somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

থলথলে গ্রীবায় কবিতার ঝোল বেয়ে নামে

০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উপস! অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করে। বাঙালির কান্ডজ্ঞান নিয়ে, আবেগ, প্রজ্ঞা আর আন্তর্জাতিক মান নিয়ে। কিন্তু সেসব প্রথা ভাঙার বক্তব্য, হুমায়ুন আজাদ অনেক আগেই লিখে ইতিহাস হয়েছেন, যে শংকা করেছিলেন, ঠিক তেমন করেই অপশক্তির হাতে প্রাণও দিয়েছেন। এসব লেখার ইচ্ছা হচ্ছিল হুমায়ুন আজাদের এক গন্ডা বই নিয়ে বরিশাল রওনা হয়ে। কিন্তু বরিশাল পৌঁছে মনে হলো প্রথার সামাজিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একজন হুমায়ুন আজাদের প্রথাবিরোধী হবার দরকার আছে, কিন্তু একজন কৌশিকের দরকার নেই। পৃথিবীর যাবতীয় নবী, রাসুলের চেয়ে একজন হুমায়ুন আজাদ অনেক বেশী ক্ষমতাবান, অনেক বেশী পৃথিবীকে সামনে টেনে নিয়েছেন। কুৎসিত পৌরনিক বিশ্বাসের মাস্তুলে পাল দিয়ে আজকের বাংলাদেশ যেখানে ক্রমশ মধ্যযুগে চালিত হয়েছে সেখানে হুমায়ুন আজাদরা একজন সত্য নবী, একজন আলোর পয়গম্বর হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। প্রথা ভাঙা তাদের কাজ। কিন্তু আমি অত সাহসী নই, আমার নিজের কথা বলার মত সাহস আমার নেই। যেমন কখনই আমি বলবো না, বোরখা পড়া মানুষ দেখলে আমার কুৎসিত জন্তু মনে হয়, আমি বরঞ্চ তাদেরকে দেখে লজ্জায় লেজ নাড়বো, বলবো, মাশাল্লাহ!

বরিশালের রাস্তায় কেঁটেছে এবারের ৫ই আগস্ট, বন্ধু দিবস। সকাল থেকে ফোন, দেখা করতে ইচ্ছে করছিল যাদের সাথে তাদের সাথে প্রথাবদ্ধ আলাপ। মিলি বিকেলে ফ্রি, ওর অফিসে গিয়ে দেখা দীপংকর চক্রবর্তির সাথে, আমার শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু এখন চিনতে পারলেন না। কিছুক্ষন যেতেই রাস্তায় নামলাম। মিলির স্বাস্থ্য রিকশায় যতটুকু আমার জন্য ছাড় দেয় তাতে সেধিঁয়েও ভাল লাগলো। কতদিন পরে দুবন্ধু মিলে বরিশাল দেখা। রুশোর বাসা বিএম কলেজের সামনে। রুশোর ড্রইং রুমে অনেকক্ষণ আড্ডা। কে কোথায় আছে তার সবিস্তারে বয়ান। জগলুল লন্ডন থেকে মাঝেমাঝে মিলিকে ফোন করে, শেষদিকে পাঠাটাকে দেখতে পারতাম না, তারপরেও ভাললাগলো ভাল আছে শুনে। নাজমুন আমেরিকায়, মেহেদী ভাইয়ের সাথে প্রেম ও অতপর বিয়ের পেছনে মেহেদী ভাইয়ের ডিভি প্রাপ্তি নাকি ভাল রোল প্লে করেছিল। জামিল ব্রাক ব্যাংকে, রমন পুলিশ, সেলিম স্টামফোর্ডে আর বাকীরা কোথায় কোন খবর নাই। বেশির ভাগই মনে হয় গ্রামের কলেজের মাস্টার। অবশ্য মাস্টার বললে নারাজ হয়, লেকচারার বলতে হবে। পথে আরেকজন ক্লাসমেট জাকিরের সাথে দেখা হওয়ায় সে ভুলটা সংশোধন করে দিলো। রুশো, মিলি আর আমি সেদিন ঢুকলাম সকাল সন্ধ্যায়। লুচি, ভাজি, সুজি, ডাল দিয়ে এক তুঘলকী খাবার খেয়ে বিদায় নিলাম।

দাড়ী মোছের জঙ্গল ছাঁপ করার দায়িত্ব দিলাম উদয়নের সামনে কাঞ্চিকে। আট বছর পরে আবার মনে হয় ঢুকলাম সেলুনটাতে। কেউ আমাকে চেনে না, আমিও চিনি না, নেই সেই পরিচিত মুখগুলো। তবে বিরল হয়ে যাওয়া কেশগুলো বরিশালে রেখে আসাতেও ভাল লাগছিল। এখন বাকী দধিঘরের শ্রাদ্ধ। মিষ্টি দই, টক দই, ঘোল, চিড়া, ছানা, মিস্টি মুড়ি সহযোগে এক অমৃত ঘন্ড। বিশ টাকা দাম, এক দাওয়াইতে পেট পরিষ্কার। এরপরে ঢুকলাম গৌরনদীর মিস্টি ভান্ডারে। এখানে পাওয়া যায় রস মালাই, ঢাকা বা ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ার রসমঞ্জুরী নয়। বড় বড় একটা রসমালাই। আগে যেটা পাঁচটাকা দাম ছিল, এখন সেটার দশটাকা দাম আর আগের দশটাকার দামের রসমালাই এখন আর বানানো হয় না। অপ্রচলিত হয়ে যাওয়া সেই রসমালাইগুলোর জন্য আমার দুঃখ হয়। একটা মাঝারী সাইজের প্লেট পুরো ভরে যেতো একটা রসমালাইয়ে। সেই দিনগুলো আর নেই! জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি মানুষকে মিস্টি বিমুখ করেছে বোধকরি।

ঢাকায় ফিরে ব্লগে ঢুকে আমার নিউ জেনারেশন পোস্টে অনেকেই আমাকে আগাছা গোত্রীয় বলে মন্তব্য করেছে দেখলাম। যারা মন্তব্য করেছে তাদের নিকগুলো পরিচিত নয়, তবে পেছনের মানুষগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে। নিজের পরিচিত নিকে কেন মন্তব্য করতে পারছে না এইলোকগুলো? তারা কি কাপুরুষ? নাকি ভন্ড? নাকি আমাকে ভয় পাচ্ছে? আরে বাবা আমি তো আগাছা স্বীকার করেই নিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভন্ডামী করার দিন অনেক আগেই গত হয়েছে। ষাটের দশকের বাংলাদেশের তুলনায় এখন বাংলাদেশ অনেক বেশী মৌলবাদী আক্রান্ত। এমনকি কল্লোল যুগের তুমুল রক্ষণশীল ডামাডোলার তুলনায় এখন আরো বেশী করে মানুষের ধর্মানুভূতি সুরক্ষার মহান দায়িত্ব নিয়োজিত এই পৌরনিক মতাদর্শী সরকার এবং এই ব্লগ।

নতুন ব্লগ হয়েছে তাতে কিছু যায় আসে না। হাজারটা হলেও কিছু যায় আসে না। বিষয় হচ্ছে কাদের মাঝে বিচরণ করছেন আর কি কি দেখছেন! যুক্তির সাথে কিভাবে বেঁচে উঠছেন, বাঁচাচ্ছেন আপনার শুভর দিকনির্দেশনা। মুক্তিযুদ্ধ আর মানুষের বোধের মুক্তির যে বিশাল স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সেটা কাদের জন্য? কারা এর স্টেকহোল্ডার? পৃথিবীতে কোন দাবী, কোন সত্য ভাষন এত সহজে অর্জিত হয়েছে? স্থান ছেড়ে দিয়ে এত সহজে দেশের স্বাধীণতা কেউ অর্জন করেছে? এটা জানা কথা যারা মুক্ত চিন্তা করে তাদের প্রতিক্রিয়াশীলরা অনবরত কোনঠাসা করে রাখবেই। তাদেরকে নিহত করবে, তাদেরকে ব্যান করবে, তাদেরকে পৌরনিক শাসকরা গলা চেপে ধরবেই। মুক্তিযুদ্ধে জামাত বিরোধিতা করেছে বলে তারা আমাদের শত্রু নয়, তারা শত্রু তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য। তারা শত্রু স্বাধীনতার, তারা শত্রু মানুষের মুক্তির।

কত সহজেই একজন জামাল ভাস্কর হাল ছেড়ে দিয়ে যায়! একজন হাসান মোরশেদ, আরিফ জেবতিক, আড্ডাবাজ নতুন প্লটফর্ম তৈরী করে! ধিক এসমস্ত কুপমন্ডুপ বিকিয়ে দেয়া স্বত্বাদের! নিজেদের ব্রান্ড নিকগুলো যদি স্বাধীণ চিন্তা আর মুক্ত বুদ্ধির চর্চার জন্য নিয়োজিত করার ইচ্ছে থাকে তবে অবশ্যই আপনাদের যুদ্ধ করতে হবে সামনা সামনি। যুদ্ধ করতে হবে পৌরনিক সভ্যতার ধ্বজাধারী এই শোষকদের বিরুদ্ধে, হোক না সেটা রাষ্ট্র বা এই ব্লগ! যদি সাহস না থাকে তবে আর মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা কেন? কথা বলুন কেবল সাহিত্য নিয়ে। থলথলে গ্রীবায় কবিতার ঝোল বেয়ে পড়বে ছন্দে ছন্দে, গল্পের ভাজভাজে, তাই গিলুন, দরজা জানালা বন্ধ করে চাটতে থাকুন অমৃত।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৪৫
৭২টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×