বিজ্ঞাপনের মাঝে এখন এতো বেশী নাটক দেখাচ্ছে যে বিরক্তি ধরে গেছে। টাপুরের মা তার নতুন রেসিপি বুক শপ নিয়ে ব্যস্ত। নাম দিয়েছে "ওয়াল্র্ড রেসিপি হেরিটেজ"। পৃথিবীর সব রেসিপির বই তার শপে পাওয়া যায়। অগত্যা আমি টিভি দেখতে বসেছিলাম। কিন্তু একটা বিজ্ঞাপনও ঠিকমত দেখতে পারি না। মাঝখানে কিছু উজবুক নাটকের প্যানপ্যানানী চলে আসে। তাও একটা দুটো নাটক হতো। প্রায় তিনচার মিনিটে চল্লিশ-পঞ্চাশটা নাটক দেখিয়ে ফেলে। আর আজকাল আবার নাটকে থাকে না কোন পাত্র-পাত্রী, পরিচালকের নাম। এ্যাবস্ট্রাক্ট ফর্মের এই নাটকগুলোও অদ্ভুত। একটা নাটকে দেখালো ঈদের দিন এক বাসায় দুজন বেড়াতে এসেছে। ক্লোজ শটে হোস্টের অবাক হয়ে থাকা চোখ, গৃহিণী বলছে, অবিশ্বাস্য, এখন তো কেউ আসতেই চায় না!
আমার মনে আছে ২০১০ সালের এক বিজ্ঞাপন বিপ্লবের পরে বিজ্ঞাপনগুলোতে নির্মাতার নাম দেখানো শুরু হয়েছিল। সেই সাথে বিজ্ঞাপনের কাস্টিং এরও বিশাল নামের বহর। রাতারাতি পরিবর্তন ঘটেছিল টিভি সম্প্রচারে। বিজ্ঞাপনগুলো লম্বা লম্বা হয়ে পড়লো। আগে যে লেন্থে নাটক হতো, এখন সেই লেন্থে বিজ্ঞাপন হচ্ছে। পুরো সময়টাতে প্রোডাক্টগুলোর একটা দারুন আবেগীয় সম্পর্ক দেখানো হয়, যা মানব জাতির বিবর্তনে কিভাবে আত্তীকৃত হয়েছে। ২০১০ সালের বিজ্ঞাপন বিপ্লবের আগে একটা তিনচার লাখটাকার নাটকের জন্য তিন কোটি টাকার বিজ্ঞাপন প্রচারিত হতো। স্বাভাবিকভাবে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা তাদের মেধার অপচয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে নাটক হয়ে গেলো বিজ্ঞাপনের মত আর বিজ্ঞাপনগুলো হলো মনোরম, নান্দনিক।
কিন্তু এখন আবার নাটকের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। অবশ্য এর পেছনে বিজ্ঞাপনের গল্পের বাড়াবাড়িও একটা কারণ। একটা টিভিসিতে এত জটিল জটিল সম্পর্কের পন্যায়ন দেখানো হয় যে মানুষ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবেগের প্রকাশ দেখতে উঠেপড়ে লেগেছে। যার জন্য নাটকগুলো এখন ঘনঘন দৃশ্যমান। কিন্তু আমরা তো বিজ্ঞাপন দেখতে অভ্যস্ত। ঈদের দিনগুলোতে একটা বিজ্ঞাপনও সুস্থ্য মত দেখতে পারলাম না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

