আমার প্রিয় পোস্ট

যন্ত্র হতে হতে এখন অযান্ত্রিক তন্ত্রমন্ত্র ভালো বুঝি

আমাদের পাঠশালা'র নববর্ষ র‌্যালী

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৪৭

শেয়ারঃ
0 0 0

রুবেল একটা ইস্কুল খুলেছে। চারমাস হলো। মিরপুর বারো নম্বরের মুসলিম বাজারের সন্নিকটে এই স্কুলটির নাম আমাদের পাঠশালা। পহেলা বৈশাখের আগে থেকে ঠান্ডা-গরমের কিম্ভুত হিশেবে আমার চোখ-কান-নাক সব অসহযোগ শুরু করেছিল। খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না। দু-তিনবার বমি দিয়ে পহেলা বৈশাখ শুরু করে ঘুম ছাড়া আর কোন কিছুই ভাললাগছিলো না। কিন্তু রুবেলের "আমাদের পাঠশালা" র র‌্যালীতে না গিয়ে পারলাম না। বস্তিবাসী সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য এই স্কুলটির র‌্যালী দেখার সুযোগ হয়তো বারবার আসবে না। তাই ন'টার সময় হাজির হলাম আমাদের পাঠশালায়।

সবমিলে দেড় হাজার স্কয়ার ফিট হতে পারে। একতলা একটা বাড়ী। গেটের ভেতরে ক্ষুদ্র একটা উঠোন। রুবেলের স্বপ্নের স্কুলে প্রায় শ'খানে ছাত্র-ছাত্রী তখনই হাজির। ছোটছোট মেয়েরা শাড়ী আর ছেলেরা বেশ রঙচঙা জামা কাপড় পড়ে এসেছে। রুবেল আগেই বলেছিল সবাইকে নিজেদের মত করে বাহারী কাপড়ে সজ্জিত হতে। সেই সাথে যে যেমন পারে কিছু এঁকে, বানিয়ে যেন নিয়ে আসে। কেউ নিয়ে এলো ঘোড়া বানিয়ে, কেউ সেজে এলো কৃষকের সাজে। গাল রাঙিয়ে, নুপুর পায়ে সে এক মহাসমারোহ। আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম ছেলেপুলেদের ক্রিয়েটিভি দেখে - দরিদ্র ঘরের বাচ্চারা বাঙালীর চিরন্তন উৎসবে মাতোয়ারা।

একজন শিক্ষিকা সব ছাত্র-ছাত্রীর গালে, কপালে আলপনা এঁকে দিল। চার থেকে বারোর মধ্যে মনে হলো সবার বয়স। আলপানা আঁকা শেষ হতেই শুরু হলো র‌্যালী। বড় বড় মুখোশ আর ফেস্টুন বানিয়ে এনেছিল রুবেল আগেই। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য সম্বলিত বিভিন্ন মুখায়বের বড় বড় আলপনা নিয়ে র‌্যালী প্রায় চার কিলোমিটার প্রদক্ষিন করলো। এত ছোট ছোট শিশু, কিন্তু বৈশাখের প্রখর রোদে তাদের উচ্ছাস কমে না। রাস্তায় উৎসাহী মানুষেরা ভীড় করে দেখতে থাকলো বৈশাখের আমেজ। একটা উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। পথচারীরা ছবি তুলতে শুরু করলো তাদের মোবাইলে, রাস্তার দুইপাশে বাড়ী থেকে বর্ষিত হলো শুভাশীষ।

র‌্যালীর শেষ গন্তব্য বিএনপি বস্তি। আগে যেটা ছিল আগারগাও, সেটা এখন কালাপানির ধারে। বাচ্চারা তাদের র‌্যালী দেখাবে বাবামাকে। বস্তির লোকজন বৈশাখের র‌্যালী দেখে উচ্ছ্বসিত। নিজেদের বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে এমন আয়োজন কোনদিন দেখেনি তারা, পুরো মিরপুরের এই অঞ্চলটাতে ধর্মীয় তাজিয়া মিছিল ছাড়া এমন বাঙালীপনার প্রকাশ স্বাধীণতার সাতত্রিশ বছর পরে এই প্রথম দেখা গেলো।

র‌্যালী শেষে গানের আসর বসলো। অরুপ রাহী গান গাইলো। শিশুদের কলকাকলীতে প্রানবন্ত হয়ে উঠলো আসর। এত হেঁটেও ক্লান্ত হয়নি শিশুরা। রুবেল ওদের জন্য অবশ্য ক্যালরী সমৃদ্ধ ডায়েটের ব্যবস্থা করেছিল। একদম স্বউদ্যোগে শুভাকাঙ্খীদের অর্থসাহায্যে এমন স্কুল চালানো যেইসেই কথা না। অনেক এনজিও তাদের নিয়মকানুন পালনের শর্তে অর্থ সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। কিন্তু রুবেল রাজী হয়নি। তার কথা হচ্ছে দেশের এই প্রান্তিকদের উন্নয়নের থিউরী এইখানে জন্মাতে হবে। উন্নত বিশ্বের সেট করা ফর্মুলায় শিশুদের মাথাপিছু ডলার হিশেব করা যায়, কিন্তু সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্টের জন্য স্থানীয় অভিজ্ঞতার সংস্থান থাকে না। যেখানে সে এই স্কুল চালাচ্ছে এটাকে প্রয়োজন মনে করে, এটাকে একটা কাজ হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। স্কুলের সব কজন শিক্ষক স্বেচ্ছাসেবী - কিন্তু যোগ্যতার বিচারে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর মত ডিগ্রীধারী, মেধাবী ও মানবিক।

আমি রুবেলের পরিকল্পনা শুনে অভিভূত হই। উপস্থিত কয়েকজন বিদেশী পর্যবেক্ষকও অভিভূত হয়। মনে হলো প্রান্তিকদের জন্য রুবেল যেভাবে ইস্কুলের কারিকুলাম সাজিয়েছে সেটা তাদের মেধার বিকাশের জন্য সহযোগী। দেশীয় সাংস্কৃতিক বোধ বিকাশের সকল উপকরণের সাথে পরিচিত করে, প্রতিটি শিশুর জন্য নিজস্ব মেধা ও পছন্দ অনুযায়ী সৃজনশীল বিষয় নির্বাচনের ব্যবস্থা রেখে রুবেল এই প্রান্তিকদের জন্য একটা স্বাপ্নিক ভূবন তৈরীতে ব্যস্ত। শিশুদের মুখের এই হাসি ধরে রাখার জন্য রুবেলের একটা পাঠশালা সজ্জন সংঘ আছে। বন্ধু, পরিচিতরাই সেখানে অর্থসাহায্য দিয়ে থাকে - নিঃশর্তভাবে কোন দাতা সংস্থা যদি এগিয়ে আসে, রুবেল হয়তো সারা বাংলাদেশের প্রান্তিক শিশুদের জন্য আমাদের পাঠশালাকে একটা আদর্শ মডেল হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪
কাজ করে খাই বলেছেন: চমৎকার কাজ, ভালো লেগেছে। রুবেলকে শুভেচ্ছা পৌছে দেবেন।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অবশ্যই পৌঁছে দেব।

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮

লেখক বলেছেন: ইয়ামম্মি!

৩. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭
মাহবুব সুমন বলেছেন: একজন সত্যিকারের সাহসী ও কর্মবীর মানুষ রুবেল।
উনার কথা আগেও শুনেছি, আচ্ছা ইনি কি ডটি রাসেলের সেই বন্ধু না ?

পাঠশালার জন্য শর্তহীন কিছু করতে চাই।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২৫

লেখক বলেছেন: মাহবুব ভাই ধন্যবাদ। রাসেলের সেই বন্ধুটিই হচ্ছে রুবেল। পাঠশালার জন্য আপনার শর্তহীন কিছু করতে চাওয়াটা পৌছে দেব। আপনি নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।



120 Aziz Super Market
Ground Floor, Shahbagh, Dhaka
Phone # 8801721623627


E-mail :

৪. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:০১
চির সবুজ বলেছেন: সন্মান তো এদেরই প্রাপ্য।

ধন্যবাদ আপনাকে এমন একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন। আপনার বর্ষবরণ কেমন হলো?

৫. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:০৪
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: দারুন!!!!! উনি সত্যিই একজন উদ্যোমী মানুষ....তাকে শুভেচ্ছা পৌছে দেবেন...আর আপনাকেও ধন্যবাদ আমাদেরকে এমন চমতকার সংবাদ দেয়ার জন্য
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১১

লেখক বলেছেন: আসলেই। রুবেলকে একবারও মনে হয় না যে সে ফিজিকালী চ্যালেঞ্জড, তার উদ্যমের কাছে অনেক পূর্নাঙ্গ শরীরের মানুষকে অকিঞ্চিতকর মনে হয়।

৬. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:০৫
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
নববর্ষের সবচেয়ে সুন্দর সংবাদটি পড়লাম।
অ-সা-ধা-র-ন।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১১

লেখক বলেছেন: থ্যাংকস ভায়া।

৭. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২৭
মাহবুব সুমন বলেছেন: ওকে, বস। আমি যোগাযোগ করব সরাসুরিই।
মোবাইল নাম্বারটা কি রুবেল ভাইয়ের?
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩০

লেখক বলেছেন: থ্যাংকস বস। হ্যা, মোবাইলটা রুবেলরই। আপনি http://www.amaderpathshala.org/ এই ওয়েব সাইটটাও একটু দেখতে পারেন।

৮. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২৯
স্বপ্নশিকারী বলেছেন: রুবেল কে আমার শুভেচ্ছা।আর এরকম রুবেল মতো আরও রুবেল বানানোর পাঠশালা আমদের দরকার।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০২

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন। সরকারী প্রাইমারীর শিক্ষার মানের অবনতির কারণে গ্রামেও আজকাল প্রাইভেট স্কুল, কিন্ডার গার্টেনের ছড়াছড়ি।

৯. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫
মামু বলেছেন: "মুসলিম বাজার" শব্দটা পেন্জ করা উচিৎ, এতে সাম্প্রদায়িকতা গন্ধ পাওয়া যাইতাচে....

আর দাদা এই পছা গন্ধ ব্লগে টাইন্যা আইনা ছড়াতাচে....

ওয়াক থু.....
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১২

লেখক বলেছেন: সব অপ্রাসাঙ্গিক মন্তব্য! অবশ্য ঠিকই আছে। কিন্তু ফারজানার ব্লগে কোন অপ্রসাঙ্গিক মন্তব্য করতে যেয়ো না!

১০. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ, রুবেলের পাঠশালার খবর ব্লগে নিয়ে আসার জন্যে। শিক্ষা নিয়ে রুবেলের খুব ভাল চিন্তাভাবনা আছে। হতদরিদ্র শিশুদের শিক্ষা নিয়ে ওর নিষ্ঠা ও গবেষণা ঈর্ষনীয়। প্রতিষ্ঠার সময়ে আমি গিয়েছিলাম ঐ স্কুলে। স্বেচ্ছাশ্রম এবং শুভাকাংখীদের স হায়তা নিয়ে খুবই ছোটখাটভাবে শুরু হয়েছে। মুসলিম বাজারে 'আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নামে ওরা একটা লাইব্রেরীও করেছে।

ব্লগাররা রুবেলের পাঠশালার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেন।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৮

লেখক বলেছেন: ওহহো! আপনার কাছে তো মামাবাড়ীর গল্প হয়ে গেলো!

১২. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৫১
উরনচণ্ডী বলেছেন: খুবই চমৎকার একটি উদ্যোগ।

আমার মেয়ে যে কিনা প্রতিদিন ঘুম থেকে দেরীতে উঠে। বৈশাখের অনুষ্ঠানে যাবে বলে সেও সকালে ঘুম থেকে উঠেছিল। বাচ্চাদেরও আগ্রহের কমতি নেই। তাছাড়া বাঙ্গালী কৃষ্টির সাথে বাচ্চাদের পরিচয় করানো বিষয়ে সকল বাবা-মাকে এগিয়ে আসতে হবে।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৫২

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

১৩. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬
এলোমেলো বলেছেন: অসাধারন একটা কাজ

শুভকামনা রইল ম্কুলের সবার জন্য

আপনাকেও ধন্যবাদ এ রকম একটা খবর ব্লগে দেওয়ার জন্য
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৪৯

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১৫. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:২৯
নাজিম উদদীন বলেছেন: সব রসুনের পাছা এক জায়গায়। আপনি আমি, আমরা সবার মামাবাড়ি অভিন্ন বলে মনে করি।
১৬. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৩৪
হ্যারি সেলডন বলেছেন: কৌশিকদা, এই খবরটা দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। রুবেলের জন্য শুভকামনা। সেই নিষ্পাপ শিশুগোলুর জন্যও শুভকামনা।
১৭. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩৯
যীশূ বলেছেন: আ হা রুবেল, আহা!

 

মোট সময় লেগেছে ১.২৬৩৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
যদি প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয় তবে বরঞ্চ তলিয়ে যাবো তিমির সাথে, অতল ঘাসের সাথে, নীরব রাতের সাথে। সময়ের বিভাজনে ক্ষুদ্র প্রতিশোধের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ