ব্লগের নাগরিকত্ব অর্জনের অনেকদিন পরে এর অধিবাসীদের সাথে ধীরে ধীরে দেখাসাক্ষাত হওয়া শুরু হলো। ব্লগে সবাই লিখে লিখে কথা বলে, ঝগড়া, রাগারাগি, মারামারি, হাতাহাতি, বন্ধুত্ব, ভালাবাসাবাসি করে, যৌনসম্পর্ক তৈরী করে, বিটলামী-চিটলামী করে। কেউ কাউকে দেখে না, তারপরেও সমাজ সংসারের সব মানবীয় প্রকাশ ঘটে চলে। লৈখিক প্রকাশ হওয়াতে অনেক সময় আবেগের গন্ডী ছাড়িয়ে যায়, যা কেউ রিয়েল লাইফে করে না তেমনও করার সাহস দেখায়। সাহস নয় - এটাকে দুঃসাহস বলা চলে। আমি প্রথম যে ঘটনার সাথে যুক্ত হলাম তা হচ্ছে প্রাপ্তি নামের লিউকিমিয়ায় আক্রান্ত ছোট্ট একটা শিশুর জন্য ফান্ড রেইজিং ক্যাম্পেইন। সেটা ২০০৬ এর মার্চ/এপ্রিলের ঘটনা। এর পূর্ব পর্যন্ত আমার লেখার গুটিকয়েক পাঠক। ভাবলাম পাঠক আকৃষ্টের জন্য ব্লগারদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন জরুরী। প্রাপ্তি ক্যাম্পেইন একটা ভাল সুযোগ। প্রাথমিকভাবে অমি রহমান পিয়ালের পোস্ট ও পরবর্তীতে সাদিক মোহাম্মদ আলমের মনকাড়া পোস্টও আমার ভাবাবেগে তেমন নাড়া দিতে সক্ষম হয়নি। অনেক ব্লগার কেঁদে কেটে অস্থির হয়ে পড়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা অর্থ পাঠিয়েছেন। পিয়াল ভাই তার বেতনের টাকা, বোনাসের টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। এসবই আমাকে চমৎকৃত করেছে। তবে নিজেকে আপ্লুত করতে পারেনি।
দারুণ ভাবগদগদ একটা গ্রহনীয় মুখভংগি করে আমি চলতে পারি। মনে হতে পারে পুরোপুরি মনযোগ দিয়ে আছি বক্তার দিকে, আসলে ভাবছিলাম হয়তো তখন পিঠের ব্যাথার কথা। তবে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা একটু ভাল হওয়াতে শেষ শব্দটা ধরে একটা মন্তব্য জুরে দেয়াতে অপরপক্ষ ভুলেও বুঝতে পারেন না তার দিকে কত নগন্য মনযোগ ছিল আমার। প্রাপ্তি ক্যাম্পেইনে আমার প্রধান আকর্ষন ছিল কিছু ব্লগারেরর সাথে পরিচিত হওয়া। মিলিয়ে দেখা, লৈখিক চরিত্র আর বাস্তবের মানুষটার মধ্যে কতটুকু অমিল/সমিল। আর ঐ পাঠক তৈরী তারপরে হিট সংগ্রহ এসব উদ্দেশ্যতো ছিলই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


