আমার প্রিয় পোস্ট

যন্ত্র হতে হতে এখন অযান্ত্রিক তন্ত্রমন্ত্র ভালো বুঝি

আমি যেভাবে ইশ্বরের সন্ধান পেলাম

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৩

শেয়ারঃ
0 0 0

আমার জন্ম হয়েছে নারী-পুরুষের জৈবিক ক্রিয়াকর্মের ফলসরূপ। বিষয়টা আমার কাছে ধর্মীয় মনে হয় নাই। তবে ভ্রুণ যখন উসখুস করে জরায়ুতে আছড়ে পড়লো সেই ঘনীভূত কামাদ্রেক ক্ষণে "ওহ মাই গড" বোধহয় উচ্চারিত হয়েছিল সংগমরত যুগলের। বিষয়টাতে ইশ্বরের স্মরিত ও প্রতিভাষিত উদ্ধৃতি উচ্চারণের স্ফুর্তি সহায়ক বলেই মনে হয়েছে।

জন্ম রহস্যে আমি অদৃশ্য ছিলাম কার্যত কোন রোল প্লে থেকে তবে ইশ্বরের ভূমিকাকে শৈশবের নিদৃষ্ট একটা গন্ডী পর্যন্ত অপ্রবিষ্ট দেখেছি - কারণ তখনও আমাকে ইশ্বর বোঝানো যায় না। সেহেতু আমার জন্ম হয়েছে একজন ইশ্বরের পরিচয়বিহিন মানব হিসাবে এবং সেসূত্রে প্রতিটা মানুষকে জন্মগতভাবে নাস্তিক বলে মনে করি।

ইশ্বর যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় তখন আমি বৃক্ষ, পশু, ঝড়, সূর্যের সাথেও পরিচিত হয়ে উঠি। অদৃশ্য বাতাস, সুখ, দুঃখের মত ইশ্বরের অস্তিত্বকেও উপস্থাপন করা হয়। এই সকল কাঠামোগত পাঠদান প্রক্রিয়ায় ইশ্বর একটা অর্জিত জ্ঞান এবং নিরবিচ্ছিন্ন চর্চার বিষয় হিসাবে ধারণা প্রদান করা হয়।

সংগত কারণে ইশ্বর আমার কাছে পাঠের একটা বিষয়, যেমন আরো অনেক ব্যক্তি, সৃষ্টি ও রহস্যাবৃত ঐতিহাসিক ঘটনাও। প্রত্নকদের মত ক্রমাগত চিহ্ন খুঁজে বেড়ানো এবং জোড়াতালি দিয়ে খন্ডিত ও আপাতত সিদ্ধান্তে উপনীত হবার সাময়িক অবস্থান।

ক্রমবিকাশমান ও পরিবর্তিত অধ্রুব ঘটনাচক্র ও অভিজ্ঞতার সঞ্চালনে ইশ্বরের সঠিক অবস্থান ও ধারণা আমার ভেতরে প্রস্তুত হয়নি। পৌরানিক গল্প ও গাঁথার মত কল্পনায় রঙ চড়ানোর অপার স্বাধীণতা ইশ্বরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে।

বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ইশ্বর সম্পর্কিত জ্ঞান যখন আমার জানা হলো, সম্ভবত এইট/নাইনে, ইশ্বরকে আমি খারিজ করে দিলাম। যখন ক্রিষ্টানের ইশ্বর এখন মুসলমানদের হয়েছে দাবী উচ্চারণের গল্প শুনলাম - তখন বিষয়টা আমার কাছে স্রেফ খেলো, অশালীন ও কুৎসিত মনে হলো। ইশ্বর ছিনতাইয়ের এই ঘটনাটা প্রথম মুসলমানরা করেছে তা নয়। এর আগে খ্রিস্টানরা ছিনতাই করেছে ইহুদীদের ইশ্বর।

একজন কল্পিত ইশ্বরের প্রয়োগ ঐতিহাসিক আমল থেকেই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিলো - এই উপলব্ধি হয় আমার আরো পরে। এবং এই ইশ্বরের ধারণাটা ব্যক্তির দুর্দান্ত ক্ষমতার অধিকারী হবার লিপ্সা ও কারো কারো তেমন শীর্ষে উত্তরণের মাধ্যমে বিকশিত হয়। কারণ ইশ্বরের ধারণা কোন শিশুকে যদি কমিউনিকেট করা না হয় তার ভেতরে সৃষ্টি ও এর কারণ সম্পর্কে নিজস্ব চিন্তাভাবনা উৎপন্ন হবে এবং তেমন করেই আজকের ইশ্বরের আবিষ্কার সম্পন্ন হয়েছিল অতীতকালে।

মূলত তখন থেকেই একজন ইশ্বরকে আমি খুঁজে পেয়েছি। সে পুরোটাই আমার মত।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫
পাগল রাজা বলেছেন: চান্দিছিলা , এক্টা কতা জিগাই। বিয়া করনের সময় তুমি ক্যামনে নিয়া কর্ছিলা ? কি ভাবে , সেইটা এক্টু কইবা
৩. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
স্বপ্নশিকারী বলেছেন: "মূলত তখন থেকেই একজন ইশ্বরকে আমি খুঁজে পেয়েছি। সে পুরোটাই আমার মত। "

সুন্দর অর্থ।
৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭
সো-(হেল)!! আহমেদ বলেছেন: তবে ভ্রুণ যখন উসখুস করে জরায়ুতে আছড়ে পড়লো সেই ঘনীভূত কামাদ্রেক ক্ষণে "ওহ মাই গড" বোধহয় উচ্চারিত হয়েছিল সংগমরত যুগলের। বিষয়টাতে ইশ্বরের স্মরিত ও প্রতিভাষিত উদ্ধৃতি উচ্চারণের স্ফুর্তি সহায়ক বলেই মনে হয়েছে

আর সেই ভ্রুনটা ৯মাস ১০ দিন পরে আজকের কৌশিক হয়ে সেই যুবতীর জরায়ু হতে বের হয়ে আসার জন্য ছটফট করতেছিল তখনও সেই যুগল এবং তার পরিবার পরিজন কোন এক অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার(" ......গড") নাম জপতেছিল।



৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
মাসুম পারেভজ িপ্রন্স বলেছেন: কখনো কখনো নিজের ভেতর কিছু একটা ঘটে তখন মহাপ্রভুর বড় অভাব বোধ করি। অন্যথায় আমি মনে করি -
কেহ বলে আছে খোদা কেহ বলে নাই,
আমি বলি থাকলে ভাল না থাকিলে নাই।

>>পাগল রাজা : আমি বেলায় আমি আমার স্ত্রীর ইচ্ছাকে মূল্য দিয়েছি। ইসলাম মতে ... তারমানে এই নয় আমি তা বিশ্বাস করি। ভাই মত না মিললে বাজেভাবে না বলে আসুন সহজভাবে বলি- Broter see your way out. I don't believe the things you write and hate the way to convince others.

কথা হবে আবার।
৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
দুঃখবিলাস বলেছেন: অসাধারণ!!!! কৌশিকের বলার এপ্রোচটা আমার বরাবরই পছন্দের।
৮. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৯
নুভান বলেছেন: আপনি ভাই কার ঈশ্বর ছিনতাই করবেন বলেন দেখি?
৯. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:১০
নুভান বলেছেন: হাহা ... মজাক মারলাম
১২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:১৬
মনির হাসান বলেছেন: আত্মোপলব্ধিটা সবার জন্য খুব জরুরী .. কেউ সেটা টের পায় কেউ পায়না ..
১৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০৩
আহমাদ অব্দুল্লাহ বলেছেন: ছি! কি অবমাননাকর। বড় আফসোস হয় আপনাদের জন্য যারা মহান স্রষ্টাকে নিজেদের ক্ষুদ্রজ্ঞানে অস্বীকার করার দু:সাহস করে তারা তাদের প্লেট থেকে একটা মাছিও যদি খাদ্য ছিনিয়ে নিয়ে যায় তবুও তা উদ্ধার করার ক্ষমতা রাখে না। যারা বিশ্বচরাচরের স্রষ্টার পরিবর্তে তুচ্ছ সৃষ্টির পুজা করে।

আপনার কাছে আকুল অনুরোধ, আরো ভাবুন। দয়া করে নাস্তিক হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন না। সকল নাস্তিক ভাইবোনের প্রতি আমার একই অনুরোধ। কি করবেন সেদিন যদি আপনার তুচ্ছ এই উপলব্ধি পেরিয়ে সেই বিশ্ববিধাতা মহান স্রষ্ঠা সত্যি সত্যিই হাজির হয়ে পড়েন!! !
১৫. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:০৭
নাজিম উদদীন বলেছেন: নিজস্ব একজন খোদা দরকার, সম্পূর্ণ নিজের আর কেউ ভাগ বসাতে পারবে না তাতে !
১৬. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:১৭
তনুজা বলেছেন: "..............সেহেতু আমার জন্ম হয়েছে একজন ইশ্বরের পরিচয়বিহিন মানব হিসাবে এবং সেসূত্রে প্রতিটা মানুষকে জন্মগতভাবে নাস্তিক বলে মনে করি..........."


ঠিক এইখানেই আপনি আমাকে অবাক করলেন একদম আমার বিশ্বাসের কথাটি বলে।

অকুন্ঠ অভিননন্দন আর ধন্যবাদ।

আবার ও বলি মানুষ জন্মগতভাবেই নাস্তিক এবং বেশিরভাগ মানুষই নাস্তিক.. ( শুধু প্রাণপণ নিজেকে আস্তিক ভাবার ব্যর্থ চেষ্টা করে)
১৭. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২২
ক-খ-গ বলেছেন: উপস্থাপনার স্টাইলটা আসলেই দারুন লাগলো।

 

মোট সময় লেগেছে ১.২০৯৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
যদি প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয় তবে বরঞ্চ তলিয়ে যাবো তিমির সাথে, অতল ঘাসের সাথে, নীরব রাতের সাথে। সময়ের বিভাজনে ক্ষুদ্র প্রতিশোধের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ