somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... দেলোয়ারাকে ফতোয়াবাজদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সোচ্চার হউন
কিন্তু সম্পত্তি গ্রাস করতে উদ্যত আত্মীয়স্বজন ধর্মীয় ও লৌকিকতার ধুয়ো তুলো দেলোয়ারার জীবন দুর্বিসহ করে ফেলেছে। শাস্তির আয়োজন হয়েছে। সাধারণত এমন সব খবর আমরা শুনে থাকি ঘটনা ঘটার পরে। দেলোয়ারার খবর একদম টাটকা। ব্লগার অনৃন্য সমকাল থেকে উদ্ধৃতি করেছে ব্লগে। আগামীকাল জুম্মার পরে কাজিতলা গ্রামের প্রাইমারী স্কুল মাঠে মোল্লাদের ফতোয়া অনুযায়ী দোররা মারার আয়োজন চলছে। জায়গাটি কুমিল্লার মুরাদনগরে। দারোয়া ইউনিয়নের একটা গ্রাম কাজিতলা বা কাজিয়াতল।

এই নিষ্ঠুর নির্যাতন সংগঠিত হতে দেয়া যায় না। মোল্লাদের ফতোয়া কিভাবে নিগৃহিত করছে গ্রামাঞ্চলের বিধবা ও নারীদের তার জ্বলন্ত প্রমান রাখা জরুরী। প্রশাসন হস্তক্ষেপ করলে তো ভাল নইলে আরো একটা রোমহর্ষক বিভৎসতার নজির স্থাপিত হবে। আমাদের দেশে প্রশাসনতো সব সময় ঘটনা ঘটার পরে গিয়ে উপস্থিত হয়। অথবা তাদের লেজ ধরে না টানলে সাধারণত টনক নড়ে না।

অনৃন্য জানালেন তার পরিচিত একজনকে তিনি পাঠিয়েছেন ঘটনা যাচাইয়ের জন্য। যদি সত্যি সত্যি এমন আয়োজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে তবে আমি আগামীকাল কাজীতলা যেতে চাই। আপনাদেরও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। চলুন নারকীয় পাষবিকতা ঘটে যাবার আগেই তাকে প্রতিহত করি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835919 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835919 2008-08-28 14:23:22
নিজের গায়ে আগুণ জ্বালাইয়া আত্মাহুতি দিয়া মানুষ কেন প্রতিবাদ করে?
গতকালকে টের পাইলাম। বুঝিলাম। মাঝেমাঝে মানুষের আত্মাহুতির প্রতিবাদ জরুরী হইয়া পড়ে। সন্ধ্যার সময় বাসায় ফিইরা সোগাটা কিছুতে স্থাপন করার আগেই কারেন্ট চইলা গেলো। হাগা, মুতা সব বন্ধ। চেগাইয়া বইয়া রইলাম। ঘন্টাখানেক পরে কারেন্ট আইলো। কিছু নাস্তা-পানি খাইয়া রিমোটটা অন কইরা কেয়ারটেকারগো খেইল দেখতে দেখতেই আবার কারেন্টের খেইল দেখলাম। ঘন্টাখানেও হয় নাই, বালডা আবার গেল। এইবার কুহাল দিয়া কানতে ইচ্ছে করলো।

আবার ভোদাইর মত ঘন্টাখানেক বইয়া রইলাম। বালডা আইতেই ঝটপট খাইয়া লইলাম। ভাবলাম দুইবার ঠাপানির পরে আইজ রাইতে আর মন হয় ঝামেলা করবে না। কিন্তু কোন বালের কি? কম্পিউটারটা সামনে এই কথাগুলা লেখার জন্যই বইলাম, আর অমনি গেল।

তিনবার! পাঁচঘন্টায় তিনবার গেল, তিন ঘন্টাই অন্ধকারে। কোথাও কওয়ার কোন জায়গা নাই। প্রতিবাদ করমু কার কাছে? ভেক কইরা বইসা থাকলাম। কারেন্ট আইলো। কম্পিউটার ছাড়লাম। কিন্তু ইন্টারনেট নাই। রাইত তখন বারোটা। ফোন করলাম প্রোভাইডারের কাছে। কইলো, তাদের ঐ জায়াগায় কারেন্ট নাই।

ইচ্ছে হইতেছিল রাস্তার মোড়ে দাড়াইয়া নিজের গায়ে কেরোসিন দিয়া আগুণ জ্বালাইয়া আত্মাহুতি দেই। সালার একটা বালস্য জীবন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835867 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835867 2008-08-28 11:50:57
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৩)
আসলে টাপুরের মা'র সাধ হয়েছে আমাকে কিছু রান্না করে খাওয়াবে। আলু-সেদ্ধ করে পোড়া-মরিচ দিয়ে ভর্তা বানাবে। ঝোল ঝোল মাছ, মুরগী রান্না করবে। এপার্টমেন্টের রেস্টুরেন্টগুলোতে সব ড্রাই আর ফ্রাই। একবার সেই ত্রিশ বছর আগে টাপুরের মা আমাকে আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাইয়েছিল, সেই স্বাদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা বলা যায়।

আজকে সারাদিন কিচেন রুমের ডেকোরেশন হলো। যে দুটো ছেলে কাজ করছে তাদের রাজ্যের প্রশ্ন। আপনারা কি রেষ্টুরেন্ট চালু করছেন? বেশ তো! ঘরোয়া পরিবেশে তারাও খেয়ে যাবে এমন আবদারও করে যাচ্ছে। টাপুরের মা অচেতন বলে আমার সামলাতে হচ্ছে সব। আরো তিনঘন্টা তার ঔষধের কার্যকারিতা থাকবে। এই সুযোগে আমি বহুদিন পরে সিক্রেট টিভি খুলে বসেছি। এই চ্যানেলটা বেশ মজার। একটা পরিবারের সব সদস্যের কার্যবিধি ধারণ করা হয় গোপনে। বেডরুম থেকে বাথরুম সর্বত্রই ক্যামেরা, একদম আনকাট পাবলিকেশন। আই লাভ সিক্রেট টিভি! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835565 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835565 2008-08-27 13:21:01
বিনয় সরূপরা আর্থনৈতিক সূচক দেখায় না সুঁই ফুটায় বাঙালির পাছায় - কলিগ
নাম শুইনা তো মনে হয় ইন্ডিয়ান, সিটিজেনশীপ আম্রিকার হইতে পারে। কইলাম স্বল্পজ্ঞানে।

সালায় একটা পাঠা! বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদকে একেবারে ছাগুরাম গোত্রের অন্তর্ভূক্তিতে আমি অবাক হইলাম। কলিগ জিগায়, আপনি আমারে কন, জিনিসপত্রের দাম গত দুইবছরে বাড়ছে কি বাড়ে নাই!

বাড়ছে, কইলাম।

আপনার বেতন কি বাড়ছে নাকি বেতন দিতে অফিস হিমশিম খাইতেছে? আবার জিগায়।

কি যেন কন, বাড়াইবো আবার! এই বেতনই দিতে পারে না!

কলিগ এইবার পাইয়া বসে। ঐ হালার অর্থনীতির ক্ষেতা পুড়ি। সালারে একটা থাবড়া মাইরা র‌্যাংগসভবনে লেবারী করতে দেয়া উচিত। জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে আর ওদিকে আয় বাড়ে নাই - এরমধ্যে যে দারিদ্রের হার ২% কমতে পারে না - এইটা আমগো ম্যাংগো কোম্পানীর একটা শ্রমিকও মুহূর্তে প্রমান করতে পারবে। ঐ হালারা সূচক না নিত্য সুঁই ফুটাইতেছে আমগো পাছায়! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835466 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835466 2008-08-27 09:30:21
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি অশ্রদ্ধা জন্মিছে বিপন্ন বোধ করি নিজের অস্তিত্বে
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি অশ্রদ্ধা জন্মায়
মরে যায় নিজের ভোটার হবার খায়েশ

সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে এই যে তোমার শরীর, রাষ্ট্র
তার প্রতি পদে কেবল স্তুতি আর প্রশস্তি
নির্বাচনে আমার ভিন্নমতের প্রতি অশ্রদ্ধা জাগায়
সকলে ভোট দিলে আমার ভোটের জায়গা কোথায়?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835062 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28835062 2008-08-26 09:44:33
নানী ও আর সেই ছোটবেলার শোলোক
আজকে কয়েকটা শোলোক শুনালো। ঘুমের ঔষধ খেয়ে। শোনাতে শোনাতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেই জানে না।

১. হাতুর বাটল বাইশখান, চোরে নিলে তিনখান, হাতে থাকে কয়টা?

২. শিশুকালের কথা, একশ তেতুল গাছে, কয়শ পাতা?

৩. ঘরের মাঝে ঘর, কোনদিকে দুয়ার?

৪. এক থাল সুপারী, গোনতে পারে কোন ব্যাপারী?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834952 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834952 2008-08-25 23:27:33
মিরর ফ্যাটিগ
বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে, গোপনে সংগবদ্ধ হয়েছে কিছু উগ্রাবাদীও। বোমা মেরে উড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা চলছে একটা রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে।

কেন এই স্ক্রিনের পিছনে লোকজন ক্ষেপেছে? জটিল মনোভূমিক জাগরণ বলা চলে। ক্ষোভের প্রতিকী লক্ষ্য। শাষকের সাথে জনগনের সেতুবন্ধন তৈরী করার অন্যতম এক হাতিয়ার এই স্ক্রীন থেকে দিবারাত্র ধ্বনিত হতে থাকে স্বপ্ন আর স্বপ্নের বার্তা। কনভিনসিং আর্টের হৃদয়গ্রাহী পাটে মোহিত পাবলিক নেশাক্ত হয়ে পড়ে। ছুটে আসে এই স্ক্রীনের তলে। হা করে গিলতে থাকে দিন বদলের কথা। গাড়ী চাপা পড়ে রক্তে ভেসে যায় রাজপথ কিন্তু নেশাক্ত জনগনের বিবশ শরীর স্ক্রীনের প্রাঙ্গন ছেড়ে যেতে চায় না।

কিছুদিন পরে ভুল ভাঙে। অসারের মত জনগণ বিধ্বস্থ হয়, স্বপ্নের সোপানে রঙ নেই, পুঞ্জিভূত দ্রোহ নিয়ে আবার ফিরে আসে স্ক্রীনের পাদতলে। এইবার আরো দুর্দান্ত মাল্টিমিডিয়া প্রজেকশন - দর্শকের হৃদয়ের প্রতিধ্বনি হতে থাকে এই স্ক্রীনের সর্বাঙ্গে। আবারো নেশাক্ত হয়, ভুলে যায় মুহূর্তকাল আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ।

পৌনঃপুনিক এই দৃশ্যায়নে একসময়ে বিরক্ত হয়ে ওঠে দর্শক, পথচারী, হাসপাতালের দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তের পার্শ্বচর, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক। সরকারের স্বপ্ন দেখানোর মিশন এক নিষ্প্রান বিজ্ঞাপনের মত পতিত হয়ে পড়ে, তার সুমধুর কণ্ঠের, উৎকৃষ্ঠ ফিল্মোগ্রাফীর চিত্রায়ন মানুষের সাথে নিয়ত ব্যঙ্গ করে।

একসময় ফুঁসে ওঠে এই অদ্ভুত চিত্রকল্পের ভোক্তারা। আগস্টের কোন একদিন তারা সমবেত হবার পরিকল্পনা করে শাহবাগ চত্বরে। সরকারও প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে চুড়ান্ত প্রতিরোধের। শেরাটন, কাঁটাবন, টিএসসি আর শিশুপার্কের সামনে বসে সামরিক ডগ নিয়ে দাঙ্গা পুলিশের ব্যরিকেড। যৌথ বাহিনীর মত পঞ্চম বাহিনী হিসাবে টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা উঠে পড়ে বারডেম আর পিজির ছাদে। আকাশে বায়ুযানের টহল।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেকশন স্ক্রীনের সুরক্ষায় তখন অতি দক্ষ একদল প্রকৌশলী কাজ করে যাচ্ছে। চারদিকে বসেছে ইলেকট্রিফায়েড ওয়াল আর এর ভেতরে সামরিক ডগ। প্রশিক্ষিত কমান্ডোদের হিউম্যান ওয়াল। মাল্টিমিডিয়া স্ক্রীনে চলছে দেশের গান।

সমবেত জনতা শ্রেণী, পেশা নির্বিবাদে ফুঁসতে থাকে বেরিকেডের সম্মুখে। একসময় ভাঙতে উদ্যত হয়। দাঙ্গা পুলিশ নির্বিকার দাড়িয়ে থাকে। চমকিত জনতা অবাক হয়ে দেখে পুলিশ সরে দাড়ানো। মুহূর্তে চারদিক থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ। জাদুঘর, বারডেম আর পিজির চত্বর বিক্ষুব্ধ জনতার গর্জনে টালমাতাল।

কিন্তু বিশাল মাল্টিস্ক্রিনের সামনে এসে লোকজন বিষ্মিত। রক্ষাব্যুহের ওপারে সামরিক ডগ নিয়ে কমান্ডোদের হাসিহাসি মুখ। অগ্রসৈনিক কয়েকজন যুবক আছড়ে পরে ইলেক্ট্রিফায়েড ওয়ালে। মুহূর্তে জীবন্ত ফসিল হয়ে যায়।

সেই বিভৎস দৃশ্য দেখে স্লোগানে গগণ বিদীর্ণ করে তোলে সমবেত জনতা। মাল্টিস্ক্রীনকে ধ্বংষ করা দুরূহ বলে প্রতীয়মান হতে থাকে। সুললিত প্রজেকশনে শৈল্পিক প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপনগুলো কুৎসিত হয়ে ওঠে প্রতিবাদমুখরদের স্লোগানে।

কিন্তু অনড় দাড়িয়ে থাকে মাল্টিস্ক্রিন। অটুটু থাকে জনতার মনোবলও। ঘন্টা পেড়ুতে থাকে। টহলরত কপ্টারের ঘূর্ণয়মান নজরদারীতে মাল্টিস্ক্রীন ধ্বংষের হুমকি বিপদজনক মনে হয় না। ইলেকট্রিফায়েড ওয়ালে ঝুলতে থাকা কযেকটা স্থিরচিত্র ঘিরে মাল্টিস্ক্রীনের সরকারী মুখপাত্র তখনও সুশীল সম্প্রচারে ব্যস্ত।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই জনগণ এবার শেষবারের প্রতি আঘাত হানতে প্রস্তুতি নেয়। চারিপাশের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে দেয়। ইলকট্রিফায়েড ওয়ালের কার্যকারীতা ক্ষুন্ন হলে সামরিক ডগদের লকলকে জিভ বেড়িয়ে আসে। ফাঁদে পড়ে অস্ত্র বাগিয়ে ধরে। জনতা নিকটবর্তী হলে গুলি ছোড়ে। রাজপথে রক্তিম আলপনা আঁকা হতে থাকে।

বুলেটের আঘাতে ছত্রভঙ্গ জনতা পিছু হটে। কয়েকটা লাশের উপরে সরকারী বিজ্ঞাপনের সুললিত কণ্ঠ গেয়ে ওঠে উন্নয়নের গান।

আন্দোলন স্থিমিত হয়ে পড়ে আপাতত। মৃত্যুভয়ে আচ্ছন্ন প্রতিবাদকারীরা পিছু হটতে থাকে। একসময় শাহবাগ চত্বর খালি হয়ে যায়। পড়ে থাকা লাশ আর সামরিক ডগ পাহারা দেয় পরস্পরকে।

গভীর রাতে সুনসান মাল্টিস্ক্রীনের চারিপাশে সরকারী প্রমোদসভা বসেছে। বিশাল সাফল্য হিসাবে ট্রাজিক কয়েকটা প্রানহানীর জন্য সরকারী শোক প্রচারিত হচ্ছে মাল্টিস্ক্রীনে। সরকার যন্ত্রখানি কার্যকর রাখতে সামরিক ডগ আর কমান্ডোদের স্মরণ করা হয় বিদগ্ধচিত্তে।

শাষনকর্তাদের স্ফুর্তির ঢেকুর তোলা রাতে মাল্টিস্ক্রীনের চারিপাশে সমবেত বিজয়ীরা বিশাল পর্দায় চোখ রেখে সোনালী ভবিষ্যতের ছায়াচিত্র দেখতে থাকে। যথার্থ রূপায়নে তখনই জমে যায় স্ক্রিপ্ট বিহীন নাটকীয়তা। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে কোথাও মেলে না এর কারণ। কোন ষড়যন্ত্র আর নাশকতার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না সরকারী বিজ্ঞাপনের খসড়ায়, আন্দোলনের নথিপত্রে।

বিক্ষুব্ধ জনতাকে সফলভাবে প্রতিহতকারীদের চোখের সামনে আপনাআপনি নীরবেই ভেঙে পড়ে বিশাল মাল্টিমিডিয়া স্ক্রিন। বিক্ষুব্ধ, হতাশ জনতা তখন নিজেদের ঘরে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল।

* এই গল্পের নামের কৃতিত্ব ব্লগার সৃজনের। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834640 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834640 2008-08-25 10:00:46
আই য়্যাম এবাউট টু পোক ইউ!
তারে জানাইলাম যে ঐ সত্তর জনের একজনরেও আমি চিনি না! যাইহোক ফেসবুকে আমি মুলত কোন ফ্রেন্ড তৈরীর জন্য যাই নাই। আমার টার্গেট ৫ হাজার সীমা পর্যন্ত ফ্রেন্ড বানানো। তারপর একটা ব্লগ লিইখা সবাইরে পাঠাইয়া দিমু। কমপক্ষে একশ জন পড়লেও আমার ব্লগের হিট এমনিতেই ১০০ ছাড়াইয়া যাইবে। এই গভীর ষড়যন্ত্রের নিমিত্তে আমার ফেসবুকে আগমন।

কিন্তু ইদানিং একটা বিষয়ে বড়ই মজা লভিতেছি। উহা হচ্ছে পোক। দেখলাম একজন আমাকে পোক দিল। ভাবলাম হয়তো ঘুতা টুতা জাতিয় অর্থ হবে। সেখানে একটা অফসন আছে পোক ব্যাক। সুযোগ কে ছাড়ে, আমিও দিলাম এক ঘুতা!

পরে ভাবলাম খুবই ভাল জিনিস। একটু অর্থ তালাশ করি। খুইজা দেখলাম গুগল ডিফাইনের একজায়াগায় লেখা a bag or sack of gold। তারমানে সে আমারে সোনা দিছে! যদি সোনা দিয়াই থাকে তাইলে তা কই!

এরপরে বুঝলাম এই স্বর্ন ফাউ স্বর্ন। যত ইচ্ছা দেওয়া যায়। আর যায় কোথায়! আমি এখন আমার সব বন্ধুদের পোকাইতেছি। মোটামুটি ঘুতাঘুতির এক মহোৎসোব শুরু হইছে আমার ফেইসবুকে।

আপনাদের সবাইকে একটু পোকাইয়া গেলাম! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834286 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834286 2008-08-24 12:57:19
রাস্তায় ঘুমানো ছিন্নমূলদের জন্য নির্মিত হলো "রাত্রিনিবাস" - অভিনব, দুর্দান্ত, কিন্তু.... ভাসমান কর্মজীবিদের রাত্রিকালিন অবস্থানের জায়গা।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রায় চার হাজার স্কয়ারফিটের একটা ঘর উঠিয়েছে মিরপুরে। প্রায় দেড়শো মানুষ সেখানে চিতকাত হতে পারবে।

১৫ জুলাই উক্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব উদ্বোধন করে গেছে এবং ছিন্নমুলদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ২২শে জুলাই। অবশ্য সেদিন রাতে কোন অতিথি এখানে থাকতে আসে নি।

ভেতরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ফ্লোর, উপরে টিন, এমনকি ফ্যানও আছে। আহসানিয়া মিশনের পরিচালনায় এখানে একটা বালিশ ও মাদুর দেয়া হয়। রাত ৮টার পর থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত মাত্র ৩টাকায় এখানে থাকতে পারে যেকোন নিম্নআয়ের মানুষ। তবে একসাথে তিনদিনের বেশী নয়। একদিন পরে আবার তিনদিন থাকতে পারবে। এটা একদম পুরুষদের জন্য। নারীদের এখানে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।

কিন্তু এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ জন এখানে ছিল। এদের মধ্যে রিকশা চালক, খন্ডকালিন মজুরী খাটা লোকজন, এমনকি গ্রামের ছাত্র, শহরে রিকশাচালক এমন লোকজন বেশী।

ভবিষ্যতে এই সিলিং এ আরেকটা ফলস ছাদ তৈরী করে টিউবলাইট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এখন মশারী না দেয়া হলেও ভবিষ্যতে নাকি তারও ব্যবস্থা করা হবে।

রাত্রিনিবাস কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য তিনজন কর্মচারী এখানেই থাকে। সুপারভাইজার মুস্তাফিজুর রহমান দারুন আশাবাদী, ক্রমশ এই জায়গাটা গৃহহীনদের অবলম্বন হয়ে উঠবে হয়তো।

রাত্রি নিবাসে ক্রমশ কিছু নিয়ম-কানুন তৈরী হচ্ছে। অনাহুত পরিস্থিতির উদ্ভব এড়াতে সতর্কবানী উচ্চারণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে এর মধ্যে।

এমন একটা রেজিস্ট্রি খাতা মেনটেন করা হয়। যেখানে লিপিবদ্ধ থাকে নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশা। স্বাক্ষর করতে হয়। ইন্টারেস্টিং হলো নাম স্বাক্ষর করতে পারে না এমন একটা দৃষ্টান্ত আমি সেখানে খুঁজে পেলাম না। কয়েকজন নাম লিখেছে ইংরেজিতে।

গ্যাসের একটা লাইন থাকলে কর্মচারীরা সম্ভবত বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করতো না।

একটা সিকিউরিটি কোম্পানী থেকে আহসানিয়া দুজন গার্ড নিয়েছে। শামীম তাদের মধ্যে একজন। এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পাশ করতে আশাবাদী।

সুপারভাইজার মুস্তাফিজুর রহমান। ইতোমধ্যে এই জায়গাটায় মেয়ে নিয়ে এসে ফটকাবাজী করতে দেবার আব্দার পেয়েছে এলাকার নেতা-পাতি নেতাদের কাছ থেকে। ভাল টাকা-পয়সা দেবার অফার দিয়েছে। সারাদিন পরে থাকে বিরান। কয়েকজন জুয়া খেলতে চেয়ে স্পেস চেয়েছে। মুস্তাফিজ আশাবাদী, এমন সে কিছুতেই হতে দেবে না! সহব্লগার সৃজন সন্দেহ প্রকাশ করেছে, সামনের দিনগুলোতে এই নীতি ঠিক রাখা হয়তো সম্ভব হবে না।

ব্লগার অন্যমনস্ক শরৎ আর সৃজন রাত্রে থাকার সম্ভাবনা যাচাই করছে <img src=" style="border:0;" />

আব্দুস সাত্তার ঢাকা এসেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে। আত্মীয়র বাসায় থাকার সমস্যার কারণে এখানে থাকছেন তিনটাকার বিনিময়ে।

ভবন সংলগ্ন টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে।

রাত্রিনিবাসের প্রবেশ পথ।

গেট পেরুলেই চিত্রটা এমন।


আহসানিয়া মিশনের সেলিম রেজা এই পুরো প্রজেক্টটা দেখছেন। সম্ভবত উনি প্রোগ্রাম অফিসার। যোগাযোগের জন্য একটা নম্বর পাওয়া গেছে - ৯১২৩৪০২। আমি মুস্তাফিজকে জিজ্ঞেস করলাম, লোকজনকে আপনারা জানাচ্ছেন কিভাবে। মুস্তাফিজ বললো, স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন জায়গাতে যেখানে ছিন্নমুল মানুষ রাস্তার উপরে ঘুমায় সেখানে গিয়ে সে কয়েকদিন বলেছে। কিন্তু রেসপন্স তেমন ভাল না। একমাস হয়ে গেলো এখনও মাত্র ১০/১২ জন এখানে তিনটাকা দিয়ে থাকতে আসে। অথচ ঢাকা শহরে কয়েকহাজার ছিন্নমুল প্রতিদিন রাতে রাস্তায় ঘুমায়।

সরকারী অর্থায়নে নির্মিত এমন একটা স্থাপনার সাথে সমাজ কল্যান অধিদপ্তর সম্পৃক্ত নয় কেন, বুঝতে পারছি না। পরিচালনায় একটা বেসরকারী সংস্থা আহসানিয়া মিশনও বা কেন তাও স্পষ্ট নয়। একটা এস্টাবলিশমেন্ট দেখিয়ে ডোনারদের নিকট থেকে বৃহৎ কন্ট্রিবিউশন বাগানো আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমন একটা স্থাপনা ওয়ার্ডভিত্তিক তৈরী হওয়া কোন ব্যাপারই না। প্রত্যেক কমিশনার উদ্যোগ নিলে এমন নিশিযাপন কেন্দ্র হতে পারে এক মাসের মধ্যে একশ। যেখানে রাত্রে মাথা গোজার ঠাই পেতে পারে ঢাকার সব ছিন্নমুল। কিন্তু এই নিশিযাপন কেন্দ্রটি নিয়ে আহসানিয়া মিশনের প্রচারণা ও পরিচালনা একদমই যাচ্ছে তাই।

অনতিবিলম্বে এমন একটা চমৎকার আয়োজনকে ছিন্নমুলদের ব্যবহার-ঘনিষ্ঠ করে গড়ে তোলার আহবান জানাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834178 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28834178 2008-08-24 01:54:20
স্কেলিটন শপ
সেদিনও রমিজ আলী বসে ছিল তার এক রুমের অফিস ঘরে। রহমত টেলিফোনে কারো সাথে কথা বলছে। হ্যা, অফিসের লোকেশন একদম সোজা। কাওরান বাজার আন্ডার পাসটা দিয়ে উঠলেই দেখবেন "সেল ইউর স্কেলিটন" এর বড় একটা সাইনবোর্ড। মার্কেটে ঢুকে গেলে একদম শেষ রুমটা আমাদের অফিস।

রমিজ আস্তে বলে, তারে বল, না এসে সে ফোনেই অর্ডার দিতে পারে! রহমত টেলিফোনে হাত চেপে রমিজের কথা শুনে বলে, উনি লোক পাঠাবে, আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেৎ!

রমিজের চোখ চিকচিক করে। কয়েকদিন পর্যন্ত বাণিজ্য তেমন জমছে না। লাশগুলোর কংকালেও দুর্ভিক্ষ লেগেছে। মনে হয় হাড্ডিগুলোও চুপসানো। অভিজাত মানুষের কবরগুলো রাতারাতি দুর্গ হয়ে ওঠে। সিমেন্ট আর লোহার খাচায় পাহারা। রমিজের কপালে জোটে আজিমপুরের একই গর্তে শ খানেক লাশ চাপ দেয়া মানুষেরা। গোরস্থানের কর্তৃপক্ষের সাথে রমিজের দহরম মহরম। বাংলা মদ গিলে প্রফিট ভাগাভাগি করে মাসান্তে।

অনেক দিন যাবত লালিত একটা ইচ্ছে রমিজের। কিছু নাদুস নুদুস সুখী, অভিজাত মানুষের কংকাল সংগ্রহ করবে। ঢাকা মেডিকেলের একজন জাদরেল প্রফেসার টোপ দিয়েছে কয়েক মাস আগে। বলেছিল, কিছুদিনের মধ্যেই তার একজন ধনী সুখী মানুষের কংকাল লাগবে। বিনিময়ে দুই লাখ টাকা। সে কথা মনে হতেই রহমতকে বলে, জিগা তো নাম কি ওনার?

রহমত জিজ্ঞেস করে, স্যার আপনার নামটা একটু বলবেন? রহমত নাম শুনে রমিজকে বলে, ওস্তাদ - প্রফেসর এজাজ উদ্দিন চৌধুরী। রমিজ লাফ দিয়ে উঠে নিমিষেই পৌঁছে যায় রহমতের সামনে। থাবা মেরে ফোন ধরে বলে, স্যার আপনারেই আমি মনে মনে খুঁজতেছিলাম।

এজাজ উদ্দিন চৌধুরীর গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে ওঠে। বলে, রমিজ মিয়া, ঐ যে কইছিলাম আমার একটা কংকাল লাগবে, একটু হৃষ্টপুষ্ট, হাড্ডিগুলা চুপসানো হইলে হবে না, ম্যানেজ করতে পারছেন?

রমিজ আলীর এবার একটা কিছু করতেই হবে। সে বিপুল উদ্যমে বলে, স্যার আপনারে আমি যেভাবেই হোক আগামীকালের মধ্যে কংকাল দেব। তবে টাকাটার অর্ধেক এ্যাডভান্স হিসাবে যদি একটু দিতেন!

এজাজ উদ্দিন রাজী হয়ে যায়। বলে, আপনার অফিসে আমি একটা লোকরে দিয়া এখনই এক লাখ পাঠায়া দিতেছি, কিন্তু কংকাল আমার কালকের মধ্যেই চাই!

রমিজ আলী একশ বার বলে অবশ্যই। স্যার, আপনি বিলকুল চিন্তা কইরেন না, বনানী গোরস্থান থেকে একটা লাশ কিইন্না ফেলমু আইজকা। মনে মনে বলে, নইলে চুরি করমু!

এজাজ উদ্দিন ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দিলে রমিজ রহমতকে বলে, তোর জীবনের একটা পরীক্ষা হইয়া যাইবে আজ!

রহমত বড় বড় চোখে তাকায় রমিজের দিকে। লাশ থেকে মাংশ ছুটানোর কাজটা সেই করে থাকে। রমিজের বাসার ছাদে একটা বেশ চমৎকার ফ্যাক্টরী আছে। লাশের মাংশ গলিয়ে আলাদা করার মত একটা চুল্লি, হরকে রকম ক্যামিকেলসের টিউব। সেই সাথে কংকাল ড্রাই ও কালার করার জন্য বাহারী রঙের সরঞ্জাম।

রহমত বলে, ওস্তাদ বলেন আপনি কি করতে হবে, লাগলে রাস্তার উপরে খাড়াইয়া একটা জেতা মাইনষের কংকাল লইয়া আমু!

ঐসব করা লাগবে না। তুই আইজ রাইতে বনানী দিয়া একটা লাশ চুরি কইরা নিয়া আসবি!

রহমতের কাছে এই কাজের চেয়ে একটা মানুষ খুন করা বড় সহজ মনে হয়। বনানীর কবরাস্থানে রাতের বেলায় দিনের চেয়ে বেশী আলো। ভেতরে কমপক্ষে দশজন নাইটগার্ড। তাছাড়া দর্শনার্থীদের আবেগ উথলানো দৃশ্যও বেশী। কিন্তু সে কথা মুখ ফুটে বলে না। বরঞ্চ সে রমিজের পরীক্ষায় পাস করার জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। ওকে বস, আইজ রাইতের মধ্যে আপনি কংকাল পেয়ে যাবেন!

রমিজ ভরসা করতে পারে রহমতের উপরে। লাশ কাটায় তার দুঃসাহস দেকে সে নিশ্চিত হয়। অনেক দিন পরে একটা ভাল ব্যবসা হতে যাচ্ছে অবশেষে।

কিছুক্ষণের মধ্যই এক লোক এসে হাজির। এক লাখ টাকার একটা বান্ডিল রমিজে বুঝে নিয়ে একটা মানি রিসিপ্ট ধরিয়ে দেয়। আগন্ত্রক এজাজ উদ্দিন চৌধুরীর একটা কার্ড দিয়ে যায়।

রহমত গভীর রাতে বনানী গোরস্থানে ঢুকে পড়ে। প্রতিটা কবরের উপরে ভারী সিমেন্টের গাঁথুনী। কোথাও বিশাল মিনার, কোথাও টাইলসের বাহারী প্রলেপ, পানির ফোয়ারা, নানা ভাষ্কর্য, কারুকাজ। বেশ ভদ্রোচিত রহমত প্রতি ইঞ্চি জায়গা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে। নাহ! তার কাছে অসম্ভব মনে হয় লাশ চুরি। একটা কবরের পাশে একজন বেশ স্বাস্থ্যবান লোক দাড়িয়ে দাড়িয়ে দোয়া-দরুদ পড়ছে। এমন একজন লোকের কংকালই ওস্তাদের দরকার, মনে মনে আওড়রায়। লোকটা যখন প্রার্থণার জন্য হাত তুলে ধরে, রহমতও যোগ দেয়। চোখের আড়ে ভদ্রলোক খুশী হয়ে ওঠে।

প্রার্থনা শেষে দুই হাত মুখে ছুইয়ে রহমত পেছন ফিরতেই ভদ্রলোক তার পিঠে হাত দেয়। ভাই, থ্যাংক ইউ!

রহমত মাথা ঝুলিয়ে বলে, আপনাকে দেখে ভাল লাগলো। কি হয় আপনার?

ভদ্রলোক বলে, আমার ভুলে এ মারা গেছিলো! প্রতি মাসে একবার তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করতে আসি।

রহমতের কাছে ভদ্রলোককে বেশ সুখী মনে হয়। ওস্তাদের এমন লোকই দরকার। দুজনই গেটের দিকে হাঁটতে থাকলে ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করে, আপনি কোথায় থাকেন, গাড়ী আছে?

না না গাড়ী লাগবে না। আমার বাসা আজিমপুরের কাছে।

আপনি কেন এসেছিলেন?

কংক... বলে রহমত জিভ কাটে। সামলে বলে ঘুরে ঘুরে কবর দেখাই আমার কাজ, মৃত মানুষদের বড় আপন মনে হয়!

ভদ্রলোক এবার রহমতের হাত ঝাপটে ধরে। আপনি বড় ভালো মানুষ। চলেন আপনার বাড়ী পৌঁছে দেই। রহমতকে নিয়ে গাড়ীতে ওঠে। সে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়ণের জন্য এক জটিল গবেষণায় নিয়োজিত। তার আবিষ্কার সফল হলে মানুষ অনেক বেশী কর্মক্ষম হয়ে উঠবে কম খেয়েও।


বুঝলে ভায়া, আমি ভেবে দেখলাম, মানুষের এই যে শক্ত হাড় রয়েছে না, এর ভেতরে আছে অমিত সম্ভাবনা। কোনভাবে যদি এইখানে আমরা কিছু এমন ঢোকাতে পারি যা এই হাড়কে আরো বেশী মজবুত করবে তবে হয়তো খাদ্যের সংকট দূর করা যায়।

রহমতের মাথায় ঢোকে না ভদ্রলোকের জ্ঞানী জ্ঞানী কথা। সে তার থলথলৈ মুখ দেখতে থাকে। চেহারার পেছনের কংকালটা দেখে সে তৃপ্ত হয়ে ওঠে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, একেই তার চাই!

আজিমপুরের বাসায় পৌঁছলে রহমত ভদ্রলোককে একটু কফি খেয়ে যেতে বলে। ভদ্রলোকের কোন এক অজ্ঞাত কারণে রহমতকে ভালো লেগে যায়। রহমত তাকে ছাদের ফ্যাক্টরীতে নিয়ে যায়। ভদ্রলোক অন্ধকারের মধ্যে দাড়িয়ে যখন লাইট জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় তখন রহমতের হাতের ছোরা চমকে ওঠে। ভদ্রলোক দ্বিতীয়বার চিৎকার করার আগেই নিথর হয়ে পড়ে থাকে।

রহমত লাইট জ্বালিয়ে ভদ্রলোকের জামা-কাপড় খুলে দেহটা টেনে ফেলে চুল্লির ভেতরে। কেমিকেলে মিশ্রিত একটা পানির ভিতরে নিমিষেই আলগা হতে থাকে মাংশ।

সাত সকালে রমিজ আলী ফ্যাক্টরীতে ঢুকেই তাজ্জব বনে যায়। হরেক রকম কংকাল দেখেছে জীবনে, কিন্তু এত জীবন্ত কখনও দেখেনি। মনে হচ্ছে কংকালের গায়ে এখনও মানুষটি লেপ্টে আছে। রহমত নাক টেনে ঘুমাচ্ছে ফ্যাক্টরীর এক কোনের একটা তক্তাপোষে।

নিজের পকেট হাতড়ে বের করে প্রফেসর এজাজের নম্বর। মোবাইলে নম্বরগুলো চেপে কল করতেই মনে হলো রহমতের তক্তাপোষ থেকে সে একটা ফোন বেজে উঠতে শুনলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833980 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833980 2008-08-23 16:07:50
কলিগ অন্ধকারে বাঁচার সম্ভাবনা দেখতো, কিন্তু আলোতে এসে মরতে বসেছে
ফাইল পত্তর ঘাটতে ঘাটতে মুখ তুলে তাকালাম, নির্বোধ প্রশ্ন শুধালাম, কেন?

এখন তো সবচেয়ে ট্রাস্টেট কোম্পানীগুলো সবচেয়ে বেশী ভেজাল দেয়। আমরাও দেব, কে সন্দেহ করবে? কলিগের প্রশ্নে দিশেহারা আমি। দেশী বাটার চেয়ে ফুটপথের জুতোও বেশী টেকে। আগোরার মাছে ভেজাল। টেলিটকের কাস্টমার সার্ভিস পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বাজে। এসব কলিগের মুখে অনেক দিন যাবতই শুনে এসেছি।

আবার কি হলো?

ব্যাংকগুলোর কথাই ধরেন, সুদের হারের কোন ঠিকঠিকানা নেই। শেয়ার মার্কেটে নিত্য-নতুন নিয়ম। একাউন্টেবিলিটি নাই কোথাও। হু আস্ক হুম?

রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনায় আমি গোয়ারগোবিন্দ। কলমে দাত ঘসে কেবল হুম বলতে পারি। কলিগ অবসেসড। বলতে থাকে, রাজনৈতিক সরকারের আমলে আমরা নাকি অন্ধকারে ছিলাম! কিন্তু বেঁচে তো ছিলাম, এই সরকারের আলোতে এসে লাভ কি হলো? এখন তো স্রেফ আলোতে পরে পরে মরবো! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833775 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833775 2008-08-23 00:10:39
শিশু অপরাধীদের কারামুক্তির পরে রিহ্যাভিলিটেশনের কোন সরকারী নীতি আছে?
শিশু এইসব অপরাধীদের সাজাও হতে পারে, হয়তো হয়ও। শিশু আইনে নিশ্চয়ই এ সংক্রান্ত ধারা রয়েছে। সাজা কম হবার একটা বিধানও হয়তো আছে। কিন্তু এইসব শিশুদের কারামুক্তির পরে রিহ্যাভিলিটেশনের পদ্ধতি কি, আদৌ এমন কোন নীতি আছে কিনা - কারো জানা থাকলে একটু জানাবেন কি!

শিশু আইন বিষয়ক অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তির খবর দিলেও চলবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833585 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833585 2008-08-22 13:36:20
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১২)
ওদিকে কনজিউমার প্রোডাক্টস এসোসিয়েশনেরও রমরমা অবস্থা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদীর দাম কমিয়ে তারা ভোটার আকৃষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবী করেছেন, দেশ এখন এক গভীর সংকটে। পরাজিত দল যদি অসহযোগিতা শুরু করে সেক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের কিছুই করার থাকবে না। এদিকে জাতীয় সড়ক অধিদপ্তর ও কৃষি পন্য উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলোর সংস্থা বাকৃকো গ্রাসরুট লেবেলকে টার্গেট করেছে।

কর্পোরেটরা সরাসরি রাজনীতিতে নেমে পড়ার পরে এখন বড় বড় রাজনীতিবিদরা তাদের উপদেষ্টা হিসাবে মোটা বেতনের কাজ বাগিয়েছেন। একসময়ে দেশে যখন পিউর রাজনৈতিক দল ছিল তখন যারা কর্পোরেটদের থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুস নেবার দক্ষতা অর্জন করেছেন কনসালটেন্ট হিসাবে তাদের দাম সর্বোচ্চ। প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রাধান ও সমরনায়কে এখন কর্পোরেট রাজনৈতিক দলগুলো পরিপূর্ণ। তবে তারা নির্বাচন করতে পারছেন না। স্থানীয় পর্যায়ে বড় বড় ডিলাররা এই সব কোম্পানীর মনোনীত প্রতিনিধি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833084 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28833084 2008-08-21 11:29:28
না যুদ্ধাংদেহী, না মনুষ্যপ্রেমী কালো বিষন্ন তরুণাস্থির শাখী জাগিয়ে তোলা
ভরদুপুরে কটিতলে রোমান্থিত মুঞ্জরনে
জগৎতল আর নটরঙ্গ মেলা প্রতিবার
অপাচ্য দোষিত কেন বিবস্র হইনা, হইনা যুদ্ধাংদেহী?
ভাবিতেছি কোনকালে কি ছিল এই কুকুর মনুষ্যপ্রেমী?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832978 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832978 2008-08-21 00:24:02
দুর্নীতির ট্রেন্ড দেখার জানালাঃ নিউ মার্কেটের অভিজাত শাড়ীর দোকান খান ব্রাদার্স
ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পরে খান ব্রাদার্সের কাস্টমার কমে যেতে থাকে। তবে ক্রমশ আবার রমরমাও হয়ে ওঠে। আগে এই দোকান থেকে আর্মীর স্ত্রী-কন্যারা খুব কম শাড়ী কিনতো। কিন্তু এখন তাদের সবচেয়ে বেশী কাস্টমার সেনাবাহিনীর পরিবার-পরিজনদের মধ্য থেকে।

বোঝা যায় দুর্নীতির বাটনটা কেবল হাত বদল হয়েছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832786 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832786 2008-08-20 14:58:57
ওয়াশিংটনের বাংলা স্কুলের বাচ্চারা ১৯৭১ এ পাকিস্থানীদের আত্মসমর্পন মঞ্চস্থ করলো

যদি কাজ না করে তাহলে ঘুরে আসুন এখান থেকে।
http://www.youtube.com/watch?v=8R_3vmViFrw

১৯৭১ সালে পাকিস্থানীদের আত্মসমর্পনের ঐতিহাসিক মূহূর্তটি মঞ্চস্থ করেছে ওয়াশিংটনের বাংলা স্কুলের বাচ্চারা।

গ্রেট ওয়ার্ক। দেখুন বাংলাদেশ অভ্যূদয়ের সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ, বিজয় মুহূর্ত।

কৃতজ্ঞতাঃ মাহবুব হোসেন ভাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832684 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832684 2008-08-20 09:33:51
দূরালপন নয়, পত্রে যোগাযোগের প্রস্তাবনা
নতুন একখান মোবাইল কেনার অথবা ইহাকেই আবার মনুষ্যরূপে ফিরিয়ে আনার পূর্বে আমার ইমেইল এড্রেসখানিতে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ রহিলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832679 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832679 2008-08-20 09:09:02
ঐক্যমতের ভিত্তিতে বৃষ্টি নেমেছে এখানে আর ঐখানে জম্পেশ কৈ-এর নাঁচ
আটকে গেছো, আটকানো বাহনে
ঠিক পাশে দেখো বৃষ্টির মঞ্চে দাপানো ভাষণ

আয়োজনের নীল কিছু ফুটন্ত ফোটায়
অনেক রঙের বৃষ্টি তোমার ঠোঁটে
চিবুকের পাশে লতানো চুলের বিছানো রাজপথে
মিছিলে মিছিলে ভেঙে দেওয়া বৃষ্টির কাপন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832253 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832253 2008-08-19 08:57:16
দীর্ঘ বিরতিতে সচল, আমারব্লগ আর পেচালী দেখলাম, কোনটাই মনমতায়ন হইলো না!
কিন্তু প্রশ্ন হইলো, আমি সেখানে যামু কেন! বিষয়টা কিছুটা প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় দ্বার পরিগ্রহের মতন। শরীরে তো একটা মন্ত্রর-যন্ত্রর আছে সেইটা যেমন ঠিক রাখার জন্য নারীদেহ দরকার তেমনই এই ব্লগএডিকশনের জন্য আরেকখান ব্লগের গুষ্টিনাশ করতে হবে। যামু সেজন্যই।

তারমানে যতদিন তুমি সার্ভিস দিবা ততদিন আছি, তারপর! তুমি নাই, আর ভাইব্বা চিন্তা কি হইবে। দুইদিন কান্দাকাটি কইরা নতুন ব্লগের সাথে সংগম করমু।

দার্শনিক উপলব্ধির পরে আসলো সৌন্দর্য্যপ্রিয়তা। আমারব্লগ, পেচালী ও সচল তিনটার রঙ, বর্ণ ও লেখায় কেমন যেন একটা প্রাণহীনতা। আমি বলতেছি ফাস্ট লুকে উন্নত বক্ষ দৃষ্টিগ্রাহ্য হবার মতন স্ফটিকবিভা। নাহ! উহা আমার কৌমার্য্য হরণ করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারলো না।

উহার পরে আসি মাল-পত্রর বা কনটেন্টের দিকে। রাইটার্স ব্লগ, রঙ্গ ব্লগ আর ধর্ম ব্লগ যেমনই হোক না কেন উহার কোন অংশে এমন কিছু দৃষ্টিগোচর হইলো না যাহাতে উহাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা সম্ভব। একাঞ্চলে প্রবাসীদের সাহিত্য চর্চা, আরেকাংশে কেবল গুটকতেকের চ্যাটিংরুম এবং অন্যখানি বিরানভূমি।

ওয়ার্ডপ্রেসে ম্যাড়মেড়ে গড়নের আমারব্লগ, আর ....য়াতন লেজের সব প্রকাশায়নের কাছে সামহোয়ারের অনুপস্থিতি ছিল পীড়াদায়ক। ফলে দার্শনিক উপলব্ধিতে আবার সংযোজিত হইলো যে তোমার বিহনে আমি দারস্থ হইতে পারি না অন্যকারো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832176 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832176 2008-08-18 23:54:39
সূর্যের গা ধুইয়ে দিল বিরহী বৃষ্টি উদগত কান্নার ঝাপিতে
রেইনটকোট বিহিন তাতানো শরীর
ভিজে গেল সাত সকালে

তোমার হাতের মাঝে আরেকটা হাত
ভিজিয়ে দিল বৃষ্টির ছোঁয়া
সূর্যের গা ধুইয়ে উল্কি আঁকা
প্রাচীন বিরহী ফোস্কা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832090 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28832090 2008-08-18 09:41:34
SAW, Ring, Nailed, GAG, BUG, BOOGEYMA, Wrong Turn
কারো কোন রিকমেন্ডেশন আছে কোন ছবিটা আগে দেখা উচিত। আমার দরকার ভয়ংকর একটা ছবি দেখা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831740 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831740 2008-08-17 10:27:37
আগের মতন আর খেতে পারি না
এক বিখ্যাত যৌনবিজ্ঞানী বলেছিলেন, মানুষের যৌনতায় অনাকর্ষিত হবার সূত্র ধরে খাদ্যের দিকে ঝুঁকে পড়া উদ্ভব হয়। কামুকেরা কখনও মোটা হয় না। সে অর্থে বাঙালি রমনীরা পুরামাত্রায় যৌনবিমুখ - বেশীরভাগই খেতে খেতে গলায় থলথলে চর্বি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

আমি অতিমাত্রায় স্বাস্থ্য-সচেতন বলে আজকে তেমন কিছুই খেলাম না। সন্ধ্যায় চালের রুটি আর গরুর গোস দেখে মাত্র গোটা বিশেক চেখে দেখলাম। কিছুক্ষণ পরে ছোটবোনের বাসা থেকে এলো তেহারী। ঘন্টা খানেক পরে সেটাও একটু চেখে দেখলাম। ও আবার কমসম পাঠাতে পারে না। এরপরে এক বন্ধু জোর করে তার বাসায় নিয়ে গেল। খাশীর মাংশের বিরানী। একদম সামান্য চেখে দেখলাম। তারপরে আর কিছুই খেলাম না, কেবল একটু আগে ভাত খেলাম। তাও মাত্র দু-প্লেট, দু পিচ ইলিশ না থাকলে এটা অবশ্য খাওয়া হতো না। এর বাইরে তেমন কিছুই খাই নাই।

হিসেব করে দেখলাম সব মিলে গোটা ত্রিশেক চালের রুটি আর দুইকেজি মাংশ খাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকীগুলোকে খাওয়া বলা যায় না। পড়শীদের দেয়া হালুয়া-রুটি ফ্রিজে জায়গা ছিল না বলে কেবল পেটে সাময়িকভাবে রেখে দিয়েছি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831660 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831660 2008-08-17 00:26:07
শবে বরাতে শৈশবের কিছু উল্লেখযোগ্য ইবাদত
কলোনীর বিশাল দীঘির পাড়ে আমরা একত্রিত হতাম। এশার নামাজের মিলাদের পরে বাসায় খেয়েদেয়ে তারপর। দশ-বারোজন সমবয়সী প্রথমে যে এবাদতটা করতাম তাহলো ডাব চুরি। কলোনীর ছেলেমেয়েরা গাছ বাইতে জানতো না - এজন্য দলে থাকতো পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকজন ক্লাসমেট। মোটামুটি বিভিন্ন গ্রুপ মিলে নারিকেল গাছ ভাগ করে নিতাম। তাউরাশ ছিলাম বলে বেশী গাছ পড়তো আমাদের ভাগে।

দ্বিতীয় ইবাদত ছিল শাওনদের বাড়ীতে হামলা। ঐ বাড়ীতে ছিল ছ'ছটা এটম বুম্ব লেড়কি। আমাদের ইবাদত গ্রুপের জন্য তাদের হালুয়া খাওয়া ছিল কমপলসারি। বাবু নাকি এমন কোন এক শবে-বরাতে বয়োজেষ্ঠ্য কন্যাকে চালের রুটির মত বেলতে পেরেছিল।

তৃতীয় ইবাদত ছিল পটকা আর আতশ-বাজী। এর জন্য উপযুক্ত জায়গা ছিল অঙ্কের টিচার মাহবুব স্যারের বাসার উঠোন। তার বেতের বাড়ীতে আমাদের সবার পাছা লাল থাকতো বলে এই রাতে তাকে একটু ইবাদতী ধোলাই দেবার সুযোগ পাওয়া যেত। বিকট পটকার আওয়াজে মাহবুব স্যার একটা বিশাল বাঁশ নিয়ে কে রে করে ছুটে আসতেন। পাজামা-পাঞ্জাবী পরিহিত আমরা দিতাম ভো দৌড়। কিছুক্ষণ পরে আবার হামলা শুরু হতো।

এখনও শবে-বরাতে আমাদের আড্ডার ধরণটা পাল্টায় নি। গত কয়েকবছর যাবত আমরা কয়েক বন্ধু মিলে শবে-বরাতের রাতে মাতাল হই ইবাদতে। ইদানিং কয়েকজনের গাড়ী হয়েছে - আজকে সারারাত ঢাকার রাস্তায় আমাদের ইবাদত করার কথা আছে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831449 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831449 2008-08-16 12:32:11
আজনবী - দ্যা ব্লগ আইডল ফর পলিটিসিয়ান
সেই পিতার মৃত্যুদিনে বিবশ হয়ে যায় আজনবীর শরীর। নিজের সন্তানের জন্মদিনের চেয়ে পিতার শোকাবহ হত্যায় তিনি মুর্ছিত হন। যেই কলংকিত দিবসে জাতির পিতার হত্যা হয় - সেইদিনে তার কন্যা শায়েরীর জন্ম হলেও তিনি কোন আয়োজন করেন না। তিনি সন্তানের জন্য জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেন পরের দিন।

আজনবী চিরকালিন এক পরিচিত আবেগের প্রতিচ্ছায়া। আমাদের তথাকথিত কিছু রাজনীতিকরা যখন স্বাধীনতার রূপকারের হত্যাকান্ডে শোকাভিভূত না হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত আনন্দ এবং অন্যান্য স্মরণ ও শিক্ষা কর্মসূচী পালন করেন তখন জনগণের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে যান এক অবধারিত অনুনকরণীয় শিক্ষার।

শায়েরী এমন এক পিতার সন্তান যার কাছে মাথা নত করে দাড়িয়ে থাকে ইতিহাস। হ্যাটস অফ আজনবী। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831414 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831414 2008-08-16 10:22:18
কলিগ আজকে এক যৌন পেশাজীবির জন্মদিন পালন না করার কারন শুনে অভিভূত
কামও একটু সারছেন মনে হয়!

আরে না না। গিয়া তো উলটা শরমিন্দা হইয়া আইলাম। কলিগ বলে।

কেন কেন? জিগাই। পয়সা ছিল না নাকি?

আরে না। আমি একটা বয়সী হোরের ঘরে ঢুকলাম। তারে জিগাইলাম, আইজকা কয়ডা কাম করছেন? সে কয়, না, আইজ কোন কাম করমু না। আমি তো শুইনা অবাক। জিগাইলাম শরীর খারাপ নাকি! কয়, সেজন্য না - আইজ আমার জন্মদিন! আমার অবাক লাগলো। এক্সপেরিন্সড হোরদের তো জন্মদিনে ধান্দা করার বেশী সুযোগ। কাস্টমারের কাছ থেকে বেশী টাকা বাগাইতে পারে। কইলাম সেই কথা। সে বলে কি জানেন?

আমি ও অবাক। জিগাইলাম, কি কয়?

বেশ্যাটা কইলো, আমি খানকি হইতে পারি, কিন্তু জাতির জনকের যে দিন হত্যাকান্ড হইছে সেইদিন নিজের জন্মের জন্য আনন্দ প্রকাশ করতে পারি না। কলিগ কইলো, বেশ্যার কথা শুইনা আমার মনে পড়লো, আজকে আমাদের এক মহান নেত্রীর জন্মদিন - সে প্রতিবছর মহাসমারোহে এইদিন কেক কাইট্টা উৎসব পালন করছে। এই খানকির চাইতে সে কেমনে মহান হয়?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831197 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831197 2008-08-15 16:35:15
শেখ মুজিবের প্রতি ফোটা রক্তে এক একজন বাঙালির জন্ম হয় এই জমিনের বুক চিড়ে ক্ষমা করে দেয় বাঙালির অপরাধসমূহ!
শেখ মুজিবের প্রতি ফোটা রক্তে এক একজন বাঙালির জন্ম হয়
যার ধমনীতে শুদ্ধস্বরের চিৎকার - জাতির জনক ক্ষমা করো!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831101 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28831101 2008-08-15 09:58:42
কলিগের কাছে ম্যারেজ একটা ওয়ার্ড না, পুরা একটা সেন্টেন্স, লাইফ সেন্টেন্চ
কইলাম, প্রেম তো অন্ধ, সেজন্য সংসার-নামক অন্ধদের পাঠশালায় একটু ভুলচুক হয়ে যেতেই পারে। কোনটা অনাকাঙ্খিত আর কোনটা আকাঙ্খিত তা দেখার মত দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট নাই ভাইগো!

মিয়া - খালি মাইয়ালোকেরে পচাইয়া গেলেন, আমাগো জীবনটা তো আরো বেশী তেনা তেনা আপনারাই করেন!

কেমনে?

মাইয়ালোকের কাছে ম্যারেজ একটা ওয়ার্ড না, পুরা একটা সেন্টেস, এ লাইফ সেন্টেস! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830981 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830981 2008-08-14 23:37:00
বোয়াল মাছের মত বড় একটা হা কইরা কমেন্টের দিকে তাকাইয়া থাকি
তারপরে আবার মিনিমাইজ থাকে উইন্ডো। কতক্ষণ পরে জানালা খুইলা বাতাস খাওয়ার মত আবার উইন্ডোটা খুইলা দেখি ছিপে কোন মাছ আটকাইলো কিনা। আটকাইলে আনন্দে একটা বিড়ি খাইতে যাই, নইলে আবার কয়েকজনের পোস্ট লাইড়া-চাইড়া কমেন্ট দিয়া বোয়াল মাছের মত বড় একটা হা কইরা পোস্টের দিকে তাকাইয়া থাকি!

দেখি কোন মাছ আটকায় কিনা! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830898 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830898 2008-08-14 18:59:20
কলিগ অনাকাঙ্খিত কলগুলো ব্লক করে যে মেসেজ শোনাতে চায়
আমার হেভী পছন্দ হইছে। আমারও একটেল। এতদিন পরে ভাল একটা সার্ভিস দিলো। কলিগ বলে চলে,

মাসের প্রথম সপ্তাহে বাড়ীওয়ালাকে ব্যান করে দেব। তিনি মেসেজ শুনবেন, আমাদের গ্রাহক এখনও রিচার্জড হয়নি, আপনার বিলের জন্য আরো এক সপ্তাহ অপেক্ষা করুন! অফিসের সময় স্বামীর কল ব্যান। মেসেজ শুনতে পাবে, দুঃখিত, গ্রাহক এখন অনাকাঙ্খিত সম্পর্ক তৈরীতে রাজী নয়, বিরক্ত করবেন না!

আমাকে বললো, আপনি কার কার কল ব্যান করবেন?

বললাম, গভীর রাতে সুন্দরী কলিগের।

কি ম্যাসেজ থাকবে! কলিগের সপ্রশ্ন আগ্রহ উথলে ওঠে। বললাম, কেন ঐ যা আপনি স্বামীকে শোনাবেন, দুঃখিত, গ্রাহক এখন অনাকাঙ্খিত সম্পর্ক তৈরীতে রাজী নয়, বিরক্ত করবেন না!

* কলিগমরফসিস একটা রম্য গল্পের সিরিজ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830727 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830727 2008-08-14 09:22:21
খন্ড খন্ড মেঘের উপরে দাড়িয়ে উড়বার তাড়না
এরপরে যখন নিত্য প্রতিবেদন দেখবো - কিছু রেকর্ড করে রাখবো পরিত্যাগের ডেরাজে। যা কিছু সঞ্চিত তাকে আসলে ছেটে ফেলা হয়েছে। পরিতাপ বহাল তবিয়তে ঝাটকা মেরেছে, গুটি চালাচ্ছে। শুনবেন এটা ক্ষয়িষ্ণুতা এবং আড়মোড়া ভেঙে দুটো কলাপাতার পাখা বানিয়ে নিলেই তো কেল্লা ফতে। ওড়ো, ওড়ো, ওড়ো।

কোন এক কালে আমার দারুন একটা পাখা ছিল এই সুখে হটিয়ে দিয়েছিলাম ওড়বার সাধ। ঠিক করেছিলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830618 http://www.somewhereinblog.net/blog/kowshikblog/28830618 2008-08-14 00:08:43