যেদিন সকাল বেলা কলে পানি থাকে না, সেদিন আমি অফিসে এসে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করি। যেদিন বাসায় গ্যাস থাকে না সেদিন আমি রেস্তোরায় গিয়ে বসি। আয়েশ করে পরোটা চিবুই। একটা ডিম কাচা কাচা করে ভেজে দিতে বলি। ভেতরে প্রচুর পিয়াজ কুচি আর কাচা মরিচ দিয়ে। নাস্তা সেরে আদুরী ভঙ্গীতে সিগ্রেট ঠোঁটে চেপে টঙের দোকানে পেট উঁচিয়ে একটা চায়ের অর্ডার দেই।
যেদিন বাসায় পানি ও গ্যাস দুটোই থাকে না সেদিন এই পরোটা চিবুনো পর্বটা ব্রেকের পরে সিফট করে। প্রথমে অফিসে এসে দৌড়ে বাথরুমে ঢুকে আরাম করে পেট খালি করতে বসি। একটা সিগ্রেট ধরিয়ে সুগভীর টান দিতে দিতে বেসিনের নিচের কেবিনেট থেকে একটা জটিল ফিলোসফির বই টেনে নেই। যেমন ফেইলড স্টেট অথবা ইগনাইটেড মাইন্ডস। কোনো একটা জটিল শব্দ বা বাক্যে আটকে গেলে কষে এক সিগ্রেটের টান দেই। যেটা লাভ হয় তা হলো কন্সটিপেশন থেকেও মুক্তি পেয়ে যাই সাথে সাথে।
সমস্যা হলো এরপরে আবার বাইরে যেতে হবে। একটা রোস্তোরায় বসতে হবে। এখন সেই আগের মত আয়েশ করা হয়ে ওঠে না। অফিস থেকে ফাকি মেরে বের হতে হয় পরোটা চিবুতে। দুগালে কোনমতে পরোটার টুকরো ঢুকিয়ে দুইপাটি দাত দিয়ে উল্কার বেগে চিবিয়ে অফিসে দৌড়ে ফেরত যেতে হয়।
পানি ও গ্যাসের এই সাড়াশী অপসারণে আমি ব্যাপকমাত্রায় বিপদগ্রস্থ। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার তেমন কোনো চাওয়া নেই। কেবল একটাই দাবী, প্লিজ হয় পানি দিন নয়তো গ্যাস দিন। দুটো একত্রে কেড়ে নেবেন না জনাব!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

