somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নরম নরম তেলাপোকা ভোর

১৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুটা পরিষ্কার করা গেল বটে, কিন্তু এখনও বের হয়ে আছে কয়েকটা শব্দ নির্লজ্জের মত, সামরিক শাসন, মানি না। গতরাতে সচিবালয়ের সাদা দেয়ালে কালো কালিতে লিখে রেখেছে কেউ। মোসাদ্দেক আর জব্বার মিলে ঘন্টাখানেক ধরে ওঠাবার চেষ্টা করছে বিভিন্ন কৌশলে, পানি দিয়ে ঘসেছে কিছুক্ষণ, তারপরে সিরিজ কাগজ দিয়ে। কোনভাবেই উঠছে না। নিরূপায় হয়ে মোসাদ্দেক একটা বিড়ি ধরিয়ে ফুটপথে বসে পড়ে। জব্বার ক্যালকেলিয়ে হাসে, উঠবো না, সালারা মনে হয় জান দিয়ে লিখেছে। আচ্ছা ভাইজান, কি লেখা আছে এখানে!

মোসাদ্দেকের মাথায় ঘুরছে রঙের চিন্তা, নতুন করে রঙ না করলে এটা বোধহয় যাবে না। বয়সে ছোট জব্বারের প্রশ্নে সে বিব্রত হয়, সেও জানে না কি লেখা, তবে মনে হয় কিছু খারাপই লেখা আছে, নইলে আর্মির বড় অফিসার তাকে গুলিস্থান থেকে দরদাম না করেই তুলে আনবে কেন!
জব্বার এখনও সামরিক শব্দটি ওঠাবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। অন্য সব উঠে গেছে ইতিমধ্যে। আর্মির গাড়ীটি অদূরেই দাড়িয়ে আছে। জলপাই রঙের মানুষগুলো রাস্তা দেখছে খুটিয়ে খুটিয়ে।

মোসাদ্দেক বিড়িতে কষে একটা টান দিয়ে বলে, দাড়া, বুদ্ধি বের করেছি, গিয়ে সাবদের বলি, রঙ কেনার পয়সা দিতে, সাদা রঙ মেরে দিলে লেখাটা আর দেখা যাবে না।

জব্বার একটু ভাবিত হয়। ক'মাস আগে কয়েকটা কাঠাল নিয়ে ফুটপথে বিক্রি করতে বসলে একজন উর্দিওয়ালা এসে তাকে টেনে-হিচড়ে গাড়ীতে উঠিয়েছিল। তিনদিন পরে যখন সে ছাড়া পেল, কাঠালের চিন্থটি সেখানে পড়ে থাকার কথা নয়, তারপরেও সে গিয়েছিল আশায় যদি পাওয়া যায়। মোসাদ্দেকের থেকে তিনশটাকা ধার করে কাঠাল কিনেছিল। তারপরে সাতদিন কাজ করে অর্ধেক মজুরী পরিশোধ করে ঋণ শুধেছে। জব্বারের পাছায় কয়েক ঘাও পড়েছিল সেদিন। এখন পুলিশ আর্মি দেখলে খাওয়ার কথা ভুলে যায়, কাজের কথা ভুলে যায়। তার মনে হয় কাজ করাও পাপ, নিষেধ, অনুচিত। মোসাদ্দেক আর্মির গাড়ীটির দিকে হাঁটা শুরু করতেই জব্বার দেয়ালের সামরিক আরো জোরে জোরে ঘসতে থাকে, মনে হয় এখনই এটা না উঠিয়ে ফেলতে পারলে আবার তাকে জেলে যেতে হতে পারে।

মোসাদ্দেক তরুন আর্মির ক্যাপ্টেনকে বলে রঙ করার কথা। ক্যাপ্টেনকে তার ভয়ংকর মনে হয় না। সে আরেকজন উর্দিকে বলে দেয়ালটা দেখে আসতে। সেপাই গোছের আর্মি দেয়ালের কাছে এসে দেখে জব্বারের প্রানন্ত প্রচেষ্টা সামরিক উচ্ছেদের। কিন্তু অক্ষরের রঙ লেপটে আছে অনেকটা জায়গা জুরে। একটু একটু উঠছে কিন্তু রূপটা ঠিকই বোঝা যাচ্ছে। আর্মি এসে জব্বারের হাত থেকে ব্রাশটা নেয়। তারপরে নিজে লেগে পড়ে সামরিক অপসারণের জন্য। কিন্তু বেহায়া শব্দটি উপড়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। যত দেয়ালে ঘসা হচ্ছে তত শব্দটি দেবে যাচ্ছে আরো ভিতরে। এখন মনে হচ্ছে সিমেন্টের আস্তরণ ভেদ করে সেটা লেখা হয়ে যাচ্ছে ইটের গায়ে।

বিরক্ত হয়ে ওঠে সেপাই আর্মি। তরুণ ক্যাপ্টেনের কাছে গিয়ে বলে বেহায়া সামরিক উপস্থিতির কথা। ক্যাপ্টেন এবার হাতের ওয়ার্লেসটা পকেটে ঢুকিয়ে দেয়ালের পাশে এসে দাড়ায়। কিছুক্ষন দেখে। আশেপাশের লেখা উঠে গেছে কিন্তু সামরিক শব্দে কালো কালির বেশি প্রয়োগ হওয়াতে সেটি ছড়িয়েছে বেশি জায়গা জুরে। ক্যাপ্টেনকে দেখে জব্বারের হাত চলতে থাকে আরো দ্রুত। সে দাড়িয়ে বসে, বহুত কসরতে ঘসতে থাকে। মনে কাঠালের ছবি ভেসে ওঠে। সচিবালয়ের ফুটপথে আরো সংকুচিত হয়ে দেয়ালের সাথে মিশে ঘসতে থাকে সামরিক। একসময় ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেককে নিয়ে গিয়ে গাড়ীতে ওঠে। রঙ আনতে যাবে।

রাস্তার মোড় থেকে গাড়ীটা অপসারিত হবার পরে জব্বারের চেহারায় স্বস্তি ফিরে আসে। একটা শিরশিরে অনুভূতি মেরুদন্ড বেয়ে নেমে যেতে মুত্রথলীর চাপ বাড়তে থাকে। এদিক সেদিক দেখে লুংগি উচিয়ে দেয়ালের দিকে তাক করে তার যন্ত্রখানি। তারপরে ঠিক সামরিক শব্দটি টার্গেট করে নিক্ষেপ করতে থাকে মুত্র।

জব্বারের মুত্রতে কিছু একটা ছিল বিষ্ময়কর, ক্যপটেন যখন মোসাদ্দেককে সাথে করে রঙ নিয়ে ফিরলো, তখন দেখলো সামরিক উচ্ছেদ হয়ে গেছে। জব্বার মনের সুখে বিড়ি টানছে।

পুনঃপ্রকাশিত
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×