প্রাথমিক শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে আমার আগ্রহ বরাবরই। কিছুটা লিগ্যাসী থেকে। শৈশবে আমার একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাবা-মা কেবল বায়োলজিকাল জন্ম দিয়ে থাকেন, কিন্তু শিশুর প্রথম শিক্ষক জন্ম দেন তাকে মানুষরূপে। বিরল হলেও আমি আমার সারাজীবনে শ্রেষ্ঠ কিছু শিক্ষককে পেয়েছি শুরু থেকে শেষাবধি। শুধু প্রাজ্ঞতাই নয়, মানবীয় মূল্যবোধেও তারা ছিলেন বিশাল মহীরূহ - শ্রদ্ধাভাজন। ছোটবেলায় যে গল্পটা পড়ে সবচেয়ে বেশী আলোড়িত হয়েছিলাম তার নাম "পন্ডিত মশাই" যার বেতন ইনস্পেক্টরের তেপায়া কুকুরের হারানো পায়ের সমান। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো দেশের ৯০ ভাগ শিশুরা এখনও সেই প্রাগৈতিহাসিক বেতনকাঠামোর প্রাইমারী স্কুলে পড়ে। একসময় যেখানে মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে ভালো শিক্ষকেরা ছিলেন - এখন সেখানে ঠাঁই নিয়েছে কোথাও চাকুরী না জোটাতে পারাদের দল।
গৌতম রায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন। বিডিএডুআর্টিকেল নামে একটা ওয়েবসাইট তৈরী করেছেন। সেখানে প্রতিনিয়ত শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে তাদের নানাবিধ গবেষণা কর্ম প্রকাশিত হয়। সর্বস্তরের শিক্ষা প্রণালী, নতুন কাঠামো গঠন, ভবিষ্যত শিক্ষা-পলিসির নানা খুটিনাটি বিষয় নিয়ে চুলচেরা মূল্যায়ন চলে। ইউএনডিপির এক গবেষণায় দেখেছিলাম দরিদ্র শিশুদের স্কুল ড্রপ আউট ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে - অথচ দেশের সার্বিক শিক্ষার হার নিরূপনে এই ড্রপড শিশুদেরও শিক্ষিত হিসাবে পরিগনিত করে সরকার বেশ আত্মরতিসুখ ভোগ করে থাকে। ঐ রিপোর্টের সামাজিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পদ্ধতির আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা। গৌতম রায়ের ওয়েবসাইটটি এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অগ্রগতি, পর্যালোচনা সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের আলোকে বিশ্লেষন করে থাকে।
গৌতমের সাথে আলাপে শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানিয়েছিল তার ব্যক্তিগত ভালোলাগার কথা। ব্রিলিয়ান্ট ছেলেরা ভাল রেজাল্ট করে এখন শিক্ষক হতে চায় না। তারউপরে শিক্ষা-ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত হতে আগ্রহীর সংখ্যা একদমই হাতেগোনা। গৌতম আমার পূর্ব পরিচিত - তার আগ্রহ ও আত্মনিয়োগ দেখে অবাক হয়েছিলাম। সময় যে পাল্টে যাচ্ছে সেটা ভেবে আশাবাদীও হয়ে উঠি।
এসময়ে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরকে সুবিন্যাস্ত, স্থানীয় সংস্কৃতির আলোকে আধুনিকায়নের এক দুরূহ ও উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনার ফসল রুবেলের "আমাদের পাঠশালা" দেখে মনে হলো গৌতমের কথাই। গৌতম তার ওয়েবে লিখেছে "Knowledge is power ONLY when it is shared" - সত্যিই! আমাদের শক্তির উৎস কত নিকটে। আমাদের পাঠশালা হতে পারে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের জন্য আগ্রহীদের একটা এক্সপেরিমেন্টাল জোন। এটাকে কলেবরে বৃদ্ধি করে তুলতে পারলে আমাদের প্রত্যয় জন্মাতে পারে বৃহৎ পরিসরে এই মডেলের সংস্থাপন। শনিবার এগারোটায় পল্লবীর আমাদের পাঠশালায় একটা আড্ডার ডাক এসেছে পরশু সাদিকের পোস্টে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই।
আমাদের পাঠশালা ও গৌতমের ওয়েবের লিংক
গৌতমের ওয়েব সাইটটির লিংক
গৌতমের ব্লগ সাইটের লিংক
গতরাতে আমাদের পাঠশালা নিয়ে পোস্ট
গতকাল আমার আরেকটা পোস্ট
২০০৯ এর বাংলা বর্ষবরণ পোস্ট
আমাদের পাঠশালার বর্ষবরণ আহবান করে পোস্ট
২০০৮ এর বর্ষবরণের পোস্ট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

