আমি মানুষটা অমানুষ। এ বিষয়ে অন্য কারো মূল্যায়ন আমার জন্য অপ্রয়োজনীয়। কারো বুক পকেটে চশমা দেখলে আমি তার বয়স মাপি আগে। বুঝতে চেষ্টা করি ওটা প্লাস পাওয়ার চশমা কিনা। বই পাঠের সময় তিনি ব্যবহার করেন। কম বয়সী হলে সানগ্লাস ভেবে বসি।
কারো কবিতার অ, আ মেপে তার কবিত্ব বিচার করি। নিজের কবিতাকে নতুন একটা কিছু হচ্ছে ভেবে নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়াশীল হই সমালোচকের প্রতি। কিন্তু কবি আব্দুলের সাথে আলাপ আমার ভেতরে যে অদ্ভুত অনুভূতি তৈরী করেছে তা কোন কবিতা পাঠে এ পর্যন্ত হয় নি। মানুষ যখন কবিতা হয়ে ওঠে তখন তখন তখন, কি বলা যায়, আমার ভাষা নেই!
আজকে তিনি হঠাৎ করে বললেন, মরিয়া আমি অমর হব। ভাইজান ভালানী?
আমি হেসে উঠলাম। বললাম, আপনি মহান, আপনাকে ভালবাসি!
তিনি বললেন, এই নাফে এনামটা এমন করল কেন?
জিজ্ঞেস করলাম, কি করেছে?
বললেন, আমারে দিয়ে পোস্ট দিছে!
আমি নাফের পোস্ট দেখলাম। সেখানে আরণ্যক যাযাবরের মন্তব্য পড়ে বিচলিত বোধ করলাম।
এই আবালগুলান কইথন আসে?
হাসি চেপে রাখতে পারতেসি না।
আমারে কেউ একটা হাতলওয়ালা চেয়ার দেন রে ভাই।
শালার এমনই কবি, তিন বাক্য লিখলে ছয়টা ভুল শব্দ লেখে।
দর্কার হইলে দেইখা আসেন।
মানুষ কখন লেখে, কিভাবে লেখে এবং কি লেখে এসব ছাপিয়ে একজন মানুষের অন্তর্জগতে কতটুকু দৃষ্টি ফেলা সম্ভব, বিষয়টা গূঢ়ার্থে বেশ রহস্যময় এবং কখনও বিবেচনার দাবী রাখে।
পলাশমিঞার আসল নাম মোহাম্মাদ আব্দুল রাহিম এবং তিনি নিজেকে কবিআব্দুল হিসাবে পরিচয় দেন বলে সব পরিচয় এর মধ্যেই উৎকীর্ণ থাকে না। তিনি আমাকে বললেন,
" এখানে কিছু ব্লগার আছে যারা আমাকে প্রথম থেকে অপছন্দ করে, জানিনা কেন?
এখন বলেন কি করব আমার মন খারাপ হয়ে আছে।
ব্লগে লেখা বন্ধ করে দেব?
শুধু আপনারদের জন্য দিনরাত পরে থাকি।
মন খারাপ করে দিয়েছে।
আচ্ছা বলেনত আমার লেখা কি খুবই খারাপ?"
একজন কবিআব্দুলের জন্য আমার মন কাঁদে। আমি সাহিত্য বুঝি না। আমি একজন সাহিত্যের জলজ্যন্ত চরিত্র দেখেছি। তিনি কবিতার, গল্পের, নির্মাণের।
কার জন্য লিখছেন কবিআব্দুল? কারো জন্য হওয়াটা কি জরুরী! কবিআব্দুল লিখতে লিখতে যে অপরূপ জগতে হারিয়ে যান, সেই বিবশ মুগ্ধতার জগতের দেখা ক'জন লেখিয়ে পেয়েছে এতদিনে! খুব কম লোকই জগতটার সন্ধান জানে বোধকরি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



