somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্লাইমেট-ড্রাগন পৃথিবীর চিরপরিচিত প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা গুড়িয়ে দিচ্ছে

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'ন্যাচারাল সিস্টেম' বা 'প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা' বিশ্বভ্রম্মান্ডের এক রহস্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনা। অমিত তেজধারী মানুষ এই প্রাকৃতিক শৃংঙ্খলার বাইরে নয়। তবে মহাবিশ্বে অন্য সকল সৃষ্টি তার নিজস্ব বলয়ের বাইরে তেমন হুমকী সৃষ্টি করতে সক্ষম না হলেও মানুষ এই শৃঙ্খলাকে বিনষ্ট করার মত শক্তি রাখে। সেই সাথে নবসৃষ্টির, পূণনির্মাণেরও।

মানুষ তার বসবাসযোগ্য করে পৃথিবী গড়ে নিয়েছে। গড়তে গিয়ে প্রকৃতিকে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করেছে, ধ্বংষ করেছে। এর কিছু প্রকৃতি অনুমোদন করেছে, কিছু করে নি। যা অনুমোদন করেনি তার সাথে সমাঝোতা করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রকৃতি ও মানুষ - এই দুই পরাশক্তির নিরবিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের মধ্যে মানুষের সভ্যতা গড়ে উঠেছে।

প্রকৃতি যে বিষয়গুলো অনুমোদন করেনি তার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম। ফিরিয়ে দিচ্ছে উল্টো চিত্র। পৃথিবীকে মানুষের বাসের অযোগ্য করে প্রতিশোধ নিচ্ছে প্রকৃতি। যেমন হিরোশিমায় পারমানবিক বোমা বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষ ধ্বংষ করেছিল প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা – ফলে প্রকৃতিও উপহার দিয়েছে যুগের পরে যুগ বিকলাঙ্গ মানুষের জন্ম। ভুপাল, চেরোনবিলেও একই চিত্র দেখেছে মানুষ। প্রকৃতি তার সাম্রাজ্যে রাষ্ট্রসীমা অগ্রাহ্য করে বলে এই প্রতিশোধের শিকার হয়েছে নিরাপরাধ মানুষ। পারমানবিক বোমা বিষ্ফোরণের কয়েক যুগ পরেও যার রেশ কাটেনি।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রকৃতি অনুমোদন করেনি, মূলত আমাদের বসবাসযোগ্য পৃথিবীকে অক্ষুন্ন, অবিকৃত রেখে। পরিবর্তিত হচ্ছে পৃথিবী - প্রভাব পড়েছে এর জল, স্থল ও বায়ুমন্ডলে। মানুষকে পৃথিবী তার নতুন প্রাকৃতিক বিনির্মাণে শৃঙ্খলিত করে ফেলতে উদ্যত। যে অঞ্চলে মানুষ মেরু শীতলতা অভ্যস্ত সেখানে সূচনা হচ্ছে গ্রীষ্মমন্ডলীয় উষ্ণতার।

মোদ্দাকথা, চিরপরিচিত তাপমাত্রা বন্টনের প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত প্রমাণ হাজির করেছেন। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব নিদৃষ্টভাবে এখনই যেসব স্থানে পরিলক্ষিত হয় তার বর্ণনা আছে আইপিসির ৪র্থ এসেমেন্ট রিপোর্ট। বিশাল এই রিপোর্টের দ্বিতীয় খন্ডের একটা অংশের নাম সামারি ফর পলিসিমেকার , [পিডিএফ, ১৬ পৃষ্ঠা, ৯২৪ কেবি, অনায়েসে ডাউনলোড করে নিতে পারেন] যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে - Observational evidence from all continents and most oceans shows that many natural systems are being affected by regional climate changes, particularly temperature increases. উদাহারণসরূপ বলা হয়েছে নিম্নোক্ত গবেষণালব্ধ পর্যবেক্ষণের কথা:

প্রথমত: হিমবাহ বা গ্লেসিয়ার বা পুঞ্জীভূত বরফের স্তুপের ক্ষয়। উঁচু পাহাড়ের শীর্ষে, উত্তর-দক্ষিণ মেরুর বরফাঞ্চলে মাইলের পরে মাইল এমন বিশাল বিশাল বরফের ঘনীভূত আধার ধারণ করে আছে কয়েক মহাসমু্দ্রের জলরাশি। গ্লেসিয়ালিস্ট বা এই হিমবাহ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন যাবত পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন হিমবাহ ক্রমশ গলে যাচ্ছে। গলে যাওয়ার মাত্রা হিসাব করে তারা ভবিষ্যতে কি পরিমাণে গলবে তার একটা ধারণাও করেছেন। (১) এর ফলে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পাবে এবং ইতোমধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি শহরগুলোর, যেমন, নিউইয়র্ক, নিউ অর্লিয়েন্স, আম্সটারডাম, হেগ, ভেনিস, কর্তৃপক্ষ শহর রক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য নানা প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা, নিরীক্ষা শেষে বাস্তবায়নও শুরু করে দিয়েছে। এছাড়া, বরফাচ্ছাদিত পাহাড়ের বরফ গলে নড়বড়ে করে দিচ্ছে ভূ-গঠন ও দৃঢ়তা ফলে ভূমিধ্বসের ঝুঁকি বাড়ছে। এর ফলে সন্নিকটস্থ অঞ্চলের জনবসতি হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে।

দ্বিতীয়ত: মেরুঅঞ্চলে জীব-বৈচিত্রের পরিবর্তন হচ্ছে পরিবর্তিত পরিবেশের কারণে। যা প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে খাদ্যাভাসে। বৃষ্টি ও হিমবাহ নিঃসৃত পানির পরিমাণ বাড়ছে বসন্তের প্রারম্ভে, অনেক অঞ্চলে নদ-নদীর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পানির গূনগত মানের উপরে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া বসন্তে নতুন পত্র-পল্লব প্রস্ফুটিত হওয়া, অতিথি পাখির অভিবাসন বা ডিম ফোটার সময়কালে পরিবর্তন ঘটছে। মেরুঅঞ্চল এবং অমেরুঅঞ্চলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্রে লক্ষণীয় মাত্রায় পরিবর্তন সংগঠিত হয়েছে। উচ্চ-অক্ষাংশের সমুদ্রে সামুদ্রিক জীবানু, শ্যাওলা ও মৎসের মাত্রা ও পরিমাণে পরিবর্তন ঘটছে। সার্বিকভাবে সমুদ্রে এসিডের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকৃতির এই পরিবর্তন পৃথিবীর নানা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ফিজিকাল পরিবর্তনের ইংগিত মাত্র। ভূমি, পানি, উদ্ভিদ, প্রাণী, আলো, বাতাস সর্বত্র এর প্রভাব ক্রমশ স্পষ্টতর হওয়ার সূচনা বলা যায়। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণলব্ধ এসব প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবং প্রধানত পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে। যার কোনটাই মানব বসতির জন্য পৃথিবীকে উপযুক্ত রাখার মত নয়। আবাসযোগ্য করে গড়ে তুলে আমরা এখন এর জলবায়ুকে ধরে রাখতে পারছি না। বরঞ্চ প্রকৃতি নির্ধারণ করে দিচ্ছে আমরা কোথায় বাস করবো এবং কিভাবে বাস করবো।

প্রকৃতির এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এর জন্য কোনো একক রাষ্ট্রকে দায়ী করেও এর সমাধান আশা করা যায় না। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের জন্য আমেরিকা বা উন্নত বিশ্ব দায়ী এমন সরলীকরণেরও বিপক্ষে আমি।

প্রকৃতি যে কারণে পরিবর্তন ঘটাছে আমাদের অবশ্যই সেই কারণটাকে বন্ধ করতে হবে। ইতোমধ্যে যে পরিবর্তনের উপরে আমাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি তার সাথে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এ কথা নিশ্চিত এজন্য বাংলাদেশের চেয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বর অন্য কোথাও শুনতে পাবার কথা নয়। কারণ উপর্যুপরী ঘূর্ণিঝড় সঙ্কুল আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল ও দরিদ্রতা মিলেমিশে যখন সমু্দ্র পৃষ্ঠ বৃদ্ধির সম্মুখীন হবে - তখন এই দেশের মানুষ কোথায় গিয়ে দাড়াবে কল্পনা করা যায় না।

১. ২০৩৫ সালে হিমালয় পর্বতমালার গ্লেসিয়ার ক্ষয়ের একটা সাইন্টিফিক প্রেডিকশনও তারা দিয়েছিলেন যা সম্প্রতি অসত্য তথ্য নির্ভর বলে জানিয়েছেন ইউএন এর ক্লাইমেট প্রধান রাজেন্দ্র পাচৌরী।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৮
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×