ঢাকার বাসে ওঠার আগে নিম্নচাপ টের পেলাম। রাস্তার পাশে নিরিবিলি এক জায়গায় ডাবের খোসায় কে যেন একটু আগে জমা করে গেছে। আমিও সেখানে শামিল হলাম। উত্তর মিললো তখন। হলুদময় নিম্নচাপের জল সারাদিনের গাড়ো মদ্য "চু" সুকীর্তির ফলাফল। তবে আগের দিন রাত বারোটায় বিরিসিরি ওয়াইএমসিএতে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বিরিসিরি যাবার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো দেশী মুরগী ভুনা যার ভেতর থাকবে বেশী পরিমাণ ইন্ডিয়ান পিয়াজ কুচি কুচি করে কাটা আর ছোট ছোট নতুন আলু। বিশেষত রাত্রে আমরা দুর্গাপুরে গিয়ে খাবো বলার পরে এই ন্যুনতম চাহিদা মেটাতে আয়োজকরা যে মোটেও কার্পণ্য করবে না সে বিষয়ে নিরাস্থাশীল হবার মত পাষন্ড আমি নই। কিন্তু নেত্রকোনা ঘুরে বাসের দীর্ঘ-দেরী গন্ডগোলের প্রধান কালপ্রিট। সে যাক গভীর রাতে বিরিসিরির নাই-পানি সোমেশ্বরীর ব্রীজে চন্দ্রমুখ আর ঠান্ডা বাতাসের কাপ্তানী সেরে মুরগী-বিযুক্ত অনাহারে আমরা ঘুমিয়ে গেলাম ওয়াইএমসিতে।
আমি তখনও উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছি, হোয়াই উই কেইম হিয়ার? হোয়াট দ্যা ফাক ইজ দিস? সোমেশ্বরীর রিকশাফেরী ধরে রানীখং এর সেমি-পাকা সড়কে উঠে মনে হলো এদিকের লোকজন অল্পতে বুড়িয়ে যায়। গাড়ো, হাজং, বাঙাল সবাই আমাদের ঢলঢলে শরীরের বিপরীত প্রতিকৃতিবান, তবে পেটানো দেহ নয়। কিন্তু উহাদের দম যে অফুরান কিছুক্ষণ পরে আমাদের দম ফুরাতে টের পেলাম।
রানীখং এর চার্চ দেখে কিছু না দেখার মতই হলো। পাশে বালুময় সোমেশ্বরীর ওপাড়ে ইন্ডিয়ান বর্ডারে কাটাতারের বেড়া দেখা কোন পর্যটনশিল্প হতে পারে না। এরপরে বিজয়পুরের চীনামাটির পাহাড় দেখে মনে হলো, ও আচ্ছা - এটা এই বাল! তারপরে দেখলাম গ্রাম এবং অতপর উদোম হয়ে সোমেশ্বরীর হাঁটুপানিতে হুল্লোড়িত স্নেনান।
ফেরার পথে মনে হলো আবারো, কেন বিরিসিরি এলাম! সাড়ে তিনটায় হলুদদুষ্ট হোটেলের মুরগী ভুনা দিয়ে পেটপুড়ে খেয়ে বাসে উঠে যখন আমরা নেত্রকোনার দিকে ধাবমান হলাম ঠিক তার আগেই নিম্নচাপ ঝেড়েছিলাম ডাবের খোসায়। সেখানে হলুদ জলের প্রভাব হিসাবে গাড়োদের মদ্য "চু" কে দোষারোপ করেছিলাম প্রথমেই। তবে বিরিসিরি কেন এলাম, ঘুরলাম তার সবচেয়ে বড় উত্তরটা তখন কিন্তু ঠিকই মিলেছিল।
ঢাকায় যে চু খাওয়া নাগরিক জীবন আমাদের - তার পুরাটাই হরিদ্রাবর্ণের থকথকে অসুখ। বিদ্যুৎ, জ্যাম আর বাঞ্চোত রাজনীতিবিদদের "চু" পরিবেশনা থেকে আমরা দুদন্ড মুক্তি চেয়েছিলাম। বিরিসিরি গেলাম সেজন্যেই। বিরিসিরির চু দিয়ে ঢাকার চু-জীবন থেকে মুক্তি পেতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

