শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল শুরু হয়েছে তিনচারটে রোড দূরের একটা মসজিদে। সামনে প্যান্ডেল, রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাইক। দুপুর থেকেই সে মাইকে ইসলামী সংগীত পরিবেশিত হচ্ছে। ঘোষক বলছে এখন আপনাদের সামনে ইসলামী গান পরিবেশন করবে শিশু শিল্পী অমুক। কখনও বলছে তওহীদি সংগীত পরিবেশন করবে তমুক। এই সংগীতের কিছু বাংলায়, কিছু উর্দুতে। দেশে এখনও ইসলাম চর্চায় উর্দু ভাষা বেশ ভালোভাবে বিস্তার করে আছে। কেউ কেউ হয়তো মনে করে উর্দু সম্ভবত ইসলামী একটা ভাষা, আরবী হরফ দেখে তেমন ভাবনা কারো জাগতেও পারে। মানুষের কথা আর কি বলবো, আমিও ছোটবেলা তাই মনে করতাম।
সেই সংগীত ও মাহফিল চললো রাত একটা পর্যন্ত। মানে বারো ঘন্টা যাবত ইসলামী সংগীত বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঘোষকরা বেশ কয়েকবার এই শব্দগুলোও বলেছেন মাহফিলকে পরিচয় করিয়ে দিতে। এত দীর্ঘ সময়ব্যাপী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কখনও দেখি নাই। অংশগ্রহণেরও কোনো আগ্রহ নাই। ম্যারাথন এমন বিনোদন বা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা বা লাভজনক কোনো সমাবেশ আনন্দদায়ক হতে পারে না। ধৈর্য্যও থাকার কথা নয়। তবে অবশ্যই কারও আগ্রহ টিকে থাকলে সে থাকতে পারে। কিন্তু যাদের ভালো লাগবে না তাদের এমন অনুষ্ঠান থেকে বেচে থাকার কোনো উপায় নাই। কারণ মাইক লেগেছে আপনার কানের উপরে, সেখানে তারস্বরে চেচানো ঘোষক, বেশীরভাগের সুরহীন বাজে গলায় গীত আল্লাহ ও রাসুল বিষয়ক সংগীত আপনাকে শুনতেই হবে। কোনোভাবে যে আপনি কোনদিকে পালাবেন কোন উপায় নাই। বাজে কোয়ালিটির সাউন্ড স সিস্টেমের কারণে বয়ান/বক্তৃতা/গান যদি কিছু শোনা বা বোঝা যেত ভালোমত তাহলেও না হয় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতো - সারাক্ষণই কেবল ভম ভম একটা ওয়াজ শুনলাম।
বাসার ভেতরে কারো সাথে কথা বলার জো নেই, একদম কানের কাছে মুখ না নিলে শব্দ বোঝা যায় না। ফোনে বা টিভির আওয়াজতো দূরের কথা।
ভাবছিলাম এই যে নাগরিক অত্যাচার এটা কিভাবে প্রতিহত করা যায়? আসলে কি কোনো উপায় আছে? মনে হয় নেই। সবই আল্লাহ রাসুলের নামে হচ্ছে, বিরক্ত হবার কোনো উপায় নাই। কাউকে প্রতিবাদ করতেও দেখলাম না।
কিন্তু যদি বারো ঘন্টা এমন আয়োজনে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ একজন মিউজিসিয়ানের লাইভ গান শোনানো হতো? বারোঘন্টা কি মানুষের সেই গানও শুনতে ভালো লাগতো? অসুস্থ্য মানুষ, বাচ্চাদের পড়াশুনা, বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা, পরিবেশ দূষণ এমন নানাবিধ অভিযোগে সেই আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মত লোকের অভাব হতো না সমাজে।
কিন্তু ইসলামী সংগীতায়োজন বলেই সবকিছু উঠে যায় দায়বদ্ধতার উপরে। যারা শোনে তাদের বিরক্ত হলেও কিছু করার নেই। এই তারস্বরে চেচানো জঘন্য ইসলামী সংগীত আয়োজকদের এ নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে তাদের একটাই জবাব হবে, দ্বীনি কাজ সবার উপরে - সব যুক্তি পরে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



