চুদমারানী গালি দেয়ার কাল ঘটা করে কাটিয়েছিল নীলবংশবদ। তল্পার মত পিঠে লেপ্টে থাকা ছাইরঙা ব্যাগের ভেতরে ফুটছে কয়েকটা বুক। ইংরেজী। একটা বই ড্রিম অব মাই ফাদার। সেখানে সংগোপনে লুকায়িত একটা রিসিট। নামকরা একটা উইমেন গার্মেন্ট শপের। এ জার্নাল অব ইউর রিসেন্ট পার্চেজ। একটা নারীর জন্য আন্ডি, একটা স্ম্যাক রেজর আর সিনারজির লোশন টিউব, বালকর্তনের পরে ব্যবহার্য্য। সব মিলে দাম ৯১০টাকা। রিসিটটা ঘুরছিলো বুকে। ইংরেজী ঠাসা বুকে। নীলবংশবদ সেই রিসিট দেখে কালোত্তীর্ণ হলেন। গালিটা দিয়েই বসলেন।
যখন আন্ডির ভেতরে, রেজরের ধারে, লোশনের পলেস্তারে পেলাভিত সুরমার অন্ধকারে কর্তিত হয় নিশিথ কালো বাল তার একটা রূপময় দৃশ্য ফুটে উঠলো নীলবংশবদ রাজ্জাকের। মনে মনে বলে, এইবার রহস্যের গিট খুললো। স্ম্যার্ট কন্ডিশনে রাজ্জাক গালি দিয়ে চারিপাশটা দেখে নেয়। যদিও তার আসন একটা সুনসান বেঞ্চিতে। সামনে পেছনে দুদিকেই ছুটন্ত রাস্তা। মিনিটে শতেক গাড়ি ক্যানভাসটা পেড়িয়ে যায়। সামনের রাস্তার পরে দেয়াল। দেয়ালের পরে বিস্তির্ণ প্রান্তর। ত্রিশ/পয়ত্রিশ বৎসর পেড়ুনো নানান বৃক্ষ। এরপরে খোলা মাঠ। রানওয়ে।
এই বেঞ্চির পেছনে বিলবোর্ডের পিলার। মাথায় ঝুলছে বাহারী বিজ্ঞাপন। রঙ জ্বলে না। রোদে বর্ষায় একই। যে আন্ডি কিনেছে ফাহিম তার ভেতরে এমন হয় না। রোদে, বর্ষায় বাহারি বর্ণ ধরে। রেজরের আয়োজন, লোশনের প্রলেপ - রাজ্জাকের মাথার মধ্যে আগুণ জ্বলে ওঠে। চুদমারানী! এই সদ্য নির্মিত বেঞ্চির চারিপাশে পথচারীরা অনিয়মিত। যাতাকলের মধ্যে পিষতে থাকা দুইধারের হুইসেল, সাই সাই ধেয়ে যাওয়া ট্রান্সপোর্টার।
রাগতে রাগতে রাজ্জাক কাঁপতে থাকে। কম্পিত হাতে মোবাইলের নম্বর চাপে। ফাহিমকে সে চুদমারানী বলবে। সালা বাঞ্চোত নম্বর ঢুকতে এত সময়ের ক্ষেপন - তোর চুতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেবো আস্ত মোবাইল। যতক্ষণ কলটা উড়তে থাকে হাওয়ায় ততক্ষণে অনন্ত নেটওয়ার্কে রাজ্জাকের এমন ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়।
একসময় ফোন জেগে ওঠে। ঐপাশ ফোনের গলায় ঘুমার্ত হ্যালো....
রাজ্জাকের কণ্ঠে সেয়ানী উছলে ওঠে না। একটু আগের রাগও না। ফাহিম হ্যালো বলেই রাজ্জাকের ফোন বুঝতে পারে...বালিশের ভেতরে তখনও রাজ্যের ঘুম, কিন্তু সাতবিয়ানে রাজ্জাকের ফোনে চক্ষু মেলে দুইদিকে পুরাটা খুলে।
কি হইছে রাজ! এত সকালে? রাজ্জাক যেখানে বসে আছে তার থেকে ফাহিমের বেডরুম একদম নিকটে। পেছনের রাস্তার অপরদিকটাতে নভোথিয়েটার, আর তার পেছনের বাড়িতেই ফাহিম থাকে। রাজ্জাকের মনে হলো ফাহিম এই মুহূর্তে রিসিটানুযায়ী ক্রীত কোন নারীর আন্ডি খুলে নির্বাক কল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে - তার মাথার মধ্যে আগুণের লেলিহানা শিখা জ্বলতে থাকে। বেঞ্চি থেকে উঠে দাড়ায়। তুমি কই?
কেন? ঘুমাচ্ছি! কি হইছে তোমার? তুমি কই? ফাহিমের নিশ্চয়ই রিসিটের কথা মনে নেই। তার প্রিয় প্রণয় পুরুষ কিনেছে নারীর আন্ডি আর সেই রিসিট রেখে দিয়েছে ড্রিম অব মাই ফাদারের ভিতরে, তারপরে সুকৌশলে রাজ্জাকের হাতেও তুলে দিয়েছে।
রাজ্জাক বিড় বিড় করে। আমি জানতে চাই, রিসিটের তাৎপর্য্য কি? কেন তুমি এই আন্ডি, রেজর আর লোশন কিনেছো!
নিরুত্তর ফাহিম। রাজ্জাকের ভেতরে জাগতে থাকে পৌরুষ - প্রতিটা বাল উগড়ে ফেলার সুতীব্র আক্রোশ। আবার জিজ্ঞেস করে - কেন কিনেছো? বলো! জবাব দাও!
সাত সকালে রাজ্জাকের জিজ্ঞাষা শুনে ফাহিমের কৌতুক লাগে। গলা চড়িয়ে হাসতে হাসতে বলে, উহ! লাভইউ বাবুল! বুখে আয় - তোমাকে কিভাবে খারিজ করি! এই সব তো তোমার জন্য খরিদ করেছি। জগতের সকলের বাল তুমি কর্তন করবে - কত স্বপ্ন দেখেছিলো তোমার পিতা! ড্রিম অব মাই ফাদারও দিলাম সেজন্য। পড়ো আর বাল কাটো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


