somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

য়্যাস ফর্মুলা - ৬

২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নিয়ে ঝামেলায় পড়ে গেছে সরকার। রপ্তানী ছাড়া কোন বিকল্প নেই। ওদিকে উৎপাদন খরচ এক প্রকার শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে। খনিজ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে না বলে এমন সাশ্রয়। কিছুদিন আগে পর্যন্ত সিএনজি গ্যাস চালিত যানবাহনের যে হিড়িক পড়েছিল তা এখন রূপান্তরিত হয়েছে বিদ্যুৎচালিতে। সমস্যা হচ্ছে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ শিল্পকারখানায় ব্যবহার শুরু করার তোড়জোড়র শুরু হওয়াতে গ্যাসের উপর চাপ কমে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, ফলে বিদেশী বিনিয়োগে স্থাপিত শিল্পে গ্যাস বিক্রি কমে যেতে পারে। এতে দেশে গ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। সেজন্য বিদ্যুৎ রপ্তানী এখন প্রধান এজেন্ডা হয়ে দাড়িয়েছে সরকারের। আর যথারীতি ডাক পড়েছে আমাদের। রপ্তানীকারক সংঘ ছাড়া এ বিদ্যুৎ রপ্তানীর জোগারযন্ত্রর আর কেউ করতে পারবে না বলে জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিটি অভিমত দিয়েছে।

আমাদের বিশাল লিমোজিন আজকের সভাস্থল পদ্মায় থামলে কয়েকজন উপদেষ্টা এগিয়ে এলেন। এসমস্ত উপদেষ্টাদের পেছনে লেজের মত কিছু একটা ঝুলতে দেখে আমাদের সংগী ডঃ বারাকাতের নাকি সিম্পাজীর মত মনে হয়েছে। অদ্ভুতভাবে তাদের সাথে য়্যাসমর্দন করে আমরা প্রধান সভাকক্ষে পৌঁছে যাই। কি এই লেজের মত ঝুলে থাকছে উপদেষ্টাদের নিতস্ব থেকে সেই কৌতুহল চেপেই আমরা প্রধান উপদেষ্টার সাথে য়্যাসমর্দন করি।

বেশ বেশ! আপনারাই পারবেন! আমাদের বসতে দিয়েই ডঃ বাবুর্চি নিতম্ব ডলতে থাকেন। লুক এ্যাট দিস স্লাইডস!

শুভ্র দেয়ালে স্লাইডশো চালু হয়ে যায়। আমরা একটা বড় ডিজিটাল মনিটর দেখলাম। সেখানে 15300 MW চমকাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বললেন, এটা আমাদের বর্তমান প্রয়োজন নয়, এই পরিমাণ বিদ্যুৎ আমাদের উদ্বৃত্তি থাকছে !

বিদ্যুৎ এর সারপ্লাস আছে এটা জানতাম, কিন্তু এ পরিমাণ যে হবে কল্পনা করিনি। রপ্তানীতে কোন অসুবিধা হবার প্রশ্নই আসে না। জিজ্ঞাসা করলাম, কেমন দাম হাঁকতে চান স্যার?

চওড়া হাসিতে সরকার প্রধানের দাতগুলো বিশ্বব্যাংকের মত চকচকে হয়ে উঠলো। বিশ্বের সবচেয়ে কমদামে আমরা বিদ্যুৎ দিতে পারবো! ধরুন একটাকা পার ইউনিট!

আমি একটু নড়েচড়ে উঠি। কিন্তু স্যার, আমার একটা কৌতুহল অনেকদিন যাবত মাথা কামড়ে খাচ্ছে। সম্ভবত দেশের সমস্ত মানুষেরই। শুনি যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আপনারা গ্যাস ব্যবহার করছেন না, খুব কমখরচের একটা জ্বালানী ব্যবহার করছেন। কিন্তু ধরতে পারছি না সেটা কি!

এবার অন্যান্য উপদেষ্টারা হো হো করে হেসে উঠলেন। সরকার বাহাদুরের ইশারারায় প্রধান নৃপতি প্রজেক্টরে নতুন একটা স্লাইড দেখালেন। বললেন, এটা আমাদের একটা প্লান্ট। পূর্বের বিদ্যুৎ প্লান্ট আর এই বিদ্যুৎ প্লান্টের মধ্যে কেমিক্যাল ইনফিউশনের বিস্তর তফাত আছে। এখানে গ্যাস রিফাইনিং এর জন্য কোন মেসিনপত্রের দরকার হয় না! জ্বালানীসরবরাহের একটা ইউনিট আছে। সেখানে আমাদের প্রধান জ্বালানী স্থাপিত। দেখলে আপনাদের মোটেও ইন্ডাস্ট্রির মত মনে হবে না।

আমাদের আগ্রহ চুড়ান্ত। এবার স্লাইডে দেখা গেল একটা রুমের বাইরে লাইনে দাড়ানো হাজারো মানুষ। এই লাইনের সাথে আমরা পরিচিত। প্রতিদিন নিয়ম করে এরুমে প্রবেশ করা আমাদের জন্য ফরজ। এই পদ্ধতিটা চালু হয়েছিল দেশে যখন প্রায় 3300 MW ঘাটতি প্রতিনিয়ত হচ্ছিল। লোকজন রাস্তায় নেমে পড়লো, কানসাট আর ডেমরার মত ঘটনা ঘটতে থাকলো প্রতিটা এলাকায়।

নব্বই থেকে এ পর্যন্ত সমস্ত সরকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের ধরে ধরে মানুষজন নিতম্বমৈথুন করতে শুরু করায় সরকার এই বিশেষ পদ্ধতি চালু করেছে। দুইটার্ম প্রধানমন্ত্রী থাকা একজন মহিয়সীকে দিয়ে এই রুমের উদ্বোধন করা হয়। এরপরে এক টার্ম প্রধানমন্ত্রী থাকা একজন মহিয়সী, আর অগনিত মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে শুরু হয় এই "স্খলন কক্ষ" - যে নামে এটা অফিসিয়ালী স্বীকৃত হয়। নিয়ম হচ্ছে লাইন দিয়ে এসমস্ত রুমে লাখো লাখো মানুষ সেখানে প্রবেশ করবে এবং মনের সুখে নেতাদের পাছায় লাথি মেরে আসবে।

অবশ্য আমি প্রতিবার যা করি, সেটা উহ্য রেখে তৃপ্তির সাথে স্লাইডগুলো দেখতে থাকলাম। প্রধান নৃপতি জানালেন, এই হচ্ছে আমাদের জ্বালানী!

মানে?

আপনারা তো দেখলেন মানুষজন রুমে প্রবেশ করছে, কিন্তু ভেতরে যা হচ্ছে তা কিন্তু আপনারা জানেন না!

আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। মনের মধ্যে একটা শঙ্কা উঁকি দিল।

আমরা প্রতিবার এই রুমগুলো মনিটর করে দেখেছি সেখানে প্রচুর বিদুৎ উৎপাদন হয়। বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে এই বিদ্যুৎকে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য লেগে পড়লেন। রুমগুলোর সাথে রিফাইনিং প্লান্ট স্থাপিত হলো। আর এই যে উপদেষ্টাদের দেখছেন এরা হচ্ছে স্যাটেলাইট প্লান্ট। প্রত্যেকে ৫/১০ মেগাওয়াট করে উৎপাদন করে।

আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনে গেলাম। আমার সতীর্থ এবার প্রশ্ন করলেন, কিন্তু রুমের ভেতরে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতে পারে?

প্রধান উপদেষ্টা মনে হলো একটু কাতরে উঠলেন। তিনি বললেন, সবচেয়ে বড় প্লান্ট দুইটি হচ্ছে দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর। একটাতে 10000 MW অন্যটাতে 5000 MW তৈরী হয়। আপনাদের 10000 MW এর প্লান্টটা দেখাই।

আবার স্লাইড চালু হলো। একটা প্লান্টের অভ্যন্তরের দৃশ্য ভেসে উঠলো। সেখানে বসে আছেন মানবজ্বালানী। আর পুরো রুম ভরে আছে বাঙালীর সিমেনে!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৩৮
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×