somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুকের উপরে চাপ কমান, বেশী বেশী ব্লগিং খান

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলুর উৎপাদন এতই হয়েছে যে দাম কমতে কমতে শূন্য প্রায়। অথচ চালের দাম আকাশ ছোঁয়া। একটা রাজনৈতিক দলতো ঘোষণা করে বসলো তারা ক্ষমতায় আসলে প্রতি কেজি চালের দাম করবে দশ টাকা। তখন ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ এর জানুয়ারির কোনো একদিন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলো ক্ষমতায়। যেদিন আসলো সেদিন বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বাদ্য বাজিয়ে আসলো। কিছু বাদ্য ব্লগেও পড়লো। সকাল বেলা ব্লগ খুলে দেখি..ব্লগ নাই..একটা নোটিশ ঝুলছে। সে নোটিশে অবশ্য আলু বেশী বেশী খাবার কথা লেখা ছিলো না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরো কিছু বেলা যাওয়ার পরে একজন সেনাপ্রধান আলু খাবার কথা বলেছিলেন। তবে ঐ নোটিশে লেখা ছিলো সরকারী আদেশে ব্লগ আপাতত বন্ধ থাকবে।

আলুপ্রধান যখন সেনা খাবার কথা বললেন তখন মানুষজন অনেক হাসাহাসি করেছিলো। আমার তো দাঁত ধার করে হাসতে হয়েছিলো। তার বক্তব্য ছিলো আলু অনেক স্বাস্থ্যকর, আলু অনেক ভালো চালের চেয়ে, দাম কম, গরীব মানুষেরা তো এটা খেতে পারে। ব্লগ যখন ফের চালু হলো তখন সেই সেনাপ্রধানকে ব্যঙ্গ করে আলুর এমন সব অস্বাভাবিক কোয়ালিটির কথা ব্লগে লেখা হতে থাকলো যে আমাদের দিনরাত আনন্দে কেটে যেতো। ফেসবুক তখন ছিলো না। অনলাইনের যাপন মানে ব্লগই - যেখানে কথা বলা যায়, গল্প করা যায়, আড্ডা মারা যায়। একটা বিশাল ভার্চুয়াল আড্ডা কেন্দ্র বিকাশমান। একদিন ব্লগে না ঢুকলে আমাদের পেটে আলুপ্রধানের অভাব দেখা যায়। কিন্তু পাবলিক তাকে দু:খিত করে দিয়ে ভাতই খেতে থাকলো। বাপদাদা ভাত খেয়েছে, তার বাপদাদা ভাত খেয়েছে, তার বাপদাদাও। চৌদ্দপুরুষের ভেতো মুখের ভেতরে একদিন ভাত না ঢুকিয়ে যদি কেবল আলু ঠুসিয়ে বসে থাকে তবে তাদের পেট ফুলে থাকবে, বহির্নোঙর অঞ্চল বন্ধ করে। পুরো এক সৈন্যবাহিনী কুচকাওয়াজ করেও সে বদ্ধ জানালা খুলতে পারবে না।

তাই আমরা ভাতের উপরে চাপ কমালাম না। বেশী দামে চাল কিনে বেশী আশায় রাজনৈতিক দলটির দিকে তাকিয়ে ফাটিয়ে ভাত গলধ:করণ করতে থাকলাম। কিন্তু সেনাপ্রধান এতে দমে যাবার পাত্র নয়, তিনি আলুতেই জাতির মুক্তি দেখতে থাকলেন। এবং একসময় হজমও হয়ে গেলেন।

আজকে সেই দশ টাকার চালের স্বপ্ন দেখা রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতায়। অথচ তারাও বললো, ফেসবুকের উপরে চাপ কমান, বেশী বেশী আলু খান!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪৬
২২টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলজিয়ামের পথে ঘুরাঘুরি

লিখেছেন ফেরদৌসা রুহী, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ ভোর ৬:৩৬



হাতে যেহেতু সেনজেন ভিসা আছে তাই যতটুকু পারা যায় ঘুরে নেওয়ায় ভালো। আমাদের প্ল্যানে বেলজিয়াম ঘুরা ছিলোনা, কিন্তু হাতে আরো একদিন সময় আছে তাই ট্যুর অফিসে গিয়ে বেলজিয়ামের ব্রুজেস... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপেক্ষিতার সম্ভ্রম

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৭

ফুলের দোকানে সেদিন খুব ভিড় ছিল,
ফুলপ্রেমী ক্রেতাদের আনন্দোচ্ছ্বাস ছিল।

সুশোভিত, সুঘ্রাণ, সতেজ ফুলের মাঝে
পেছন সারিতে ছিল এক বাসি ফুল লাজে।

কারো কারো দৃষ্টি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দাওয়াত খাওয়া এবং কিছু রিয়েল টাইম অভিজ্ঞতা

লিখেছেন পয়গম্বর, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:২৫

একটু আগে একটা দাওয়াত থেকে ফিরলাম। দাওয়াতের উদ্দেশ্য সুইট সিক্সটিন। অর্থাৎ, যিনি দাওয়াত দিয়েছেন, তাঁর মেয়ের বয়স ষোল বছর পূর্ণ হলো। মেয়ের জন্যে ষোলতলা কেক বানানো হয়েছে। ডমপেনের কেক। খুবই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রামের ভ্রমন

লিখেছেন নূর-ই-হাফসা, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৩

.

শীতের এই সময়টা বলা চলে ডিসেম্বর মাস এলেই আমার আনন্দ আর ধরে রাখা যেতো না । স্কুলে পড়া কালীন বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়া মানেই গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাচ কা সামনা

লিখেছেন কি করি আজ ভেবে না পাই, ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৫



আজ থেকে বিশ বছর পরের কথা, গেমু বিয়ে থা করে থিতু হয়েছে, ১২/১৪ বছরের একটা সদ্য বখে যাওয়া(গেমু যথা) পুত্রধনও আছে। গেমু এখন পুরাই ভালো লোক। টোটো কোম্পানির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×