আমার প্রিয় পোস্ট

যন্ত্র হতে হতে এখন অযান্ত্রিক তন্ত্রমন্ত্র ভালো বুঝি

ডাইরেক্ট ফায়ার

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৫৫

শেয়ারঃ
0 0 0

মাঝারী গোছের সন্ত্রাসী। একটা মাত্র খুন করেতে পেরেছে। কমপক্ষে আট/দশটা কেস ফসকে গেছে, কখনও গুলি লেগেছে টার্গেটের গায়ে, কখনও মিস - কিন্তু মৃত্যুদূত হতে পারে নি। ফলে 'একটা খুনের খুনী' এর চেয়ে তাকে বেশী কিছু বলতে পারছে না র‌্যাব-৫১ এর মেজর। কিন্তু সন্ত্রাসী রুস্তুম অনেক বেশী জ্বালাতন করছে ইন্টারোগেশন টিমকে। এখনও শুরু হয়নি। মেজরের রুমে বসে উল্টো এক নাগারে প্রশ্ন করে যাচ্ছে।

স্যার...আপনাদের হাতের টিপস কেমুন? এই প্রশ্নে শুরু হয়েছিলো উৎপাত। মেজর প্রথমে বুঝতে না পেরে সহকর্মীর সাথে সাইট সিলেকশন এ মনযোগ দিল। রুস্তুম বলে চললো, সালার একটা খুন করছি মাত্র...নিশান ঠিক থাকলে দশটা ফালাইতে পারতাম এতদিনে!

সহকর্মী দুই গ্রেড নিচের কর্মকর্তা। মুখের কোনে হাসি ঝোলে। মেজর সাহেবকে বলে, স্যার, শুনছেন সালার কথা! সালারে হাতের টিপস কি এখনই দেখাইয়া দিমুনি!

মেজর সাব এইবার বুঝলেন। গুরু গম্ভীরভাবে বললেন সহকর্মীকে, আপনি আপনার কাজ করেন!

রুস্তুম কিন্তু দমে যাবার পাত্র নয়। বলে, স্যারদের হাতের নিশানা মনে হয় সুবিধার না। আপনাদের ডাইরেক্ট ফায়ারের কোনো খবর তো এখন পর্যন্ত শুনলাম না!

সহকর্মী এবারও হেসে ফেলে। মেজর সাহেব কিন্তু বেঁড়ি বাঁধের দিকে একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছে মানচিত্রে। মার্কার দিয়ে গোল একটা চক্র আঁকে একটা জায়গায়। বলে, এই পুলটার নীচে!

রুস্তুম বলে, স্যার, আমি কিন্তু দৌড়াদুড়ির পাবলিক না। যেইখানে বসাইয়া রাখবেন সেইখানে বইসা থাকমু। আমারে নিয়া কুনু চিন্তা করবেন না। মানচিত্রে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে। ঢাকার মানচিত্র তার মুখস্থ। মেজরের হাতের মার্কারের অবস্থান দেখে বুঝে ফেলে এটা রায়েরবাজারের ঢাল। আবার বলে, স্যার, আমার ওস্তাদের নাম শহিদ, ঐ যে কানা শহিদ - ট্রিপল মার্ডারের আসামী। শ্যামলী জামশেদ ওস্তাদের ওয়ার্কশপে গিয়া চান্নুরে খুঁজলে দেখাইয়া দেবে। তবে স্যার যাইতে হবে ফাউসের কথা কইয়া।

মেজর এবার একটু উৎসাহী হয়। কানা শহিদকে সে অনেকদিন যাবত ধরার চেষ্টা করছে। প্রতিবারই কানের পাশ দিয়ে যায়। চেয়ার থেকে উঠে রুস্তুমের সামনে দাড়ায়। রুস্তুমের হাত-পা খোলা। স্বাভাবিকভাবে বসে আছে। মেজর সাহেব তার সামনে দাড়িয়ে হাতের ছড়িটা রুস্তুমের গলায় ছোঁয়ায়। জিজ্ঞেস করে, ফাউস কি!

রুস্তুম মনে হয় এত মজা জীবনে পায় নাই। হো হো করে হেসে ওঠে। এইটা স্যার বলা যাইবে না! আবার হাসতে থাকে মাথা দুলিয়ে।

মেজরের ছড়ি সপাৎ করে আছড়ে পড়ে রুস্তুমের পিঠে। তারপরও হাসতে থাকে। মেজর দাঁত চিবিয়ে বলে, ফাউস কি! আরো কাটাকাটা শব্দে।

ডান হাতের তালু দিয়ে পিঠের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটাকে মালিশ করার চেষ্টা করতে করতে বলে, স্যার আমারে নেয়া লাগবে না পুলের নিচে। আপনাদের নিশানার কোনো ভরসা নাই। ডাইরেক্ট ফায়ার শুনলাম না একটাও। আর কানা শহীদরে আপনারা ফাউস হইয়া গেলেই ধরতে পারবেন!

মেজর সাহেব এইবার আরো জোরে নামিয়ে আনে চাবুকের মত ছড়িখানি। রুস্তুম চেয়ার থেকে ফ্লোরে গড়িয়ে পড়ে। তবুও তারা হাসি কমছে না। বলে, স্যার আমার কি দোষ! কানা শহীদ পুলাপাইন পছন্দ করে, বুঝতেই পারতেছেন স্যার - সে পুলাপাইনের সাথে ইয়ে করে। আপনারা যদি চান্নুরে গিয়ে বলেন, নতুন ফাউস আছে, তাইলে কানা শহীদ যেইখান থেকে পারে উড়াল দিয়া আসবে! আর স্যার, আপনার শরীরখানা যা বানাইছেন...কাইন্না হালায় দেখলে পুরা পাগল হইয়া যাইবে!

মেজরের কান দিয়ে ধুয়ো বের হচ্ছে। ফ্লোরে আছড়ে পড়া রুস্তুমের উপরে নেমে আসে সপাং সপাং ছড়ির আঘাত। সহকর্মীকে হাক ছেড়ে বলে, রামদলাই টা নিয়ে আসেন তো শরাফত! রামদলাই হচ্ছে তিনইঞ্চি মোটা লোহার ডান্ডা, কাউকে মেরে ফেলতে হলে রামদলাই চালিয়ে থাকে মেজর সাহেব।

রুস্তুম কিন্তু হেসেই চলে। বলে, স্যার মনে হয় আমারে পুলের নীচে নিবেন না! গুড স্যার। কিন্তু রাম দলাই কেন স্যার! কিছু করতে হলে ডাইরেক্ট ফায়ার করেন, এই রুমের মধ্যে করেন, নাকি এইখানেও ক্রসফায়ার হইয়া যাওয়ার ভয় পাইতেছেন স্যার!

রুস্তুমের প্রাণখোলা হাসিতে রুমের মধ্যে মেজর সাহেব বন্য হয়ে ওঠেন। পিস্তল বের করে সোজা তিনটে বুলেট ঢুকিয়ে দেন রুস্তুমের বুকে। মরতে মরতে রুস্তুমের মুখে সেই হাসি আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিড়বিড় করে বলে, মনে রাখিস হারামীর বাচ্চারা, তোদের ডাইরেক্ট-ফায়ার শিখিয়ে গেলাম! কিভাবে বুকে গুলি করতে হয়, পিঠে নয়!

 

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩১
রাজর্ষী বলেছেন: জটিল। আই লাইক দিস।

মনে রাখিস হারামীর বাচ্চারা, তোদের ডাইরেক্ট-ফায়ার শিখিয়ে গেলাম! কিভাবে বুকে গুলি করতে হয়, পিঠে নয়;
২. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩২
অলস ছেলে বলেছেন: মেজাজ কন্ট্রোল করতে না পাইরা মেজর সাব কাজটা ভালু করে নাই। তবে ফায়ার ঠিকই আছে। আপনার বাচ্চাটার খুনী যদি রুস্তম মিয়া হইতো, আপনি তো মিয়া থ্রিনটথ্রির আগায় টেলিস্কোপ বাইন্ধা সেনাকল্যাণের ছাদ থেকে উত্তরা এইচকিউ টার্গেট কর্তেন।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৩

লেখক বলেছেন: ফিল্মের প্রভাব!

৪. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪১
ক-খ-গ বলেছেন:

প্রিয়তে!


ব্যাকআপ রাখতেছি।


স্যালুট!
৫. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
কানুজহির বলেছেন:
অলস ছেলে বলেছেন: মেজাজ কন্ট্রোল করতে না পাইরা মেজর সাব কাজটা ভালু করে নাই। তবে ফায়ার ঠিকই আছে।



ফায়ার ঠিক আছে
৬. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৪
সবাক বলেছেন:
ওস্তাদ...

ফাটাইছেন।

আলমারিতে নিয়া রাখলাম।
৭. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৩
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: সেই রকম হইছে...দারুন। তবে আরেকটু সময় দেওন লাগতো মনে হয়। সোজা শো কেসে।
৮. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৯
পথিক!!!!!!! বলেছেন: সেইরম হৈছে বইলাই হৈছে
৯. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৩
বাকী বিল্লাহ বলেছেন: তুখোড়! বাস্তবিকই রুস্তমের মত দু-একটা কেস পাইলে বাবাদের এনকাউন্টারের শখ মিটে যেত।
১০. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:১২
জামাল ভাস্কর বলেছেন: ফাউস কি এইটা না কইলে কিন্তু আপনের খবর আছে...
১১. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৫
শাহেরীন বলেছেন: অনন্য সাধারন।।
++++++++++++++++

 

মোট সময় লেগেছে ২.৫৫৬৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
যদি প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয় তবে বরঞ্চ তলিয়ে যাবো তিমির সাথে, অতল ঘাসের সাথে, নীরব রাতের সাথে। সময়ের বিভাজনে ক্ষুদ্র প্রতিশোধের...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ