আমার সুইট হোম বরিশাল যাচ্ছি বৃহস্পতিবার। লঞ্চে বরিশাল যাবার মত আনন্দ পৃথিবীতে আর কোন যাত্রায় নেই। আর হবেই বা না কেন, বরিশাল যে পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সুন্দর শহর। ইস্ট এন্ড ওয়েস্ট, বরিশাল ইজ বেস্ট। বরিশালের মানুষদের মত টিপিক্যাল চিন্তাভাবনা আমারও এমন। বরিশালের মানুষ পৃথিবীর অন্য কোন মানুষকে পূর্নাঙ্গ মানুষ মনে করে না, কেমন যেন বলদা বলদা মনে হয়। এ বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। মাঝে মাঝে মনে হয় অন্যান্য এলাকার মানুষের কি বিচ্ছিরি চেহারা, গায়ের রঙ, দাত পোকায় খাওয়া, গায়ে গন্ধ, বিচ্ছিরি উচ্চারণ। বরিশালের মানুষের ভাষায় কি মায়া, যখন রুক্ষতার দরকার তখন সেটা আবার কেমন তেজী, একদম হোগার মধ্যে ঢুকে যায়!
এবার বরিশাল গিয়ে অর মায়রে বাপ মিস্টি খামু প্রচুর। গৌরনদীর রসমালাই যে খায়নাই সে হালায় মানুষ হয় কেমনে? ঘরবরনীর মিস্টি যে চোখে দেখে নাই তার তো জীবনই বৃথা। বিবির পুকুরের পাড়ে দাড়িয়ে যে আড্ডা দেয়নি তারতো গলায় রশি ঝুলিয়ে সুইসাইড খাওয়া উচিত। বিএমকলেজের হানিফ তলায় যার সোগা লাগেনি সে নির্ঘাত কুপমন্ডুপ। এবড়োথেবড়ো রাস্তা, অলিগলির মাঝে দাড়িয়ে কোন অবরিশালইলারে যদি ঘেটিঘুল্লা না দেয়া যায় সে বুঝবে না জীবনের আসল রহস্য।
দধিঘরের দই, ঘোল, চিড়া, মুড়ি না খাওয়া পর্যন্ত কোন সালারপোসালার বরিশালের নাম উচ্চারণ করার ক্ষমতা নাই। সকালসন্ধ্যার লুচি, আর বিসমিল্লাহর ইলিশ এর প্রশংসা না করলে তার জন্য বরিশালের দরজা চিরজীবনের মত বন্ধ। বরিশালের রাস্তায় কারো সাথে ঝামেলা হলে, তোর মায়রে চুদি গালি দিতে না পারলে বরিশাইল্লা হওয়া যায় না। কথার আগে হাত আর হাতের আগে পা দিয়ে আমাদের অভিবাদন জানাবার নিয়ম। পুটকি ঢিলা করতে চাইলে বরিশাল এসে কেদ্দারী দেখাতে পারেন যেকোন নাটকীর পুত।
বৌদ্দপাড়ায় গিয়ে দেখা করবো মাসুদের সাথে, কলেজপাড়ায় রুশো, কৃষি অফিসের সামনে রানা, গির্জামহল্লায় আতিক, বেলস পার্কে বাবুল, ফকিরবাড়ী সুমন, আলেকান্দায় নাসির, কাউনিয়ার সুমন, আমানতগঞ্জ ফকিরের সাথে দেখা করবো। বগুড়া রোড, হাসপাতাল রোড, পুলিশ লাইন, নবগ্রাম রোড ঘুরবো। আমতলায় গিয়ে পাছায় লাথি মেরে আসবো জসিমকে। নথুল্লাবাদ গিয়ে গাজা কিনবো আর বিএমকলেজের মধ্যে হাফেজসাহেবরে নিয়ে খাবো।
সালার একটা জীবনই! বরিশাল, ওহ মাই সুইট হোম, তোমাকে সংগমের জন্য আসিতেছি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

