ইশকুলে পড়াকালিন জীবনেও বাসার বাইরে এক রাত্রি থাকার কোন সুযোগ ছিল না। শবে-বরাত সেজন্য বরাত খুলে দিত। এই রাত্রে আমাদের সারারাত মসজিদে ইবাদত করার সুযোগ মিলতো।
কলোনীর বিশাল দীঘির পাড়ে আমরা একত্রিত হতাম। এশার নামাজের মিলাদের পরে বাসায় খেয়েদেয়ে তারপর। দশ-বারোজন সমবয়সী প্রথমে যে এবাদতটা করতাম তাহলো ডাব চুরি। কলোনীর ছেলেমেয়েরা গাছ বাইতে জানতো না - এজন্য দলে থাকতো পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকজন ক্লাসমেট। মোটামুটি বিভিন্ন গ্রুপ মিলে নারিকেল গাছ ভাগ করে নিতাম। তাউরাশ ছিলাম বলে বেশী গাছ পড়তো আমাদের ভাগে।
দ্বিতীয় ইবাদত ছিল শাওনদের বাড়ীতে হামলা। ঐ বাড়ীতে ছিল ছ'ছটা এটম বুম্ব লেড়কি। আমাদের ইবাদত গ্রুপের জন্য তাদের হালুয়া খাওয়া ছিল কমপলসারি। বাবু নাকি এমন কোন এক শবে-বরাতে বয়োজেষ্ঠ্য কন্যাকে চালের রুটির মত বেলতে পেরেছিল।
তৃতীয় ইবাদত ছিল পটকা আর আতশ-বাজী। এর জন্য উপযুক্ত জায়গা ছিল অঙ্কের টিচার মাহবুব স্যারের বাসার উঠোন। তার বেতের বাড়ীতে আমাদের সবার পাছা লাল থাকতো বলে এই রাতে তাকে একটু ইবাদতী ধোলাই দেবার সুযোগ পাওয়া যেত। বিকট পটকার আওয়াজে মাহবুব স্যার একটা বিশাল বাঁশ নিয়ে কে রে করে ছুটে আসতেন। পাজামা-পাঞ্জাবী পরিহিত আমরা দিতাম ভো দৌড়। কিছুক্ষণ পরে আবার হামলা শুরু হতো।
এখনও শবে-বরাতে আমাদের আড্ডার ধরণটা পাল্টায় নি। গত কয়েকবছর যাবত আমরা কয়েক বন্ধু মিলে শবে-বরাতের রাতে মাতাল হই ইবাদতে। ইদানিং কয়েকজনের গাড়ী হয়েছে - আজকে সারারাত ঢাকার রাস্তায় আমাদের ইবাদত করার কথা আছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



