'শেখ হাসিনা কথা রাখছে, জিনিসপত্রের দাম কমছে' এই শিরোনামে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম এ বছরের ১০ই মার্চ। এটা তার ফলো-আপ পোস্ট হতে পারে। কারণ আজকে ৭মাস পরে দেখা যাচ্ছে বাজার দর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগের জায়গায় ফিরে গেছে। তখন মানে সেই তত্ত্বাবধায়কের সময়ে জনগণের বিক্ষুব্ধ হবার কারণ হিসাবে বাজার দরকে অন্যতম বলা হতো। ভোটেও তার প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করা হয়, কিন্তু এখন তেমন বিক্ষুব্ধতা দেখি না। নিঃশব্দে বাজার দর যে বেড়ে গেছে তেমনও নয়। সবই আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে, ঘটছে। প্রতিদিনই আমরা এ নিয়ে কথা বলি, আগেও যেমন বলতাম।
তাহলে জনগণের বিক্ষুব্ধতা হেতু আওয়ামী লীগের পক্ষে জনসমর্থন গমনের যে সরলাঙ্কের কথা আমরা শুনেছি এবং বলেছি সেটাকে আর মানা যাচ্ছে না। বাজার দরে জনগণ রুষ্ট হয়েছে এবং আওয়ামী লীগকে উত্তরণের জন্য ভোট দিয়েছে - এটা একটা জনরোষের কারণ হিসাবে পূর্ব পরিকল্পিত নকশাকৃত। আমি এখন শক্তভাবেই বিশ্বাস করি আমরা মানে জনগণরা আসলে ক্রোধান্বিত হই না, আমরা সবকিছু মেনে নেই। এই দেশে স্বাধীণতা আন্দোলন ছাড়া অন্য কোন রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তণের নিমিত্তে রচিত কোন জনআন্দোলনের সাথে আদৌ জনগণ ছিলো কিনা সে নিয়েই আমার সন্দেহ হয়।
এই সন্দেহের তালিকায় থাকছে সর্বাগ্রে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন। দেশীয় মোড়লদের আধিপত্য ও ক্ষমতায়নের সুবিধার জন্য এই আন্দোলন সংগঠিত হয় যার মধ্যে নিহিত ছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বীজ। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন তদ্রুপ অন্য একটা বর্গীওদের সম্প্রসারণ - যার ফলশ্রুতিতে ধর্মীয় দাঙ্গার স্পষ্টরূপ প্রাপ্তি।
সাতচল্লিশের ভারত বিভাগ সেই ধারাবাহিকতায় কিছু রাজনৈতিক অভিলিপ্সার মধুর পরিসমাপ্তি ঘটায়। মূলত কনফেডারেশনের আওতায় তখন যা অসংখ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে নস্যাত করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বৃটিশ শাষন অবসানের সাথে সাথে অবধারিত ছিল বলে যতটা রাজনৈতিক শুদ্ধতত্ত্বে লিখিত দেখি - সেটাকেই বিশ্বাস করি। তেমন করে হত্যা করা হয়েছে পাঞ্জাব, কাশ্মীর সহ পূর্ব ভারতের অসংখ্য স্বাধীন জাতিস্বত্ত্বাকে।
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পরে জনরোষে প্রতিভাসিত সকল আন্দোলনকে এজন্য আমার কেবলমাত্র কিছু সুবিধাবাদী মানুষের ক্ষমতার দখল বলে মনে হয়। জনগণ এখন পর্যন্ত তার দাবীকে উত্থাপন করেনি এইদেশে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনে- কেবল মাত্র মুগ্ধ হয়েছে কিছু সময়ের জন্য কিছু রাজনীতিবিদদের চটকদার বুলিতে এবং কিছু পরেই তাদের মুগ্ধতা অপসারিত হয়েছে।
বিঃদ্রঃ কানসাটসহ এমন জনদাবীর আন্দোলনকে আমি সত্যিকারের জনআন্দোলন মনে করি, কারণ এর উৎপত্তি হয়েছিল একদম প্রান্ত থেকে। এবিষয়ে কেন্দ্রকেন্দ্রিকতার সাথে রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তনের নিমিত্তে সংগঠিত আন্দোলনের যোগসূত্র স্থাপন সরলীকৃত ভুল হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



