স্থানঃ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলা।
সময়ঃ রাত ৮-৩০।
সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী তার (মামাতো/চাচাতো) ভাইয়ের সাথে পূজা মন্ডপ থেকে রিক্সায় ফিরছিলো। এ সময় বেশ ক’জন যুবক তাদের গতিরোধ করে এবং মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
মেয়েটিকে পাওয়া যায় অপহরণের স্থান হতে ২ কিলোমিটার দূরে, সময় তখন রাত ২-৩০।
গ্রামের লোকজন মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষা করার কথা বললে থানার ওসি সবাইকে যার যার বাসায় চলে যেতে বলেন।
পরদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যাপারটিকে তাদের হাতে ছেড়ে দেবার জন্য পুলিশকে জানায়।
ঘটনার ২ দিন পরে চিহ্নিত ১৬ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে স্থানীয় এক স্কুল চত্তরে বিচারের নামে জড় কর হয়। তখন সেখানে বিচারক হিসেবে ছিলেন কলাপাড়া আওয়ামি লীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান, সহ সভাপতি সুলতান মাহমুদ এবং কলাপড়া প্রেস্ক্লাব প্রেসিডেন্ট ও কলাপাড়া আওয়ামি লীগের সভাপতি বিপুল হাওলাদার।
অপরাধী সবার কাছ থেকে ১০ হাজার করে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তোলা হয় এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হয়। টাকা গুলি ভিকটিমের পরিবারকে দিয়ে বলা হয় যেন তারা সাংবাদিকদের কিছু না বলেন।
তড়িঘড়ি সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারটিকে দিয়ে বলানো হয় যে কিছুই হয়নি।
এ ঘটনা জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হলে পটুয়াখালী জেলার ডিসি ও এসপি কলাপাড়া আসেন এবং মেয়েটির সাথে কথা বলেন, তারা সাংবাদিকদের জানান যে মেয়েটি তাদের বলেছে যে তাকে ধর্ষণ করা হয়নি।
এ ঘটনা চলাকালীন এলাকায় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মহবুবুর রহমান তালুকদার। তিনি আশা করেছেন যে পুলিশ যথাযোগ্য ব্যাবস্থা নেবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামিলীগ নেতা জানান যে অপরাধীরা ছাত্রলীগ কর্মী নয় এবং যাই ঘটুক না কেন তার জন্য যথেষ্ঠ ভালো বিচার করা হয়েছে।
এট গতকালের ডেইলি স্টার পত্রিকার সংবাদ। আমি অনেক কাট ছাট করে লিখেছি, গা জ্বালা করছিলো তাই পুরোটা লিখতে পারলাম না। এ কোন দেশে বাস করছি আমরা। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কাছে দেশের চেয়ে দেশের মানুষের চেয়ে তাদের দল বড়, দলের ইমেজ বড়। বাংলাদেশের মানুষ তো সব আবাল, ৭০ টাকা কেজির চিনি খায়, ইন্ডিয়ান পিঁয়াজ খায় ৪০ টাকা দিয়ে(২ দিনে কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা) তাও তাদের কাছে আওয়ামি লীগের ইমেজ অনেক ভালো থাকে। অন্তঃত এমনটাই মনে করেন আওয়ামি নেতারা। আর মনে করবে না কেন? না হলে এই সব বেজন্মারা কোন সাহসে বলে জনগণ তাদের সাথে আছে?
গরীব একটা পরিবারের নাবালিকা একটা মেয়েকে ধর্ষণ করার দায় মেটানো হচ্ছে টাকা দিয়ে। যারা আজ টাকা দিলো, বেতের বাড়ি খেলো তারা যে কিছুদিন পরে গলা চেপে টাকাটা ঐ হতভাগা পরিবারটির কাছ থেকে কেড়ে নেবে না, ঐ নাবালিকা মেয়েটি কে হত্যা করবেনা এ নিশ্চয়তা কি কলাপাড়ার বেজন্মা নেতারা দিতে পারবে?
সব চেয়ে অবাক হলাম ঐ সময় এলাকায় পানি সম্পদ মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তিনি দায় এড়িয়ে বলেছেন যে তিনি আশা করেন পুলিশ এ রকম ক্ষেত্রে যা করার তেমন পদক্ষেপ নেবে। হা মন্ত্রী মহোদয় আপনি ঠিক ই আশা করেছেন, পুলিশ নামক পুতুলগুলি আপনাদের ইমেজ(যা আদৌ নেই) রক্ষার্থে যা করার তেমনটি ই করেছে, মেয়েটির মেডিকেল টেস্ট করায় নি এবং অপরাধীদের তুলে দিয়েছে স্থানীয় নেতাদের হাতে।
জেলার ডিসি, এসপি এসে ভিকটিমের সাথে কথা বলে আবিষ্কার করেছেন যে তেমন কিছু হয় নি। শুয়োরের বাচ্চা...এর থেকে ভালো কিছু আপনাদের বলতে পারলাম না, দুঃখিত ডিসি, এসপি মশায়। ধর্ষিত হয়েও প্রাণে যে বেঁচে আছে আপনাদের দয়াতে সেই ঢের তায় আবার স্বীকারোক্তি?
নেতাদের গালাগালি করতে যেয়ে হঠাৎ মনে হলো যে ঐ ১৬ ছাত্রলীগ কর্মীর যদি সবার সামনে লিংগ কর্তন করা হতো তাহলে অন্তঃত মনে কিছুটা সান্তনা নিয়ে আজকে এই বালের পোস্ট দিতাম না। এ টুকু আশ্বস্থ হতাম ঐ হারামীর বাচ্চাগুলো আর কোন মেয়ের সর্বনাশ অন্তঃত করতে পারবেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

