জলপাই শাসন বিষয়ে আমার কোন আপত্তি নাই। আমি না-বিদ্রোহী, না-রাজনীতিবিদ, না-সমাজসেবী, না-বুদ্ধিজীবি, না-সরকার, না-সামরিক, না-রাষ্ট্ররক্ষার সশ্রস্ত্র সৈনিক। আমার সাথে রাষ্ট্রের সংযোগ রাষ্ট্রের আইন মান্য ও অমান্যের সাথে। আমি পরিশ্রম করি, পয়সা কামাই, বাজার থেকে খাদ্যদ্রব্য কিনি, বাসায় ঘুমাই, বিনোদনবাক্সের নানা বিনোদনে দিন কাটাই। আমার এই প্রত্যহিক দায়িত্বপালনে আমি রাষ্ট্রের আইন মান্য করি, কখনও অমান্য করি। আমার অমান্য আইনগুলোর জন্য শাস্তি আছে। আইন অমান্যের শাস্তি বাংলাদেশে শক্ত নয়, শাস্তি প্রয়োগে রাষ্ট্র দুর্বল। সেই সুযোগে আমার অমান্য আইনের কোন শাস্তি হয় না।
রাষ্ট্রেরও একই অবস্থা। জনগণের সাথে সম্পর্ক তার সেবা প্রদান বা না প্রদানের। রাষ্ট্র জনগণকে সরকার-ব্যবস্থা তৈরী করে দেয়, সার্বভৌমত্ব, ভূমি, উপার্জনের সুযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করে। রাষ্ট্রের এই আচরণ সবার জন্য সমভাবে বণ্টিত হয় না। ক্ষমতাবানদের জন্য রাষ্ট্রের সব আয়োজন, অসহায়দের জন্য রাষ্ট্র নির্মম বঞ্চনার প্রতিদান দেয়। রাষ্ট্রের শাস্তি দেয়া যায় না সেজন্য। শাস্তি দেয়া যায় সরকারকে, নেতাদের, ক্ষমতাধরদের। এই শাস্তি জনগণের দিতে হয়। কিন্তু জনগণও এই শাস্তি দিতে দুর্বলতার পরিচয় দেয়, ভীরুতাকে প্রকাশ করে। যখন শাস্তি দেয় তখন তা হয় বিদ্রোহে, আলোড়নে আবার কখনও নিরুত্তাপে আত্মসমর্পনে। কিন্তু রাষ্ট্রনায়কদের সমুচিত শাস্তি মেলে না সচারচর। দুই-একটা বিষ্ফোরণ মাঝেমাঝে চমকে দেয়, কিন্তু তা ঐ পর্যন্তই, জনগনের কোন সঠিক আদর্শবাদী অবস্থান নাই, বৈসম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার কোন সংগঠন নাই। ক্ষমতাধরদের ষড়যন্ত্রে জনগনের সংগঠনগুলো হয় মেরুদন্ডহীন রাজনৈতিক আস্ফালনের কিছু ভাড়দের গোয়ালঘর।
আমি বিদ্রোহী না, আমি সাম্যবাদী না। আমি অযাচিত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে ফুসলে ওঠা গণস্রোতের শেওলা না। আমি বুক পেতে গুলি খেতে শিখি নাই। আমি এই দেশের জন্য কোন সম্পদ নই - কিন্তু এটা মানি, বুঝি - দেশের এই ডিফেন্স ভেঙে পড়া অন্তকর্লহের প্রাণঘাতী সিচুয়েশনের আমিও একজন প্রযোজক, আয়োজক। আমার আইন অমান্য আর ঔদাসিন্য সুযোগ দিয়েছে ক্ষমতালিপ্সু শোষক শ্রেণীকে ভ্রাতৃ-সংঘাতে জরাতে।
কে দায়ী? কারা দায়ী? কাদের শাস্তি দেবে জনগণ? রাষ্ট্র? আমাদের শত্রু কি পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র, দূরবর্তী রাষ্ট্র? নাকি আমরাই! আমরা তুলে নিয়েছি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের সেটাই শেষ সম্বল।
* এপর্যন্ত নাকি শতাধিক আর্মী মরেছে। আজ বা কাল রাতে সংগঠিত হবে আরো কয়েক হাজার বিডিআর হত্যা, এমন ভবিষ্যতবানী করতে ইশ্বর হতে হয় না এদেশে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

