এখন একটা দিন শুরু হয় নিখাঁদ আনন্দে। নির্মলেন্দু গুন পড়ে। সেই কৈশরে আমার টেবিলে তার কবিতার বই থাকতো বলে বাবা একবার তা ছিড়ে ফেলেছিলেন। অনেক কষ্টে সংগ্রহ করা বইটার ছেড়া পাতাগুলো লুকিয়ে ছাদে নিয়ে পেপার কেটে ভাতের আঠায় আবার জোড়া দিয়েছিলাম। সেই বই মেট্রিকের আগে আবার বাবা ছিড়ে ফেলেছিলেন। বইয়ের ছিন্নভিন্ন পৃষ্ঠা নিয়ে অনেক দিন কেঁদেছিলাম। পানির ট্যাংকির পাশে দুটো ইটের উপরে বসার একটা জায়গা ছিল। ছাদে কেউ এলেও তার চোখে পড়তো না। আমি সেই কোনটাতে বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো আবার জোড়া দিলাম। প্রতিটা পৃষ্ঠার থিকনেস বেড়ে হয়েছিল দশটা সাধারণ পৃষ্ঠার মত।
নির্মলেন্দু গুন রহস্যময় কবি আমার জন্য। তার কবিতা পড়ার পরে আমার রফিক আজাদ পড়তে হয়, আবিদ আজাদ, মান্নান সৈয়দ, তারপরে পড়ি শামসুর রহমান। কোন এক রহস্যপূর্ণ কারণে কাজী নজরুল ইসলাম এবং আল মাহমুদ আমার ভাল লাগে না। ্ট কবিতার ক্ষেত্রে এরপরে আমি ইংরেজীতে বেশী স্বচ্ছন্দ বোধ করি। এছাড়া ত্রিশ তো থাকেই। সবশেষে রবীন্দ্রনাথ।
অবশ্য এরপরেই পছন্দ নিজের কবিতা। নিজের কাছে জঘন্য রকমের উলঙ্গ হয়ে পড়ি, যতটুকু তড়পাই তার পুরোটুকু কবিতাতে উঠে আসে। এ বিষয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ কবির সাথে আলাপ করে বুঝেছি এগুলো আমার আদৌ কবিতা হয় না। কিন্তু এতে স্বকাব্য প্রেম গেল আরো বেড়ে। নিজের ডায়েরী লেখার জন্য এখন ভাষার কবিতা ফর্মটাকে উপযুক্ত মনে করছি।
গর্ত খুড়ছি ক্রমাগত, নিজের ভেতরে সুড়ঙ্গ
উলঙ্গ ভল্টের লকার ভেঙে চুরি গেছে গচ্ছিত ধন
সেই কবেই।
কেবল জানি তুমি আছো দূরে
একমাত্র তোমার লকার ভেঙে ট্রান্সপ্লান্ট পুরোটুকু
এই গর্তের যদি আশ্রয় মেলে
ভালই তো লাগছে। গ্রেট কৌশিক, গ্রেট!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


