আমার প্রিয় পোস্ট

যন্ত্র হতে হতে এখন অযান্ত্রিক তন্ত্রমন্ত্র ভালো বুঝি

থলথলে গ্রীবায় কবিতার ঝোল বেয়ে নামে

০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৩৭

শেয়ারঃ
0 0 0

উপস! অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করে। বাঙালির কান্ডজ্ঞান নিয়ে, আবেগ, প্রজ্ঞা আর আন্তর্জাতিক মান নিয়ে। কিন্তু সেসব প্রথা ভাঙার বক্তব্য, হুমায়ুন আজাদ অনেক আগেই লিখে ইতিহাস হয়েছেন, যে শংকা করেছিলেন, ঠিক তেমন করেই অপশক্তির হাতে প্রাণও দিয়েছেন। এসব লেখার ইচ্ছা হচ্ছিল হুমায়ুন আজাদের এক গন্ডা বই নিয়ে বরিশাল রওনা হয়ে। কিন্তু বরিশাল পৌঁছে মনে হলো প্রথার সামাজিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একজন হুমায়ুন আজাদের প্রথাবিরোধী হবার দরকার আছে, কিন্তু একজন কৌশিকের দরকার নেই। পৃথিবীর যাবতীয় নবী, রাসুলের চেয়ে একজন হুমায়ুন আজাদ অনেক বেশী ক্ষমতাবান, অনেক বেশী পৃথিবীকে সামনে টেনে নিয়েছেন। কুৎসিত পৌরনিক বিশ্বাসের মাস্তুলে পাল দিয়ে আজকের বাংলাদেশ যেখানে ক্রমশ মধ্যযুগে চালিত হয়েছে সেখানে হুমায়ুন আজাদরা একজন সত্য নবী, একজন আলোর পয়গম্বর হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। প্রথা ভাঙা তাদের কাজ। কিন্তু আমি অত সাহসী নই, আমার নিজের কথা বলার মত সাহস আমার নেই। যেমন কখনই আমি বলবো না, বোরখা পড়া মানুষ দেখলে আমার কুৎসিত জন্তু মনে হয়, আমি বরঞ্চ তাদেরকে দেখে লজ্জায় লেজ নাড়বো, বলবো, মাশাল্লাহ!

বরিশালের রাস্তায় কেঁটেছে এবারের ৫ই আগস্ট, বন্ধু দিবস। সকাল থেকে ফোন, দেখা করতে ইচ্ছে করছিল যাদের সাথে তাদের সাথে প্রথাবদ্ধ আলাপ। মিলি বিকেলে ফ্রি, ওর অফিসে গিয়ে দেখা দীপংকর চক্রবর্তির সাথে, আমার শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু এখন চিনতে পারলেন না। কিছুক্ষন যেতেই রাস্তায় নামলাম। মিলির স্বাস্থ্য রিকশায় যতটুকু আমার জন্য ছাড় দেয় তাতে সেধিঁয়েও ভাল লাগলো। কতদিন পরে দুবন্ধু মিলে বরিশাল দেখা। রুশোর বাসা বিএম কলেজের সামনে। রুশোর ড্রইং রুমে অনেকক্ষণ আড্ডা। কে কোথায় আছে তার সবিস্তারে বয়ান। জগলুল লন্ডন থেকে মাঝেমাঝে মিলিকে ফোন করে, শেষদিকে পাঠাটাকে দেখতে পারতাম না, তারপরেও ভাললাগলো ভাল আছে শুনে। নাজমুন আমেরিকায়, মেহেদী ভাইয়ের সাথে প্রেম ও অতপর বিয়ের পেছনে মেহেদী ভাইয়ের ডিভি প্রাপ্তি নাকি ভাল রোল প্লে করেছিল। জামিল ব্রাক ব্যাংকে, রমন পুলিশ, সেলিম স্টামফোর্ডে আর বাকীরা কোথায় কোন খবর নাই। বেশির ভাগই মনে হয় গ্রামের কলেজের মাস্টার। অবশ্য মাস্টার বললে নারাজ হয়, লেকচারার বলতে হবে। পথে আরেকজন ক্লাসমেট জাকিরের সাথে দেখা হওয়ায় সে ভুলটা সংশোধন করে দিলো। রুশো, মিলি আর আমি সেদিন ঢুকলাম সকাল সন্ধ্যায়। লুচি, ভাজি, সুজি, ডাল দিয়ে এক তুঘলকী খাবার খেয়ে বিদায় নিলাম।

দাড়ী মোছের জঙ্গল ছাঁপ করার দায়িত্ব দিলাম উদয়নের সামনে কাঞ্চিকে। আট বছর পরে আবার মনে হয় ঢুকলাম সেলুনটাতে। কেউ আমাকে চেনে না, আমিও চিনি না, নেই সেই পরিচিত মুখগুলো। তবে বিরল হয়ে যাওয়া কেশগুলো বরিশালে রেখে আসাতেও ভাল লাগছিল। এখন বাকী দধিঘরের শ্রাদ্ধ। মিষ্টি দই, টক দই, ঘোল, চিড়া, ছানা, মিস্টি মুড়ি সহযোগে এক অমৃত ঘন্ড। বিশ টাকা দাম, এক দাওয়াইতে পেট পরিষ্কার। এরপরে ঢুকলাম গৌরনদীর মিস্টি ভান্ডারে। এখানে পাওয়া যায় রস মালাই, ঢাকা বা ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ার রসমঞ্জুরী নয়। বড় বড় একটা রসমালাই। আগে যেটা পাঁচটাকা দাম ছিল, এখন সেটার দশটাকা দাম আর আগের দশটাকার দামের রসমালাই এখন আর বানানো হয় না। অপ্রচলিত হয়ে যাওয়া সেই রসমালাইগুলোর জন্য আমার দুঃখ হয়। একটা মাঝারী সাইজের প্লেট পুরো ভরে যেতো একটা রসমালাইয়ে। সেই দিনগুলো আর নেই! জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি মানুষকে মিস্টি বিমুখ করেছে বোধকরি।

ঢাকায় ফিরে ব্লগে ঢুকে আমার নিউ জেনারেশন পোস্টে অনেকেই আমাকে আগাছা গোত্রীয় বলে মন্তব্য করেছে দেখলাম। যারা মন্তব্য করেছে তাদের নিকগুলো পরিচিত নয়, তবে পেছনের মানুষগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে। নিজের পরিচিত নিকে কেন মন্তব্য করতে পারছে না এইলোকগুলো? তারা কি কাপুরুষ? নাকি ভন্ড? নাকি আমাকে ভয় পাচ্ছে? আরে বাবা আমি তো আগাছা স্বীকার করেই নিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভন্ডামী করার দিন অনেক আগেই গত হয়েছে। ষাটের দশকের বাংলাদেশের তুলনায় এখন বাংলাদেশ অনেক বেশী মৌলবাদী আক্রান্ত। এমনকি কল্লোল যুগের তুমুল রক্ষণশীল ডামাডোলার তুলনায় এখন আরো বেশী করে মানুষের ধর্মানুভূতি সুরক্ষার মহান দায়িত্ব নিয়োজিত এই পৌরনিক মতাদর্শী সরকার এবং এই ব্লগ।

নতুন ব্লগ হয়েছে তাতে কিছু যায় আসে না। হাজারটা হলেও কিছু যায় আসে না। বিষয় হচ্ছে কাদের মাঝে বিচরণ করছেন আর কি কি দেখছেন! যুক্তির সাথে কিভাবে বেঁচে উঠছেন, বাঁচাচ্ছেন আপনার শুভর দিকনির্দেশনা। মুক্তিযুদ্ধ আর মানুষের বোধের মুক্তির যে বিশাল স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সেটা কাদের জন্য? কারা এর স্টেকহোল্ডার? পৃথিবীতে কোন দাবী, কোন সত্য ভাষন এত সহজে অর্জিত হয়েছে? স্থান ছেড়ে দিয়ে এত সহজে দেশের স্বাধীণতা কেউ অর্জন করেছে? এটা জানা কথা যারা মুক্ত চিন্তা করে তাদের প্রতিক্রিয়াশীলরা অনবরত কোনঠাসা করে রাখবেই। তাদেরকে নিহত করবে, তাদেরকে ব্যান করবে, তাদেরকে পৌরনিক শাসকরা গলা চেপে ধরবেই। মুক্তিযুদ্ধে জামাত বিরোধিতা করেছে বলে তারা আমাদের শত্রু নয়, তারা শত্রু তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য। তারা শত্রু স্বাধীনতার, তারা শত্রু মানুষের মুক্তির।

কত সহজেই একজন জামাল ভাস্কর হাল ছেড়ে দিয়ে যায়! একজন হাসান মোরশেদ, আরিফ জেবতিক, আড্ডাবাজ নতুন প্লটফর্ম তৈরী করে! ধিক এসমস্ত কুপমন্ডুপ বিকিয়ে দেয়া স্বত্বাদের! নিজেদের ব্রান্ড নিকগুলো যদি স্বাধীণ চিন্তা আর মুক্ত বুদ্ধির চর্চার জন্য নিয়োজিত করার ইচ্ছে থাকে তবে অবশ্যই আপনাদের যুদ্ধ করতে হবে সামনা সামনি। যুদ্ধ করতে হবে পৌরনিক সভ্যতার ধ্বজাধারী এই শোষকদের বিরুদ্ধে, হোক না সেটা রাষ্ট্র বা এই ব্লগ! যদি সাহস না থাকে তবে আর মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা কেন? কথা বলুন কেবল সাহিত্য নিয়ে। থলথলে গ্রীবায় কবিতার ঝোল বেয়ে পড়বে ছন্দে ছন্দে, গল্পের ভাজভাজে, তাই গিলুন, দরজা জানালা বন্ধ করে চাটতে থাকুন অমৃত।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৫৫
ইলা বলেছেন: আর একটু সহজ ভাষায় লেখা হলে ভাল হত- আমার মত অর্থব্য পাঠকের জন্য। "পৃথিবীর যাবতীয় নবী, রাসুলের চেয়ে একজন হুমায়ুন আজাদ অনেক বেশী ক্ষমতাবান, অনেক বেশী পৃথিবীকে সামনে টেনে নিয়েছেন।" এর শানে নুজুল কী?
২. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:০২
কৌশিক বলেছেন: নবী রাসুলরা মানুষকে যুক্তির পথ থেকে টেনে নিয়ে বিশ্বাস নামক এক টনিকে আষক্ত করেছেন। কিন্তু হুমায়ুন আজাদ মানুষকে মননশীলতার পথে, তার প্রাজ্ঞতা, তার যুক্তি ও বোধের উন্নয়নের জন্য পৌরনিক খামার থেকে বের করার চেষ্টা করেছেন। সেজন্য এখন আমরা কোন সেই কাল্পনিক বিশ্বাসী নবীদের আর আসতে দেখি না। বা এখন তেমন বক্তব্য সন্বলিত কেউ নাজিল হবার কথা বললে তাকে পাগল বলি।
৩. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:০৮
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: ওরে নারে ব্যাপকস..হইছে। সামনাসামনি মুখোমুখি হবার কর্তব্য.....অভিমানে পায়ে ঠেললে তা পরাজয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই ধরা দেয়। সবাই লড়াইয়ের ফল নিয়ে মাতামাতি করি আর লড়াইয়ের সময় পিছু হটি।
৪. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৩১
মনের কথা বলেছেন: ওয়েলকাম ব্যাক উইথ আ নিউ বম্ব। ভালই হইছে, রুই কাতলার ভীড়ে ছোট মাছগুলান পুরুষ্ট হইতে আছিল না।
৫. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০১
কালপুরুষ বলেছেন: একটা পোষ্টে সব রকমের স্বাদ পাওয়া গেল। খুব ভাল লাগলো। ওয়েলকাম ব্যাক। ভাবী কেমন আছে? সাথে আনছেন নাকি?

আমরা সবাই ঘাটের মরা,
সামহয়্যারেই খাইছি ধরা।
৬. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০৪
কৌশিক বলেছেন: থ্যাংকস বস। আরো কিছুদিন থাকবে।
৭. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০৪
মাহবুব সুমন বলেছেন: এইডা ভাবনের কোনো কারন নাই যে আমি হুমায়ুন আজাদের লেখা পড়ি না বা তার সম্পর্কে জানি না। তবে তার প্রতিভা ছিলো সেটা স্বীকার করেই বলছি তার সম্পর্কে ভালো ধারনা আমার নাই। তাই উনারে উপরে তুইলা আরো ছোট করতে চাই না।

ব্লগার যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের সবাই একরকম না।
জেবতিক বা ভাস্কর ছিলেন সবচাইতে স্পস্টবাদী। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা স্বনামেই প্রতিবাদ করেছেন ও লিখেছেন। কিন্তু ক্রমাগত নোংড়ামী দেখতে দেখতে ও সামহোয়াড়ইনের আবাল কতৃপক্ষের কারনে উনারা ব্লগ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
আড্ডাবাজের কথা আলাদা। লোকটাকে সবমসয়ই সুবিধাবাদী মনে হয়।
আর মধ্যবিত্য লেখকদের সম্পর্কে কথাটা মনে আছে তো ?---
সেই যে,
বড় বড় কইরা লিখবো.....

"আসেন সবাই যুদ্ধ্বে যাই,
যুদ্ধে গেলে আমি নাই "
যাগো ডাকছে তারা ফ্রন্টে আর উনারা পার্ক স্ট্রিটে বসে রঙিন পানি পান করেন আর কোবতে রচনা করেন। যুদ্ধ শেষে এগোরও বড় গলা সোলনা যায়।
৮. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:১৬
কৌশিক বলেছেন: হাহাহাহা - ভাল বলেছেন।
হুমায়ুন আজাদের মত বাঙালী এখন পর্যন্ত জন্মায় নাই। তার উন্নাসিক বক্তব্যগুলোর জন্য যত সমালোচনা কিন্তু তেমন উন্নাসিক হওয়া একমাত্র তার জন্যই সাজে।
হুমায়ুন আজাদ একবাক্যে নজরুলকে রাজনৈতিক কারণে পপুলার বলেছেন বলে তিনি খারাপ। রবীন্দ্রনাথকে উনিশ বয়সীদের আদর্শ রোমান্টিক কবি বলেছেন বলে খারাপ।
তিনি নাস্তিকতার কথা সোজা সাপ্টা বলেছেন বলে খারাপ।
যার যোগ্যতা যতটুকু ততটুকুই বলেছেন বলে খারাপ।
কোন কালে বাঙালী সত্য কথা মুখ খুলে বলতে পেরেছে?
সেই সাহস কোন কবি, সাহিত্যিকের মধ্যে নেই, ছিলও না।
হুমায়ুন আজাদের ছিল বলে তাকে আমাদের সামাজিক কাঠামোতে ধরা যায় না।
এই বালের সমাজে হুমায়ুন আজাদকে ধারণ করার ক্ষমতাই নাই।

ভাস্কর আর জেবতিক যে কারণেই যাক না কেন এটা তাদের চরমতম ব্যার্থতা। এটা তাদের নিজেদের কাছে নিজেদের পরাজয়।

আড্ডাবাজ তো পুরো রাজনৈতিক। রাজনীতিবিদরা সববসময়ই চতুর্থ শ্রেনীর মানুষ।
৯. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:২২
মাহবুব সুমন বলেছেন: ফোস্কা পড়ার মতো লেখা লিখলে তো তা পড়বেই।
জানতে ইচ্চা করে হুমায়ুন আজাদ তার মেয়েকে স্বইচ্ছায় সে বই পড়তে দিসিলেন কি না !!
১১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:২৪
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: নারে, আমার সমাজের নির্মান না, হুমায়ূন আজাদের নিজের নির্মান। লরেন্স কে জানি না কিন্তু হুমায়ূন আজাদ একে সরেস বর্ণনা হিসেবে দেয় নি, রাজনৈতিক রং মাখিয়ে দিয়েছে, তার যেই ইমেজ, সেটার সাথে স্রেফ সরেস বর্ণনার কিছু মানাতো না তাই। সরেস বর্ণনা হিসেবে যদি জানতাম, তাহলে কখনও পড়তাম না। অনেক প্রশংসা শুনেছি, স্পষ্ট রাজনৈতিক স্টেইটমেন্ট হিসেবে নেটে তার একমাত্র বই যেটা পাওয়া গেল, সেই হিসেবেই পড়েছি।


মুসলিম সমাজের নাম বলুন না, যারা নিগৃহিত হয়েছে। পরিবর্তন যারা চেয়েছে, তাদের অগ্রভাগে কিন্তু বিজ্ঞানীদের পাবেন, ইসলামিক স্কলারদের পাবেন। ওদেরকে কিন্তু দেখবেন চরম ডানপন্থী হিসেবে, কিন্তু ইসলামের প্রতিটা ইমাম নিগৃহীত হয়েছে। ইমাম হাম্বলীর তো দুই হাত পুরাই প্যারালাইসড ছিল (ইন্টারেস্টিংলি, মুতাযিলাদের আক্রমনের স্বীকার হয়ে। ব্লগে শুনেছি মুতাযিলাদের মুসলিমরা আক্রমন করেছে, নিগৃহিত করেছে, কিন্তু ওরা যে ইসলামের কত স্কলারদের ওদের পছন্দমত ফতোয়া দেয়ার জন্য কি নিদারুণ অত্যাচার করেছে, সেটা কাউকে বলতে শুনি নি), যার কারণে, নামাযে হাত বাধতেন না, পাশে রেখে নামায পড়তেন। সংজ্ঞায়িত কি এদেরকেও চরম ডানপন্থী হিসেবে করা হবে? সাইয়েদ কুতুব? হাসানুল বান্না যে মারাই গেলেন! এরাও চরম ডানপন্থী? তাহলে দু:খিত, আমি প্রমান পাই নি, ওদেরকে কেউ ছেড়ে কথা বলে। বরং এখন, কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললে পৃষ্ঠপোষকতা করে রাষ্ট্র। সালমান রুশদি যে নাইটেট হলো :)। তসলিম নাসরীন কে নিয়ে কি নাচানাচি! দেশের মানুষের ইসলাম সম্পর্কে খুব নরম জায়গাটা এখনও আছে, তা অবশ্য ঠিক!
১২. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:২৬
জায়দান বলেছেন: কৌশিক-মাহবুব-আস্ত আলোচনার বৃত্ত। রাগিব ভাইয়ের ট্রলের সংজ্ঞা মনে পড়ে যায় রুবি রায়
১৩. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:২৬
কৌশিক বলেছেন: আমাদের বাপদাদারা কি আমাদের হাতে লরেন্স উঠিয়ে দিয়েছে? সুমন, এটা খুবই দুঃখজনক যে আপনি বিশ্বাসী হবেন আবার যুক্তিতেও থাকবেন। বিশ্বাসীদের সাথে যুক্তি অচল।
১৪. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৩৩
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: হুমায়ূন আজাদ সম্পর্কে আমি ভালো খারাপ দুইটাই শুনেছি। দুইটাই পরিবার থেকে। তাকে কয়েক মিটার দূর থেকে দেখেছিও বেশ কয়েকবার। আমাদের পাড়াতেই তো থাকতেন। একটু অহংকারী মনে হয়েছে। এখন দেখলে হয়তো আরেকটু বুঝতে পারতাম। অনেক বিতর্কিত, সব সময়ই হুমায়ূন আজাদের বই পড়ার ইচ্ছা ছিল বিতর্কিত মানুষ বলেই। আমার একটা প্রিয় স্যার ছিল, হুমায়ূন আজাদের সরাসরি ছাত্র, হুমায়ূন আজাদ বলতেই অজ্ঞান। আবার আরেকজন আপু ছিল, হিজাবী, উনি হুমায়ূন আজাদকে সহ্য করতে পারতেন না, ক্লাসে একেবারেই আনপ্রফেশনালি আজে বাজে কথা শুনাতো, স্রেফ হিজাবের জন্যই, সেজন্য। অনেক মুগ্ধতা, অনেক ঘৃনা... সব দেখেছি বলেই কৌতুহল ছিল। আমার একটা নাস্তিক কাজিন, একবার দশ বছরের আমাকে কাদিয়ে ছেড়েছিল হুমায়ূন আজাদের বই থেকে মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে চরম অসভ্য একটা কথা কোট করে। সব মিলিয়ে, কৌতুহল ছিল।


দেশে থাকতে কিনে পড়া হয়ে উঠে নি, কারণ আমার বন্ধুদের কাউকে কখনও পড়তে আগ্রহী দেখি নি। এখানে নেটে খুজে পেতে পেলাম 'পাক সার জমিন' বইটা। আমি পড়লাম। পড়ে আমি বমি করতে শুধু বাদ রেখেছি। একজন মানুষের রুচি এত খারাপ হয় কি করে? এসব কথা লিখে কি করে? সেদিন একজনের সাথে কথা হচ্ছিল, সে প্রচন্ড রকমের জামাত বিদ্বেষী ছিল সারা জীবন, আওয়ামী ঘরনার পরিবার থেকে এসেছে, খুব বিশ্বাসী জামাতের এক একজনের মুখোশের আড়ালে কিছু একটা লুকিয়ে থাকে, সেও বলছে ও বইটা দুই অধ্যায়ের বেশি পড়তে পারে নি। বমি করেছে দুই বার। আমার লেখাটা সাহিত্যিক মান, রুচির মান, বুদ্ধিমত্তার মান, কোন দিক দিয়েই মান সম্মত মনে হয় নি। এই রকম লেখার স্রষ্টা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলোর একজন? আমার মনে হয় নি। প্রশ্ন করতে পারতেন, সাহসী ছিলেন তা বুঝলাম। তবে সেটার জন্য সব সময় স্রেফ সাহস দরকার হয় না, হিরোইজম দরকার হয়। হুমায়ূন আজাদের হিরোইজম করার শখ ছিল, এইটা বুঝা যায়। হুমায়ূন আজাদে আমার যতটুকু এক্সপোজার, তাতে শ্রদ্ধা করতে পারি নি এখনও, বরং প্রচন্ড বিরক্তি হয়েছে। শক্তের ভক্ত, নরমের যম আমাদের দেশী মানুষেরা, একজন শক্ত কথা বললে, যত অনুচিত কথাই বলুক না কেন, তার অনেক ভক্ত জুটে যাবে, বিশেষত এই যুগে, যখন আতি পাতি খুজে কেউ কোন হিরো পাচ্ছে না... মানুষ মাত্রই পূজা করতে ভালোবাসে, যখন পূজা করার সত্ত্বা স্রষ্টাকে উঠিয়ে নেয়া হয়, তখন সেটা রবীন্দ্রনাথ না হয় হুমায়ূন আজাদ দিয়ে রিপ্লেইসড হয়.. মানুষ শুধু খুজে এমন এক স্বত্তাকে যে এমন কিছু পারে যা তারা পারে না, হুমায়ূন আজাদকে সেভাবে দেখেই অনেক মুরীদ জুটে গেছে। আমাকে একজন বলছিল, ওনার আইনবিদ শিক্ষক বলতেন, উনি কোন নবীতে বিশ্বাস করবেন না, যতক্ষন না পর্যন্ত ইমামেরা স্বীকার করছে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবীর একজন হলেন রবীন্দ্রনাথ! একই ফেনোমেনা!


এই কথাটা বলার জন্য আমি কিন্তু 'প্রতিক্রিয়াশীল' দেরই কোপের মুখে পড়ব! কিন্তু!!!

প্রতিক্রিয়াশীলগুলো এখানে ধর্মান্ধ নয়, প্রগতিশীল!


১৫. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৩৫
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: "এটা জানা কথা যারা মুক্ত চিন্তা করে তাদের প্রতিক্রিয়াশীলরা অনবরত কোনঠাসা করে রাখবেই।"... কি মজার, ব্লগের চরম ডানপন্থীরা একই কথা বলে নিজেদের শান্তনা দেয় ;)
১৬. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫০
কৌশিক বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি, চরম ডানপন্থীদের কোনঠাসা হবার কোন ভয় নেই। কারণ বাংলাদেশ শুধু নয়, বিশ্ব ব্যাপীই ডানদের জয়জয়াকার। কোনঠাসা সবসময় হয়ে এসেছে একজন গ্যালিলিও, ডারউইন, একজন হুমায়ুন আজাদ।

সংখ্যা গরিষ্ঠরা আফিম খায়, কখনও ধর্মের, কখনও জাতীয়তাবাদের। এই বিশ্বাসগত পরিমন্ডলের নিচে ঘুনে ধরা সমাজের এক চিত্রও রিয়েলিটি। সেটা আমরা দেখিনা। সমাজে সেটাকে প্রকাশ করতে নিষেধ। আমাদের অনেক কিছুর এক্সপোজার চাই, অনেক জৈবিকতা চাই, অনেক সম্পদ চাই। তার অন্বেষনে অনেক কিছু জলাঞ্জলী দেই আমরা প্রতিনিয়ত, কিন্তু সেটা বলা নিষেধ।

পাক সার জমিন, এই উপন্যাসটা পড়ে যেখানে তোমার বমি এসেছে, সেই জায়গাগুলো তোমার সমাজের নির্মাণ। একজন লরেন্স যখন সরেস বর্ণনা দেয় তখন তার অনুবাদ পড়তে আমাদের গায়ে লাগে না। কিন্তু হুমায়ুন আজাদ দিলে সেটাতে আমাদের ফোস্কা পড়ে।
১৭. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৫
মাহবুব সুমন বলেছেন: কৌশিকদা সম্ভব।
অপ্রাসংগিক ও আঁটেলদের কাছে যা আবাল সেই মার্কা যুক্তি দেই,
আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে বিশ্বাষ করেন তা হলে সেখানে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক কারনেই করেন। সেখানে যুক্তিও আসে, অনেক সময় সেটা অন্ধভাবে।
১৮. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৩
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: কৌশিক ভাই, আপনি আপনার মতো বলছেন। যারা এ ধারনার তাদের কাছে পোষ্ট টা মারাত্নক, আর যারা আপনার ধারনার বিপরীত তারা যাতা বলবে। আমি দেখবো ব্যাক্তি কৌশিক কি বলে?
আর আপনার এ বলায় কিছুই চেন্জ্ঞ হবে না, কারন আমি বিশ্বাস থেকে এখনও সরি নাই, আপনি আমার ডায়লগ শুনেও সরবেন না। তয় বস, পৃথিবীর সবকিছুই যুক্তিতে চলে না, বা চললে ও সেই যুক্তি জানা সম্ভব কিনা তাও জানি না। আধুনিক বিজ্ঞানের শেষ পর্যায় পর্যন্ত জানলে তখন হ য়তো বুঝতে পারবেন মানুষের পক্ষে আসলেই জানা সম্ভব কিনা সবকিছু যুক্তির নীরিখে।
তাই যেহেতু এগুলো প্রমানিত না, সেহেতু মানলেই বা ক্ষতি কি? কারো তো ক্ষতি হচ্ছে না। আর দু-একজন রাজাকার বা জঙ্গিকে দিয়ে তো কখনো বিচার করা উচিত না!
আর আমার কাছে সত্যি বলতে এসব ইন্টাল্যাকচুয়াল তর্ক বা সোশাল তর্ক রীতিমত অর্থহীন! কারন কনক্রিট কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না!
১৯. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৭
কৌশিক বলেছেন: সন্ধ্যা, ইসলামের অনুসারীদের আবার ডান বামের কিস্যা তো বিশাল ইতিহাস। সেটা রক্তাক্ত, ভয়ংকর আর চরমতম বর্বরতার। সেখানে আরো গোড়ামী, আরো ভন্ডামী। কেউ রুকু সিজদার নিয়ম নিয়ে মারামারি করে তো কেউ মিলাদ নিয়ে। অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কোন স্তরে নামাতে পারে সেগুলো বরঞ্চ উদ্ভাসিত হয় সেসব মর্মান্তিক ঘটনাগুলোতে।

যে সত্যি সমাজের সত্যি, একজন পুরুষ স্ত্রীকে বঞ্চিত করে অন্য নারীর সাথে নিশিযাপন করছে সেকথা বলার মত সমাজ তৈরী না হলেও সেটা ঘটছে। এই সত্যি আমরা বলতে পারি না।
একজন মানুষ দূর্ণীতিগ্রস্থ একজন মানুষের নিকট থেকে উপকৃত হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে কথা বলছে না, এটা সমাজের সত্যি। এটা আমরা বলতে চাই না।
সমাজের সব নির্মাণ প্রকাশযোগ্য নয়। অথচ প্রকাশযোগ্য নির্মাণই কেবল সমাজের বিকাশের জন্য যথেস্ট নয়। সমাজকে এই অবস্থানেই রেখে দেবার জায়গীরদার কে নিয়েছে?
২০. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৯
মাহবুব সুমন বলেছেন: উদাসী স্বপ্ন ভালো কথা বলেছে, একমত তার সাথে।
২১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫১
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: --জানতে ইচ্চা করে হুমায়ুন আজাদ তার মেয়েকে স্বইচ্ছায় সে বই পড়তে দিসিলেন কি না !!

--আমাদের বাপদাদারা কি আমাদের হাতে লরেন্স উঠিয়ে দিয়েছে?


কৌশিকদা আজাদকে লরেন্সের সাথে এক কাতারে কি ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেলেছেন নাকি অনিচ্ছাকৃত? যদি তিনি রাজনৈতিক রং না মাখতেন, তাহলে আরেকটু সাহসী মনে হতো, ইচ্ছা হয়েছে পর্ণ লিখতে, ঢাবির প্রফেসর বলে কি পর্ণ লিখতে পারবেন না? এরকম সৎ সাহস নিয়ে লিখলে হয়তো আরও ভক্ত জুটতো, অবশ্য রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কমতো :))
২২. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৫
কৌশিক বলেছেন: উদাসী স্বপ্ন, আপনার বক্তব্যটা অনেকটা এরকম।
আমরা যেহেতু জানি না মৃত্যুর পরে কি হবে সেহেতু মেনেই গেলাম, যদি তখন সত্যিই বেহেস্ত থাকে তবে তো আর দোযখের আগুণে পুড়তে হবে না!

এই বিশ্বাসীদের বিশ্বাস তো চরমতম ভন্ডামী। আসলে তারা অবিশ্বাসীরই আরেকটা প্রকার। এবং এইটা বোঝার জন্য আপনাকে খারিজ করতে হবে সব বিশ্বাস। ছেলেভুলানো যুক্তি নিয়ে বাল্যবেলা কাটিয়েছেন ভালো, এখন তো আর কিশোর নন!
২৩. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮
কৌশিক বলেছেন: সন্ধ্যা, হুমায়ুন আজাদের যে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না এই জিনিসটা বোধহয় তুমি জাননা। আজাদ রাজনৈতিক রঙ না মাখা একমাত্র বাঙালী।
২৪. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:০৫
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: কৌশিক ভাই, বাশ দেন ভালা কথা মূলিটা মারেন কেন?

আমার নিজের ব্যাপারে তো ঐটা বলি নাই। আর আমি ঐটা মনে কইরা বিশ্বাসও করি নাই। আর দ্বিতীয় কথা, আমি বিজ্ঞানের কাছে এমন কোনো স্ট্রং কিছু পাইনি বলেই অবিশ্বাসীদের কাতারে নাই। আপনিই বুকে হাত দিয়ে বলেন, বিজ্ঞান কি এরকম কিছু ষ্ট্রং কিছু দিতে পেরেছে? বিজ্ঞান কি পেরেছে বিগ ব্যাং এর পূর্বে কি ছিলো, অথবা বিগ ব্যাং এর পরপরই কি ঘটেছিলো তার ব্যাখ্যা দিতে? কারন টাইম ছাড়া বিজ্ঞান এখনও কিছু বলতে পারে না। আর প্রাকটিক্যালি টাইমকে বাইপাস করা আমার কাছে মোটামুটি অসম্ভব মনে হচ্ছে!
বস বুঝতে পারছেন মনে লয় কি কইছি?
২৫. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:০৬
মাহবুব সুমন বলেছেন: কেউ যদি তার বিশ্বাষ নিয়ে থাকবার চায় তারে থাকতে দিলে সমস্যা কি ? এইটাতে তো কারো কুনু সমস্যা হচ্ছে না।

আসলে কিছু মানুষের সমস্যা হইলো যে তারা যেটা বিশ্বাস করে সেইটারেই স্বতসিদ্ধ মনে করে।
ধর্মান্ধরা যেমুন মনে করে তারাই ঠিক আর বাকি সব পথভ্রস্ট ঠিক সেরম কিছু আঁটেল বা অনেক নাস্তিক মনে করে তারা যেইটা ভাবে বা বিশ্বাষ করে সেটাই সঠিক ও স্বতসীদ্ধ, বাকি সব " আবাল"।
আমি এই দুই দলের মাঝে ফারাক খুঁজে পাই না।

আজকাল কিছু পাবলিক নাস্তিকতার নামে ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বইলা ভাবে যে বিশাল কিছু বইলা ফেলাইলো, মগর হেগো কাউরে দেখি নাই অন্য ধর্ম নিয়ে কিছু কইতে !! ক্যান তারা কি অন্য ধর্ম নিয়ে কথা বলতে পারে না ??? নাকি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম নাই পৃথিবীতে ??? !!

কিছু কাঠ মোল্লা যেমুন ২ পাতা কোরআন পইড়াই ফতোয়া দেওয়া শুরু করে তেমুন কিছু আঁটেল ২টা বই পইড়াই বড় বড় কথ কয়। হেরাই আবার বাপের জানাজায় যায়, হেরাই আবার কলমা পইড়া বিয়া করে। তখন সমস্যা হয় না !!
২৬. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১১
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: কৌশিক,
ইসলামের স্কলাররা সব সময় পারষ্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতেন, সেই সময়ের স্কলারলি পারসুট পড়লে অনেক বড় একটা সত্য জানা যায়, যা আর্মস্ট্রঙের মত অনেকে বলছে এখন--পশ্চিমা সভ্যতার মূল ভিত্তিই মুসলিমদের থেকে নেওয়া। রুকু না সিজদা, সিরাতল্লাজি না জিরাতল্লাজি, এগুলো নিয়ে রক্তারক্তির ঘটনা ইসলামে রিলেটিভলি নতুন, আর এগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা যেই স্কলাররা করে না, তাদের রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতা করে না। আমি বললাম আমি এগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করি না, তাই বলে কি আমাকে রাষ্ট্র, সমাজ সমর্থন দিবে? ব্লগে খুব নিগৃহীতদের একজন কিন্তু আমি, মাসুদা ভাট্টি যেই করুণ সুর গাইলেন, সেখানে এটার উল্লেখ কিন্তু পেলাম না। বাংলাদেশের ইতিহাস আর স্বরূপ ডিকনস্ট্রাক্ট করলেন, পুরাপুরি এই দিকটা এড়িয়ে গিয়ে। আমার সেটা ভন্ডামি মনে হয়। যাক গে, আমি একটা মেয়েকে চিনি, যে ইসলামকে খুবই ভালোবাসে কিন্তু মাদ্রাসায় পড়েছে বলে সেখানকার ভন্ডামি দেখেছে, জানে। ও জামাত ভালোবাসে, কিন্তু কি মনে হয়, ও মেয়ে হয়ে যদি মাদ্রাসার শিক্ষকদের ভন্ডামির কথা বলে, একই সাথে প্রগতিশীলদের ভন্ডামির কথা বলে, নারীবাদী কথা বলে, একই সাথে হিজাবের পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাহলে কি ওকে আপনি পৃষ্ঠপোষকতা করবেন? হুমায়ূন আজাদ বেশ বড় একটা প্রভাবশালী মহলের সমর্থন পেয়েছিল সেগুলোর কিচ্ছু কি মেয়েটা পাবে? তসলিমা যেভাবে আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ পেয়েছে, তার কিচ্ছু কি মেয়েটা পাবে? তসলিমাও তো দেশে কোন সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা পায় নি, কিন্তু ছিল না? ওর ইসলামের চিন্তাভাবনা আমার সাথে অনেক সময় অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়, ও ধার্মিক, অধার্মিক সবার ভন্ডামি নিয়েই ত্যক্ত। ও যদি এগুলো নিয়ে লিখে, সেগুলো হবে সত্যিকারের সত্য কথন, কিন্তু ও সত্য কথাগুলো বলে কখনও কিছু পাবে না। আমি জানি। ও যে বলবে এক সময়, তাও জানি। আরেকজন আপুকে আনার চেষ্টা করছি ব্লগে, যে বড় হয়েছে খেলারাম খেলে যা আর পাক সার জমিন পড়ে, ইসলামপন্থীদের প্রচন্ড ঘৃনা করে, এমনকি বাবাকে বলেছেও, তুমি দাড়ি রাখলে তোমাকে বাবা ডাকব না... কিন্তু ভাগ্যের ফেরে বিয়ে হয়েছে এক ইসলামপন্থীর সাথে। না জেনেই। পুরা পৃথিবীটাই উল্টে গিয়েছে ওর। প্রথমে তীব্র অবিশ্বাস, তারপরে অনেক অনেক দেখে এখন জীবনের মোড় ঘুরে গিয়েছে। ওই দুইটা গ্রন্থের লেখকদের এখন জানে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী হিসেবে, আর কুরুচিপূর্ণ লেখক হিসেবে। আপুকেও আনার চেষ্টা করছি ব্লগে। উনি খুব স্পষ্ট করেই বলে, উনি লিখে যাবেন যাদের ভন্ডামি যত টের পেয়েছন, সব নিয়ে। আড্ডাবাজ প্রায়েই সিডনীর যেই মামলার কথা বলে, সেই মামলার সাথে জড়িত মানুষদের ভন্ডামি, দুর্নীতির কথা আপু জানে। সেগুলো থেকে শুরু করে যাযাদিতে চট্টগ্রাম ইউনি নিয়ে মিথ্যা খবরের রিপোর্টার... সবাইকে নিয়ে লিখবেন এক এক করে। উনি কিন্তু খুব সত্য ভাষন করবে। কি মনে হয়, বাঁচবেন আপু? পৃষ্ঠপোষকতা পাবে একটুও? পাবে না। যেই বিরোধিতার সম্মুখীন হবে, সেটার তুলনায় হুমায়ূন আজাদের বিরুদ্ধের বিরোধিতা কিছুই না। কারণ আজাদের শত্রুরা ঠিক পথে আগাতে পারে নি, ওরা মিথ্যা বলে নি কখনও, খুবই অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়ে কুপিয়েই বসলো... কিন্তু আপুর বিরুদ্ধে ইনএভিটেবলি অনেক মিথ্যা ছড়বে। যেই দুই জনের কথা বললাম, দুইজনের বিরুদ্ধেই। ও নিজেই জানে, কারণ কারা কিভাবে মিথ্যা কথা দিয়ে প্রপাগান্ডা করে, সেটা এখন ও জানে। এই যে, যাদের লরেন্সের মত লেখা লিখে অন্য কিছু দিয়ে ঢাকার প্রয়োজন নেই, তারাই সত্যিকারের নো ম্যানস ল্যান্ডে। সত্যি উপলব্ধি মানুষ এক সময় না এক সময় করে, সেই আশাতেই এদের পথ চলা!
২৭. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১৭
কৌশিক বলেছেন: মাহবুব সুমন, এইটা বড় একটা উম্মা ঝাড়লেন। কোন যুক্তির কথা নয়। মননশীলতারও নয়। বিশ্বাসীরা পৃথিবীটাকে অবিশ্বাসীদের জন্য নরক বানিয়ে রেখেছে। অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীদের জন্য কোন ভয়ংকর কিছু নয়। বিশ্বাসীরা মনে করে নাস্তিকদের সাথে মিশলে এরা নষ্ট হয়ে যাবে।

ধর্মের প্রচার ও ধার্মিক যত বাড়ে দূর্ণীতি তত বাড়ে সমাজে। বাংলাদেশের দিকে তাকান। মসজিদ আর টুপিতে দেশটা ভরে আছে আবার সব দুর্ণীতিতেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে আছে। বিশ্বাসীদের মধ্যে সমস্যা, দৃষ্টি সেখানে দিন, অবিশ্বাসীদের নিয়ে চিন্তা না করলেই ভাল।
২৮. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: আইসো বলি ছুম্মা আমিন!
২৯. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:২৫
কৌশিক বলেছেন: সন্ধ্যা, ইসলামের স্কলাররা পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতেন এই বক্তব্যটা তোমার একদমই নিজস্ব। ইতিহাস তা বলে না। হুমায়ুন আজাদ মিথ্যা কথা বলেছে আর একজন দাড়ি টুপি ওয়ালাও যে মিথ্যা বলতে পারে এটা তোমার উদ্দিষ্ট দুইনারীর জীবনের অভিজ্ঞতাতেই হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু হুমায়ুন আজাদ মিথ্যা কথা বলেছে এটা প্রমান করতে হলে তোমাকে তো অনেক কাঠগড় পোহাতে হবে।

আজাদ মনগড়া বিশ্বাসের কথা বলেননি। তার প্রবন্ধগুলো পড়ে দেখো। তিনি বাঙালির মনজগতকে চিনেছিলেন। তিনি চিনেছিলেন হাজার বছরের বাঙালির সরূপ, তাদের যোগ্যতা, সমর্থতা। আজাদ সন্বন্ধে তোমার আরো ব্যাপক পড়াশুনা করা দরকার, একজন বাঙালিই আছেন যাকে নিয়ে তুমি আন্তর্জাতিক বলে বড়াই করতো পারো। শ্রদ্ধা করতে পারো।
৩০. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩১
মাহবুব সুমন বলেছেন: হাহাহ, ডাংকে মাইট।

যেমুন ধরেন , একটা সময় সোভিয়েত কমরেডরা নাস্তিকতায় বিশ্বাষী আসিলো, সে সময় কি সোভিয়েত রাশিয়া দূর্নীতি মুক্ত হয়া গেসিলো ?? বা নাস্তিকতাই কি সব দূর্নীতির সমাধান? এটা একটা উদাহরন দিলাম মাত্র।

ধর্মের সাথে আমি অনাচারের সম্পর্ক খুঁজে পাই না।
সমস্যা হলো যখন আপনি সেই ধর্ম বাহ্যিকভাবে পালন করবেন কিন্তু তার আদর্শ পালন করবেন না। দূর্নীতি দমনের জন্য অনেক আইনতো আছে দেশে কিন্তু দুর্নীতিতো কমে না ?? কমে নে ক্যানে সেটা বের করতে হবে, এর জন্যতো আইনরে দোষ দেওন যায় না। প্রয়োগ হয় না কেন বা কেন দূর্নীতি হয় সেটা বের করন লাগবো।

আমি যেই দেশে আছি বা তার কাছেই খুব কাছেই নিউজিল্যান্ড। দেশ ২ টা দূর্নীতিমুক্ত লিস্টে প্রথমে আছে। আর যাই হোক এরা নাস্তিকতাকে যেমন সাপোর্ট করে না তেমনি ধর্মকেও সাপোর্ট করে না। যার যা বিশ্বাষ সেটাতঐ সম্মান করে এরা।

যাউগ্গা, যুক্তি প্রকাশ বিভিন্ন প্রকার হইতে পারে। আমার মনে হয় এটা জানেন যদি কখনো বিতর্ক শেখার ওয়ার্কশক করে থাকেন। আমি অনেকসময়ই রিলেটিভ টার্ম ব্যবহার করি যাতে সেটা সহজবোধ্য হয়, যদিও এটা আক্রমনাত্মক।

এইটা কি কইলেন , " বিশ্বাসীদের মধ্যে সমস্যা, দৃষ্টি সেখানে দিন, অবিশ্বাসীদের নিয়ে চিন্তা না করলেই ভাল।" আমিতো ভাবসিলাম যে যার জায়গায় থাইকা পরস্পরের প্রতি সম্মান করবো !! সেটা আর হইলো না !!
বিশ্বাষীরা চিন্তা করবো না অবিশ্বাষীদের নিয়া মাগার অবিশ্বাষীরা চিন্তা কইরা চুল পাকায় ফেলবো তাগো !! কেমুন যেন ডাল স্টান্ডার্ড হয়া গেলো না কথা টা ?
৩১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৪
মাহবুব সুমন বলেছেন: হুমায়ুন আজাদ কইতেন হুমায়ন আহমেদ লিখে অপন্যাস !! উনি জীবনে অপন্যাস লিখবেন না। আর পরে সেই উনিই লিখলেন ছাপ্পান্য হাজার বর্গমাইল নামের উপন্যাস !! আজব।

"তুমি করলে সেটা পুংটামি আর আমি করলে সেইটা শরিয়তি " হাহাহহা
৩২. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৫
নাজিল আযামী বলেছেন: হুমায়ূন আজাদ খুব কৌশলে ইসলাম বিরোধি প্রচারণা করেছেন । আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজিবি সমাজ তাকে মাথায় তুলেছিল । যাই হোক তার কট্টর ধর্ম বিরুধিতার জন্য তাকে আমার ভাল লাগতো না । এটা আমার নিজেস্ব মতামত । ধন্যবাদ ।
৩৩. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৮
কৌশিক বলেছেন: মাহবুব, দূর্নীতি আর ভন্ড সমাজের জন্য দায়ী ধর্মের বাড়াবাড়ি রকমের শারিরীক উপস্থিতি। সেটা যখন ওয়ালে দেহে, কলমে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চকচকে করার ব্যবস্থা হয় সেটাই হয়ে যায় দেশে একটা ভন্ড, অথর্ব, নড়বড়ে সমাজ ব্যবস্থা তৈরীর প্রধান কারণ। আমাদের বুয়েটে, ঢাকা ইউনিতে সব সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে বড়বড় মোল্লাদের দখলে। তারা কখন ধর্মকর্ম করবে কখন গবেষনা করবে। সুযোগ পেলেই তাবলীগে দৌড়াবে নইলে দাওয়াত দেবে।

বাঙালী চিরকালিনই অলস জাতি। আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানের বইগুলো বাঙলায় করা হয়নি, ব্যবসা প্রশাসনের বইগুলো বাঙলায় নেই, অথচ এসবে পন্ডিত বাঙালীরা ধর্মকর্মের বড় বড় বই লিখে যাচ্ছে। এসবই হুমায়ুন আজাদের কথা, কিন্তু আপনি কিভাবে খন্ডাবেন? এগুলোতে জলজ্যন্ত সত্য সমাজের।
৩৪. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৪১
কৌশিক বলেছেন: হুমায়ুন আজাদের উপন্যাস পড়ে বোঝার মত বিদ্যা চাই, আপনাদের মত এভাবে একবাক্যে উড়িয়ে দেবার মত পন্ডিত বাংলদেশে দুটি নেই।
৩৫. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৫০
মাহবুব সুমন বলেছেন: অতি সত্য কথান, এজন্য শিখতেই আছি সবসময়।
৩৬. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:১৭
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: পোস্ট পড়লাম। প্রথমবারের মতো মন্তব্য করছি আপনার ব্লগে।


হুমায়ুন আজাদ তাঁর 'আমার অবিশ্বাস' বইতে লিখেছেন, মনে পড়ে, মানুষ জীবন যাপন করে না, করে প্রথাযাপন, প্রথা জীবনের শত্রু, প্রথায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে প্রথাকেই মনে হয় জীবন আমি সে কথায় একমত, তবু প্রথামুক্ত হতে পারি না সবসময়, যন্ত্রণা বোধ হয় যখন আপোষ করি, নানা স্তরে, ভদ্রতার দায়ে কিংবা সাহসের অভাবে। প্রথাগত ভদ্রতা মেনে চলা তো ভণ্ডামিই, আমি ভণ্ড হতে চাই না, টাকার জন্য কোনো পত্রিকায় রসিয়ে রাশিচক্রের মতো দুর্গন্ধময় কাব্য লিখতে চাই না, টেলিফোনে স্লামালেকুম বলে আমার নাস্তিক-অধার্মিক পরিচয় লুকোতে চাই না, জাতীয়তাবাদে ভীষণ আস্থাহীন আমি, পতাকা-ফেটিশ নেই আমার, এমনকি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ফেনাতে চাই না কোনো প্ল্যাটফর্ম, অথচ মুক্তিযুদ্ধ আমার ভালোবাসা, ব্যক্তিগত প্রেমিকার মতো, নিখুঁত হবার দরকার নেই যাঁর আর ইতিহাস-অন্ধ নই মোটেই, গণহত্যা বা বধ্যভূমিকে অস্বীকার করার স্পর্ধা হারাতে রাজি স্বেচ্ছায়।


আমার আগ্রহ বরং সমকালে, অদ্ভুত আঁধারে ছেয়ে গেছে যে সময়, প্রকাশ করতে চাই তা, আমার মতো, জানি প্রকাশক্ষেত্রভঙ্গি সীমিত, উচ্চারণও দুর্বল, তবু ভণ্ড হতে চাই না, অস্থির বোধ করি গতকালের মতো, গতকাল এখনও অস্থির।


আর এ ব্লগ ছেড়ে যাওয়া মানেই লড়াইয়ে পিছুটান নয় যে যুক্তিতে ধিক জানালেন ব্যক্তিনাম উল্লেখ করে, তার সাথে একমত নই।


ভালো থাকবেন।
৩৮. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৯
k বলেছেন: ভাল লিখেছেন।
৩৯. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:১৭
পাহাড় বলেছেন: লেখাটা মারাততক হইছে। এই রকম লেখার দরকার। বর্নচোরাগোরে ধরার দরকার আছে। আরও লেখা চাই আপনার কাছ থেকে। ফেবারিট কইরা রাখলাম।
৪০. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:২৫
জায়দান বলেছেন: পাহাড় তুমি কি ফ্রন্টপেজে ব্যান?
৪১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:২৬
জায়দান বলেছেন: তোমার সওয়াব কামাইয়ের কি হইবো?
৪২. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:২৮
পাহাড় বলেছেন: জায়দান,
আমার লেখা পথম পাতায় আসে না। আমি তো আমার বিশ্যাসের কথা লিখছি। জানি না, ব্রান্ড কি না। আমি আমার লেখা আমার বলগে লিখুম। যা গো মন চায, তারপ পড়ব। যাগো মন চায়, তারা কামড়াইব। এইডা নুতন কিছু না।
৪৩. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:২৯
আরণ্যক যাযাবর বলেছেন: এইরকম লেখা লিখে আপনি পাহাড় দের কাছে সাধুবাদ পাবেন, কোন সন্দেহ নেই।
৪৪. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:৪৪
জায়দান বলেছেন: ব্যান হইয়া পাহাড় কি বুঝলা? পরগাছারে কইয়া দেখো, সে ব্যানমুক্ত করায় দিবে।
৪৫. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:২৫
পাহাড় বলেছেন: জায়দান,
আমি কারো আগে পাছে নাই। ব্রানড করলেই কি, না করলেই কি। আমার কতা আমি লিখব, বলব। এটা আমার অধিকার। কারো বাড়া ভাতে ছাই দেই নাই। আমার মতো আমি লিখব।
৪৬. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৩১
ডাক্তার আইজউদ্দিন বলেছেন: কৌশিক আমি কিন্তু তোমারে নিজেরে নিকে দালাল কইসি আরিলের আর নট দ্যা ভেরি ফার্সট টাইম ইদার। আমি মনে করি তোমার চিন্তা ভাবনায় বড় ধরনের সমস্যা আচে। আচে তোষামোদি আর মন রক্ষা করে চলার মত উপাদান।
৪৭. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:৫১
সোনার বাংলা বলেছেন: 'পৃথিবীর যাবতীয় নবী, রাসুলের চেয়ে একজন হুমায়ুন আজাদ অনেক বেশী ক্ষমতাবান, অনেক বেশী পৃথিবীকে সামনে টেনে নিয়েছেন। কুৎসিত পৌরনিক বিশ্বাসের মাস্তুলে পাল দিয়ে আজকের বাংলাদেশ যেখানে ক্রমশ মধ্যযুগে চালিত হয়েছে সেখানে হুমায়ুন আজাদরা একজন সত্য নবী, একজন আলোর পয়গম্বর হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। প্রথা ভাঙা তাদের কাজ।'

ভাই আপনার এই কথা গুলা শুইনা হয়তো হ.আজাদ
মিয়াই কাইত হইতেন। তিনি কি কাম কইরা এতো
বড় সত্য নবী হয়ে গেলেন? ঢা.বির নবী হইতে পারে
হয়তো! পুরা বিশ্বের ..............!
কেউ থাকলে আমায় ধরো..........

ভাই কিছু খাইছেন বা পান করিয়াছেন..........?


৪৮. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৫:১৩
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: কৌশিক, ব্লগে সিরিয়াস রাইটিং সম্ভব জানতাম না। আপনার এই পোস্টটা পাঠযোগ্য। অন্যান্যের মন্তব্যগুলো কোথাও কোথাও যৌক্তিকতার দাবি রাখে।
এছাড়া, যারা হুমাযূন আজাদ বা আরজ আলী মাতুব্বর পড়েনি, যারা যেকোন বইয়ের ফ্লাপ পড়ে ক্ষান্ত দ্যায় পড়া অতঃপর আলোচনায় নিবিষ্ট হয় তাদের মধ্যে উপর্যুক্ত দুই মনীষীর গভীরতা, ভাষা কিংবা যোগ্যতা কোনটাই গ্রহণযোগ্য হয়না। যে কারনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিজনাল `হলুদ হিমু কালো ্রাব' বেস্ট সেলার হয়...
৪৯. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৭:৪১
হারাধন. বলেছেন: আরে আদা খবর কি ? ব্রেকফারস্ট কি দিয়া করলা>
৫০. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৭:৪৯
কৌশিক বলেছেন: জিকো, কোথায় শুভর জন্য লড়ছে তারা? আমার মাথায় ঢুকলো না। নিজের ঘরে বসে সাহিত্য চর্চাকে কি সেই অর্থে দেখছেন? আরো নাম উল্লেখ করার দরকার ছিল, কিন্তু বাকী গুলোকে আমার আরো বেশী নপুংসক মনে হয়। হুমায়ুন আজাদের উদ্ধৃতি তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। সেই সাথে প্রথম মন্তব্য করার জন্যও।

আঈজউদ্দিন, তোমার মাথার ঘিলু আস্তে আস্তে সব কৈলাসে গিয়ে উঠেছে। সবার মন রক্ষা করার বিষয় আমার পোস্টে কখনই থাকেনি। যে একটা লেখা পছন্দ করেছে সে পরের লেখা পছন্দ করেনি।

ব্লগের একটা সিরিয়াস চরিত্রের সাথে একটা ফানি চরিত্রও আমরা যাপন করি। আর কেউ না করলেও আমি করি। এটাকে বলতে পারো একদিকে, চিন্তা, বিশ্লেষণ আর নির্মাণের, অন্যদিকটা, নিটোল স্ফুর্তি অন্বেষণ। আমি সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধ বলে মুখ হাড়ির মত করে জামাতের দিকে পাছা ঘুরিয়ে থাকতে পারি না। মাঝে মাঝে তাদের দিকে তাকিয়ে অবহেলায় দুয়েকটা সুপ্রভাত ছাড়তেও ভাল লাগে। এটা একধরণের বিনোদন।

অলি, ব্লগের প্রথমদিকের পোস্টগুলো যদি দেখেন তবে আপনি শুধু সিরিয়াস বিষয়ের অনেক লেখা পাবেন। তা নিয়ে আমরা গতবছর বইমেলায় "অপর বাস্তব" নামে একটা বইও বের করেছিলাম। ঐ সমস্ত লেখাগুলো পড়ার জন্য আপনার কয়েকজন ব্লগার ব্রাউজ করলেই হবে, যেমন, রাসেল (........), অপ বাক, দীক্ষক দ্রাবিড়, জামাল ভাস্কর।
৫১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৮:১২
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: জিকো ভাইয়ের পুষ্টের অবিশ্বাসের কোট পড়ে মনে হচ্ছে আসলে আজাদ না চিনে একটা সময় চিনতে ভুল করেছি!

খাড়ান কৌশিক দা পইড়া লই। আপনি আপনের রাস্তায় আগান!
৫২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০২
আউটসাইডার বলেছেন: হায়রে এখানে এত জোশ একটা বিতক' চলতেছে? দারুন লাগলো সবার লেখা পড়ে, কৌশিক মন রক্ষা করে চলেন না বলেই আমার ধারনা।
৫৩. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: সত্য হইলো আগুনের মতো যতই চাপাচাপি করেন, দাউদাউ কইরা জ্বলবোই। সত্যকে কেউ কোনোদিন দমায়া রাখতে পারে নাই--------দাঙ্গা (মান্না অভিনীত, মান্নার ডায়লগ)!
৫৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৪
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: আমি হুমায়ুন আজাদের একটা লাইন বলেছি মাত্র : "মানুষ জীবন যাপন করে না, করে প্রথাযাপন, প্রথা জীবনের শত্রু, প্রথায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে প্রথাকেই মনে হয় জীবন"।


বাকি কথা আমার। আর কমা, দাঁড়িগুলো গায়েব হয়ে কীভাবে, বুঝলাম না।
৫৫. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৭
কৌশিক বলেছেন: ব্রেভো জিকো! ব্রেভো!
৫৬. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৫
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: কৌশিক, আপনার মতামত শ্রদ্ধা করছি। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ-আক্রমণ না করে মতাদর্শ বা যুদ্ধের কৌশল নিয়ে বলতে আগ্রহী।


সামনাসামনি যুদ্ধ করা মানে কি এই সামহোয়্যারইন ব্লগে এসে ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে লিখে যাওয়া? স্বাধীনচিন্তা বা মুক্তবুদ্ধি বা লেখনীযুদ্ধের প্ল্যাটফরম হিসেবে এই ব্লগকে এত গুরুত্ব দেয়ার কারণ কী? এ ব্লগকে "পৌরণিক সভ্যতার ধ্বজাধারী শোষকদের" বা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি মনে করছেন কেন?


প্রথাকে মানা এবং প্রথার বিরোধিতা করা, দুটোর অর্থ হলো প্রথাকে পাত্তা দেয়া। বরং কার্যকরী যুদ্ধকৌশল হতে পারে : প্রথাকে অগ্রাহ্য করা। তাকে পাত্তা না দেয়া।


আর আপনি যখন বলছেন : চিন্তা, বিশ্লেষণ আর নির্মাণের পাশাপাশি নিটোল স্ফুর্তিও অন্বেষণ করেন, তখন অন্য প্ল্যাটফরমে মুক্তিযুদ্ধ-চেতনার পাশাপাশি নিখাদ সাহিত্যচর্চা করলে সমস্যা কোথায়? তথাকথিত ছাগুতাড়ানোর পেছনে যে পরিমাণ শ্রম-সময় দেয়া হচ্ছে এখন, সে শ্রম-সময় দিয়ে নিজের বক্তব্য-মতাদর্শ প্রচার করতে বেশি কাজ দিবে। ব্যক্তিগত মত।
৫৭. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৬
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: প্রথাকে অগ্রাহ্য করা কি নতুন প্রথার জন্ম দেয়না?
অনেকটা পোষাকী ফ্যাশনের মতই, ঘুরেফিরে একই বৃত্তে ..
৫৮. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৩
পেত্নী বলেছেন: উঁলেব্বাবাঃ .. এঁইখাঁনে সঁব গ্যাঁনি মঁনুরা নানানলঁকম বুদ্দিমান কথাঁ লেঁখে।
আঁমার ভয় কলে।
৫৯. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৫
কৌশিক বলেছেন: জিকো, সমস্যাটা তো ঐখানেই। আপনি সমাজে বাস করেন শুধু মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিবুদ্ধিওয়ালাদের সাথে নয়। সামহোয়ার সমাজের তেমন একটা মডেল। সেজন্য এই প্লাটফর্মটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া অবশ্যই উচিত। সেজন্যই সামহোয়ার সবসময় পৌরনিকদের পক্ষেই থাকবে। যেমন সমাজেও তাদের জয়জয়াকার।

আপনি অনেক জায়গায় লিখতে পারেন, হাজার খানেক জায়গায় লিখতে পারেন, তাতে আপনার মত প্রকাশ হবে, লোকজন জানবে। কিন্তু যারা জানছে তারা এসে বলে যাবে, ঠিক লিখেছো জিকো, গুড, ব্রেভো! আপনার মেসেজ যাদের জন্য তাদের অভিমত দেখবেন না, আর সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হচ্ছে আপনি বিষয়ও পাচ্ছেন না স্পেসিফিক কি এড্রেস করা দরকার।

ছাগুতাড়ানোর এই কৌশলটাই বরঞ্চ প্রথা হয়ে দাড়িয়েছে যা যুক্তির বোধকে নিরর্থক হাস্যকর করে ফেলেছে। পাত্তা দেয়া না দেয়া বিচার করার বিষয় এটা নয়, যা পাত্তা দেয়া দরকার তা পাত্তা দিতেই হবে। শুধু কথার মারপ
৬০. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১২
বাকী বিল্লাহ বলেছেন: বেশ একটা তপ্ত মুডে আছো মনে হচ্ছে? যাহোক, পোস্টটা শেষ পর্যন্ত শুধু হুমায়ুন আজাদে গিয়া ঠ্যাকে নাই এটাই আশার কথা।
৬১. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৪
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: কৌশিক:
সামহোয়্যারইনব্লগ এ সমাজের কোনো মডেল হিসেবে দেখানোর কারণ নেই। এটা ইন্টারনেটের একটি সাইট, ব্লগিং সাইট, যারা ব্লগ করার সেবা দিচ্ছে বিনামূল্যে, এবং এই ব্লগসেবার নেপথ্য উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক। হতেই হবে বাণিজ্যিক, নয়তো প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকবে কী করে কর্পোরেট যুদ্ধে? হ্যা, বাণিজ্য করার কৌশল তাদের ভিন্ন। তবে রেডিও ফূর্তির বিনোদন দিয়ে, ভূমিধ্বসে আহতদের জন্য সামাজিক ক্যাম্পেইন করে বা টুকটাক সমাজ সেবার প্রলেপ দিয়ে আজকাল কর্পোরেট স্বার্থ আড়াল করা মুশকিল। এবার হয়তো নতুন কৌশল লাগবে। গরিবদের জন্য ব্লগিং প্রচারণাও কি সে কৌশলের অংশ? ঝাঁঝালো কুশলী ব্লগার, যাদের লেখার হাত ধারালো, তাদের ইমপোর্টও করা যেতে পারে। সেসব ব্লগার বুদ্ধিবৃত্তিক মগজ ধোলাই করে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা এবং আদর্শ পুশ করার চেষ্টা করবেন নিয়ত। এটাই তো বাণিজ্যখেলা।


সামহোয়্যারইনের নীতিমালা আছে। থাকতেই হবে। বাণিজ্যিক স্বার্থ বলে কথা। এবং সে নীতিমালা দিয়ে আকর্ষণ করবে ক্লায়েন্টদের। এখন সে নীতিমালায় আকৃষ্ট হতে পারেন ইসলামী কবি, পাকিস্থানের জাতীয়তাবোধে বিশ্বাসী সাংবাদিক অথবা ইন্ডিয়ান রুইয়ের পাইকারি বিক্রেতা।


কর্পোরেট দৃষ্টিকোণ থেকে এঁরা সবাই সামহোয়্যারইনের ক্লায়েন্ট। সম্মানিত ক্লায়েন্ট। নীতিমালায় বিশ্বাসী ক্লায়েন্ট। হ্যাঁ, নীতিমালা তাদের মানতেই হবে। যারা মানবেন না, তারা ক্লায়েন্ট হবার যোগ্যতা রাখেন না। তারা ক্লায়েন্ট নন।


সামহোয়্যারইনের ক্লায়েন্ট না হলে কি যুদ্ধ করা যাবে না? যাঁরা ক্লায়েন্ট নন, তারা কি ভীরু, কূপমণ্ডুক? এটাই ছিল আমার প্রশ্ন, আপনার কাছে। কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়।


এখন প্রশ্ন, কী চাইছেন আসলে? নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চান হুমায়ূন আজাদের সাহসী চেতনা? মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে চান? তাহলে আপনাকেও ভাষা বদলাতে হবে, তাদের কাতারে আসতে হবে। কর্পোরেট কৌশল খাটাতে হবে। ব্যক্তি আপনিই তখন প্রতিষ্ঠান। তবে তার উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক হবে না, হবে তার কাউন্টার-স্ট্রাটেজি। আমার বক্তব্য এটাই।


এখন আপনি, আমি বা রামশামযদুমধু ভেতরে ভেতরে একজন ভণ্ড কিনা, সেটা তো প্রমাণ করা যায় না, হাইপোথিসিস হবে মাত্র। তবে সাহসী চেতনার উদাহরণ দিতে যখন হুমায়ুন আজাদের জয়গান গাইছেন, তখন সহমত পোষণ করি।


হ্যাঁ, আমি অবশ্যই অনেক জায়গায় লিখবো, আঁকবো, বলবো, সিনেমা বানাবো, প্রকাশ করবো আমার মতামত। এবং সেই সঙ্গে কৌশলীও হবো ভঙ্গিতে। আমি মোটেই সাধু, সুফি বা তথাকথিত ভদ্র নই। লেখকের পাশাপাশি আমি নিজেই হবো আমার বিপণন ব্যবস্থাপক। চটকদার মনভুলানো বিজ্ঞাপন দিয়ে আমার বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করবো, ছড়িয়ে দিবো। এবং আমার মতে, আপনাকেও, আপনাদেরকেও তাই করতে হবে। টিকে থাকার খেলা এটা। এখানেই যুদ্ধ। শুভ-অশুভের।


পুনশ্চ : শুধু ছাগুতাড়ানোর পিছনে যাঁরা জীবনীশক্তি ক্ষয় করছেন, তাদের কৌশলে আমিও একমত নই।
৬২. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০১
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: জ্বিনের বাদশা :
ঘুরেফিরে একই বৃত্ত নয়। প্রথামুক্ত থাকা মানে প্রথা/কাস্টম/ট্রাডিশন বা প্রচলিত নিয়ম যে সিস্টেমের ফাংশন, তাকে অগ্রাহ্য করা। প্রথাকে পাত্তা না দিলে তা নতুন প্রথা হয় না। কারণ, প্রথাকে পাত্তা না দেয়ার মেকানিজমেই ইনস্টল করা থাকে প্রথার জন্মবিরোধীকরণ পিল।


ছোট করে ফিল্মমেকিংয়ের একটা উদাহরণ দিই। ধরা যাক, প্রচলিত সিনেমারীতি বলছে, সেলুলয়েড ফিতায় সিনেমা বানাতে হবে। হলিউড ফলিউড সব এই প্রথা মেনে দেদারসে সিনেমা করছে।


প্রথাবিরুদ্ধ সিনেমা নির্মাতা বললেন, না, আমরা ভিডিওতে সিনেমা বানাবো। তারা সেলুলয়েড ফিতার শত শত রিল পেলেও তারা সেই গোঁ ধরে ভিডিওতেই সিনেমা বানাবে। তার মানে, প্রচলিত রীতিকে পাত্তা দিচ্ছে।


আর প্রথামুক্ত নির্মাতা বললেন, উদ্দেশ্য যদি হয় সিনেমা বানানো, তবে সেলুলয়েড বা ভিডিও ফরম্যাট কিছু আসে-যায় না। যখন যেটা পাওয়া যায়, সেটাতেই শুট করবো। সিনেমা বানানো যেন না থামে। যা করতে চাই, বলতে চাই, তা যেন থেমে না থাকে প্রথা মানা/বিরোধিতায়।
৬৩. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
কৌশিক বলেছেন: জিকো, আপনার বক্তব্য আমার বক্তব্যের অলংকার হয়েছে। বিষয়টাকে বিরোধিতা করার কোন সুযোগ দেখি না। তবে আমি বিরোধিতা করছি, কারণ আপনি কর্পোরেট পলিসির ট্রেন্ডটাকে ইতিবাচক ভাবার চেষ্টা করেছেন প্রকারন্তরে। আগামীকাল বিস্তারিত।
৬৪. ০৯ ই আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৮
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: কর্পোরেট স্বার্থ নয়, কর্পোরেট কৌশলের কথা বলেছি। সে কৌশল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে না হয়ে বরং তার কাউন্টার-স্ট্রাটেজি হিসেবে প্রয়োগ করার কথা।
৬৫. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১:৩৪
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: কৌশিক, সিরিয়াস নামগুলো প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ...
৬৬. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ২:২৭
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: চমত্কার বিতর্ক জমে উঠেছে । চলুক...!
৬৭. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৩২
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: হুমায়ুন আজাদ প্রসঙ্গ আসলেই বিতর্কের শুরু হয়...কেননা এইটাই তার সততার সবচেয়ে বড় পরিচায়ক। বাংলাদেশের সমাজ একজন হুমায়ুন আজাদকে ধারণ করতে এখনো সক্ষম হয় নি কেননা...প্রথাগত সমাজ বড়ই বদ্ধ। তীব্র আস্ফালন আর পরিশেষে হত্যা করা ছাড়া এই সমাজ আর কিই বা দিতে পারে? একজন হুমায়ুন আজাদকে হত্যা করে তার কন্ঠ রোধ করে তার চেতনাকে হত্যা করা যায় না। যদিও এ প্রসঙ্গে আমরা দ্রুত নিজের নিজের পকেটে ঘাপটি মেরে যাই। যার অনেকটুকুই নিষ্পন্ন করেছে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিরা। বাংলাদেশের এক মহান প্রতিভা হুমায়ুন আজাদ..তাকে নিয়ে যত ইচ্ছা বিতর্ক করা যায় কিন্তু জনগন তো বিতর্কে আসবেনা তারা হত্যা হয়ে যাবার পর একটু শোক করবে তারপর ভুলে যাবে। এবং শান্তি পাবে যাই হোক বেখাপ্পা প্রশ্নগুলোর সাথে তো আর মোকাবিলা করতে হচ্ছেনা। আর যদি বলা হয় নতুন প্রথা বৃত্তের কথা..তাহলে তো নিজ প্রথাকে ভাঙ্গবার সাহসই কারো মধ্যে নেই।
৬৮. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:০০
রাগ ইমন বলেছেন: ইশতিয়াক জিকোর মন্তব্য পড়ে ভীষন ভালো লাগলো । ভিডিও , সেলুলয়েড এর বিতর্কে জড়িয়ে সময় নষ্ট না করে "আসল লক্ষ্যে" স্থির থাকাটাকে সবচেয়ে জরুরী মনে হয় আমার কাছে । কিন্তু , বেশির ভাগ সময়ই যেটা ঘটতে দেখি , আমরা "আল্টিমেট গোল" ভুলে " প্রসেস" নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছি। অতি আবেগে লাফালাফি করে কোন দিন কোন শুভ অর্জন হয়েছে বলে জানি না ।কিন্তু ,এই ব্লগে সেই প্রসেসের প্রতিফলন বড় বেশি।

মুক্তিযুদ্ধ যে কি জিনিস ,এইটা বুঝতে এই জাতির এখনো দেরী আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় , বাঙালী বড় সহজে স্বাধীনতা পেয়ে গেছে । মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে আমাদের কি অর্জন হয়েছে , সেটার সত্যিকারের পূর্ণ উপলব্ধি কি আমাদের আছে? আসলেই আছে? আমার মনে হয় না। নইলে , গালাগালির পর্যায়ে নামিয়ে এনে এই ঘটনা আর জড়িত আত্মত্যাগ গুলোকে খেলো করার মত মানসিকতা কারো হতো না। যে মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে শ্রদ্ধা করে , সে একে " নিজের আবেগ মোচনের" উপজীব্য করবে না ।

স্রেফ তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, কোন কোন ব্লগারের জীবনের সর্বশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে , " আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের ঘৃণা জানানো"। তা , সেটা , " তোমরা ঘৃণিত । আমরণ তোমাদের ঘৃণা করে যাবো।" এটাও বলা যায়। আবার , গালিও দেওয়া যায় ।প্রথম পন্থায় কোন লাভ ক্ষতি নাই ।

দ্বিতীয় পন্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের "গালিবাজ" বলার সুযোগ করে দেওয়া হয় । মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষায় , নিজেদের "গালির প্রতি গভীর ভালোবাসা"টাকে সামান্য আত্মত্যাগের মত উদার যারা হতে পারেন না , তাদের উদ্দেশ্য বিধেয় নিয়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কনফিউজড হয়ে যাই।

আরেকটা দিক হচ্ছে । সবার জীবনের শেষ উদ্দেশ্য তো গালি দেওয়া না। আমাদের ভিতর কেউ কেউ এর পরের স্টেপ গুলো নিয়ে চিন্তা করে । কেন আমরা এই "ঘরানাকে" এখনো ঘৃণা করি ,করতে চাই , সেটাও নিয়ে চিন্তা করতে চাই । আপাত চোখে দেখলে , ৭১ এর যুদ্ধ তো ৭১ এর ডিসেম্বরেই শেষ । তাহলে এখন কেন এই সব নিয়ে ব্লগে মারামারি করতে হবে?

করতে হবে । কারন, যুদ্ধ আমরা আসলে এখনো জিতি নাই । যুদ্ধ এখনো চলছে ।
৬৯. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:১৬
রাগ ইমন বলেছেন: আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের সাথে এখনো লড়তে হয় ।প্রতিনিয়ত লড়তে হয় তাদের দেশি বিদেশী পৃষ্ঠপোষকদের সাথে । সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে যত গুলো জায়গায় যাই , যত গুলো জিনিস্পত্রের সংস্পর্শে আসি , যত কথা চিন্তা করি - সব খানেই এই লড়াই চালু থাকে ।কখনো সরাসরি ,কখনো ভীষন ভীষন পুরু "মুখোশের " আড়ালে ।

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে যারা ১৬ই ডিসেম্বর হার মেনে কাগজে সই করেছিলো , তাদের দোসররা এখনো বাংলাদেশের ভিতরে বসবাস করে বাংলাদেশের , বাঙালী জাতির বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছে।

বাংলাদেশকে তারা দখল নিতে চায় । অর্থনৈতিক , সামাজিক, সাংস্কৃতিক - সব খানেই তাই এই দখলের প্রক্রিয়া চালু আছে । সামাজিক, সাংস্কৃতিক , ধার্মিক ইত্যাকার দখলবাজি অবশ্য নেহায়েতই সহায়ক প্রক্রিয়া । আসল ব্যাপার হলো , অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটাকে দখল । এই একটা দখলে চলে এলে, বাকি গুলো মুক্ত থেকেও খুব বেশি লাভ নেই । তাই বেছে বেছে "কৃষি মন্ত্রনালয়" যায় নিজামীর হাতে । তবে কখনো কখনো মানুষ নিজের ভিটা রক্ষায় " না খেয়ে , না দেয়ে " জীবন দেব পণ করে ঝাপিয়ে পড়ে । তখন অর্থনীতি আটকে কাজ হয় না । আর এই রকম পাগল দেশপ্রেম এর সবচেয়ে বড় উদাহরন , মুক্তিযুদ্ধ । সুতরাং , মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় দখল দেওয়া হলো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের হাতে । বাংলাদেশ যদি একটা দেহ হয় , মুক্তিযুদ্ধ তার মস্তিষ্ক । এই মাথায় পচন ধরানো কিংবা মাথাকে হেট করার চেষ্টা , প্রপাগান্ডা কম চলছে না।

একটা প্রপাগান্ডা হলো , মুক্তিযুদ্ধ করেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা । ২০০৭ সালে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলে আওয়ামী লীগের লোকেরা । সেইম প্রপাগান্ডা চলে ব্লগেও । এই সবই সত্য থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে একটা ধোঁয়াটে কুয়াশা তৈরী করার চেষ্টা ।
৭০. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৩৮
রাগ ইমন বলেছেন: যদিও সত্যি কথা হলো , "উদ্দেশ্য যদি হয় সিনেমা বানানো, তবে সেলুলয়েড বা ভিডিও ফরম্যাট কিছু আসে-যায় না। যখন যেটা পাওয়া যায়, সেটাতেই শুট করবো। সিনেমা বানানো যেন না থামে। যা করতে চাই, বলতে চাই, তা যেন থেমে না থাকে প্রথা মানা/বিরোধিতায়।"

ঠিক এই একই নিয়মে আওয়ামী লীগকে সেলুলয়েড / ভিডিও হিসেবে পেয়েছিলো বাঙালী । আর তাই ,অন্য সব দল এসে যোগ দিয়েছিলো আওয়ামী লীগে । একটি দল গঠনের ভিতর দিয়ে আসলে একতাবদ্ধ হয়ে একটি মাত্র সিনেমা বানাতে চেয়েছিলো ৭ কোটি মানুষ যার নাম "বাংলাদেশ"। দীর্ঘ নয় মাস লেগেছে এর নির্মানে। কিন্তু স্বাধীন একটা দেশ নির্মান যত কঠিন, তার চেয়ে লক্ষ কোটি গুণ বেশি কঠিন তাকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ধরে রাখা । এবং স্বাধীন থেকে দেশের বেশির ভাগ মানুষের জন্য কল্যানময় কাজের মধ্য দিয়ে দেশটাকে গড়ে তোলা । এইটা সব স্বাধীনতা যুদ্ধের দ্বিতীয় অংশ । আমরা প্রাথমিক যুদ্ধ , মানে রণাঙ্গনের যুদ্ধে তো জিতেছি । দ্বিতীয় লড়াই এখনো চলছে । তাহলে এই লড়াইয়ে আমাদের শত্রু কে?

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৭১ এর শত্রু আর ২০০৭ সালের শত্রু একই ঘরানার , একই দলের লোক। এরা ৩৬ বছর আগেও শত্রু ছিলো । এখনো তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই কাজ করে চলেছে । তখন করত স্বাধীনতার স্বার্থ বিরোধী কাজ । এখন, এই ২০০৭ সালে এসে করে বাংলাদেশের সাধারন মানুষের স্বার্থবিরোধী কাজ। এখন এই শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনি কোন চেতনাকে পুঁজি করে লড়বেন? নতুন কোন চেতনার কি দরকার আছে ? নাকি মুক্তিযুদ্ধ যেমন দেশের বেশির ভাগ মানুষের মৌলিক চাহিদা গুলো পূরনের সমান সুযোগ সৃষ্টির কথা বলেছিলো , বাংলাদেশকে যেই চারটি মূল নীতির উপরে দাঁড় করাতে চেয়েছিলো , সেই চারটা মূলনীতিই যথেষ্ট ? আমি মনে করি , ঐ চারটা মূলনীতিই আসলে সব কথা বলে ফেলেছিলো । সুতরাং , ২০০৭ সালে নতুন কোন চেতনা নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই সবার সামনে নতুন করে তুলে ধরা , ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে ।

এখন এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি জিনিস । কি হয়েছিলো ,কেন হয়েছিলো , কেনই বা এখনো এসব নিয়ে কথা বলা দরকার - এই কথা গুলো আপনি ব্লগে আলোচনা করবেন কিনা। তাহলে আগে দেখতে হবে , ব্লগে আলোচনার দরকার আছে কিনা । আমি মনে করি আছে । বিরোধী পক্ষ প্রচার চালাচ্ছে । একটা ঘাঁটি তো আমাদের ও তৈরী থাকা দরকার । এখন এই ঘাঁটি পাহারা দেওয়ার ইচ্ছা কারো আছে কিনা ? অনেক ব্লগার প্রমান করে দিয়েছেন , যে আছে ।
৭১. ১০ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:২১
রাগ ইমন বলেছেন: অনেক ব্লগারের এই চেতনার জায়গাটা এক। মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরার কাজটা সবাই করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী , যারা এই ২০০৭ সালে এসে ১৪ কোটি বাঙালীর কল্যানবিরোধী , তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় , ঘরে-বাইরে -ব্লগে তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা চালু রাখতে চায় । বাঙালী হিসেবে বাংলার ভিটা রক্ষার কাজটা সকলেই "প্রয়োজনীয়" হিসেবে মানি । কিন্তু সমস্যা হলো , ৭১ এর আওয়ামী লীগের মত ২০০৭ সালে আমরা কোন "ভিডিও/ সেলুলয়েড " পাচ্ছি কি না ? আমাদের সিনেমার নায়ক, নায়িকা , পাত্র পাত্রী কিংবা ফাইন্যন্সার , প্রোডিউসার কে হবে?

লড়াইটা যখন ব্লগের বাইরে , বাংলাদেশের রাজনৈটিক অঙ্গনে , তখন ২০০৭ সালে মুজিবের মত অবিসংবাদিত কোন নেতা পাওয়া যাচ্ছে না । নেতৃত্বের জায়গাটা শূন্য । আর যদি ব্লগের ভিতরে বলেন,তাহলে সেই জায়গাটাও ঠিক স্বস্তিকর নয় । এমন কোন একজন ব্লগার পাওয়া যাবে না , যাকে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য বলা চলে । এক রয়েছে এ টিম। কিন্তু তাদের " পোন্দানোর" তরিকার সাথে সাধারন রুচির মানুষের তাল মেলানো সম্ভব না।

এই শূন্যতার অনুভব থেকেই হয়ত কৌশিকের এই পোস্ট । এই শূন্যতার অনুভব থেকেই শরত লিখেছিলো , যাচ্ছেন যান ।কিন্তু ব্লগটা কাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে গেলেন , সেটাও খেয়াল করবেন । আর কিছু না হোক , এই কথাটার সাথে আমি পুরোপুরি একমত । একজন হাসান মোরশেদ সামহোয়ার ইন ছেড়ে গেলে রাগ ইমন ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না মোটেও । হাসান মোরশেদের নতুন বাড়ির ঠিকানায় তাকে খুঁজে নেওয়া আমার জন্য সহজ। কিন্তু কষ্ট হয় এই ভেবে , বাংলাদেশকে , মুক্তিযুদ্ধকে, সুস্থ চিন্তাকে , দেশপ্রেমকে , সাধারন মানুষের প্রতি ভালোবাসাবোধকে , মানবিকতাকে তুলে ধরার জন্য , সামহোয়ার ইনের পাঠকদের জন্য হাসান মোরশেদকে এখানে দরকার ছিলো । এরকম দরকার ছিলো , সামহোয়ার ইন ব্লগ ছেড়ে গেছেন যারা , তাদের অনেককেই ।

তাই বলে আমি অবশ্য কৌশিকের মত তাদের উপর রাগ ঝাড়তে রাজি নই । কোন উষ্মা নেই আমার । জানি শূন্যস্থান কখনো শূন্য থাকে না । এটা ৭১ নয় যে ব্যক্তিগত সকল কাজ কর্ম ,সুখ দুঃখ , ইচ্ছে অনিচ্ছে , দায় দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সবাই অস্ত্র হাতে রওনা দেবে । বউ বাচ্চা ফেলে পাকি আর রাজাকার হত্যায় তৎপর হবে। সুতরাং ভিন্ন ঠিকানায় লেখক লিখতে চাইলে লিখুন। কবি কাব্য করতে চাইলে করুন । চিত্রকর ছবি আঁকুন। কলামিস্ট কলাম লিখুন। ব্লগের বাইরের লড়াকুরা ব্লগের বাইরেই লড়ুন। যে যার অবস্থান থেকে লড়ে যাই । একতা বদ্ধ হওয়ার সময় এগিয়ে আসছে । সময় এলে মুক্তিকামী মানুষ নিজেই খুঁজে নেবে ,কার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই ।

তবে একটা বিষয় সবার জন্যই বোঝা দরকার । সামহোয়ার ইন ব্লগ ধ্বংসের ইচ্ছে থাকলে ভুলে যান। এই ব্লগ থাকবেই ।কারন টাকা । টাকার জোরে পারবেন না। টাকা , অস্ত্র আর ক্ষমতার কারনে আমরা যেমন আমেরিকার সব ধরনের কাজ কর্ম জানার পরেও, বোঝার পরেও কিছুই করতে পারি না। এই ব্যাপারটা সেই রকম।

এখন প্রশ্ন হলো । আমেরিকাকে মেরে ফেলা যাবে না জেনেও আমরা তো পাশাপাশি বেঁচে থেকে লড়াই করে যাচ্ছি। যাচ্ছি না? আমেরিকার ভিতরেই আমেরিকান সরকারের নষ্টামির বিরুদ্ধে মত গড়ে তুলছি , তুলছি না? তাহলে , আমেরিকার মত আরেকটা সাইবার পরাশক্তি নামক দানব তৈরী হতে না দিয়ে ,আসুন এইটার ক্ষত গুলাকে বাড়তে না দেই । সব ব্লগার তো আর মুক্তিযুদ্ধ , বাংলাদেশ , মুক্তচিন্তা বিরোধী নয় ! কেউ কেউ আছে বিনাইন টিউমারের মত । আবার কোন একজন ব্লগার , যে ছিলো একটা কোষের মত ছোট্ট আর তুচ্ছ। নিজেদের রঙ্গ রসিকতা আর বিকৃত আনন্দের " পাঁঠা" বানাইতে গিয়ে সেই একটা কোষ এখন দল বল নিয়ে দানবে পরিনত হয়েছে । পাত্তা দিয়ে দিয়ে মাথায় তোলা হয়েছিলো তাকে , এখন সে শিকড় গেড়েছে বৃক্ষ হয়ে , ব্লগের গায়ে ক্যন্সারের মত। ক্যান্সার সারে না, ঠিক, কিন্তু দমিয়ে তো রাখা যায় ! অন্তত মেটাস্ট্যসিসটা তো বন্ধ রাখা যায় । অন্য কোন শরীরকে আক্রান্ত করা থেকে তো ঠেকানো যায় ।

যায় না?

কাজটা করতে গিয়ে সমর্থন/ বিরোধিতা নামক পাত্তাটা উলটা পালটা জায়গায় না দিতে অনুরোধ করি । শুভ এবং সুন্দরের প্রচার অনেক বেশি দরকার নোংরার দিকে চোখ দিয়ে বসে থাকার চেয়ে ।
৭২. ১১ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৫:১৯
ঝরা পাতা বলেছেন: মাহবুব সুমন বলেছেন-
হুমায়ুন আজাদ কইতেন হুমায়ন আহমেদ লিখে অপন্যাস !! উনি জীবনে অপন্যাস লিখবেন না। আর পরে সেই উনিই লিখলেন ছাপ্পান্য হাজার বর্গমাইল নামের উপন্যাস !! আজব।

জনাব সুমন,
উল্লেখ্য মন্তব্যের জন্য কেন হুমায়ুন আজাদ উপন্যাস লিখতে পারবেন না? তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসকে অপন্যাস বলেছেন। সেটা উনার বিশ্লেষণপূর্বক অভিমত। তিনি তো কাউকে বারণ করেননি উনার লেখাগুলি পড়ে এরকম কোন বিশেষণে ভূষিত করতে। একটা ভুল উদাহরণ দিলেন। আর উনার ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল বাংলা সাহিত্যের একটা অনন্য, অসাধারণ সৃষ্টি বললে কম বলা হবে।


 

মোট সময় লেগেছে ২.৬৩৫২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
যদি প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয় তবে বরঞ্চ তলিয়ে যাবো তিমির সাথে, অতল ঘাসের সাথে, নীরব রাতের সাথে। সময়ের বিভাজনে ক্ষুদ্র প্রতিশোধের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ