আমার প্রিয় পোস্ট

যন্ত্র হতে হতে এখন অযান্ত্রিক তন্ত্রমন্ত্র ভালো বুঝি

ভার্চুয়াল ও ননভার্চুয়াল ক্ষেত্র থেকে সামহোয়ারইনব্লগ কর্তৃপক্ষের ব্লগ রূপরেখা এবং এর ব্লগ, ব্লগার ও ক্রমঃবিবর্তিত পরিচালন পদ্ধতি

২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪

শেয়ারঃ
0 0 0

সামহোয়ারইনব্লগ এ পর্যন্ত রিটেন ও ওরালী তাদের ব্লগের রূপরেখা যা বয়ান করেছে এবং তার যতটুকু আমি পড়েছি ও শুনেছি, তার উপর ভিত্তি করে আমি যা বুঝেছি সেটা লেখার প্রয়োজন মনে করছি। প্রয়োজন মনে করছি কতিপয় কারণে। সামহোয়ারইনব্লগ নিয়ে পত্রিকায় আর্টিকেল লিখেছিলাম, ম্যাগাজিনে কভার স্টোরিটাও করেছিলাম - কিন্তু ব্লগে ব্লগকেই বিষয় করে বিশ্লেষণাত্মক ঢঙে কোন ব্লগ লেখা হয় নাই। বিচ্ছিন্নভাবে মন্তব্যে কখনও প্রকাশ করেছি, কিন্তু তাও আমার পছন্দ ছিল না। এখন যে হয়েছে তাও নয়। কিন্তু ব্লগের বাইরে ব্লগবন্ধুদের সাথে এ নিয়ে আমার চুলচেরা পর্যালোচনা চলে, বিশ্লেষণ ঘটে। জামাল ভাস্কর তার মধ্যে অন্যতম। প্রকৃতপক্ষে ভাস্করদা ছাড়া অন্য কারো সাথেই আমি ব্লগ ও ব্লগারদের ক্রমঃবিবর্তন ও এর পরিচালন পদ্ধতি বিষয়ক আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা কখনও শেয়ার করি নাই। যথারীতি সামহোয়ারের পেইড ব্লগার হিসাবে একটা গোষ্টী আমার প্রচার চালিয়ে যাদেরকে প্রায় বিশ্বাস স্থাপনে সক্ষম করতে পেরেছেন - তাদের জন্য নিজেকে স্পষ্ট করার কোন প্রয়োজন আমি বোধ করি না, নইলে তেমন একটা গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাবার মত সুযোগ ও সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতাম। আসলে এই দায় বোধ করার জায়গা থেকে মুক্ত বোধ করা একধরণের ফ্রিডম..আমি সামহোয়ারে লিখতে শুরু করেছিলাম এই ফ্রিডমের স্বাদ পেতে পারি অনুমানেই। এবং আমি পেয়েছিও।

কিন্তু এজন্য আমি সামহোয়ারইনব্লগের রূপরেখা সম্বন্ধে আমার বিশ্লেষন তুলে ধরতে উৎসাহী হইনি। আমি উৎসাহী হয়েছি জামাল ভাস্করের সাথে এসব শেয়ার করার জন্য। প্রায়শই আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলাপ করি, কিন্তু তার কোন লিখিত রূপ না থাকায় আমাদের ভাবনাগুলোর অনুসরণ, সম্মুখ ও পশ্চামমুখী, মাঝেমাঝে অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেজন্য এই প্রায়াস। এই আলোচনায় প্রবেশের আগে আমি আমার আলোচনা-পদ্ধতির কিছু বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করতে উন্মুখ। যদিও আলোচনা চালাবার আগে কোন নিদৃষ্ট বৈশিষ্ট্য চিহ্নিতকরণের বিষয়ে জামাল ভাস্করের আপত্তি থাকবে, যতটুকু আমি চিনি, কিন্তু আমি প্রাক-আলোচনায় নিজের অবস্থান সুংসহত ও স্পষ্ট রাখতে আগ্রহী।

বৈশিষ্ট্যগুলো এমন ক) আমি আলোচনাটা ভাস্করদার সাথে সীমিত রাখতে চাই, এর কারণ হিসাবে বলা যায় তার যৌক্তিক বিশ্লেষণে আমার বিশ্লেষণের মাত্রা পরিবর্তন ও পরিমার্জিত হয়। উপরন্তু আমরা একটা মিড-পয়েন্ট থেকে আলোচনা শুরু করতে পারি যার কিছুটা ওরালী হয়ে আছে, যার জন্য দু'জনের উদ্ধৃতি ও উৎস অনুসরণের লৈখিক কোন সূত্র না থাকায় অন্যদের কানেক্টিভিটি সময়ানুনগ নাও হতে পারে। এ বিষয়ে আমি আমার মত অবস্থানে থাকার প্রত্যাশী, ভাস্কর দা তার নিজস্ব নিয়মে। তবে আগ্রহী যেকেউ অংশ নিতে পারেন, তবে অবশ্যই প্রসঙ্গের সাথে একদমই যায় না এমন মন্তব্য মুছে দেয়া হবে। খ) আমি এই আলোচনায় যেকোন ধরণের দৃষ্টান্ত প্রকাশ করতে পারি, যার জন্য কোন রকম প্রমাণ প্রদান করতে আগ্রহী নই। বিষয়টা অনেকটা সময়সাপেক্ষ এবং আলোচনায় কেন্দ্র থেকে অনাগ্রহে গমন ও ভাবনা হারিয়ে যাবার সম্ভাবনার আশংকায়। গ) আমি এই আলোচনার একটা গন্তব্য অন্বেষণে আগ্রহী এবং সেদিকেই আমার বিশ্লেষণ ও যৌক্তিক অবস্থানকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। ঘ) এই আলোচনায় আমি সামহোয়ারকে পক্ষপাত করে তার কারণকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করবো। ঙ) যৌথ বিশ্লেষণ থেকে আমার অবস্থানকে দুর্বল ও অঅনুসরণযোগ্য বলে আমার কাছেও যদি প্রতীয়মান হয় তবে আমি সেটা স্বীকার করবো কিন্তু শেষপর্যন্ত তালগাছ আমারই থাকবে এমন দাবী থেকে পিছু হটবো না।

প্রকৃতপক্ষে বৈশিষ্ট্যগুলো আমার সীমাবদ্ধতা হিসাবে উল্লেখ করেছি। কারণ যেকেহই এমন আলোচনার একটা কারণ অন্বেষণে তৎপর হতে পারেন, সেক্ষেত্রে এটা ট্রান্সপারেন্ট থাকার একটা প্রচেষ্টা হিসাবে উল্লেখ থাকাই মনে হয় যৌক্তিক। তাছাড়া সেক্ষেত্রে আলোচনান্তে আমি বুঝতে পারবো কি বিষয়ে আমি কি দেখতে চেয়েছি এবং কতটুকু তার থেকে ভিন্ন কিছু হলো।

তো যে বিষয়টা আমি বিশ্লেষন করতে শুরু করবো তার টাইটেল হচ্ছে, "ভার্চুয়াল ও ননভার্চুয়াল ক্ষেত্র থেকে সামহোয়ারইনব্লগ কর্তৃপক্ষের ব্লগ রূপরেখা এবং এর ব্লগ, ব্লগার ও ক্রমঃবিবর্তিত পরিচালন পদ্ধতি"।

আলোচনা সুবিধার্থে আমি সামহোয়ারের সময়কালকে তিনটা কালে বিভক্ত করতে চাই। সময়কালের নামই আসলে সেল্ফ এক্সপ্লানেটরী - কেন তাদের গুরুত্ব উল্লেখিত বিষয়ের বিশ্লেষণে জরুরী। কালগুলো হচ্ছে - ক) প্রাক-সচলায়তন; খ) সচলায়তন কাল; এবং গ) আমার ব্লগ কাল। এই তিনটা কালের ক্যালেন্ডার সময় চিহ্নিত করার কোন আগ্রহ নাই, আমাদের বিষয় সংশ্লিষ্ট আলোচনার জন্য তা জরুরীও নয়, কারণ সম্ভবত ভাস্করদা এবং আমি সময়কালের উল্লেখযোগ্য অংশগুলোকে দিয়ে চিন্থিত করতে পারবো। এসবই আমার প্রস্তাবিত, ভাস্করদা ইচ্ছে করলে এর ভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে আসতে পারেন।

প্রাক-সচলায়তনঃ
আমি লেখার শুরুতে উল্লেখ করেছিলাম সামহোয়াইন কর্তৃপক্ষের রিটেন ও ওরাল রপরেখা যতটুকু শুনেছি ও পড়েছি তার আলোকে আমার বিশ্লেষণ। ২০০৬ এর ফেব্রুয়ারী মাসের ২১শে ফেব্রুয়ারী রাতে এটিভিতে নতুন ওয়েবসাইটের পরিচিতিমূলক একটা অনুষ্ঠানে সামহোয়ারইনব্লগ সম্বন্ধে যা বলা হয়েছিল যতটুকু তা মনে করতে পারি এমন ছিল - বাংলা ভাষায় সম্পূর্ণ ফ্রি নিজের একটা লেখালেখির সাইট তৈরী হয়েছে যেখানে আপনি ইচ্ছেমত যা খুশী তাই লিখতে পারেন। সাথে সাথে ওয়েবসাইটের নামটা আমি মেমরিস্থ করি। কারণ আমার সাহিত্যচর্চার একটা অভ্যাস আগে থেকেই ছিল, চাকুরীতে ঢুকে সেটা হয়ে গেলো রিপোর্টিং কারণ মূলত কমিউনিকেশন ব্রোসিয়ার নিয়ে আমার এক্সপার্টিজ তৈরী হয়েছিল ততদিনে। গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ লেখার পারঙ্গমতাও যে আমার আছে এবং তা মানুষকে পড়তেও দিতে চাই সেটা মনে হলো নেচে উঠলো সামহোয়ারের খবর পেয়ে। বিষয়টা বলছি এজন্য যে সামহোয়ার সবাইকে একটা নিজস্ব লেখার জায়গা দিচ্ছে যেখানে সে নিজের মত যা খুশী তাই লিখতে পারবে - এই ধারণাটা আমি সামহোয়ারে না ঢুকেই কেবল সেই টিভি প্রোগ্রামের উপস্থাপকের বয়ান শুনে বুঝে গেছিলাম।

সামহোয়ারইনব্লগ এর উদ্দেশ্যও কি ছিল তাই? সামহোয়রকে পরের দিন দেখে, রেজিস্ট্রেশন করে, পোস্ট লিখে, অন্যদের ব্লগ পড়ে, মন্তব্য করে আমার তেমনই মনে হলো প্রাথমিকভাবে। সেইসাথে ব্লগ টার্ম এবং এর নিজস্ব একটা চরিত্র সম্বন্ধেও খানিকটা ধারণা জন্মালো। তখন পর্যন্ত আমি সামহোয়ারের কর্তৃপক্ষের কোন রিটেন ই-ব্রোসিয়ার পড়ি নাই। না পড়েও জানলাম এটা আসলে এমন, এখানে যেকেউ লিখতে পারে, যা খুশী লিখতে পারে, যে কেউ পড়তে পারে, যা কিছু মন্তব্য করতে পারে। আমি সামহোয়ারইনব্লগের কর্তৃপক্ষ এমনই চাইছেন বলেই ধরে নিলাম। এবং ভালো লাগলো। সংগত কারণেই প্রেমে পড়ে গেলাম।

ক্রমশঃ আমি দেখলাম এই সাইটটির নামের সাথে "কমিউনিটি" শব্দটার ব্যবহার, যা কর্তৃপক্ষ ও ব্লগারদের বিভিন্ন কমিউনিকেশনে উচ্চারিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই তা মেনে নেয়া যায়। এই কমিউনিটি তৈরীর প্রধান টুল হিসাবে "কমন ফ্রন্টপেজ" এর গুরুত্বও তখন স্পষ্ট হয় যা কর্তৃপক্ষ ও ব্লগারদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে একটা এ্যাডভেন্টেজ বলে স্বীকৃত।

প্রাক-সচলায়তন কালের সূচনালগ্নে বিশেষত আমি যখন প্রবেশ করেছি সেই সময়কেই কেবল আমি কমিউনিটি ব্লগ বলে চিন্থিত করতে পারি। এজন্য প্রাক-সচলায়নকালকেও কয়েকটা সময়কালে ভাগ করা চলে। যেমন প্রাক-প্রাপ্তি কাল।

প্রাক-প্রাপ্তিকালের বৈশিষ্ট্য হলো এই সময়টাতে প্রথম একক কমিউনিটি তৈরী হয়েছিল এবং কমিউনিটি ভেঙে গেছিল। তবে এর পুরোটাই ভার্চুয়াল। সময়টা গবেষণা করে বের করতে হবে। তবে ধরুন এটার ব্যাপ্তিকাল সামহোয়ারের আত্মপ্রকাশ থেকে প্রাপ্তি বিষয়ক অমি রহমান পিয়ালের প্রথম পোস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে যত ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগাররা আলোচনা করেছেন ও যত ধর্মী ব্লগারের উপস্থিতি সন্বিবেশিত হয়েছিল সেগুলো কিছু মোটা দাগে চিন্থিত করা সম্ভব। যেমন, ব্লগারদের প্রথম ওয়েভে যারা এসেছিলেন তারা কনটেমপরারী সময় নিয়ে লিখতেন, ব্লগারদের পারস্পরিক জানাপরিচয় নিয়ে লেখার চর্চা তখন অনুপস্থিত। এসময়টাতে কর্তৃপক্ষ যেমনটা চেয়েছিলেন তেমন ব্লগারদেরই তারা দেখলেন তাদের ঘাটে নাও ভিড়াতে। কেউ রাজনৈতিক নিবন্ধ লিখছে, সরকারকে সমালোচনা করে, কেউ সমর্থন করে। কেউ ধর্ম নিয়ে পড়েছে, এর ব্যবচ্ছেদ করে শেষ, কেউ আবার শুরু করেছে ওয়াজ-মাহফিল। এই বিভিন্ন কিসিমের ব্লগাররা আবার তাদের পারস্পরিক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী থাকা সত্ত্বেও আলোচনামূলক সম্পর্ক বিনিময় করছে। যুক্তি দিয়ে কখনও আবেগ দিয়ে তার মন্তব্য সেধিয়ে দিচ্ছে।

প্রি-প্রাপ্তিকালের প্রথমভাগে কর্তৃপক্ষের ব্লগের রূপরেখার পূর্ব-পরিকল্পিত অবস্থানের পুরোপুরি বাস্তবায়ন দেখা যায়। এবং সেই রূপরেখা তখন পর্যন্ত আমি যা জানি তা হলো যে কেউ এখানে যা কিছু লিখতে পারে। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করাটাকেই কমিউনিটি ভাঙা কাল বলে চিন্থিত করতে পারি। তবে এসব আর পোস্টের মেইন বডিতে নয়, মন্তব্যে লিখবো। এরমধ্যে আশা করি এ পর্যায় পর্যন্ত বিশ্লেষণে কর্তপক্ষের ব্লগ রূপরেখার একটা ইন্ট্রো নির্মাণে অন্যদের ফিডব্যাকও মিশ্রিত হবে। বানান ও ব্যকরণের ভুল ধরিয়ে দেয়াকে অপ্রসাঙ্গিক মন্তব্য হিসাবে মুছে দেয়া হবে

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৫
রাগিব বলেছেন: প্রথম দিকের প্রজন্মের ব্লগারেরা বেশ প্রগতিশীল ছিলেন বলে মনে হয়। আসলে বাংলা ভাষায় ব্লগ কমিউনিটি এটাই প্রথম, তাই শুরুর দিকে লিখে লিখে হাত পাকিয়েছিলো অনেকেই ... লেখার মধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা থাকলেও আস্তে আস্তে বাংলা ব্লগ কী রকম হবে, তা নির্ধারিত হতে থাকে এখানে।

আমি প্রথম ধারায় লিখিনি, একটা প্রধান কারণ ছিলো ইউনিকোড না থাকাটা। জিদ করেই বেশি লিখিনি সে কারণে।

--
প্রাপ্তি, সচল, নীতিমালা, -- এরকম কয়েকটা ধাপ পেরিয়ে এসেছে সামহয়ার। আরো অনেক ধাপ বেরুবে অন্যদের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৯

লেখক বলেছেন: কিছু লিখলাম না বস। পয়েন্ট কেবল নোট করে নিলাম।

৩. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৫
লীনা দিলরূবা বলেছেন: শিরোণামটা কি খটোমটো। "ইতিহাসের রুপরেখায় সামহোয়ার ইন" হলে........

চলুক। দেখি কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়!
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১২

লেখক বলেছেন: আপনার নামটা ভাল হইছে, আরেকটু ভাবি বস, তারপরে চেঞ্জ করতে পারি...

৪. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
চাচামিঞা বলেছেন: দারুন লিখা, তবে আমিও লীনা দিলরূবা এর সাথে ১মত, শিরোনামটা খুবই খিটমিটে হইসে।
৬. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:১৫
স্কাউট বলেছেন: সুন্দর পর্যালোচনা।

একটা বিশেষ শ্রেনীই আপনাকে সহ বেশ কয়েকজন ব্লগারকে "পেইড" বলে-যা তাদের মুর্খতাই প্রমান করে। শুধুমাত্র ইর্ষার কারনেই অমন কথা বলে-তার জন্য আপনি আপনার লেখা বন্ধ করেননি বলে সত্যি আপনি প্রসংশার দাবিদার।

অনেক ধন্যবাদ এই লেখার জন্য।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১৪

লেখক বলেছেন: এটা আমার ইর্ষা মনে হয় না। তাদের অনেকেই আমার চেয়ে ভাল লেখে। এটাকে মনে হয় ভিন্নমতকে সহ্য না করতে পারার এলার্জি।

৭. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮
মুক্ত বয়ান বলেছেন: আলোচনা শুরু করলেন.. তবে আরেক আলোচক কই??
আর, ৩টা সময়কাল কইলেন, কিন্তু ১টা-ও ঠিক মত শেষ না করে হুট করে চলে গেলেন প্রাক-প্রাপ্তি সময়কালে!!

আলোচনা চলতে থাকুক। আমরা দেখতে থাকি। :)
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

লেখক বলেছেন: এজন্য প্রাক-সচলায়নকালকেও কয়েকটা সময়কালে ভাগ করা চলে। যেমন প্রাক-প্রাপ্তি কাল। এটা একটা কাল। এই কালকেও আবার দুইভাগে ভাগ করেছি, কমিউনিটিকাল ও কমিউনিটি ভাঙা কাল।

প্রাক-সচলায়তনের অন্যকালগুলো হতে পারে প্রাপ্তিকাল, স্বাধীণতা-বিরোধী ও জঙ্গীদের উত্থানকাল। মানে তিনটা। ক) প্রাক-প্রাপ্তিকাল; খ) প্রাপ্তিকাল এবং গ) স্বাধীনতা-বিরোধী ও জঙ্গীদের উত্থানকাল।

আমি এভাবে লিখবো ভাবছি। প্রাক-প্রাপ্তিকাল শেষ হয়নি এখনও এরপরে অন্য উপ-কালগুলো, তারপরে অন্যান্য মহাকাল

৮. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩৯
কালপুরুষ বলেছেন: ভাল পর্যবেক্ষণ।

একটা বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারি তা হলো "প্রাপ্তি" নামের এক অসুস্থ শিশু আমাদের অনেক "ভার্চুয়াল ক্যারেক্টার"কে বাস্তবে মিলিত হবার একটা বিরাট সুযোগ করে দিয়েছিল। আর নিকের আড়ালে থাকা ব্লগারদের সম্মিলিত শক্তি যে কোন মানবিক কাজে কত বেশী আন্তরিক ও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে সেটা আমরা দেখেছি। আর সেই উদ্দ্যোগের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে আরো এমন মানবিক কাজ এই ব্লগের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। এটা ব্লগ ও ব্লগারদের একটা বিরাট অর্জন।

আর প্রথম যেদিন সব ভার্চুয়াল জগতের মানুষগুলো মুখোমুখি হলো সেদিনের অনুভূতি মনে রাখার মতো। সম্ভবত "কালপুরুষীয় ক্যানোপিতে ভার্চুয়াল ক্যারেকটার ডাউনলোড" এমন শিরোনামে আপনার একটা লেখাও ছিল যেখানে "প্রাপ্তি"র চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল ব্লগারদের মাঝে।

এরপর সিডোর ঘুর্ণীঝড়, রাহেলা, ভেলোরী, শাশ্বত, উপমা ইস্যু ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী ও আরো অনেক বিষয় নিয়েই ব্লগাররা স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে। ব্লগিং-এর নেশা থেকে এবং ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা হয়েও একটা কম্যিউনিটি প্লাটফর্ম থেকে এসব কাজ করা সম্ভব সেটা ব্লগার না হলে কখোনই জানতাম না। একজন ব্লগার হিসেবে এটা একধরণের বড় প্রাপ্তি বলেই মনে করি আর তা সম্ভব হয়েছে বাংলা ব্লগিং-এর এমন একটা সাইট খোলা হয়েছে বলেই। সামহয়্যারইন বাংলা ব্লগিং-এর মাইল ফলক হিসেবেই থাকবে আর এই ব্লগিং শক্তিকে আরো বেশী কার্যকর, আরো বেশী গতিশীল, আরো বেশী ঐক্যবদ্ধ ও করার নেপথ্যে এগিয়ে নেবার জন্যে সাথে থাকবে সচলায়তন, আমারব্লগ ও প্রথমআলো ব্লগ। কে কোথা থেকে ব্লগিং করি সেটা বড় না হয়ে আমাদের পরিচয় হোক আমরা ব্লগার- এক নতুন শক্তি ও উদ্দোমের নাম।
৯. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩৯
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কালের সাথে ভ্রমণ করলাম ... জাঝা
শিরোনাম পাল্টান ;)
১০. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬
পথিক!!!!!!! বলেছেন: বিশ্লেষনটার মাঝে অনেক কিছূ আছে...
বাকি কালগুলো ব্যাখ্যা করেন তার পর বলছি।
১১. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৩০
জামাল ভাস্কর বলেছেন: শুরুতে একটা অযুহাত দেই...দুইবার মন্তব্য লিখতে শুরু করনের মধ্যে কারেন্ট গেলো...আগে একটা মন্তব্য ড্রাফটের সুযোগ পাইতাম, সামহোয়্যার ইন সেই সুবিধা কোন কারনে এখন রহিত করছে। তাই তৃতীয়বার বিদ্যুত পাওনের লগে লগেই শুরু করলাম।

কৌশিকের মূল পোস্টের পর্যবেক্ষণ অনেক আভিধানিক হইলেও আমার কাছে কাল বিভাজনের বিষয়টা ঠিক মনে হয় নাই একেবারেই। আমি এইরম প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কাল মাইনা ব্লগের সময়গুলিরে দেখতে পাইনা। যেমন ঠিক মনে হয় না সচল-প্রাক সচল কালরেও।

এই ব্লগ যখন শুরু হয় তার কিছুকাল পরেই হাসিন আর ইমরানের বিবিধ ভাষ্যমতে আমরা জানতে পারি এই ব্লগ ছিলো ডেভেলপারগো খেয়াল মূল মালিকরা শুরুতে অতোটা আগ্রহী ছিলো না। কিন্তু অপ্রত্যাশিত সারা পরনের পর তাগো নজর কাড়ে। যেই নজরে অনেক ভালোবাসা ছিলো...অনেক আবেগ ছিলো...উপেক্ষা ছিলো...আত্মম্ভরীতা ছিলো।

শুরুতে সকলেই এই ব্লগেই লিখছে...যার যার ইচ্ছামতোন লেখা হইছে...প্রো-লিবারেশনরা যেমন লিখছে, এন্টি লিবারেশনরাও লিখছে সমানে। সাহিত্য আর ভাষা নিয়া লিখছে উত্তরাধুনিকেরা, তাগো অবস্থানরে ব্যঙ্গ কইরা আধুনিকতাবাদীরাও লিখছে। সবাই লিখতো মনের আনন্দে। একে অপররে গালাগালি হইতো যারা যার রুচীবোধ মাফিক। কিন্তু সকলেই ভার্চুয়াল ছিলো বা থাকতেই পছন্দ করতো। একটা সময় আইলো যখন বুঝা গেলো এন্টি লিবারেটরা সংঘবদ্ধ লিখে...তার প‌্যারালালি প্রো লিবাশনের সমর্থকেরাও ধীরে ধীরে গ্রুপ গঠনের দিকে গেলো। এই গ্রুপগুলি কতোটা সংগবদ্ধ ছিলো সেইটা অবশ্য এক্কেরেই প্রশ্নহীন না...কিন্তু ব্লগ কর্তৃপক্ষের প্রথম দিককার একটা সিদ্ধান্ত প্রো-লিবারেশনপন্থীগো এক কইরা ফেললো বইলা আমার ধারনা।

মাসুদা ভাট্টি'র একটা ধারাবাহিক উপন্যাসের সম্ভবতঃ দ্বিতীয় পর্ব তারা মুইছা ফেলে ব্লগ পোস্ট হিসাবে। এর প্রতিবাদে হয় ব্লগে প্রথম ঘোষণা দিয়া ব্লগ বিরতী। এই বিরতী ব্লগের নিয়মিত চরিত্র পাল্টাইয়া ফেললো...যেই দলবাজীর আচরনে কৌশিক নিজেও ছিলেন যদ্দূর মনে পড়ে।

আমি তখন ব্লগে ততোটা অ্যাক্টিভ তখনো হই নাই। রেজিস্ট্রেশানের বহু পরে আমি প্রথম পোস্ট দেই। এই সময় কালেই ব্লগ কর্তৃপক্ষের মালিক সুলভ আরেকটা ফিচার উপস্থিতি দেখা যায়। তারা ব্লগারগো মোটিভেট করনের উদ্যোগ নেন...সপ্তাহের শীর্ষ বা নির্বাচিত ব্লগারের খোমা লটকাইয়া দেন তারা প্রথম পাতায়...এই খোমা লটকানিতে অনিয়ম ছিলো...সেইটা বুঝন যায় দিনের পর দিন ত্রিভুজ আর ফজলে এলাহীর চেহারা ঝুলতে থাকনের মধ্য দিয়া।

সেই সময়টায় দেশের ক্ষমতায় চারদলীয় জোট...মতিউর রহমান নিজামী আর মুজাহিদ তখন মন্ত্রী পরিষদে ক্ষমতার অপব্যবহার করতেছে এন্টি লিবারেশন ছাত্র রাজনীতির ধারক ইসলামী ছাত্র শিবিরের উত্থানে। প্রো লিবারেশনপন্থীরা তখন হতাশার বেড়াজালে আটকা...এইরম একটা সময় ব্লগের মতোন একটা মুক্ত এলাকাতে ক্ষোভ উদগারনের পদক্ষেপরে আমি এক্কেরেই নেতিবাচক দেখি না...যদিও কৌশল হিসাবে তার বিবেচনা ভিন্ন হইতেও পারে।

প্রাপ্তি'র চিকিৎসা তহবিল সংগ্রহ অবশ্য এই পোলারাইজেশনে আবার খানিকটা জল ঢাললো...যেই সময় সকল পক্ষ নামে সমান আগ্রহে...এই যে মানবিকতা, এরে অনেক সিগনিফিকেন্ট লাগলেও আমি তারে দিয়া কাল বিভাজনের পক্ষপাতি না। কিছুকাল গালাগালি পাল্টা গালাগালি বন্ধও ছিলো ঐ সময়টায়...কিন্তু হঠাৎ আবার এন্টি লিবারেশনপন্থীরা তাগো দাপট দেখাইতে শুরু করে। ব্লগে পাকিস্তানী পতাকার ছবি ফ্রন্ট পেইজে ঝুলে...গোলাম আজম নিয়া ধানসিঁড়ি নামের এক ব্লগার রীতিমতো গবেষণা ধর্মী পোস্ট দিতে শুরু করে। ছদ্মনিকের বিষয়টাও চালু হয় এইরম একটা কালে...প্রাপ্তিকাল বইলা যদি কোন কাল থাকে তাইলে তার প্রভাব খালি এতোটুকুই...নন-ভার্চুয়াল হইয়া যাওয়াতে ছদ্মনিকের প্রয়োজন পরলো...ধানসিঁড়ি হয়তো আজো অন্য নিকে আছেন ব্লগে...কিন্তু অমি পিয়ালের লগে একলগে মিটিং করনের কারনে তারে আর লানৎ বর্ষণের চেষ্টা করে না। কৌশিকও তার প্রাপ্তি কালের ভূমিকার লেইগা অনেক এন্টি লিবারেশনপন্থীগো প্রতি নরম হইলো। রাজনৈতিক মতাদর্শ এইখানে মানবিকতার কাছে খানিকটা পরাজিত হইলো।


আর এই নরমপন্থার সুযোগে ব্লগে ঢুকলো একটা নরওয়েজিয়ান ভাবাদর্শ...পশ্চিমা আল্ট্রা ফ্রিডমের এই কনসেপ্ট বাংলাদেশে চালু করনের চেষ্টা শুরু হইলো ব্লগে। কিন্তু এই দেশেতো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ভূলুন্ঠিত তার প্রারম্ভেই। আর তাই আজো অপূরণীয় বাসনা মুক্তিযুদ্ধের প্রতি কড়া জাতীয়তাবাদের উত্থানের মধ্য দিয়াই মিটান প্রোলিবারেশন পন্থীরা। আর জামায়াতিরা যখন অন্য জায়গায় নিগৃহীত তখন এই জায়গায় আইসা নিজেগো আখের গুছানের চেষ্টা শুরু করে...


দেখা যাক আলোচনা এর পর কই যায়...
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: আমার প্রদত্ত কাল-বিভাজনটার কারণ উল্লেখ্যযোগ্য টার্নিং পয়েন্ট। যেমন সচলায়তন তৈরী হবার পূর্ব পর্যন্ত সব ব্লগার এই একটা প্লাটফর্মে লিখতো। ব্রডস্কেলে এই সময়টা "অবিভাজিত ব্লগ কমিউনিটির কাল" হিসাবেও চিহ্নিত করাও সম্ভব। অবিভক্ত বাংলার মত অবিভক্ত ব্লগ। এর ডিউরেশন সেই অর্থে সবচেয়ে প্রোডাক্টিভ এবং স্বল্পস্থায়ী। এই সময়ে প্রথম ব্লগাররা ভার্চুয়াল অস্তিত্ব ছেড়ে বাস্তবে পরিচিত হতে শুরু করেন। সেজন্য এর ভেতর থেকে এবসলিউট ভার্চুয়াল কাল ও বাস্তবে দেখাসাক্ষাৎ শুরু হবার দুটো পিরিয়ডকে আলাদা করতে পারি। প্রাপ্তি ইস্যু ব্লগে পদার্পনের পূর্ব পর্যন্ত ব্লগাররা সম্পূর্ণ রূপেই আলাদা, বিচ্ছিন্ন, স্বল্প মাত্রায় সংগঠিত ভার্চুয়াল অস্তিত্বময় ছিল।

সেময়টাকে আমি প্রাক-প্রাপ্তি বলছি। এ সময়টার চরিত্র আপনার কমেন্টে উঠে এসেছে। যেমন আপনি বলেছেন, " সকলেই এই ব্লগেই লিখছে...ইচ্ছামতোন লেখা হইছে...প্রো-লিবারেশনরা....লিখছে, এন্টি লিবারেশনরাও লিখছে...লিখছে উত্তরাধুনিকেরা, আধুনিকতাবাদীরাও লিখছে....সবাই লিখতো মনের আনন্দে..." মানে দেখা যাচ্ছে তখন যারা লিখেছে তাদের মধ্যেই দেখা গিয়েছিল সকল উল্লেখ্যযোগ্য সেগমেন্টের মতাদর্শীরা। এসময়টাতে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় এই পোলারগুলো স্পষ্ট হতে থাকে যা শুরুতে অসংগঠিত, অপরিকল্পিত ও অপরিচিত ছিল। প্রো-লিবারেশন, এন্টি-লিবারেশন, উত্তরাধুনিক, আধুনিকতাবাদী এমন ভাবে চিন্থিত হবার জন্য তখন সময়টা ছিল একেবারে প্রি-ম্যাচিউর। তদুপরি আরেকটা বিষয় তখন ছিল একদমই শিশুস্থানীয়, তা হলো ডাবলস্টান্ডার্ড বা রিয়েলিটি থেকে ভার্চুরিয়েলিটি হয়ে ওঠার ভিন্নতা সম্পর্কে ব্লগারদের অষ্পষ্ট ও অচর্চিত মনোভব। এ সময়টাতে প্রত্যেকে নিজের নিককে জনপ্রিয় ও তার নিজস্ব ধারণা ও মতামতকে আরো স্পষ্ট করার কাজে নিয়োজিত ছিল। ছদ্ম নিক তখনই ছিল, কিন্তু সে নিকটা হয়ে উঠেছিল তার মুখপাত্র, আদপে কোন ভার্চুয়াল ক্যারেক্টার নয়।

এই সময়ের পোস্টগুলোর পোস্টমর্টেম করলে উল্লেখযোগ্য যে ধরণগুলো বের হয়ে আসে সেটা হয়তো তখনকার ব্লগারদের অনুভূতি ও কর্তৃপক্ষীয় আচরণকে অনুভব করতে সহায়তা করবে। আমার স্মৃতি থেকে হাতরে বলতে পারি প্রাক-প্রাপ্তিকালে মাসুদা ভাট্টির পোস্ট মোছার আগে পর্যন্ত সেই অর্থে প্রথম ব্লগ বিরতির পূর্ব পর্যন্ত সময়কালের কথা।

এই সময়টাকে আমি ডিটেইল নিয়ে আসতে চাই। এজন্য যেতে হবে আপনার প্রদত্ত ইমরান ও হাসিনের রেফারেন্সে। আপনি লিখেছেন, "এই ব্লগ যখন শুরু হয় তার কিছুকাল পরেই হাসিন আর ইমরানের বিবিধ ভাষ্যমতে আমরা জানতে পারি এই ব্লগ ছিলো ডেভেলপারগো খেয়াল মূল মালিকরা শুরুতে অতোটা আগ্রহী ছিলো না। কিন্তু অপ্রত্যাশিত সারা পরনের পর তাগো নজর কাড়ে। যেই নজরে অনেক ভালোবাসা ছিলো...অনেক আবেগ ছিলো...উপেক্ষা ছিলো...আত্মম্ভরীতা ছিলো।" এই সুত্র ধরে আমি আমার পরবর্তীকালে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঐ সময়কে ধরতে চাই। এবং বস আপনি যেভাবেই এই সময়টাকে চিন্থিত করেন, দরকার নেই আমার প্রদত্ত কালের বিভাজনে স্থির থাকা, মাসুদা ভাট্টির পোস্ট মোছা পর্যন্ত আমার কিছু ফাইন্ডিংস পরিসংগঠন করা জরুরী।

পরবর্তীকালের নানামুখী সুত্রে আমি জানতে পারি ব্লগ শুরুর পরে মানে ১৫ই ডিসেম্বর ২০০৫ এর সন্ধ্যায় তখন ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেস, গুগুল সহ আরো কিছু ব্লগে যেসমস্ত বাঙালী ব্লগ করছিলো তাদেরকে একটা মেইল দেয়া হয়। সামহোয়ারের এড্রেস সম্বলিত সেই মেইল দেখে আগ্রহী ব্লগাররা উৎসাহী হয়ে ওঠেন। তবে ধারণা করি এই মেইল ছড়িয়েছে ভুত থেকে ভুতে। এবং প্রথম প্রবাহে তার প্রাপক হয়েছেন আইটি-সংশ্লিষ্ট তথা প্রোগ্রামরা। এক্ষেত্রে কয়েকটা উদাহারণ আমি দিতে পারি, একজন হচ্ছেন রাগিব, যিনি ইউনিকোডে ব্লগ না হওয়ায় উৎসাহিত হন নি। এই পোস্টেই তার মন্তব্য সে সাক্ষ্য দেয়। এক্ষেত্রে আমি একটা মজার বিষয় উল্লেখ করতে পারি। সামহোয়ারইনব্লগের পূর্ব থেকেই বাংলা উইকিপিডিয়া ইউনিকোডে লিখিত হচ্ছিল। আমিও সেখানে ভলান্টিয়ার হিসাবে নাম লিখিয়েছিলাম। সামহোয়ার না তৈরী হলে আমি নিশ্চিতভাবেই একজন উইকিপিডিয়ান হতাম। আরেকজন হচ্ছেন মিলটন। তিনি মিলটন নামে নিক নিবন্ধন করলেও লিখতেন চিরসবুজ নামে। দীর্ঘকাল পরে যখন তার মনে হলো আগেই তিনি নিবদ্ধন করেছিলেন পৈতৃক নামে, সেটাতে ফিরে গেলেন। এছাড়া আমার একজন প্রোগ্রাম কলিগের কথাও বলতে পারি যিনি ব্লগার হিসাবে অত একটিভ নন, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন প্রথমেই। এছাড়া হিমু, অরুপ, এস এম মাহবুব মোর্শেদ তো পুরোপুরি প্রোগ্রামার।

আমি আসলের দেখতে চাই প্রথমে সামহোয়ারে যারা এসেছিলেন তাদের প্রকৃতি, শ্রেণী, শিক্ষা এবং আগ্রহের খুটিনাটি। প্রাথমিকভাবে আমি নিশ্চিত হই যে তাদের বেশিরভাগ আইটি প্রফেশনাল এবং যদি আইটি প্রফেশনাল না হয়ে থাকেন তারপরেও আইটির সাথে ব্যাপক মাত্রায় সংশ্লিষ্ট, আইটিমুখী। এই গোষ্ঠীর একটা জায়গায় মিল রয়েছে তা হলো তারা লেখালেখিও পছন্দ করেন।

প্রথম ওয়েভে যারা সামহোয়ারে রেজিস্ট্রশন করেছিলেন তাদের সেজন্য চরিত্র-চিত্রন এভাবে করা সম্ভব যে তারা হলেন টেকিরাইটার। প্রাক-প্রাপ্তিকালের বিষয় ও সংগঠিত মিথস্ক্রিয়ার ধরণ ও সরূপ বিচারের জন্য এই তথ্যটা আরো ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণের দাবী রাখে।

আমি যত ধর্মী আলোচনার সুযোগ অন্বেষণ করা সম্ভব সেটা করতে চাচ্ছি। এই তথ্যগুলো পরবর্তী সময়ে ব্লগারদের অন্যান্য ওয়েভকে চিনতে সহায়তা করবে। টেকিরাইটারদের বৈশিষ্ট্য ও তৎকালিন পোস্টে সংগঠিত মিথস্ক্রিয়া ছিল ব্লগের আদিচরিত্র। আমি এই পয়েন্টটাকে এলাবোরেট করবে পরবর্তী অংশে।

১২. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৯
মুক্ত বয়ান বলেছেন: ব্লগে আমরা এসছি অনেক পরে। তাই সব জানতাম না। এই পোস্টের আগেই আরিফ ভাই'র থেকে কিছু কথা জেনেছি। যার প্রায় সবই ভাস্করদা'র লেখায় উঠে এসছে। কিন্তু আমার আপত্তি হল, এই কথাগুলো হল ঘটনাগুলোর চুম্বক অংশ। বিস্তারিত লিখলে মনে হয় ভাল হইত।
আর পুরাও যদি লেখা না যায়, তাহলে যেসব লেখা এখনো মডুদের কোপানলে পরে নাই, সেগুলোর একটা করে লিংক দিলে আমাদের ব্যাপারগুলা জানতে সুবিধা হয়।
কৌশিকদা, আপনে কই??
১৩. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৯
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
নজর রাখচি। টোকা দিয়া গেলাম। ট্র্যাক করতে সুবিধা
১৪. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:১২
জামাল ভাস্কর বলেছেন: আমার আপত্তি আছে সামহোয়্যার ইনরে একক কোন কৃতিত্ব দিতে। যাগো নাম কইলেন অভ্র কী-বোর্ড আসনে তাগো অনেকেই আগের থেইকাই বাংলা ব্লগিং করে। বাংলা কমিউনিটি ব্লগিংয়ের একটা সূচনা হয়তো তারা দিছে...কিন্তু ভাষাগত এই অবধারন আসলে শেষ পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত ব্যবধানের সূচক হিসাবেই আবির্ভূত হয় কেবল কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সময়ের মাথা মোটামো আর কিছু সময়ের বাস্তবিক স্বাধীনতা বিরোধীগো ছদ্মাবরনে প্রতিষ্ঠিত করনের প্রক্রিয়ায়। যেহেতু কর্তৃপক্ষ সবসময় নিরাপদ লোক গুলিরে খুঁজছে...নিরাপদ কোন অর্থে?

এই নিরাপত্তা সবসময় আসছে নির্বিরোধী লোকের মোড়কে...একটা উদাহরন দেই, আরিফ জেবতিক ব্লগের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ...তার লেখায় দল বাইন্ধা মানুষ প্রতিবাদে নামে নিপীড়কের বিরুদ্ধে...তার লেখার আবেগে জল ঝরে...অগ্নিকুন্ড জ্বলে সাধারন মানুষের চোখে...কিন্তু তিনি ব্লগের ঝুটঝামেলায় খুব বেশী প্রতিবাদী মানুষ না...আর তাই সকল ব্লগার জমায়েতে কর্তৃপক্ষের চোখে প্রধান মানুষ...কিন্তু সেই একই ধরনের লেখা কেবল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যখন তিনি লিখলেন, তখন তিনি কর্তৃপক্ষের চোখে শত্রুতে পরিনত হইলেন...প্রতিষ্ঠানের এই চরিত্র ব্লগ কনসেপ্টের লগেই যায় কি না সেইটা প্রশ্ন সাপেক্ষ।

সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষ সবসময় পক্ষের লোকগো গুরুত্ব দেওনের চেষ্টা করছে...কালপুরুষদা তাগো চোখে ছিলেন নিপাট মানুষ...আমি নিজে যেহেতু কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খুব বেশী লিখি নাই তাই আমিও সেইরম ছিলাম...এইসব তবুও মাইনা নেওন যায়...কিন্তু ব্লগ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে যেইসব বৈঠক ডাকছেন সেইখানে ব্রাত্য রাইসুরে রাখা হইছে...নিজ চোখে দেখছি তার থেইকা ব্লগ উন্নয়নে মতামত চাওয়া হইছে...কিন্তু যেই রাইসু কর্তৃপক্ষের সমালোচনামূলক লেখা দিছে সে তখন শত্রুতে পরিনত হওনের সম্ভাবনা জাগাইছে।

এই যে সমালোচনা নিতে না পারার অযোগ্যতা এইটা আমার কাছে স্বাভাবিক সামাজিক চরিত্র মনে হইলেও, প্রত্যাশিত ঠেকে না। আমার ব্লগিং জীবনের শুরুর দিকে কানাঘুষায় শুনছি ব্লগের দায়িত্বে থাকা অনেকেই সামহোয়্যার ইন যে ব্লগারগো বিনা পয়সায় ব্লগিং করতে দিতাছে সেইটারে হাইলাইট করতো। আজো সেই অবস্থান পাল্টায় নাই বইলাই মনে হয়...ব্লগারগো তারা যেহেতু সুবিধাভোগী মনে করেই সেই কারনেই যখন কেউ কর্তৃপক্ষরে সমালোচনা করে তখন সে অপরাধীতে পরিনত হয় কর্তৃপক্ষীয় মনোবৃত্তিতে।

বর্তমান নীতিমালা যখন তৈরী হয় তখন এই ব্লগে ছদ্মবেশী স্বাধীনতা বিরোধী চরিত্রের প্রকোপ ছিলো...সেইটা এ-টিম আর অন্যান্য প্রোলিবারেশন পন্থী ব্লগারগো ট্যাগিং হিসাবেই আসছে...কিন্তু আমি সুনির্দিষ্ট তথ্য জাইনাই বলতে চাই তখন আসলেই স্বাধীনতা বিরোধী মানুষের নিয়ন্ত্রনে ছিলো ব্লগ...সেই নীতিমালায় যেই কারনে স্বেচ্ছাচারী অনেক কথা আছে, ফ্যাসিবাদী হইয়া উঠনের সম্ভাবনা আছে। প্রথম আলো ব্লগের যেই স্বেচ্ছাচারীতার লেইগা সেই ব্লগে না লিখনের সিদ্ধান্ত নিছিলাম...এখন দেখি নীতিমালার উদ্ভট প্রয়োগে সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষ সেই একই আচরন আরম্ভ করেন।

সামহোয়্যার ইন বা অন্যান্য ব্লগের উপর জরীপ চালাইয়া ফাহমিদুল হক যখন দেখান ব্লগারগো ৬১ ভাগ আগেও লিখতেন তখন আমার মনে হয় ব্লগ আসলে আশাতীত ভাবে মানুষের লেখক স্বত্ত্বা জাগাইতে পারে নাই। সামহোয়্যার ইন আসনের আগে এইদেশে বিজয়ে লেইখা বাংলায় ইয়াহু গ্রুপ চালানের নজীর কম না। কবিসভা-উত্তরসূরী-মুক্তমনায় বাংলায় ইয়াহু কমিউনিটি গইড়া উঠনের পরেই এই দেশে বাংলা ব্লগিংয়ের নামে ডিসকাশন ফোরামের যাত্রা শুরু হইছে। আর তাই সামহোয়্যার ইনরে তার প্রাপ‌্যের বেশী প্রশংসা আমি দিতে চাই না।

টেকীরা সামহোয়্যার ইনে আসছিলেন কারন এই ব্লগের ডেভেলপাররা তাগো আমন্ত্রন জানাইছিলো। সেইসময়টায় ব্লগ লিখকেরা ম্যাক্সিমামই ছিলো আইটি প্রফেশনাল। আর তাই টেকীরা আসছে বাংলা কম্পিউটিঙের একটা নতুন ধারা দেখতে। আর নতুন ধারা দেখতে আইসা তারা হয়তো আশাহত হয় নাই...কিন্তু ব্লগের যেই চরিত্র তার সম্পর্কে আপসেট হইছে। আমি ব্লগারগো চাইতে কর্তৃপক্ষরে এই হতাশার কারন হিসাবে বেশী দুষতে চাই।

কর্তৃপক্ষের নিরাপদ ব্লগারগো হাতে রাখনের চেষ্টার বাইরেও বুদ্ধিহীনতা, মতাদর্শিক ভিন্নতা, বাঙালী মানস বুঝনের ব্যর্থতা এইসব অনেক বেশী কাজ করছে ব্লগারগো হতাশা উৎপাদনে...আমি নিজে এই ব্লগ ছাইড়া গেছিলাম যুঞ্চিক্তরে ব্যান করাতে...যখন একই মাত্রার অপরাধ কইরা ত্রিভুজ সসম্মানে ব্লগিংয়ে ছিলো...সেই ত্রিভুজরে ব্লগে ব্যান খাইতে নারীর অবমাননা করতে হইলো...এই যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তারে আমি অপছন্দ করি। ত্রিভুজের নারী অবমাননা,...আর কর্তৃপক্ষের নারী জাতিরে রক্ষার কৌশল আমার একইরম অপরাধ লাগে, উভয়ই পুরুষতান্ত্রিক আষ্ফালন...


২৮ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪২

লেখক বলেছেন: আপনার আগের কমেন্ট থেকে খোমা লটকানো, রাজাকার মন্ত্রী ইস্যু, প্রাপ্তির চিকিৎসা ক্যাম্পেইনে ব্লগ-পরিস্থিতি ও নরওয়েজিয়ান ভাবাদর্শ বিষয়গুলো ধারাবাহিক সময় পরিক্রমার বিশ্লেষণে অন্তর্ভূক্ত থাকবে। আমি যে জায়গার ছিলাম তা হলো ব্লগাররা কারা? কি তাদের পরিচয়? প্রথম ওয়েভে যারা এসেছিলো মাঠে তাদের পরিচয় অন্বেষণ। ব্লগ-বিষয়ের চরিত্র বোঝার জন্য তাদের অবস্থান অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ জরুরী। ব্লগ-বিষয় যেহেতু নির্ধারণ করেছে মিথস্ক্রিয়া, উদ্ভুত পরিস্থিতি ও কর্তৃপক্ষের আচরণ, সেজন্য প্রথমদিকের ব্লগারদের প্রাক-সামহোয়ারইন এক্টিভিটি জানা থাকলে সুবিধা হবে। ইতোমধ্যে আমি প্রথমদিকের আগত ব্লগারদের বেশীরভাগকে “টেকিরাইটার” নামে নিদৃষ্ট করেছিলাম। টার্মে তাদের পরিচয় ফুটে ওঠে না পরে ভেবে দেখলাম, এবং পরিসর সংকুচিতও হয়ে যায়। রাইটার বা ব্লগার হিসাবে অভ্যস্ত হবার আগে তাদেরকে আমি “ইউজার” হিসাবে দেখতে চাই। কারণ এ পর্যায়ে আগতরা একটা ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারী হিসাবেই আগে নিবন্ধিত হন, তিনি রাইটার, ব্লগার না পাঠক হবেন সেটা নির্ভর করে সময়ের যাপনে। আপনি বলেছেন, “.....অভ্র কী-বোর্ড আসনে তাগো অনেকেই আগের থেইকাই বাংলা ব্লগিং করে”। আমিও তেমন মনে করি। এই ইউজাররা সামহোয়ারে আসার আগে ঠিক সামহোয়ারীও মিথস্ক্রিয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য থেকে গিয়েছে কিনা সেটা এ পর্যায়ে খুঁজে দেখা দরকার, যেটাকে আপনি ব্লগিং বলছেন।

সামহোয়ারে আগতদের ওয়েব-সংশ্লিষ্ট পূর্বের অভিজ্ঞতার মধ্যে দুইটা ধরণ থাকতে পারে। একদল হচ্ছেন ব্লগস্পট-ওয়ার্ডপ্রেস ঘরানা, ওয়েবজিন, ফোরাম, চ্যাটিং যেখানে তারা কিছু ইনপুট করে থাকেন। যা মন্তব্য হতে পারে, আবার পূর্নাঙ্গ কোন লেখাও। আরেকদল হচ্ছেন একদম পাঠক যারা ওয়েব পাঠ করে থাকে, কোন ধরণের লৈখিক ইনপুটের সাথে পরিচিত নয়। প্রথম দলকে ওয়েব-ইউজার হিসাবে আমি চিন্থিত করতে চাই। আর দ্বিতীয় দলকে ওয়েব-রিডার।

ওয়েব ইউজারদের ব্যবহৃত প্লাটফর্ম কোনটাই সামহোয়ারের চরিত্রের পুরাপুরি পূর্বগামী না। ব্লগস্পটীও ব্লগাররা মূলত ছিলেন ইংরেজীভাষী, যাদের মধ্যে স্বল্প সংখ্যক বাংলা ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এবং লক্ষণীয়ভাবে তাদের মধ্যে প্রবাসী উল্লেখযোগ্য। এমন ব্লগে সংঘবদ্ধ কমিউনিটি গঠন হয় না, কিছু বিচ্ছিন্ন “রিলেশন” তৈরী হয় যা একান্তই ব্লগারের চরিত্র-অনুগামী। উপরন্তু মডারেশনের পুরো দায়িত্ব ব্লগারের নিয়ন্ত্রনাধীন বলে এখানে কর্তৃপক্ষীয় আচরণের সাথে ব্লগারদের পরিচিত হয়ে ওঠার সুযোগ একদমই নাই। ফলে ব্লগস্পটীও ব্লগারদের সামহোয়ারের আচরণ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে তাদের পূর্বের ব্লগিং অভিজ্ঞতার একটা পূর্বধারণা কাজ করেছে। যা নতুন ক্ষেত্রের সাথে তাদের কমপারিজনের মুখোমুখি করেছে। এবং এই প্রথম তারা কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি ইন্টারএ্যাকশনের সুযোগ পেলেন, যারা শুধুমাত্র মডারেটর নয়, নির্মাতা-উদ্যোক্তাও। ব্লগস্পট-ওয়ার্ডপ্রেস ঘরানাতে যারা লিখতেন তাদের মধ্যে এগিয়ে ছিলেন প্রোগ্রামাররা, এরপরে আছেন, স্বাধীন লেখক, ওয়েবজিনের রাইটার, স্টুডেন্ট ও প্রবাসী। এরা তাদের ব্লগে স্বাধীন, ব্যবহারে দায়বদ্ধতাহীন এবং এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। যার জন্য তাদের বিষয়-বৈচিত্রে রয়েছে অভিনভত্ব, অপেশাদারিত্ব এবং অপার কৌতুহল। এই গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক একটা সম্পর্ক তৈরী হয়েছিলো যা মূলত বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অবজেক্টিভ। তাদের সাবজেক্টিভ ধারণার জন্য অনেক বেশী পারস্পরিক অপরিচিতি বিদ্যমান থাকা একটা অন্তরায় ছিল। এই গোষ্ঠী কেবল বাংলাদেশ নয় তাদের বিষয়-বৈচিত্রে আন্তর্জাতিক ফেনোমেনার সাথে সম্পৃক্ততাও লক্ষণীয়। সামহোয়ারের কমুনিটি-ব্লগিং এর সাথে এদের অভিজ্ঞতার ঠিক এই বিষয় ও স্বাধীনতার একটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যা তারা সহজে কানেক্ট করতে পেরেছিলেন। ব্লগে তারা মন্তব্য, প্রতিমন্তব্যেও আলোচনাকে টেনে নিয়ে যেতে উদার ও প্রসঙ্গ থেকে অপ্রসঙ্গে বা একদম ভিন্ন প্রসঙ্গে এর পরিসমাপ্তিতেও তাদের পছন্দ প্রকাশ পেতে থাকে। কেবলমাত্র কর্তৃপক্ষীয় আচরণ ও ব্লগ-বিবর্তনে তাদের ভূমিকার সেতুবন্ধন অনুধাবন ছাড়া, যেহেতু এ সুযোগ ব্লগস্পট-ওয়ার্ডপ্রেস ঘরানায় প্রায় অনুপস্থিত।

ওয়েবজিনের রাইটারদের উপরোক্তদের চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যনীয়। তারা মূলত আধুনিক রাইটার যারা ওয়েবে লিখে থাকেন। প্রিন্টেড মিডিয়ার চেয়ে এটার পার্থক্য একটাই – তা হলো এটা প্রিন্ট হয় না। ওয়েবজিন রাইটারদের কারো ওয়েব-প্রযুক্তির সাথে পরিচিত থাকে, কারো থাকে না। সম্পাদকের বরবারে মেইল করে দিলেই হলো। কিন্তু এদের ওয়েব-দেখার লক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। সেসূত্রে নিজস্ব লেখালেখি প্রকাশের একটা ক্ষেত্র হিসাবে দেখতে থাকেন সামহোয়ারইন ব্লগকে। এই গোষ্ঠীদের অবাধ-স্বাধীনতায় বিচরণের পূর্ব-অভিজ্ঞতা না থাকারই কথা। ওয়েবজিনে তারা সম্পাদক দেখেছে, এখানে তারা মডারেশনকে সম্পাদকীয় ভূমিকা হিসাবে দেখতে প্রত্যাশী ছিল। সামহোয়ারের প্রথমদিকের ব্লগারদের লেখায় “সম্পাদক” শব্দেরও প্রায়শই ব্যবহার দেখা যেতো বিভিন্ন মিথস্ক্রিয়ায়। ফলে এই গোষ্ঠী সামহোয়ারকে একটা চমৎকার সাহিত্য, প্রবন্ধ-নিবন্ধ সমৃদ্ধ ই-প্রকাশনা হিসাবে দেখতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিষয়-বৈচিত্র চর্চায় তাদের মধ্যে পেশাদারীত্ব ও শ্রমসাধ্য লেখার প্রকাশ দেখা যায়। পেশাদারীত্বের অবজেক্টিভিটিতে তারা সুস্থির এবং ব্যক্তিগত লেনদেন আড়ষ্টতা তাদের পূব-চর্চার ফসল হিসাবে এখানে আবির্ভূত হয়। ফলে কর্তৃপক্ষের একটা স্পষ্ট ও সরাসরি অবস্থানের জন্য তাদের অনুসন্ধান, নিয়ম-নীতি অনুসরণ এদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়।

ওয়েব-ইউজারদের অন্য একটা গোষ্ঠী ফোরাম-বেইজড। ফোরামের সামগ্রিক প্রকাশ-ভঙ্গি, গঠন ও পরিচালন এর প্রস্তুতিপর্ব থেকেই সুনির্দিষ্ট। ইউজাররা এখানে একটা কমিউনিটির স্বাদ পেয়ে থাকেন। সামহোয়ারের পূর্বে যেসমস্ত ফোরামের অস্ত্বিত্ব দেখা যায় তার শ্রেণীবিভাগ করলে দেখা যায় তার বেশীরভাগই কোন একটা নিদৃষ্ট বিষয়ের ওয়েবের ফোরাম। মূল ওয়েব বিষয়ক আলোচনা, রিডারর্স ফিডব্যাকের জন্য ফোরামকে সংযুক্ত করা হয়। সব ফোরামের গঠন-শৈলী, ব্যবহার ও পরিচালন পদ্ধতি এক হলেও বিষয়ের ক্ষেত্রে ভিন্নতা মূল ওয়েবের কল্যাণেই নির্ধারিত হতো। এর ব্যবহাকারীরা পোস্ট ও কমেন্ট প্রদান ধারণার সাথে পরিচিত। ব্লগস্পট ও ওয়েবজিন ইউজারদের থেকে ফোরাম-ইউজারদের ভিন্নমাত্রায় ওয়েব-ব্যবহারের ধারণা সংগঠিত হয় নিয়ন্ত্রিত কমিউনিটি পরিচালনা ও বিষয়ের সুনির্দিষ্টতার জন্য। কর্তৃপক্ষীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা থেকে একধরণের মুক্তি এবং কমিউনিটির পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকার কারণে সামহোয়ার তাদের কাছে একদমই পরিচিত একটা প্লাটফর্ম মনে হতে থাকে। এই গোষ্ঠী কমিউনিটিকে ফেলোশিপ এবং বিষয়ের বহুমুখীতার প্রকাশ হিসাবে লুফে নেয়। ফোরাম-ইউজাররা চরিত্রগত কারণেই একাধিক ফোরামে নিবন্ধিত থাকায়, সামহোয়ার হয়ে ওঠে তাদের জন্য মেনি ইন ওয়ান। উল্লেখ্য, তথ্য-প্রবাহে ফোরামে দ্রুততা লক্ষ্যনীয়, ফোরামের বাইরে এদের ব্যক্তিগত মাত্রায় নানামুখী সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগের কারণে। সামহোয়ারে বিষয় নির্ভর মিথস্ক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা অগ্রগন্য এবং নানামুখী ধারণা উদ্ভাবনে সম্মুখ সাড়িতে অবস্থান তখন লক্ষ্য করা যায়। কর্তৃপক্ষকে তারা এডমিনিস্ট্রেটররূপে এবং তাদের একটিভ মডারেশন বিদ্যমান এমন একটা পূর্ব-ধারণা তাদের ভেতরে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকা স্বত্তেও সামহোয়ারের আপাত উদারনৈতিক মডারেশন ভালোলাগার প্রধান কারণ হয়ে দাড়ায়। ফোরাম-জনগোষ্ঠী ইন্ট্যারএ্যাকশনে মাত্রা-হীন উদারনৈতিক ভাবধারায় আকৃষ্ঠ একই সাথে বিরুদ্ধমতের প্রতিপক্ষ হিসাবে অসহিষ্ণু। মূলত তাদের অভিজ্ঞতায় আক্রমনহীন থাকার নজির রয়েছে বলে ‘কনফ্লিক্ট’ সিচুয়েশনে কর্তৃপক্ষের ভূমিকার পক্ষ-বিপক্ষ মেরুকরণ অন্বেষণে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। একটা পূর্বনির্ধারিত নিয়মনীতি ও সার্বক্ষণিক এডমিনিস্ট্রেটর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফোরামে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে এর ব্যবহারকারীরা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে পরিপূর্ণভাবে একাত্মতা পোষণ করে থাকার এমন অভিজ্ঞতায় তারা অলরেডি সমৃদ্ধ।

ওয়েজ-ইউজারদের একটা অংশ সরাসরি চ্যাটিং অভিজ্ঞতা বহন করে এসেছে। চ্যাটিং মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম বলে এদের সামহোয়ারে প্রকাশ-ভঙ্গিতে তদ্রুপ প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠতে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নির্মাণে চ্যাটিং এর গতি ও স্বাধীনতা উপভোগে নিয়ন্ত্রণের কোন বালাই নেই। ভাষার ব্যবহার থেকে শুরু করে ভাষা নির্মাণ ও এবিউজিং এলিমেন্টস ও স্প্যামিং চ্যাটিংগোষ্ঠীদের অন্যতম পরিচিত ও ব্যবহৃত উপাদান হিসাবে পরিগণিত হয়। সেইসাথে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কমিউনিটি যা মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্কের পুঁজি ধরে বিকশিত হয় বলে এখানে বিভিন্ন মতের পারস্পরিক সহাবস্থান ও বিপরীতাবস্থান অনেকাংশে ব্যক্তিগত অভিরুচি ও হৃদ্যতার উপরে নির্ভরশীল। ওয়েবব্লগে যেধরণের ব্যক্তিগত প্রকাশ এর আভিধানিক উদ্দেশ্য হিসাবে স্বীকৃত ও চর্চিত তার সাথে চ্যাটিং-জেনারেশনের ভাবধারার সাথে মিলে যায়। পাবলিক-ইন্ট্যারকশন মুড হিসাবে ওয়েব সর্বপ্রথম চ্যাটিং এর উদ্ভব বলে অন্যান্য যেকোন ইন্ট্যারএ্যাকশন মূলত এর সম্প্রসারিত ও অনুপ্রাণিত রূপ। সেজন্য চ্যাটারদের বিনোদন, টাইম-পাস ও তথ্য আদান-প্রদানের একটা প্লাটফর্ম হিসাবে সামহোয়ারের এদের প্রবেশ ও ব্যবহার সবচেয়ে বেশী দৃশ্যমান হতে থাকে। এই গোষ্ঠী প্রতিপক্ষকে আক্রমণ শানাতে ও আত্মরক্ষার পদ্ধতি সম্বন্ধে আগেভাগে অবগত। সর্বোপরি ছদ্মনাম ও নিকের প্রয়োগ এদের বহুল চর্চিত টুল হওয়াতে যা ইচ্ছে তাই করতে পারার একটা সাহস ও সুযোগ তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পেয়ে যায়। ফলে কর্তৃপক্ষের ব্লগভাবনা বিষয়ে তাদের চিন্তাভাবনা নাই বললেই চলে, নিজেদের মত নিয়ম তৈরী ও ভাঙার জন্য তাদের রয়েছে হান্ড্রেড পার্সেন্ট সমর্থতা।

ওয়েব-ইউজারদের এই চারগোষ্ঠীর বাইরের দল ওয়েব-রিডার, যারা নানাবিধ ছন্দের লেখা পড়তে আগ্রহী। ব্লগের মিথস্ক্রিয়ায় তাদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা এ-স্তরে না থাকলেও ক্রমশ এর ভেতর থেকে ব্লগার হয়ে উঠার প্রবণতা দেখা দেয়। কিন্তু রিডার হিসাবে পূর্বের অভিজ্ঞতায় তাদের অনেক ম্যাচিউর এন্ট্রি ঘটে। ক্রমশ দর্শকের সাড়িতে থেকে তারা নিজেদের ভূমিকা নির্ধারণ করে নিতে পারে। ব্লগের প্রাথমিক যুগ যেটাকে আমি “প্রাক-সচলায়তন” বা “অবিভাজিত ব্লগ কাল” হিসাবে চিন্থিত করেছি সেই সময়ে এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নয় বলে এদের বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ হবার কালে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

এ পর্যায়ে ওয়েব-ইউজারদের ব্লগার হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে পূর্বাপর যে সমস্ত ওয়েব-অভিজ্ঞতার কথা আমি বয়ান করলাম এর প্রতিটা নানাভাবে সামহোয়ারে তাদের অবস্থানে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্লগ-বিবর্তনে এই প্রাক-অভিজ্ঞতাগুলো নানামুখী, ব্যতিক্রমী, পরস্পরবিরোধী, অভিনব হলেও আগত ইউজাররা উক্ত প্লাটফর্মগুলোর সাথে একই সাথে সবগুলোর সাথে অথবা কেবল এক বা একাধিকের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে তাদের ব্লগার হয়ে ওঠার ধরণও হয়েছে বিভিন্ন। মনে রাখতে হবে এই জনগোষ্ঠীর বেশীরভাগ ইন্টারনেট-বেইজড এবং সর্বদা ইন্টারনেটের সুবিধাভোগী। এবং পেশা হিসাবে তাদের কে উল্লেখ করা যায় সংখ্যাধিক্যের ক্রমানুসারে প্রোগ্রামার, স্টুডেন্ট, ওয়েবজিন রাইটার এবং ভৌগলিক অবস্থানুসারে অর্ধেকের বেশী প্রবাসী। এদের সামহোয়ারে রেজিস্ট্রেশনের উদ্দেশ্যের মধ্যে একটা কমন মিল দেখা যায়। তা হলো সবাই সামহোয়ারে নিজের একটা ব্লগভূমির মালিক হতে চেয়েছেন যেখানে তিনি ইচ্ছেমত নিজের কথা লিখবেন। এ পর্যায়ের তাদের প্রত্যেকের আচরণ ও আকাঙার মধ্যে স্বাধীনভাবে নিজের কথা ব্যক্ত করার টেন্ডেন্সী প্রোত্থিত ছিল। রাজনীতি, ধর্ম ও সংস্কৃতি, জীবানচার ইত্যাদি প্রশ্নে সমাজে প্রচলিত বিভিন্নতা এই ইউজারদের মধ্যেও লক্ষণীয়। তবে এ পর্যায়ে স্রেফ ওয়েব-ব্যবহাকারী হিসাবে তাদের স্পষ্টতা সর্বাধিক, যারা ব্লগকে বিনোদন, প্রকাশ ও তথ্য-আদানপ্রদানের টুল হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন। পরবর্তী ওয়েভে যেমন ওয়েবকে নিয়ে নানাবিধ পেশাজীবিতার উদ্ভব হয়েছে, প্রাথমিক আগতদের মধ্যে সেটা তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না।

সুতরাং আলোচনায় এ কথা স্পষ্ট যে সামহোয়ারের মডেলটার সাথে তারা আগে থেকে পরিচিত নন এবং তাদের পূর্বধারণা ও অভিজ্ঞতার আলোকে এটাকে নিদৃষ্টভাবে সংঙায়িত ও অনুধাবন করার চেষ্টা করেছেন। এবং স্বাভাবিকভাবেই অন্য কোন পরিচালন পদ্ধতির সাথে সামহোয়ারের পরিচালন পদ্ধতিকে তারা মেলাতে পারেননি। ভাস্কর দা এ পর্যায়ে এসে আপনার একটা বক্তব্যকে তুলে ধরতে হয়, “বাংলা কমিউনিটি ব্লগিংয়ের একটা সূচনা হয়তো তারা দিছে........”, এর পরেই আপনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকার কারণে ব্যবধানের সূচকের কথা উল্লেখ করেছেন। মাসুদা ভাট্টির পোস্ট মোছার আগ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের ভূমিকাকে সেক্ষেত্রে সূচনাকাল এবং সূচনাকালে অবধারিতভাবে নতুন একটা কমিউনিটিতে পূর্বাপর ওয়েব-সংস্কৃতিতে অভিজ্ঞদের একটা কমিউনিট গড়ে ওঠার ইংগিত বহন করে। তবে অবধারিতভাবে এই কমিউনিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সময়কালেই অন্তঃস্থকমিউনিটি হিসাবে আবার বিভাজিতও সেটি আগত ব্লগারদের ওয়েব-সংস্কৃতি নিয়ে আমার আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে।

এসময়কালে ব্লগ-কমিউনিটি একটা বৃহৎ কমিউনিটি ছিল কয়েকটা মিল নিয়ে। সেগুলো বলা যায় এমন যে, একই প্লাটফর্ম এবং বিভিন্নমতানুগামী হলেও পারস্পরিক আচরণে বন্ধুত্বপূর্ণতা। কিন্তু আসলে তখনই বিভিন্ন মতাদর্শীরা ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকেন। এন্টি-লিবারেশনের পূর্বে যে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশিত হয় তা হলো পোস্ট-মর্ডানিস্ট। মতাদর্শীক দ্বৈরথে তত্ত্বগত বিশ্লেষণে তখন তারা অপটু বা তেমন বিস্তার না হলেও তাদের প্রকাশভঙ্গীতে পরিষ্কার হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা বিভাজনের মাত্রাকে উসকে দিয়েছে কিনা সেটা বিশ্লেষণের জন্য এখন আমি প্রস্তুত।
(দীর্ঘ ও নানামুখী চিন্তার সম্মিলনকে স্পষ্ট করার জন্য প্রচুর সময় দিতে হচ্ছে বলে দেরী হইয়া গেলো বস)।

১৫. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:২২
সুমন রহমান বলেছেন: যেসব কাহিনি শুনছি তার সবই আমার সামহোয়্যারে আসার আগের। দূর থেকে ভাসা-ভাসা শুনেছি, কান লাগিয়ে শুনিনি সেভাবে। এখন তো দারুণ লাভ হল। শোকেজে রাখলাম।

পদ্ধতিটাও ভাল লাগল। কৌশিক আর ভাস্করের ক্রসরেফারেন্সিং চলুক, ফাঁকে ফাঁকে অন্যরা এটা সেটা এগিয়ে দেবে।
১৬. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৩১
পজিটিভ২৯ বলেছেন: দারুন পর্যালোচনা।
১৭. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৫৯
লীনা দিলরূবা বলেছেন: সুমন রহমান বলেছেন: পদ্ধতিটাও ভাল লাগল। কৌশিক আর ভাস্করের ক্রসরেফারেন্সিং চলুক, ফাঁকে ফাঁকে অন্যরা এটা সেটা এগিয়ে দেবে।

দারুন লাগতেছে। এই দুজন কথা বলুক। আমরা শুনি। লেখাটা প্রিয়তে নিলাম।
১৮. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:১২
রিফাত হাসান বলেছেন: তারপর... কবি নিরব হয়ে গেলেন কেন?
২৬ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:২৪

লেখক বলেছেন: কবি লিখতেছে বস

১৯. ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:২৫
একরামুল হক শামীম বলেছেন: শোকেসে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলাম।
২০. ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:২৩
জামাল ভাস্কর বলেছেন: আপনার মন্তব্যের মূল ফোকাস আমার আগ্রহের জায়গা না আসলে...কে কোন জায়গা থেইকা কিভাবে সামহোয়্যারে আইছে সেইটার শ্রেণী নির্ধারন করনটা খুব সরল কাজ বইলা আমার মনে হয় না। কারন এইখানে সব টেকি লেখকেরা নিশ্চিত এক কারনে একই উদ্দেশ্যে আসে নাই...বা আসলেও, সেইটারে কোন আচরনবাদী ব্যাখ্যাতে সংজ্ঞায়িত করাটা আমার অসাধ্য মনে হয়।

তয় একটা চরিত্র নিয়া আমার আগ্রহ আছে সেইটা হইলো সামহোয়্যার ইনের ফোরাম হইয়া উঠনের ইতিবৃত্ত। এইখানে যে যেই উদ্দেশ্যেই লিখুক...যে যেই উদ্দেশ্য নিয়াই পাঠ করতে আসুক...শেষ পর্যন্ত সামহোয়্যার ইন কমিউনিটি ব্লগিঙয়ের নামে একটা ডিসকাশন ফোরামে রুপান্তরিত হয়। যেই কারনে এইখানে ফ্রন্ট পেইজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়। কর্তৃপক্ষ শাস্তি দ্যান প্রথম পাতা থেইকা পোস্ট সরাইয়া দিয়া...কেবল প্রথম পাতা থেইকা পোস্ট সরলেও হইতো...প্রথম পাতা থেইকা পোস্ট সরাইলে আবার সেইজন নিরাপদ থেইকা জেনারেল বা ওয়াচ ক্যাটেগরীভূক্ত হইয়া যায়।

এই ডিসকাশন ফোরাম হওনের প্রক্রিয়াটা ব্লগ কর্তৃপক্ষের একান্ত চাওয়াই মনে হয় আমার কাছে। weblog লিখনের ব্যাপারটা আর একান্ত থাকে না। সকলের হইয়া যায়...আর সকলের হইতে না পারনটা একটা অযোগ্যতা হইয়া দাঁড়ায়...সামহোয়ার ইনের শুরু থেইকাই এই চাহিদা তৈরী করা হইছে...ওয়েবে লগ লিখনের চাইতে ডিসকাশন টপিক লিখনের বিষয়টা প্রাধান্য পাইছে এর লে-আউট আর সংগঠনের প্রক্রিয়ায়...

গালাগালি আমার কাছে ভিন্ন কোন এক্সপ্রেশন মনে হয় না। অনেক নামকরা ব্লগাররেও ইংরেজীতে f*** গালি খাইতে দেখছি...এইটারে এক্সপ্রেশন হিসাবেই দেখি আমি...গালিরে সমস্যা মনে হয় তখন, যখন বিষয়টা দলবাজীর এক্সপ্রেশন হয়...আর এই দলবাজীর স্কোপটা কর্তৃপক্ষের অযোগ্যতাতেই তৈরী হয় বইলা আমি মনে করি। ডিসকাশন ফোরামে মডারেশন বিষয়টা অনেক ট্রান্সপারেন্ট হইতে হয়...চিন্তা আর চিন্তকের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারে এইরম যোগ্যতার প্রয়োজন হয়...

কিন্তু এই ব্লগের মডারেটররা সবসময়েই উদ্ভট নিস্পৃহ হইতে বেশি আগ্রহী হইছে চিরকাল...নোটিশ বোর্ড নামক নিক কখনোই সদস্যগো কাছে কোন জবাবদিহিতা করে নাই...খুব দূর্বল ভাষায় সে কি কইতো বা এখনো কি কইতে চায় সেইটা মাঝে মাঝেই পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়(যদিও এখন ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে যা'ই দুর্বোধ্য মনে হয় সেইটারে তারা মুইছা দ্যান...পাঠকেরা সেইটা বুঝছে কি না সেইটা নিয়া তাগো কোন মাথা ব্যাথা নাই)।

সামহোয়্যার মডেল নিয়া কিছু বোধহয় আপনে কইতে চাইলেন...আমার কাছে মনে হয় সামহোয়্যার মডেল বইলা আসলে কোনকিছু exist করে না। কারন কর্তৃপক্ষ আসলে জানেই না তারা কি করতে চায়...তারা যেই কারনে অনেক কিছুর কথা ক'ন...যেইসবের কোন বাস্তবায়ন হয় না কোন কালে। শুরুতে তো বিষয়টা আরো অস্পষ্ট ছিলো...ব্লগারগো চাহিদার ভিত্তিতে তখন অনেক কিছু হইছে...আর এই ব্লগারগো পূর্বোল্লিখিত নিরাপদ ব্লগার হইতে হইছে অতি আবশ্যিকভাবেই।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১২৫২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
যদি প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয় তবে বরঞ্চ তলিয়ে যাবো তিমির সাথে, অতল ঘাসের সাথে, নীরব রাতের সাথে। সময়ের বিভাজনে ক্ষুদ্র প্রতিশোধের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ