যখন সীমান্তে হাবিব নগ্ন - তার দিকে ইশ্বরের ক্যামেরা তাক করা। স্যাটালাইট যেখানে বাস করে, তার থেকেও আরো উপরে সে ক্যামেরার শারিরীক উপস্থিতি।
হাবিবের নগ্ন দেহ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে একটা এসএমএস সেন্ড করলেন ক্যামেরাম্যান। 'এটা গরু নাকি মানুষ?' স্বয়ং ইশ্বরের কাছে তার প্রশ্ন। ডিংডং করে মেসেজ আসার টিউন বেজে উঠতে ইশ্বর সীমান্তের দিকে তার দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। ফেরেশতাদের ক্যামেরা দরকার হলেও ইশ্বরের দরকার হয় না। তিনি সরাসরি দেখতে পারেন, অতীত ও ভবিষ্যতও। কিছুক্ষণ পলকহীন তাকিয়ে থেকেও তিনি বুঝতে সক্ষম হলেন না। ইশ্বরের মতিভ্রম কদাচিৎ ঘটে। বিশেষত যখন তিনি ফেন্সিডিল খেয়ে ভুত হয়ে থাকেন। কিন্তু এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ্য, বেশ কিছুদিন হলো বাদ দিয়েছেন সকল নেশাদ্রব্য।
চোখ কচলে, মূলত ইশ্বরের চোখ বলে কিছু থাকে না, তারপরেও মানুষের দেখাদেখি তিনি অনেক কিছু অভ্যাস করে ফেলেছেন, নিশ্চিত হলেন না, মানুষ নাকি গরু, নগ্ন পায়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বরঞ্চ হাবিব কেনো এভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেটা বোঝার জন্য পেছনের ঘটনা দেখার বাসনা করলেন। তার চোখের সামনে অথবা চোখের মত কোনো ইন্দ্রিয় বা তার সকল অস্তিত্বের সামনে উদ্ভাসিত হলো আগের দৃশ্যাবলী।
হাবিব তখন জামা-কাপড় পরে আছে। পাশে গরুর পাল, সেগুলো নগ্নই। মানুষের কাপড়-পোষাক নিয়ে ইশ্বরের নিজস্ব কোনো পলিসি না থাকলেও এবং মূলত তিনি নগ্নতার সৃজনে নিয়মবদ্ধ হলেও মানুষকে আজ পোষাক ছাড়া নিজেও চিন্তে পারেন না।
ইশ্বরের লিখে এসএমএস পাঠানোর দরকার হয় না। ভয়েস কমান্ডেই তার এসএমএস চলে। ক্যামেরা নিয়ে সজ্জিত ফেরিশতার মোবাইলে উত্তর এলো - 'উহা এক প্রকারের মানুষ, আদিতে উহারা গরুর মতই নগ্ন ছিলো'।
ক্যামেরাম্যান এবার পরবর্তী দৃশ্য তোলার জন্য লেন্সের মধ্যে চোখ লাগিয়ে আতঙ্কে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন। নগ্ন হাবিবের গায়ে চাবুক পড়ছে। তার চিৎকার কোনো অ্যামপ্লিফায়ার ছাড়াই পৌঁছে যাচ্ছে সপ্ত আসমানে। 'কেনো এমন নির্দয় পিটুনি?' ক্যামেরাম্যান আবার মেসেজ পাঠালেন ইশ্বরের কাছ।
ইশ্বরের মোবাইল ডিংডং করে বেজে উঠলো। তিনি আবার দৃষ্টি হানলেন সীমান্তের দিকে। তারপরে ভয়েস কমান্ড পাঠালেন ফেরিশতার কাছে, যিনি ছবি তুলছিলেন - 'উহা এক প্রকার গরু, আদিতে উহারা মানুষের মতই পোষাক পরিধান করতো'!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



