তিনদিন ছুটি এবং বাসা খালি। এই সুবর্ণ সুযোগ আমার কয়েকবছরে জোটে নাই। যখন সুযোগটা এসেই গেলো তখন চটপট পরিকল্পনা করতে বসে গেলাম কি কি করা যায়। একটু ভুল হলো বেশী কিছু করার স্বপ্ন আমি কখনই দেখি নাই, কেবল ভাবতাম, এরকম একটা সুযোগ পেলে আমি ঘুমাবো আর ঘুমাবো। রুটিন করে ঘুমাবো, ভাতঘুম, দুপুরঘুম, বিকাল ঘুম, রাত্র ঘুম। বই পড়তে পড়তে, টিভি দেখতে দেখতে, খেতে খেতে। মানে যেমন ইচ্ছে তেমন ঘুমাবো। পেট ভরে ঘুমাবো। মনে হচ্ছিলো কত বছর ঘুমাই না।
সেজন্য বৃহস্পতিবার রাতে ঘরে ফিরেই আমি একটা নাস্তা টাইপের টিভি ঘুম দিলাম। কি দেখতে বসেছিলাম জানি না। রাত এগারোটায় খেয়ে দিলাম আসল ঘুম মানে ডিনার টাইপের। উঠলাম সকাল সাতটায়। আগে থেকেই প্লান ছিলো আটটার মধ্যে আবার ঘুমাতে হবে, ব্রেকফাস্ট ঘুম। সেজন্য চটজলদি নাস্তা করে, গোছল করে, কাপড় চেঞ্জ করে আবার ঘুমাতে গেলাম। এবার উঠলাম একটায়। এমন নয় যে খুব ভালো ঘুম হয়েছে, বারবার ভেঙেছে, সকল শব্দই মনে হচ্ছিলো কানের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। কিন্তু আমার এক পন, ওঠা যাবে না, পরে থাকতে হবে মরার মত।
দুপুরে ঘুম থেকে উঠলাম একটু আগেভাগে। টিভি দেখলাম, খেলাম, কিন্তু ঘুম সালা আর আসে না। পিঠও মনে হচ্ছিলো ব্যাথা হয়ে গেছে শুয়ে থাকতে থাকতে। কিন্তু নো ওয়ে, আমাকে ঘুমাতেই হবে। টকশো দেখে অতপর ঘুমকে আনতে হলো। তিনটার দিকে ঘুমাতে গেলাম। এবং আশ্চর্যের ব্যাপার সাথে সাথে আমার ঘুম চলে এলো। এই ঘুমটাকে ভাতঘুম বলে। ছোটবেলায় ঘরের সবাই ঘুমাতো। দুপুরে খেয়েদেয়ে না ঘুমানোর কথা চিন্তাও করতে পারতাম না। কিন্তু এখন কল্পনা করতে পারি না - সুযোগই নাই। সেজন্য বহুদিন পরে ভাতঘুম যেন আয়েশ করে ঘুমালাম। উঠলাম সন্ধ্যায়।
তারপরে রাতের ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। টিভি দেখলাম। আর সারাক্ষণ খেলাম। খেতে খেতে যখন বমির মত অবস্থা হলো তখন বিছানায় ঝাপিয়ে পরলাম। পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম মনে হয় আমি রাত৯টায় ঘুমালাম। এবং উঠলাম একটু আগে।
যদিও ঘুমাতে ঘুমাতে সমস্ত শরীর ব্যাথা হয়ে গেছে কিন্তু কোনো উপায় নাই, আজকে দিনটাও আমাকে ঘুমিয়ে কাটাতে হবে। আর আধঘন্টার মধ্যে আমি ঘুমাতে যাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



