দেশে চলছে ধর্ষণোৎসব...
অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? তাহলে নিচের তথ্য জানুন...
বেসরকারী হিসাব অনুযায়ী গত জানুয়ারির শুরু থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৩৩৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৮ জন নারী ও ১৮০ জন মেয়ে শিশু। ১৫৮ জন নারীর মধ্যে ৫০ জনকে ধর্ষনের পরে হত্যা করা হয়েছে এবং ৬৮ জন গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন। ১৮০ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে ২২ জনকে ধর্ষনের পরে হত্যা করা হয়েছে এবং ৫১ জন শিশু গণধর্ষনের শিকার হয়েছে।
এ পরিসংখ্যান কেবল যে ঘটনাগুলো পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে; লোকলজ্জা বা সামাজিক অনিরাপত্তার ভয়ে আরো কত ঘটনা যে প্রকাশিত হয়নি তা তো সহজেই অনুমেয়।
গত মাসে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনাঃ
গত ১ সেপ্টেম্বর যশোরে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে সিঁদুর পরিয়ে ধর্ষণ করেছে শিশি ঘোষ নামক যুবক।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সপ্তম শ্রেনী পড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে প্রায় ১৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী।
এ নিয়ে আমার একটি পোস্ট পড়ুন
Click This Link
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার সদরঘাটে ১১ বছরের এক কিশোরীকে ৫ জন ধর্ষণ করে।
গত ১ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার নোয়াপাড়ায় চতুর্থ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পরে তাকে হত্যা করা হয় এবং লাশ পুতে রাখা হয় একটি গোয়ালঘরের মাটিতে পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে।
গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার স্পনিং মিলের এক শ্রমিক কিশোরীকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাবার পথে ধর্ষণ করা হয়।
পিরোজপুরে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় এবং সে সময়ের দৃশ্য ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে সিডি আকারে ছড়ানো হয় সারা এলাকায়।
যশোরে আরো দু’টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে যেখানে ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলের মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছে।
উপরের তথ্যগুলি নেয়া হয়েছে গতকালের আমার দেশ পত্রিকা হতে।
Click This Link
একটি সময় ছিলো যখন এভাবেই এসিড সন্ত্রাসের খবর আমরা পেতাম, সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে বেশ সফলতার সাথেই এসিড সন্ত্রাস বেশ কমে এসেছে ইদানীং কালে। কিন্তু এই ধর্ষণের মত এসিড সন্ত্রাস থেকেও ততোধিক জঘণ্য ঘটনাটি অহরহ ঘটেই চলেছে আমাদের দেশে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৪-৫ টি ঘটনা তো জানাই যায় পত্রিকা মারফত কিন্তু অজস্র ঘটনা স্রেফ ধামাচাপা পড়ে যায় বা ঠিক করে বললে ধামাচাপা দেওয়া হয় যেমনটা করা হয়েছে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া ঐ ঘটনায়।
খেয়াল করলে দেখা যায় প্রতিটা ঘটনা ই গ্রামের দিকে ঘটেছে, ভুক্তভোগী একজন দরিদ্র পরিবারের সদস্য এবং অপরাধী/অপরাধীগণ হয়তো ধনী পরিবারের সদস্য বা তাদের রাজনৈতিক ছায়া আছে। ভিকটিমের পরিবার কখনো স্রেফ হূমকি আবার কখনো বা বেশি জানাজানি হয়ে গেলে টাকার বিনিময়ে মুখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য করা হয়। পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়না, পরে যদি চাপ আসে তবে মামলা নেয়া পর্যন্তই, তার কোনো সঠিক তদন্ত হয়না। যে অল্প কিছু মামলার তদন্ত হয় এবং সৌভাগ্যক্রমে অপরাধীদের বিচার হয় তাদের ও তেমন উপযুক্ত শাস্তি হয়না, নাহলে কেন দিনের পর সিন এ ঘটনা ঘটে চলেছে।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? আমরা কি একটা সভ্য সমাজ কখনোই পাবনা? যে নারী থেকে আমাদের জন্ম আমরা কি তাদের শ্রদ্ধা করতে শিখবোনা? শহর অঞ্চলে এ অপরাধের হার কিছুটা কম কিন্তু নারীদের প্রতি অসম্মানমূলক আচরণ অজস্র ঘটছে শহরাঞ্চলে যেখানে তুলনামূলক শিক্ষিত লোকের বাস।
ধর্ষণ কেন কমছেনা?
উপযুক্ত শিক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাব অনেক কথাই বলা যায় কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে আমার কাছে এর বিচার কার্যের দীর্ঘ সূত্রিতা এবং সঠিক বিচারের অভাবকে মনে হয়। একজন ধর্ষণকারীর দেশিয় আইনে বিচার কি? ফাঁসী নিশ্চয় ই নয়, আর যদি তা হয় ও তবু ও তা এত দেরী করে হয় এবং এই দীর্ঘ সময়ে ভিকটিমের পরিবার যে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা পোহায় তাতে আর বিচারে ঠিক তাদের তৃপ্তি হয়না।
মাঝে মাঝে মনে হয় নারী সঙ্গের অভাব থেকে মনে যে তীব্র কামনা জন্মে তা চরিতার্থ না হতে হতে এক সময় বিস্ফোরিত হয় যা কোনো স্থান কাল পাত্র ভেদ করেনা। কিন্তু নারীসঙ্গের অভাব ই যদি হবে তবে বিবাহিত পুরুষ কেন ধর্ষণ করে? কেন একজন নাবালিকা এমনকি শিশু দেখলে তাদের কাম ভাব জাগ্রত হয়? কোনো উত্তর পাইনা।
আর যদি মেনেও নিই যে তীব্র কাম ভাব থেকে এই আচরণ তবে ধর্ষণের ভিডিও করা - এটাকে কি আচরণের পর্যায়ে ফেলা যায়? এটা তো পাপাচার বললেও কম বলা হয়, এ কোন মানসিক বিকৃতি?
সময় এসেছে সচেতন হবার, আজ প্রত্যন্ত গ্রামে ধর্ষণের শিকার কোনো মেয়ের খবর যখন পত্রিকার এক কোনে চোখের কোনে পড়ে কি পড়েনা, হতে পারে একদিন আমার আপনার বোন, স্ত্রী, কন্যা বা আত্মীয় কেউ হতে পারে এর শিকার। আমরা চুপ করে থাকলে এদের সাহস আরো বেড়ে যাবে, ইভটিজিং থেকে শুরু করে নারীর সাথে অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি, হয়তো এক দিনে হবেনা কিন্তু একদিন তো আসবে যেদিন ছোট্ট মেয়ে শিশুর দিকে লোলুপ চোখে কেউ তাকাবার সাহস করবেনা। অপরাধীদের চরম ভাবে নিগৃহিত করা ছাড়া আমি আর কোন বিকল্প দেখিনা। যে জঘণ্য অপরাধ এরা করে তার শাস্তি হিসেবে অন্তত কয়েক বছর প্রকাশ্যে এদের ফাঁসী দেওয়া হোক বা তাদের চিরতরে খোজা করে দেওয়া হোক। এরপর অবস্থার পরিবর্তন হলে তখন না হয় দেশের প্রচলিত আইনে ফেরা যাবে বা আইন সংস্কার করে নতুন আইন অনুযায়ী চলা যাবে।
একটি ধর্ষণমুক্ত সমাজ আসুক বাঙ্গালীর অগ্রযাত্রায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


