জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটা জোটবদ্ধ ঐক্য ছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলো কখনও আলাদা, বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদের বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতি অবলম্বন করছে। আজকে সন্ধ্যার পর থেকে সরাসরি এই আন্দোলনের সাথে জড়িত এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে আন্দোলনটার গতি-প্রকৃতি সন্বন্ধে যা জানলাম তাকে মেইনস্ট্রীমের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসাবে উল্লেখ করা যায়।
এর ভেতরে রয়েছে মিডিয়া ও গ্রাউন্ড লেবেল ক্যাম্পেইন। মিডিয়া বলতে প্রিন্টেড মিডিয়াতে লেখালেখি করে জনমত সংগঠিত করার জন্য একটা গ্রুপ কাজ করছে বা বেশ কয়েকজন আরো বিস্তর লেখালেখির প্রায়াস চালাচ্ছে।
গ্রাউন্ড লেবেল ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের শারিরীক উপস্থিতি আবশ্যক। এমন কিছু ইভেন্ট প্রায় চুড়ান্ত হয়েছে বা হচ্ছে। যার ভিতরে শহীদ মিনার, বুদ্ধিজীবি সমাধিস্থান, প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে আরো কয়েক জায়গাতে সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এইসব প্রায়াসগুলো বিভিন্ন ব্যানার আবার কখনও ব্যানার ছাড়া স্বত্বস্ফুর্ত অংশগ্রহণে সংগঠিত হচ্ছে। তবে ব্লগস্ফিয়ারে ক্যাম্পেইনের রূপটা এখন পর্যন্ত লেখালেখি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এবং সেটাও তেমন প্রসারিত ও ব্যাপক নয়।
এ প্রসংগে একটা দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা প্রাসাঙ্গিক হতে পারে। কয়েক মাস আগে যখন চালের দাম বিশ্বব্যাপী অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেল এবং ফলশ্রুতিতে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে অসহিষ্ণু হয়ে উঠলো প্রায় সমস্ত দেশের জনগণই তখন মিডলইস্টে ব্লগস্ফিয়ার বা সাইবারস্ফিয়ারের আহবানে মিশর থেকে জর্ডান, প্যালেস্টাইনে হরতাল পালিত হয়েছিল। সাইবারএ্যাকটিভিজমের শক্তি প্রথমবারের মত মিডলইস্টের সরকারগুলো অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। একই সাথে আমি আপনাদের একটু মনে করিয়ে দেই ভেলরীকে নিয়ে সংগঠিত ক্যাম্পেইনের কথা।
এই ক্যাম্পেইনগুলো সফল হয়েছিল ব্লগারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য। যৌন নিপীড়ক বিরোধী আন্দোলন কেবল একজন ছানোয়ারের অভিশংসনের মাধ্যমে কোন লক্ষ্য অর্জিত হবে না। এর জন্য দরকার হবে যৌন নিপীড়ক বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
এজন্য মেইনস্ট্রীমের সাথে সাইবারএ্যাকটিভিজম ব্যাপকতা লাভ করলে ক্যাম্পেইনে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। এজন্য যা যা করা দরকার তা হলোঃ
১. সমস্ত ব্লগস্ফিয়ারে একটা প্রতিবাদী স্টিকি পোস্ট
২.যতগুলো ফোরাম, কমিউনিটি আছে সেখানে পোস্টগুলোর সঞ্চালন
৩. সমস্ত ব্লগারদের অবহিতকরণ। এজন্য যারা ভোকাল তারা অন্যদেরকে অবহিত করতে পারে।
৪. বেশী থেকে বেশী সংখ্যক ব্লগারের এ সংক্রান্ত পোস্ট প্রদান
৫. একটা মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন। ব্লগারদের একটা সাধারণ মানের আড্ডাতে ৩০/৪০ জন হয়ে যায়। মানববন্ধনে একশর বেশী ব্লগারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কোন ব্যাপারই না।
৬. নিপীড়ন বিরোধী ওয়েব বেইজড ব্যানার, স্ট্রিকার তৈরী ও সেগুলোকে প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে নিজস্ব ওয়েব, ব্লগে ব্যবহার।
প্রতিবাদের ব্যাপকতা তখনই টের পাওয়া যাবে যখন একটা বিশাল সাইবার জনগোষ্ঠী সাড়া দেবে। আমি সবাইকে আহবান জানাচ্ছি সাইবার আন্দোলনে অংশ নেবার জন্য। একজন বিশেষ ছানোয়ারের বিরুদ্ধে নয়, যৌন নিপীড়ক সব জানোয়ারদের বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে, প্রণয়ন করতে হবে একটা স্থায়ী নীতিমালা যা সেক্টরওয়াইজ নিপীড়ণের চিত্রকে স্পেসিফিক্যালী চিন্থিত করে শাস্তিবিধান করতে সক্ষম হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

