সবাই যাওয়ার সময় কেমন একটা সুরসুরি মার্কা পোস্ট দেয়। দেইখা পাছার চুলও পর্যন্ত ভিজা যায়। আহারে! পোলাডা চইলা গেল। দুঃখজনক। সবাই আইসা আহারে উহুরে করে। কেউ কয় থাহেন, কেউ কয় যাইবেন না। আমারও এমন একটা সময় হইছে। গালি দিছি, ব্যান তো হমুই। কিন্তু এর আগে এই সুবর্ন সুযোগ কেন হেলায় হারামু। সুতরাং এখন সময় একটা প্যানপ্যানানী মার্কা পোস্ট দেওয়া যা শুরু করেছিলেন আমাদের মহান এক বিখ্যাত ব্লগার বছর দুই আগে। কিন্তু পরের মিনিটেই নয়া নিকে ফিরা আইছিলেন।
তবে আমি তার চেয়েও মহান। নতুন নিক বানায়া ফিরা আমু না। অলরেডি একটা বানায়া রাখছি। এখন সময় সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানানো। এইটা একটা নিয়মের মত। স্মৃতি চর্চা করতে হবে। কারে ভালো পাইতাম, কে দাগা দিছিলো, কে গালি দিছিলো, কার লাগে জোট বানাইছিলাম, কার লগে আরো কি কি করতে গিয়া কত স্মৃতি জমা পড়ছে। মানে স্মৃতি জমা পইড়া এক একটা এমন দামী সোনার খনি হইছে যে এখন তার মধ্যে আমি সারাজীবন পার করতে পারি। এই ব্লগে না আইলে আমি অনেক কিছু শিখতাম না। ডিম ভাজি শিখতাম না, বানান করা শিখতাম না, কত পোংটামী শিখতাম না। ৩২ বছর বয়সে ব্লগে আইসা বিগত তিনবছর আমার সব শিক্ষা দীক্ষা হইছে। বন্ধুত্ব হইছে। প্রেম হইছে। সাহিত্য হইছে। রাজনীতি হইছে। এর আগে আমি বাংলাদেশে যে ছিলাম এইটাই জানতাম না। এর আগে পলিটিক্স দেখি নাই। কুত্তা দেখি নাই, ষড়যন্ত্র দেখি নাই, ছাগু দেখি নাই। সব ছাগু দেখলাম এই ব্লগে। এইসব সবই আমি বললাম ধইরা নেন।
তারপরে নাম কইতে হয়। অ থেকে শেষ বর্ণ পর্যন্ত সব নামের ব্লগারদের আমি স্মরণ করতেছি। আপনারা আমার জন্য অনেক করছেন, অনেক মন্তব্য করছেন, অনেক অনেক ত্যাগ করতে করতে একেবারে আমারে ভাসাইয়া দিছেন।
বিদায়ের ভাষণ একটু ছোট করতে হয়। একটু কান্নাকাটি থাকতে হয়। এইসব আপনারা নিজেদের মত লেইখা, ভাইবা, স্মরণ কইরা, বুইঝা লইয়েন। আমাদের বিদায়ী ব্লগাররা দীর্ঘ তিন বৎসর যাবত এইসব আমাদের মুখস্থ করাইয়া গেছে। এতএব আপনারা পারবেন, অবশ্যই পারবেন আমার জন্য একটু শোকার্ত হইতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

