somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিউম্যান এসেম্বলিং সেন্টার

০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন একটা কাটা হাত নিয়ে এসেছে। কনুই থেকে কাটা। রক্ত যেন না ঝরতে পারে সেজন্য প্রসেস করা। তারমানে বৈধভাবে কাটা। রিসেপশনের সুন্দরী তাকে দাড়াতে বলে রিসিভার তুলে ভেতরে কাউকে কিছু জানিয়ে একটা ভিজিটরস কার্ড ধরিয়ে দিল। বললো, যান ভেতরে যান!

ভদ্রলোক কাটা হাত নিয়ে ডোরলকে ডিজিটাল কার্ড পাঞ্চ করতে দরজাটা স্যাত করে খুলে গেল। ভেতরে ঢুকতে একজন এসেম্বলার তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল প্রোডাকশন কস্ট ডিভিশনে।

যে ডেস্কে নিয়ে গেল সেখানের ভদ্রলোক একটা কাটা কান খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিল। ভদ্রলোককে দেখে নিজের কান চুলকাতে চুলকাতে বললো, কখন কাটা?

এই তো! আধঘন্টা হবে! বলে লোকটা চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়লো। কাটা হাতের নখগুলো শক্ত হয়ে আছে। একটা নখের উপরে চাপ দিয়ে সাদা একটা প্রলেপ দেখার চেষ্টা করলেন।

সেন্টারের কস্ট ডিভিশনের লোকটা তার হাতের কাটা কানটা রেখে আগন্তুকের দিকে পূর্ণ মনযোগ দিলেন। কাটা হাতটা নারীর বুঝতে তার সময় লাগে না। খানিকটা নেলপালিশ উদ্ধার করা যায় ভাল করে দেখলে।

কি করবেন?

আমার হাতে এটা এসেম্বেল করতে চাই। কতক্ষণ সময় লাগবে?

অর্গান ডিভিশনের রশিদ আছে?

হু! এই বলে একটা রিসিপ্ট বের করে দেয়। সেখানে সুরভী শিকদার লেখা আছে বিক্রেতার নাম হিসাবে। দাম ৩০ হাজার টাকা।

লোকটা একটু মুচকি হেসে বললো, ঘটনা কি ভাই? এই হাতে কি আছে?

সুরভীর কাটা হাত নিয়ে বসে থাকা ভদ্রলোকের মেজাজ একটু গরম হয়ে ওঠে। বলে, আপনার এত কি জানার দরকার? কত লাগবে আর কতক্ষণে পারবেন সেটা হিসাব করুন!

এক্সিকিউটিভ ফুস করে একটু দমে যায়। কাটা হাতটা নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে। তারপর একটা স্ক্যানিং মেশিনের উপরে রেখে কম্পিউটারে তথ্য চালান করে ভেইনের সংখ্যা। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ১৮,৫২৬। প্রতিটা ভেইনের জন্য দশটাকা লাগে। ভারী মুখে বলে এক লাখ পচাশি হাজার! কি নাম আপনার?


জারিবুল তৈয়ব। দেড় লাখে পারবেন?

নাহ!

ঠিক আছে কাজ শুরু করেন।


সেন্টারের এক্সিকিউটিভ মনে মনে বেটাকে পাগল ঠাউরেছে বুঝতে পারে তৈয়ব। এখন সবাই চেঞ্জ করছে নাক, আর উনি কিনা নিয়ে এসেছেন হাত! ফ্যাশন বলতে একটা কথা আছে। তাছাড়া পুরো দেহ অদল বদলও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেমন তার বন্ধু পুরো মাথাই বদল করেছে স্ত্রীর সাথে। সে এখন নারীর দেহ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তৈয়ব কারণ জিজ্ঞেস করায় বলেছিল, বিশ্বাস নাই, ওর দেহ আমি পাহারা দিয়ে রাখছি!

তৈয়বকে এক্সিকিউটিভ অন্য একটা রুমে নিয়ে গেল। সেখানে অনেক মানুষ অপেক্ষায়। কারো হাত নেই, কারো পা নেই। সুন্দর প্রত্যঙ্গের মালিকেরা উচ্চদামে তাদের দেহ বিক্রি করছে। এখন শুধু মাথা থাকলেই হয়। মোটা টাকা বাগিয়ে একটা কুৎসিত দেহ নিয়ে ঘুরে বেড়াতে তাদের আপত্তি নেই।

তৈয়বের হাতের কেন সখ হলো তাও আবার নারী হাতের সেটা নিয়ে কৌতুহল বেড়ে গেল এসেম্বলারদের মধ্যেও।

ভেইন কানেক্টর হিসাবে যে মেয়েটি আছে তার আবার শরীরটা একজন অল্পবয়স্ক বালকের। সে কতক্ষণ হাতটা নেড়ে চেড়ে বললো, এই হাতে মনে হয় যাদু আছে!

প্রধান সংযোগকারী হাতটিকে একটা রি-এনার্জিং প্লান্টে ঢুকিয়ে তৈয়বের দুই হাতের মাপঝোপ নিয়ে একটা কাটিং মেশিন ফিট করলো কনুইয়ে। ভেইন কানেক্টর মুখ টিপে হাসছে। তৈয়বের দিকে তাকিয়ে বললো, সাধু সাধু! আপনার এই শখ হলো কেন?

তৈয়বের আবারো মেজাজ খিচরে গেলো। বললো, যে কাজের জন্য বলা হয়েছে তাই করুন!

মেয়েটা একটু থতমত খেয়ে গেল। খ্যাচ করে তৈয়বের ডান হাত আলাদা হয়ে গেল কনুই থেকে। ঘন্টাখানেকের মধ্যে সুরভির হাত লেগে গেল তৈয়বের হাতে।

পেমেন্ট করে তৈয়ব ডানহাতটা রমনীর বানিয়ে রাস্তায় নামলো। একবারও তার কর্তিত হাতের কথা জানতে চাইলো না। সেন্টারের লোকজন বিক্রি করবে কিনা জানতে চাইলে তাদেরকে ফ্রি দিয়ে দিল।

তৈয়বের মুখের কোনে এক চিলতে রোদ্দুরের মত হাসি খেলে গেল। হিউম্যান এসেম্বলার সেন্টারের লোকজন জানে না সুরভীর হাত সে নিজেই কেটে নিয়ে এসেছে। রিসিপ তো এমন কতই বানানো যায়!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৯
২৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×