টাপুরের মা এর সম্ভবত আর আধূনিক হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। শুধু টাপুরের মা কেন, আমিও বোধহয় সেকেলে। নইলে একটা কিচেনের জন্য তার আহাজারিতে বিগলিত হয়ে বাথরুম-কাম ডাইনিংটা ছোট করে একটা কিচেন রুমের স্পেস বের করার জন্য প্ররোচিত হই কিভাবে! কত সাধের ডাইনিং ছিল আমার, এক পাশে খেতে খেতে অন্য দিকে কেউ রে-ওয়াল অন করে সিট-আউট করতে পারতো। এখন কোনও এপার্টমেন্টে কিচেন নেই, আজকালকার বাচ্চারা কিচেন শব্দটা জানে রেস্টুরেন্টের অংশ হিসাবে। ঘরেও যে কিচেন থাকতো এককালে, কে বোঝাবে তাদের!
আসলে টাপুরের মা'র সাধ হয়েছে আমাকে কিছু রান্না করে খাওয়াবে। আলু-সেদ্ধ করে পোড়া-মরিচ দিয়ে ভর্তা বানাবে। ঝোল ঝোল মাছ, মুরগী রান্না করবে। এপার্টমেন্টের রেস্টুরেন্টগুলোতে সব ড্রাই আর ফ্রাই। একবার সেই ত্রিশ বছর আগে টাপুরের মা আমাকে আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাইয়েছিল, সেই স্বাদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা বলা যায়।
আজকে সারাদিন কিচেন রুমের ডেকোরেশন হলো। যে দুটো ছেলে কাজ করছে তাদের রাজ্যের প্রশ্ন। আপনারা কি রেষ্টুরেন্ট চালু করছেন? বেশ তো! ঘরোয়া পরিবেশে তারাও খেয়ে যাবে এমন আবদারও করে যাচ্ছে। টাপুরের মা অচেতন বলে আমার সামলাতে হচ্ছে সব। আরো তিনঘন্টা তার ঔষধের কার্যকারিতা থাকবে। এই সুযোগে আমি বহুদিন পরে সিক্রেট টিভি খুলে বসেছি। এই চ্যানেলটা বেশ মজার। একটা পরিবারের সব সদস্যের কার্যবিধি ধারণ করা হয় গোপনে। বেডরুম থেকে বাথরুম সর্বত্রই ক্যামেরা, একদম আনকাট পাবলিকেশন। আই লাভ সিক্রেট টিভি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

