব-১ ঃ

গত পর্বের পরঃ
-------------

খাওয়া শেষে বিলটা সে নিজেই দিয়ে দিল... আমাকে দিতে দেয় নাই। মেয়ে মানুষরা সাধারনত এই জিনিসটা করে না। মেয়ে মানুষ "ত্যেগেই সুখ" এই টাতে বিশ্বাসী হয় না।

বিল দেয়া শেষে বললাম এখন কোথায় যাবা? বলে তোমার বাসায় যাব.... আমি তো অবাক! কয় কি?
আমার বাসায় কেন?
বাহ... তোমার বাসার সবার সাথে পরিচিত হব...
আরে এ তো দেখি আজিব পাবলিক... হুট করে কারে বাসায় নিয়া যামু?... আবার আমার থেকে সিনিয়র.... কি কইয়া পরিচয় দিমু.... আমার বাসায় আবার হুট হাট কাওরে নিয়া গেলে সন্দেহ করে...

বললাম.. তোমাকে তো আমার বাসায় কেউ চেনে না... হটাৎ নিয়ে গেলে সন্দেহ করবে... মনে করবে ভাগাইয়া নিয়া আইছি.... শুনে খুবই মজ্যা পাইল... কয়, তাহলে তারাতারি চল... আজ তোমার বাসায় যাবই...
এ কি জন্ত্রনা...

ভাল ভাবে বোঝানোর পরে বলে ঠিক আছে.. তাহলে চল ভার্সিটি যাই...

দুজন রওনা হলাম... ভার্সিটির দিকে... মাঝপথে সোনারগাও হোটেলের কাছে এসে বল... তুমি তো আমার জুনিয়র তোমাকে কিভাবে পরিচয় করে দিব? এক কাজ কর তুমি বাসায় চলে যাও আমি আমার বাসায় চলে যাই...

কথা শুনে আর সারা শরীর জ্বালা করতে লাগল..... নিজেকে খুবই অপমানিত বোধ হতে লাগল....

বাসায় চলে আসলাম... মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল.... কথা গুলো খুবই খোচা দিতে লাগল...

রাতে দোস্তোদের সাথে বিস্তর আলোচনা হইল... কেউ কইল মাইয়া তোরে পচন্দ করে নাই...করলে ভার্সিটি নিয়া যাইতো... কেউ কইল... পছন্দ করেছে.. কিন্তু জুনিয়র বলে... বাদ দিয়া দিছে...

সন্ধার পর থেকে নেটে আসে নাই.... অনেক অপেক্ষা করলাম... রাত ১২টা বাজার পর মোবাইলে ফোন দিলাম... ১রিং হয় ধরে না, ২রিং হয় ধরে না....৫ম বারে লাইন কেটে দিল.... আবার আধা ঘন্টা পরে করলাম... ঘচাং করে কেটে দিল... আবার করলাম.. মোবাইল বন্ধ.... রাত ২টায় করলা... এক মাইয়া ফোন ধইরা কয়."দুক্ষিতঃ এই মূহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, একটু পরে আবার ডায়াল করুন"...এই মাইয়াটা একটা বদের হাড্ডি....আনেক সময় মোবাইলে এই রকম কথা কয়..

মনের দুক্ষে কি করমু খুইজ্যা পাই না.... দোস্ত গুরু 'রবিন' কে ফোন দিলাম.. ঘটনা শুইন্যা কইল.. এক কাজ কর... একটা sms কর... মোবাইল অন করলে তুই ডেলিভারি রিপোট পাবি... তখন সাথ সাথে কল করবি।

ভাল বুদ্ধি ... sms কি লিখা যায় চিন্তা কইরা পাই না...একট লিখি আবার মুছি.... এই ভাবে ১ ঘন্টা গেল... বাল আর ভাল লাগে না... যা মনে আসে তাই লিখমু.. যা আছে কপালে... বানাইয়া চাম মাইরা পোম দিয়া লিখলাম...Ame jebone o kono din pizzahut e khai nai.. tume amake oikhane onek mojar ekta pizza khawaiso.. atto mojar pizza amar life e khai nai, tai onek onek thnx. pizza khawanur kotha jebone o vulbo na...r vulbo na je amake pizza khawaise

মনে মনে কইলাম আর যাই হোক এই ওষধে কাজ হইব... সেন্ড কইরা ঘুমাইতে গেলাম...


ঘুমাইতে গিয়া পরলাম এক যন্ত্রনায়... কিছুতেই ঘুম আসে না....রাতে ঘুম না আসলে খালি ছোট বাথরুম পায়... একটু পর পর ছোট রুমে যাই আর আসি.. আসলে আবার পানি খাইতে মন চায়...বিছানায় গড়াগড়ি দিয়া ঘুম যখন আর না আসে হটৎ মনে হইল... গতকালের মত "তুসকা সিরাপ" খাইয়া একটা ঘুম দেই...

তুসকার বোতল হাতে নিয়া দেখি বাল...বোতল খালি, নিচে ২/১ ফোটা আছে.. .. কি আর করা বোতলে পানি ভইরা ঝকাইয়া ঝুকাইয়া পানিটাই খাইয়্যা ফেললাম...

বোতল ধোয়া পানি খাইলে কি আর ঘুম আসে....

বিছানায় গরাগরি দিয়া আর ভাল লাগে না... চিন্তা করতে লাগলাম.. কারে ফোন দেয়া যায়? এক কাজ করি সাদিয়ারে ফোন দেই, ও আবার একটু গল্প বাজ..... কিন্তু ওই তো আমারে সারাক্ষন দৌড় এর উপর রাখে.... এত রাতে কথা কইবো তো...ধূর এত চিন্তা করে কি কাজ করা যায়. যাই ভাবা সেই কাজ ...

সাদিয়াকে ফোন দিলাম...১রিং শেষ.. ধরে না.. ২রিং ধরে না..৩রিং এর মাঝামাঝি... ধরল.. ঘুমের ঘোরে কি যে কইল আমিই বুঝলাম না...কি মনে কইরা কইলাম.. "আমি সামছু বলছি..." মনে হইল পরিচিত নাম শুনে একটু সজাগ হইচে... বলল 'কি ব্যাপর এত রাতে জরুরী কিচু... কোন সমস্যা?"
আমি বললাম... না এই মানে... আমতা আমতা করতে লাগলাম.. আবার বলল "কিছু সমস্যা?" মনে মনে কইলাম... সমস্যা তো কিছুই ছিল না... এখন তো দেখি বড় সমস্যার মধ্য পইরা গেলাম.... আস্ত আস্তে বললাম... 'আগামীকাল ক্লাস কখন তা জানার জন্য ফোন করছি...' সাথে সাথে মনে হইল আমার ঘরের মধ্য ঠাডা পড়ছে... একটা চিক্কুর মাইরা কইল..."হারামজাদা এত রাতে তুই ফোন করছস ক্লাস কখন জানার জন্য...ফোন তোরে ভইরা দিমু...ফোন রাখ"
ডরের চোটে ফোন রাইখ্যা দিলাম....বিছানায় গরা-গরি দিতে দিতে দেখি ফজরের আজান দেয়... একটু পরে দেখি আকাশ ফর্সা হইয় আসতাছে... যখন ঘুম ভাংল দেখি সাড়ে ১১ টা বাজে...

ঘুম থেক উঠে... গোসল করে ক্লাসে গেলাম... ক্লাসে সাদিয়া আমাকে দেখে হাইস্যা কয়... 'রাতের ঝাড়িটা কিমুন লাগল? আর একদিন এই রকম ফোন করবা আরো বেশি ডলা দিমু..."

সারাদিন ক্লাসে মটকা মাইরা পইড়া রইলাম...বন্ধুরা জিগায় কি হইছে.. আমি কই, কিচু হয় নাই তবে কিছু একটা হইব... যারা জানে তারা আর বেশি ঘাটাঘাটি করে নাই...



-------------------------------------------------
(মনের কিছু দুক্ষের কথা কইতাছি.... কেউ কোন বাজে মন্তব্য করবেন না...যন্তরনা কিভাবে শুরু হইছে আইজ তার বয়ান দিমু....গত রাতে কয় আমি নাকি কোন মাইয়ার সাথে কথা কই.. তারে আর ভাল লাগে না..গত ১ সাপ্তাহ ধরে একই প‌্যাচাল)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28722962 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28722962 2007-07-27 18:16:28
জীবনের কিছু আজাব নামা...


মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় ২০০৫ সালে মাঝামাঝি... আমি তখন কাম না থাকলেই চ্যাট করি.... একদিন একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হইল...মেয়েটা ঢাকা র্ভাসিটির কলাভবনের একটা ডির্পার্টমেন্ট এ অনার্স এ পড়ে....(নাম বলা যাবে না)


লাষ্টে দেখি ওই আমার থেকে ২ বছরের সিনিয়র, মনটাই খারাপ হইয়া গেল.... যা একটা পাইলাম আবার বয়সে বড়... আমি আবার কথা কই সর্টকার্ট। কইলাম "আপনি" কইতে পারুম না.. "তুমি" বলব.. দেখ পছন্দ হইল হইল... না হইলে নাই....


কয়দিন এইটা নিয়া হেভি প‌্যাচাল ক্যাচাল হইল... লাষ্টে না পাইরা কইলাম তুমার সাথে জীবনেও দেখা করব না. সুতরাং তুমি না আপনি এইটা বড় কথা না...রাজি হইল "তুমি" কওয়া মাইনা নিল..


কয়দিন পরে মোবাইল নং চইলাম... আমারে কয় থাপ্পর দিয়া দাত ফালাইয়া দিব.... আমি কইলাম... মোবাইল নম্বর চাইলে দাত ফালাইয়া দিবা, তাইলে এক কাজ কর আগামী কাল তুমার ডিপার্টমেন্টএর সামনে আমি আসব আমারে থাপ্পর দেউ...পাবলিক এইটা দেইখ্যা শিখুক 'নাম্বার চাইলে থাপ্পর খাইতে হয়" জমানা পাল্টাইছে...


আল্লার মাল আল্লাই দেখে.... এক রাতে হইল কি তার মোবাইল কার্ডের দরকার... আমারে কইল... দোকান থ্যেক্যা যেন একটা ৫০টকার কার্ড কিন্যা দেই...তখন বাজে রাত ৯টা। দিনে বেলায় আমারে ১০০টাকার কার্ড পাঠাইয়া দিব, আমার নম্বারে... মনে মনে কইলাম... আমার নম্বর ঠিকই নিছ, আর তুমার টা দেও না... আইজ সামছু তুমারে পাইছে.... আইজ কুপাতি হবে...


জিগাইলাম.. কার্ড কখন দরকার? কার্ড পাঠামু ক্যামনে... তুমার নম্বর তো জানি না..
এখনই দরকার নাই...কয় রাতে নেটে দেখা হইলে কার্ড নাম্বার নিয়া নিব... শালা কত্ত বড় হারামি...


মনে মনে প্লান ঠিক করলাম.... আইজ কুপানু মিস করা যাইব না...


রাত ১২টায় নেট এ আসলাম... দেখা হওয়ার সাথে সাথে ই কার্ড নাম্বার চাইল.... আমি কইলাম.. হায় হায় সর্বনাশ.... আমি তো ভূল্যা গেছি.... আহন কি হইব... আমরে কইল...৫০টাকা নিয়া বিশ্বাস করতে পারলাম না...যে টাকাটা ফেরৎ দিয়া দিব, তাই ইচ্ছা কইরা কার্ড কিনি নাই... আমি নাকি ফকিন্নির বাচ্চা....এ কথা কইয়া নেট থ্যক্যা চইল্যা গেল....
একটু পরে দেখি আবার আইছে... কয় খুব জরুরী দরকার কারো কাছ থেকে ম্যানেজ করা যায় কি না...মনে মনে কইলাম আলহামদুলিল্লাহ... আইজ তুমি জালে ধরা দিলা...


মোবাইল নাম্বার দিতে কইলাম..এস.এম.এস কইরা পাঠাইয়া দিমু.... কয় না, কার্ড নাম্বার নেটে দিবা..তুমারে ফুন নং দেওয়া যাইব না...রাত যতই হোক ওই নেটে অপেক্ষায় থাকব...


আমি তো মনে মনে কই... মেঘ না চাইতে বৃষ্টি... অপেক্ষা করতে কইয়া একটা মুভি দেখা শুরু করলাম... ৩০মিনিট পরে কইলা.. আমি সরি পরিচিত কারো কাছেই কার্ড পাইলাম না.... তবে একটা উপায় আচে... আমার এক মামাতো ভাই আছে ওর একটা মোবাইল ফোনের ব্যাবসা আচে...অরে কইলে ফ্লেক্সি কইরা দিতে পারব....


এখান তুমি মোবাইল নং টা দেও... ফ্লেক্সি কইরা দিতে কই....রাত যতই হোক আমার মামাতো ভাই তুমার যত টাকা লাগে ফ্লেক্সি কইরা দিব...


কি আর করা... মোবাইল নং টা দিল....আমি কইলাম... রাখে আল্লাহ মারে কে.....তুমি না কইছ...আমারে নং দিবা না...
পরে মামাতো ভাইরে ঘুম থেকে তুলে বললাম... তারাতারি ৩০০টাকা ফ্লেক্সি কর...টাকা বেশী পাঠাইলাম...বরশিতে অাধার বেশী না দিলে ধরা দিব না..


টাকা পাইয়া আমারে ফোন দিল...জীবনের পেরথম ফুন... কি যে লাগতেছিল...ওই ফ্লেক্সি করা নাম্বার থেকে ফোনটা আসল..


বলল. তুমি এতটাকা পাঠাইছ ক্যান...আমি বললাম আপনি কে বলছেন? আপনি কি সাবিনা ইয়াসমিন? বলে... ভং রাখ ... আমিই..ৌৌৌৌ.... বললাম মানুষের গলা এত সুন্দর হয় আগে জানতাম না...
সব ভূলে গেলাম.. যে তুমি বলার জন্য এত ক্যাচাল হইল... আজ ফুনে 'আপনি' বলা শুরু করলাম... বেচারী হাইস্যা কয়..."তুমি" বলা কি ভূলে গেছ? একবার তুমি একবার আপনি বলা শুরু করলাম...যাই হোক.. ৫মিনিট কথা বলে ফোন রেখে দিল...আমার যে কি হইল.. রাতে আর ঘুম আসে না...পরে বাসায় একটু তুসকা সিরাপ ছিল...ওইটা খাইয়া ঘুম দিলাম...


আর যাই কই... গলা শুনলে সবাই টাসকি খায়... ডেইলি ফুনে কথা বলি.. আর রেকর্ড কইরা দোস্তদের শুনাই... সবই স্বিকার করে গলাটা ঝাক্কস...মিউজিক এর উপর ক্লাস করে... মিউজিক ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী...


এইবার ধান্দা করলাম ছবি দেখতে হইব...
বাল কিছুতেই মেসেন্জারে ছবি দেখাই না... কয় আমি দেখতে সুন্দর না...আমারে জ্ঞান দেয়। কয়, কাল মেয়ে দের গলা সুন্দর হয়...আর সুন্দর মেয়েদের গলা ফেস ফ্যাসে হয়...আমি কাল তাই আমার গলা শুনতে সুন্দর...আমি কইলাম.."জাতের মেয়ে কালও ভাল..." ছবি দেখাও.. কাল মেয়েদের দেখতে আমার ভাল লাগে.... ওরা দেখতে হেভী সেক্সী হয়.. বিপাশারে দেখ নই... কাল হইলে কি হইব... আমারে কয় তুই একটা কুত্তা...খালি আজে বাজে কথা কস..


দোস্তোদের সাথে বিস্তর আলাপ হইল... সবাই কইল.. "আরে সুন্দর মাইয়ারা ছবি কখনো লুকাইয়া রাখে না...আর কালা মাইয়া দের গলা সুন্দর হয়...মনে মনে তাই বিশ্বাস হইল....বাল ছেমরি হইল নিশ্চই কালা.. তাই ছবি দেখায় না...


একদিন রাগের মাথায় কইলাম...তুমার মত কালা মাইয়ার লগে আর কত চ্যাট করমু...ছোট বোন থাকলে অগরে দাও...অগোর লগে চ্যাট করি...আর আর যাই হোক ওরা আমারে ছবি দেখাইবো...


মনে হইল.. ভষ্মে ঘি ঢাইলা দিলাম...আগুন ধইরা গেল...কয় "তোর মত ইতরের সাথে চ্যাট করাই ভূল... আর জীবনেও আমারে ফুন দিবা না..ছোট বোনের দিকে নজর দিছ.. "
আমি কইলাম..তোমার মাথা নষ্ট হইয়া গেছে... আজ পর্যন্ত তোমার ছবি দেখলাম না.. আর তোমার ছোট বোনের দিকে নাকি নজর দিছি...তোমাকেই তো ঠিক মত চিনি না.. তোমার বোন কে চিনমু ক্যামনে..?


ঝগড়া চলতেই থাকল..... একটা সময় কইল.. আগামীকাল আইস দেখা হইব...তবে একটা কথা আমি দেখতে সুন্দর না... সেই রকম আশা কইরা আসাটা ঠিক না.. বললাম কোথায় আসব ? উত্তর দিল হাতে টাইম নাই...নেট থেকে চলে গেল....ফুন দিলাম.. ধরে না.... দোস্তরা কইল.. তোর একটু টোকা দিয়া দেখল...সারা দিন নেটে বসে থাকলাম.. ফুন দিলাম ধরেই না...ধূর শালা বাল সব কিছু বাদ....


রাতে ১২টায় ফুন দিল... কইল... গুলশান নাভানা টাওয়ারের নিচে থাকব .. আগামী কাল ঠিক ১২টয় যেন উপস্থিত থাকে....


দোস্তদের সাথে সারা রাত পরামর্শ করলাম কি করা যায়...যাই হোক ১২টায় নাভানা টাওয়ারে আপেক্ষা করতে লাগলাম.... দেখি কাল কোন মাইয়া আসে না...মনে মনে কইলাম আমি যে গাধা, কি রং এ ড্রেস পইরা আইব তাও তো জিগাইলাম না...

১২.৩০ এ দেখি একটা ফর্সরা কইরা মেয়ে এসে দুই বার এদিক ও দিক তাকাইয়া আমার দিকে আসতাছে...আমার কাছে এসে বলে এক্সিউজ মি আপনি কি সামছু.. আমি বললাম জ্বি...

তারপর যা কইল আমার মাথা ঘুরতাছিল...আমি দেখি নাভানা টাওয়ার আমার উপর ভাইঙ্গা পড়তাছে...

বলল.. " আমার একটা ফ্রেন্ড আজ আপনার সাথে দেখা করার কথা ছিল কিন্তু বাসায় সমস্যা হওয়াতে আসতে পারছে না... তাই আমাকে পাঠাল, আপনাকে যেন বলে দিই অপেক্ষায় না থাকেন ... মেজাজ খারাপ হয়ে গেল...আমি বললাম উনাকে বলবেন অনেক ধন্যবাদ...আমার সময় ভালই কেটেসে..আনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখতে পেয়েছি...

সেই বান্ধবী টা বলল..."আমাকে বলে দিয়েছে... যেহেতু আপনি কষ্ট করে দাড়িয়ে ছিলেন তাই আপনাকে নিয়ে যেন কোথাও বসে ট্রিট করে দিই.."
আমি বললাম.. "কোন দরকার নাই... এত দরদ থাকলে বলতেন উনি যেন একটা চেয়ার পাঠাই দিত"

বন্ধবীটা আনেক ভাল...আমাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে পিজা হাটে নিয়া গেল...সেখানে বসে অনেক কথা বলল..একটা সময় বলে 'আমি আপনার সাথে ফ্রেন্ড শিপ করতে চাই...'

মনে মনে কই চোরের দোস্ত মাতাল.....আমি বললাম... আমার শখ মিটে গেছে আমি এখন যাই....

তখন যে কথা বলল আমি তো টাসকি খাইলাম...বলে আমার নাম.ৌৌৌ আমি ই আপনার সেই মেয়ে যার সাথ দেখা করতে আসছেন...আমার তো বিশ্বাস হয় না.. তখন মোবাইল বের করে দেখাল রাতে যে কথা হয়েছে... এই বলে দাত বের করে হাসে... মনে মনে ভাবতাছি এইটা আবার কোন নতুন নাটক না তো...?


-------------------------------
ছবি টা পিজ্জা হাটে বসা ১মদিনের ছবি....ছবি তোলার অনুমতি দেয়া নাই.. চামে বাম মারচি..
২য় ছবিটা এই আদম-হাওয়ার ছবি...

(পাঠক এই হল আমার আজাবের শুরু.. পরে কমু.. আজাব কিভাবে শুরু হইছে..। ছবি দেখে যারা আমাকে চিনেন তারা তো অলরেডি চিনে ফেলেছেন... আর সাথের জনকেও চিনেন.. তাই আর বিস্তরিত বললাম না..)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28722770 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28722770 2007-07-26 14:22:45
লিংক ক্যামনে দেয় লিংক দিতে পারলাম না,
লিংক কিভাবে দিতে হয়?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28721069 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28721069 2007-07-16 00:51:19
দিস ইজ দ্যা ষ্টোরি এবাউট সামছু.... কোপা সামছু, কোপা সামছু ,...

সামছু, সামছু, সামছু...
কোপা কোপ্পাআ আ আ ...

ক্যারে সামছু! কুপাচ্চ? কোপাও...কুপাই শালা ভ্যাজ করি ফ্যালাই দাও...কুপাও...

সামছু আমার ফুপা
আমারে কইছে কোপা
সো কোপা, কোপা, আরে, কোপা কোপা কোপা কোপাআআআ....

এ এ এ এই ছামছু এখন ছবারে
কোপাতে কইছে আমাইরে,
সো কোপা আরে কোপা, কোপা কোপা...

সামছু! কুপাচ্চ? কোপাও...
হেলমেট পরি লিও বুচ্চ...

সামছু গেল গফর গাও আনতে কুড়াল দাও...
সামছুর শ্বশুর মফিজ মিয়া ধরাই দিল লাউ..
কোপা সামছু ... কোপা সামছু কোপা...

সামছু! কি কত্তেচাচ? কুপাচ্চ? কোপা...
কুপাতি হয়... মজ্যা...

কোপা সামছু কোপা... কোপা সামছু কোপা...
কোপা কোপা কোপা...সামছু...

চাটগার বারির সামছু ভাত খাইত ন পা..
ফজরে উডিয়া সামছু কুবাইত যা..

দিস ইজ দ্যা ষ্টোরি এবাউট সামছু..
হি ই নট ইন নরমাল ওয়ার..
হি ইজ ইন ইউর মাইন
এন মাই মাইন টু..
সো কোপাআআআআআ...সামছু..

দুক্ষ কষ্ট ভ্যুল্যই সামছু গেল মগ বাজার
যাইয়্যা দেখে ডিজে রাহাত করছে মুখ ব্যাজার

ডিজের সাথে ঝগড়া কইরা গেল রাজশাহী
মামুর ব্যাটা গিয়া উঠল আরসি মিয়ার বাড়ী
আরসি সামছু কুপাতো ভাই কুপাকুপি খেলে
খেলতে খেলতে ধরা খাইয়া এখন সামছু জেলে

ক্যারে সামছু! সামছু?

হেই সামছু এখন আন্ধ কোপাকোপি বন্ধ....
সামছু এখন আন্ধ, কোপাকোপি বন্ধ...

সামছু এখন জেলে কুপায় শুধু তার ছেলে..
সামছু এখন জেলে কুপায় শুধু তার ছেলে..
কোপা কোপা.. শুধু কোপা.. কোপা কোপা...

ক্যামব্যা লাগল সামছু ?
এই চালিয়ে যা...
হেলমেট পড়ে নিস..

বিড়ি দে...

সামছু এই খানে :

Click This Link
সামছু এই খানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28719196 http://www.somewhereinblog.net/blog/kopasamsublog/28719196 2007-07-04 02:55:22