খুব সহজেই এটাকে আপনি বালটাইম বলতে পারেন। আর বিএএল বা বাল - বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় বাল হচ্ছেন তৌফিক এলাহী চৌধুরী। সময় এক ঘন্টা এগিয়ে নিয়ে আসার পেছনে এই বালনেতাই প্রধান মন্ত্রণাদাতা আন্দাজ করি। এক ঘন্টা দিনের আলো যেন আমরা বেশী পাই সেজন্য তিনি যুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু ঐ এক ঘন্টা যে তিনি সকাল থেকে কেটে বিকালে জোড়া দিয়েছেন, সেটা বেমালুল ভুলে গেছেন। অবশ্য সকাল যখন হতো বেশ সকালে মানে পাঁচটা/ছটায় - তখন এক ঘন্টা কেটে নেয়ার ফলে পাবলিকের তেমন ঝামেলা হয় নি।
কিন্তু যখন দিন এলো ছোট হয়ে, তখন সন্ধ্যার সময়ও গেলো ছেটে, দিনটাও শুরু হচ্ছে দেরীতে। ফলে মানুষকে কাজও শুরু করতে হয় দেরীতে। স্কুল কলেজ কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে এক ঘন্টা দেরীতে, আর এখন তো সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারী অফিসের সময়ও পিছিয়েছে এক ঘন্টা।
তারমানে সময় না চেঞ্জ করেও আমরা পূর্বের টাইমে ফিরে যাচ্ছি। এবং এখন আর ঘড়ির কাটা পরিবর্তন না করার মানে হলো - এটা আর ডে লাইট সেভিং না, সমস্ত বছর একই সময় থাকলে প্রকৃতির সাথে পাবলিকও আগের নিয়মে চলতে শুরু করবে। তারমানে আমরা আসলে আগের ডেলাইট রেসিওতেই কামব্যাক করছি।
তবে সামগ্রিকভাবে সময় বারবার চেঞ্জ না করার সরকারী সিদ্ধান্তের ইতিবাচক দিকই বেশী মনে হয়েছে। যেমনঃ
১. বারবার সময় পরিবর্তন ও এডাপটেশন সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হতো;
২. চাকুরীজীবিরা সকালে একটু কম ঘুমালে দেশের কোনো ক্ষতি হবে না, বরঞ্চ পাবলিক একটু দৌড়ের উপরে থাকবে, আগের তুলনায় একটু বেশী পরিশ্রমী হবে, ভুড়ি কমবে;
৩. পাবলিক আগে দিন শুরু করায় দিবাভাগে কাজের পরিধি বাড়বে, কেউ-ই আসলে আগেভাগে ঘরে ফিরতে পারবে না, ফলে রাতে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা কমবে, বিদ্যুত খরচ কম হবে;
৪. দেশের ৮০% মানুষের সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার দরকার হয় না, এবং তাদের ঘড়ি ধরে কাজ করারও প্রয়োজন পড়ে না। তারা ঘুমায়, খায়, কাজে যায় সূর্য দেখে। সকালে সূর্য ওঠার টাইমকে যদি আপনি বলেন ৭টা তাহলে তারা সাতটায় ঘুম থেকে উঠবে, আর যদি বলেন ১০টা তাহলে তারা দশটায় ঘুম থেকে উঠবে। ৭/১০টার কোনো অর্থ নেই তাদের কাছে। সন্ধ্যা যখনই হোক যে টাইমেই হোক সূর্য ডুবলেই তাদের ঘরে ফিরতে হয়। এখন আপনি ঘড়িতে যে টাইমই বাজান না কেন।
বালসরকারের ঘড়ি ধরে এই দেশের বেশীরভাগ মানুষ চলে না বলে নতুন টাইম চেঞ্জ না করলেও এই দেশে কোনো সমস্যা হবার কথা না। মোদ্দা কথা হলো আদৌ কোনো ঘড়ি না থাকলেও এদেশের বেশীরভাগ মানুষের চলতে ফিরতে কোন সমস্যা হয় না। আর সরকারী কর্মকর্তাদের টাইম-টেবিল এতই ভালো যে পৃথিবীতে ঘড়ি বলতে কিছু আছে কিনা তাই মাঝেমাঝে ভুলে যেতে হয়।
তবে হিন্দি দর্শকদের একটু সমস্যা হতে পারে - আগে ইন্ডিয়ার সাথে সময়ের ডিসট্যান্স ছিলো আধঘন্টা, এখন তা দাড়িয়েছে দেড় ঘন্টায়। ওটাও আসলে কোনো সমস্যা না- কদিনে দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


