somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রেষ্ঠতম ঝগড়া

২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কারো সাথে ঝগড়া হলেই আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে। আমার রেপুটেশনের সবচেয়ে বড় একটা এরিয়া হচ্ছে অঝগড়াপিয়াস। আমার ভোদাইজমেরও সবচেয়ে বড় দূর্বলতা এই অঝগড়ামানস। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ঝগড়াটা আমি করেছিলাম আমার সবচেয়ে প্রিয় ও অন্তরঙ্গ বন্ধুটির সাথে। এটা এমন একটা সময়ে যখন তার নারী পরিচয়টা বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছিলো। পিকনিকে গিয়েছি, তিনচারশো ছাত্র-ছাত্রীর নেতা বলতে গেলে সে আর আমি। টিচার, টিচারপত্নী, বাবুর্চি, গানাবাজনার ষড়ঞ্জাম, বাসওয়ালা থেকে শুরু করে সব কিছু সামলাচ্ছে সে, আর আমি গেমস, নাটক, গায়ক-গায়িকাদের নিয়ে প্রোগ্রাম। দুপুর পর্যন্ত সবকিছু চলছিলো ঠিকমত। তখন মোবাইলের যুগ নয়, আর আমি ঘড়িমুক্ত সময়জ্ঞ চিড়িয়া। বারবার তারাকে সময় জিজ্ঞেস করি। ওর হ্যান্ড ব্যাগ মানেই আমার দুতিনটা প্রয়োজনীয় জিনিস, যেমন ম্যাচলাইট, লিপজেল, ব্রেসলেট।

তারার অভিযোগ আমি ফাঁকি দিচ্ছি। ওর কাজ করতে করতে জান শেষ। আমিও জানি ফাঁকি দিচ্ছি, কিন্তু ওসব অভিযোগ আমলে নেয়ার মত কাপুরুষ আমি না। তারাকে তাড়িয়ে আবার গায়কের হাত থেকে গাজার কল্কি নিয়ে টান মারি।

ইত্যবসরে মাইকে আওয়াজ তুলতে তুলতে ঠোঁট ফেটে চৌচির। একটু আগে পনা, রুবেল আমাকে তারার প্রেমিক হিসাবে ফাজলামো করাতে মেজাজ গরম। মাইকে ঘোষণা করলাম, তারা! যেদিকে থাকিস লিপজেলটা নিয়ে আমার কাছে আয়! তোর শোকে ঠোঁট আমার গেল!

তারা দৌড়াতে দৌড়াতে এল। কোমড়ে হাত দিয়ে রাজ্যের জুনিয়রদের সামনে চিৎকার করে বললো, এসব কি! চোখ বড় বড়। হাতের ব্যাগটা ছুড়ে মারলো আমার দিকে।

টিচাররাও হতভম্ব। হাডুডু খেলা চলছিল উইমেন ভার্সেস ম্যান, সেটা থামিয়ে দিল প্লেয়াররা। আমার মাইকের ঘোষণায় একটা স্থূল ইংগিত ছিল। ইচ্ছে করেই করা। এমন ফাজলামো ডালভাত ছিল। কিন্তু সেদিন তারা অন্যমুডে। আমি ব্যাগটা কুড়িয়ে ওর দিকে আবার ছুড়ে মারলাম। চেচিয়ে বললাম, ব্যাগ ছুড়ে মারলি যে!

তারা বললো সেই একই রুক্ষমুর্তিতে, ব্যাগ তো ছুড়ে মেরেছি, তোকে আমি এখন পিটিয়ে ফ্লাট বানাবো!

আমি লাফ দিয়ে দুই কদম সামনে বাড়ি। পারলে মারতো দেখি, তোর কালো মুখে আমি চুন মেখে দেব! বদের হাড়ি!

তারা হাতের কাছে সাউন্ড বক্সের ছেড়া একটা তার পেল। সেটা হাতে তুলে নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসলো। আমি তারের রেঞ্জের বাইরে দৌড়ে পালাই। তারা পেছনে পেছনে। কিছুদূর এসে বসে পড়ে। তারাকে ভীড় করে আছে ক্লাসমেটরা।

কিছুদূর এসে ফিরে যায়। আমিও ফিরি। মুখ গোমড়া করে বসে আছি একটা সিমেন্টের বাধানো শানে। তারা অন্য পাশের এক জংগলার ধারে। কিছু ভাল লাগছে না। হঠাৎ করে কাউকে কিছু না বলে আমি একটা রিকশা ডেকে বাসস্টান্ডের দিকে ছুটতে থাকি। বাসের জন্য বসে আছি। কতক্ষণ পরে দেখলাম তারাও উপস্থিত। ও আমাকে দেখে তেড়ে আসে। বলে, তুই কেন এসেছিস! এখনই পিকনিকে যা!

আমি বললাম, আমার সাথে কথা বলবি না।

তুই যদি পিকনিক ছেড়ে যাস, আমি তোকে এই রাস্তায় খুন করে ফেলবো!

আমি বলি, তোর বাপের পিকনিক, তু্ই কর গিয়ে!

তারা বলে, তুই আমার বাপ তুললি কেন? তুই আসলে একটা ছোটলোক, ইতর! তোর সাথে আমার সব সম্পর্ক শেষ!

ততক্ষণে বাস চলে এসেছে। বাসে উঠতে উঠতে আমি বলি, তোর সাথে সম্পর্ক কিসের? একটা মীন, অভদ্র, মানুষের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় শিখেছিস কখনও?

বাসে সিট পাওয়া গেল। মোটামুটি খালি। বাসের হেলপার হা করে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা বলে, তোর ভদ্রতার আমি ক্ষেতা পুড়ি! তুই একটা ভন্ড, স্বার্থপর, অসভ্য!

আমি বলি, তুই একটা আলুর বস্তা। কেমন ধামড়ী হয়েছিস দেখেছিস? জানিস তো শুধু খেতে!

তারা পারলে সিট থেকে উঠে এসে আমাকে মারে। এর মধ্যে একজন প‌্যাসেঞ্জার তারার দিকে তাকিয়ে দাত কেলিয়ে হালকা স্বরে বললো, মোটা মাগীর কি তেজ! কিন্তু আমি শুনে ফেললাম। তারাও শুনলো।

আমার মাথায় রক্ত উঠে গেল চড়াৎ করে। তরাক করে উঠে ব্যাটার গালে বসিয়ে দিলাম বিরাশী সিক্কার একটা থাপ্পড়। হতভম্ব বাসের লোকজন। আমি পারলে আরো কিছু পেদানী দেই। তারা লাফিয়ে আমাকে ধরে। তারপর হেলপারকে বাস থামাতে বলে।

আমরা বাস থেকে নেমে যাই। তারার মুখ থমথম করছে। বাসের যাত্রীটা সমানতালে আমাকে গালিয়ে যাচ্ছে। বাসস্টান্ড থেকে কিলোমিটির খানেক দূরে আমরা গেছিলাম।

কোন কথা না বলে দু'জনই আবার পিকনিক স্পটে ফিরে গেলাম। তারা আর আমি এ বিষয়টা নিয়ে পড়ে অনেক মজা করতাম।

* ১৯৯৭ সালের এইদিনে তারা প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মরে গেছিল। আমি আজ পর্যন্ত ওর জন্য একবারও কাঁদিনি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:১৩
২১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×