বাবুয়ার হাতে পুরো পৃথিবী। জানালা গলে কিছু মেঘ এসে হাসপাতালের সাদা চাদরে মিলেমিশে একাকার। সিএমএইচের আইসিইউএ-১ এ অনেক প্রটোকল। আর ক্যানসারের জন্য বিশেষ দৃষ্টি। বাবুয়ার বিস্তৃত পৃথিবী রঙিন ক্যানভাসে জমা হয়েছে বিশ্বস্ত সহচর ল্যাপটপে। একটা উইন্ডো খুলে গেলে নেমে পড়ে অক্ষরের দেশে। চলমান এক জীবনস্রোতে হারিয়ে যায়। হাসপাতালের প্রতিবন্ধকতা আর ক্যানসার জটিলতা থেকে নিমিষেই মুক্তি মেলে বাবুয়ার।
একটা উইন্ডো খুলে গেলে উজ্জল হাজির হয়। জিজ্ঞেস করে, দাদা আপনি কেমন আছেন?
বাবুয়া বলে, উজজল, আমি ভাল নেই। আজ চার দিন হোল সিএমএইচ এ এডমিট হয়েছি। সময় কাটাচ্ছি আপনাদের ব্লগ পড়ে। আশা করি আর দু'দিন পরে রিলিজ পাবো। প্লিজ এভরিবডি প্রে ফর মি!
আমাদের এইসব ব্লগে যা লেখা হয় তার সবই যে বাবুয়ার পছন্দ তা নয়। কিন্তু বাবুয়া দেখে জীবনের স্রোত। দৃপ্ত পদভারে ব্লগের ঠাসা বুনোট। অফিসারস আইসিইউএর ৮ নম্বর বেডের একমাত্র খোলা জানালা ব্লগের প্রবাহমান মুখরতা, বাবুয়া এই হেঁটে চলা ব্লগের গল্প-কথায় হারিয়ে যায়।
উজ্জল জানতে চায়, আপনার কাছে কি ফোন আছে? থাকলে নম্বরটা দেন।
ঐখানে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ। বাবুয়া আপ্লুত হয়ে ওঠে। বলে, আমার জন্য আপনার সহানুভূতি আমার চোখ ভিজিয়ে দিচ্ছে! আমার জন্য দোয়া করবেন।
আমি কি আপনার সাথে দেখা করতে আসতে পারি দাদা? উজ্বল আবার বাবুয়ার ব্লগে লেখে।
বাবুয়া উত্তর দেয়, "আজ রাতে আমাকে বেডে নেয়া হলে আমি আপনাকে কল করব।"
এরপরে বাবুয়া হয়তো আবার কেমোথেরাপির জগতে হারিয়ে যায়। ক'দিন আগে শাশ্বতের ফান্ড রেইজিং ক্যাম্পেইনে বাবুয়া অংশ নিয়েছিল। অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছিল সেখানে। বাবুয়ার জানালায় ব্লগের পাতা গুলো হাসতে থাকে, চিকিৎসালয়ের বদ্ধ দরজার অন্তরালে বাবুয়া এক টুকরো খোলা পৃথিবী খুঁজে পায়।
পৃথিবীর রঙিন দিনগুলো উজ্জ্বলভাবে ফুঁটিয়ে তোলার জন্য আসুন বাবুয়ার জন্য একটা দিন উৎসর্গ করি। বাবুয়ার আনন্দের জন্য দু'কলম লিখি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

