বিশেষ সংবাদ হচ্ছে, গতকাল এক রাজাকার ও এক বাঙালি বাজারে গিয়েছিল মাছ কিনতে। মাছওয়ালা রাজাকারের কাছে মাছ বিক্রি করবে না, ওদিকে রাজাকার মাছ কিনবেই; এমনকি মাছের দাম ডাবল দিতে চাইলো। মাছওয়ালা তাতেও রাজী হয় না। বাঙালি ভদ্রলোক পাশে দাড়িয়ে তামাশা দেখছেন। জানেনই তো রাজাকারদের দেখলেই চেনা যায়। এরা একটু গা ঘেসা টাইপের হয়। সন্দেহ হলেই এদের পাছা খুলে ইয়াহিয়ার মুন্ডু আঁকা দেখে নেয়া যায়। নির্লজ্জ, আর সব জায়গাতেই পাকিস্থানী পন্য খুজে বেড়ায়। পাকিস্থানী ইলিশ মাছ খোজে। রাজাকারটা আড়াইশোটাকার ইলিশ মাছ পাঁচশ টাকায় না পেয়ে এবার সাতশো টাকা দিতে চাইলো। মাছওয়ালা তাকে বললো, তুই রাজাকার! নয়শো নিরানব্বই টাকা দিলেও বিক্রি করবো না বলে বাঙালী ভদ্রলোককে একটা চোখ টিপি দিল। রাজাকার এরপরে একহাজার টাকা দিতে চাইলো।
মাছওয়ালা রাজী হলো। এক হাজার টাকায় মাছটি দিয়ে দিল। রাজাকার বললো একটু কাগজে পেচিয়ে দেন না ভাই!
মাছওয়ালা রাজী নয়, মাছ যে পেয়েছিস এই ঢের! আবার কাগজও! কাচুমুচু মুখ করে রাজাকারটা মাছ নিয়ে চলে গেলো।
বাঙালি ভদ্রলোক এরপরে মাছের দাম জিজ্ঞেস করলে মাছওয়ালা তাকে একটা ইলিশ ফ্রি দিয়ে দিল। বাঙালি ভদ্রলোকতো কিছুতেই নেবেন না। মাছওয়ালা বললো, ভাই, রাজাকাররা তো বিদেশী টাকা পায়, ওদের ইসলামী ব্যাংক আছে, ইবনে সিনা আছে, এসব দিয়ে এই রাজাকারদের পুষেটুসে রাখে। আমি একটু এই সুযোগে টু-পাইস কামিয়ে নিলাম!
আমাদের ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিরা গতকাল সারা ঢাকা শহর ঘুরে মোট ছাব্বিশটা রাজাকারকে শনাক্ত করতে পেরেছে। নিউমার্কেটের পেপারস্টান্ডে দৈনিক সংগ্রামের একটা ফ্রি বোর্ড আছে। সেখানে ছিল পাঁচটা রাজাকার। তিনটার বয়স ত্রিশের মধ্যে। দুইটা পঞ্চাশের কাছাকাছি হবে। এসব রাজাকাররা গোলাম আজমের মৃত্যুর জন্য দোয়া মাহফিলের সংবাদ পড়ছিলো মনযোগ দিয়ে।
শনাক্তকৃত এই পাঁচটা রাজাকারসহ সমস্ত রাজাকারদের পাছাতেই ইয়াহিয়ার মুন্ডু মার্কা একটা ছাপ দিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েকজন একটু গাইগুই করছিল, কিন্তু পরে ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিদের বাম হাতের থাপ্পড়ে সবাই সানন্দে রাজী হয়েছেন।
এই ছাব্বিশটা রাজাকারকেই রাজাকার লিস্ট থেকে নাম কেঁটে দেয়া হয়েছে। মৃত্যুর পরে এদের আর বাঙালীদের কবরস্থানে মিশে যাবার কোন সম্ভাবনা রইলো না।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


