somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এপোলোর ভবিষ্যতবানী, সৃজনের প্রেম!

১১ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল বিকেলে সৃজন একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে, জাকারিয়ায় আবার পুলিশে হামলা করবে না তো?
আমি বলি, কখনও শুনেছো বার থেকে মদখোর ধরে নিয়ে যেতে? আমি কখনও শুনিনি বলে ভাবলাম এই কর্মটা ঢাকাতে কখনও হয়নি। কিন্তু সৃজন শুনেছে। বললো, সেজন্যই তো ভয়ে আছি, ক'দিন আগেই তো শুনলাম বার থেকে মদ্যক ধরে নিয়ে গেছে!
কিন্তু আমি ভীত হই না। সৃজনের শংকাকে উড়িয়ে দিয়ে দুজন জ্যাকের শীতল হাওয়াতে গিয়ে হুইস্কি অর্ডার দেই।
পেটে তরলের প্রকোপে দুজনের মুখ খুলতে শুরু করে। বিষয় হিসাবে খুব স্থুল আবার খুব সমাজহিতৈষী চলে আসে ঘুরে ফিরে। তবে এর একটা অংশে রোমাঞ্চ, যৌনতা অবশ্যম্ভাবী। তবে গতকাল দুজনের রোমান্টিক স্মৃতিচারণ ভর করেছিল।

সৃজন ও আমি দুজন ইয়ারমেট। বরিশাল ও ঢাকার বাসা ও কলেজের ডিপার্টমেন্ট পাশাপাশি হওয়ায় অন্তরঙ্গতার দীর্ঘতাও লম্বা। সে ভবিষ্যতবানীর ফলশ্রুতিতে তার জীবনের প্রেম, জটিল, রহস্যময় কাহিনী শোনালো। একবার তার কাজিন এপোলো যে কিনা আবার একজন বিখ্যাত হাতের রেখা বিশেষজ্ঞ, হাত দেখে খাতায় লিখে দিলে তিনমাসের মধ্যে তোমার প্রেম হবে। সেটা অনার্স ফাস্ট ইয়ারের ঘটনা। সৃজনের তখনও কারও জন্য কোন ধরণের প্রেমঘটিত অনুভূতি তৈরী হয়নি। সে চ্যালেঞ্জ দিল ভবিষ্যত বক্তাকে, ভবিষ্যতবানী মিথ্যে প্রমান করে ছাড়বে। এজন্য মজা করে বলে বেড়াতে লাগলো, বন্ধু-বান্ধব, বাবামা সহ যত পরিচিত সবাইকে। সেসময় তার ঘনিষ্ট বন্ধু সুন্দরী জিনা। তাকেও বলে আর সাবধান হতে বলে, দেখিস তোর প্রেমে যেন আবার না পড়ে যাই!

দুইমাস গড়িয়ে গেলে সৃজন ক্রমশ অস্থির হতে থাকে। এদিকে জিনার প্রতি তার কেমন একধরণের ফিলিং ডেভলপ হয়। সে ক্রমশ উপলব্ধি করতে থাকে, ভবিষ্যতবানী ফলে যাচ্ছে, এটা হতে দেয়া যায় না। কিন্তু অবশিষ্ট মাসের পনের দিন জিনার জন্য এতবেশী অস্থির হয়ে পড়ে যে তার ভেতরে পরিবর্তনগুলো প্রকট হতে থাকে। বন্ধুরা বলে, কি খবর সৃজন? তোর কি হলো? জিনা একটু বেশী তৎপর। বারবার তার স্বাস্থ্যের, মনের খবর নেয়। বলে, আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড, কার জন্য তোর এই অস্থিরতা, বল আমাকে।

মদ পেটে সৃজনের রোমান্টিক এ্যাভভেঞ্চার শুনতে শুনতে আমিও নষ্টালজিক হয়ে যাই। সৃজন বলে চলে। ছাব্বিশ দিনের দিন সে জিনাকে ক্লাস শেষে বিশেষ কথা বলার নোটিস দেয়। তারপরে সবাই রুম ছেড়ে গেলে, বলে, তুমি জানতে চেয়েছিলে না, কি হয়েছে? কেন তুমি এত বেশী জানতে চেয়েছো, সবাইতো এত জিজ্ঞেস করেনি! জিনা বলে, তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড সেজন্য একটু বেশী আগ্রহ তো থাকবেই! সৃজন বলে, তাহলে শোনো, যে মেয়েটির জন্য আমার এ অস্থিরতা সে যদি তুমি হও তাহলে কি বলবে? জিনা আকাশ থেকে পড়ে, একেমনতরো প্রস্তাব! সৃজন তখন কাঁপছে, ঘেমে নেয়েছে, কিন্তু বলে চলে, তবে আমি চাই না, তুমি আমাকে ভালবাসো, বা কিছু বলো, আমি তোমাকে ভালবাসি, স্রেফ এইটা বললাম। এখন যদি না ভালোবাসো তাতেও কোন সমস্যা নাই, আমরা ফ্রেন্ড, তাই থাকবো!

গরবড় করে এমন সব কথা বলে সৃজন বেড়িয়ে যায়। জিনা হা করে থাকে। তার মাথায় ঢোকে না। সৃজন কেমন প্রস্তাব দিল, আবার দিলও না!

বার থেকে বেড়িয়ে গল্প চলে। রিকশায় গল্প চলে। যখন ডিনারের জন্য একটা দেশি ফুডের দোকানে ঢুকেছি কাচ্চি খেতে তখন জিনার জবার দেবার পালা। তিনমাস হয়ে যায় যায়। ক্রমশ সেও বোধ করতে থাকে সৃজনের প্রতি ভালোবাসা। একসময় তার ভালোবাসার কথা বলে ফেলে। মাতাল আমি এ পর্যায়ে দারুণ আমোদে টেবিলে মাড়ি জোরসে এক ঘুসী। কিন্তু অকল্পনীয়ভাবে তা তৈরী করে বিকট শব্দ, গ্লাস পড়ে উল্টে, লোকজন তাকিয়ে থাকে চোখ বড় বড় করে। জোরে জোরে বলি, সালা ভবিষ্যত বানী ফলেনি, ভবিষ্যতবানীর বিষয়টাই তোমাকে প্রেমে ফেলেছে!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ৯:৫৪
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×