somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকরে রম্য রচনা= ফ্রম দ্যা ডেইলি সংগ্রাম

২১ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Click This Link

ইদানীং মিডিয়া জগতে ডুগডুগি বাজানোর প্রচলন প্রায়ই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। ডুগডুগি বাজিয়ে বানর খেলার মত তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা লেখনিতে জনগণকে নাচিয়ে তুলছেন। কখনো আবার নাচান সরকারকে। ইদানীং তেমনি কিছু কলামিস্ট ও সাংবাদিকের লেখায় ডুগডুগি বাজার ধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমরা যারা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র তারা কোন দিন মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। পাঠ্যপুস্তকের দুই এক পাতা ইতিহাস পড়ে যা অর্জন তাই সম্বল। কিছুটা শুনেছি আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবুল বজলের কাছ থেকে। বাকি ইতিহাস জেনেছি “বাঙালির কণ্ঠ”সহ একাধিক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই ও চলচ্চিত্র দেখে। স্বাধীনতার সময় দুই শ্রেণীর মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা থেকে বিরত ছিলেন। এক, অনেকে পাকিস্তানী সেনাদের হামলার ভয় করতেন তাই মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেনি। মূলত ঐ শ্রেণীর লোকেরা ভীতুর ডিম। দুই, পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫৬ ও ৬৫ সালে দুইবার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিল ভারত। বাংলাদেশীদের আশ্রয়ের স্খান ছিল ভারত। তাই অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ধারণা ছিল, না জানি কখন ভারত বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসে। এ কারণে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। যাদের অধিকাংশ ছিল ইসলামী দল, পীর-ওলামাগণসহ দেশের বিখ্যাত আলেম সমাজ। বিশেষ করে তাদের অপর একটি সমস্যা ছিল তারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ও একনিষ্ঠ অনুসারী যা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর স্বাধীনতার যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ধর্মনিরপেক্ষবাদী দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী ছিলেন ভারতের তৎকালীন ক্ষমতাশীন ধর্মনিরপেক্ষ দল কংগ্রেস। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ভারতে পালিয়ে আত্মরক্ষা ও যুদ্ধে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। কিন্তু আলেম-ওলামাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ভারতের রামের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা সহজ ছিল না। এ কারণে তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। এছাড়া ভিন্ন কোন উপায় ছিল না। তবে এটাও সত্য যে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের কেউ স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেনি। কিন্তু মূল অপরাধী তারা, যারা স্বার্থের জন্য সম্পদ চুরি করেছে। মানুষকে হত্যা করেছে। এ কাজ পাকিস্তানের সহযোগী দালালরা যেভাবে করেছে তেমনি করেছে অন্য কিছু গ্রুপও। স্বাধীনতার পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করেছেন। ১৯৭৩ সালে ১৭ এপ্রিল যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। যাতে ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। যাদেরকে অন্যান্য যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু পাকিস্তানকে সহযোগিতাকারীদের চিহ্নিতকরণে জটিলতা থাকায় সকলকে ক্ষমা করা হয়। এদের অনেকেই আছেন স্বার্থের ফাঁক-ফোকড়গুলো বুঝে নিয়ে আওয়ামী লীগের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের আরেকটি লক্ষ্য ছিল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। আর এ কারণে কোন প্রকার দ্বিধা-বিভক্তি ছাড়াই বাংলাদেশের সবাই একটি জাতি হিসেবে পরিচিত। আজ বাংলাদেশের ক্রান্তিকাল। আমরা উন্নয়নের পরিবর্তে অবনতির দিকে হু হু করে এগিয়ে চলছি। স্বাধীনতার তিন যুগ পরে আমরা দেখছি­ আমাদের পোশাক শিল্প ও বস্ত্রশিল্পসহ পণ্যের বাজারগুলো থাবা মেরে দখল করার জন্য অনেকেই উন্মুখ হয়ে বসে আছে। সংস্কৃতিকে দখলে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিদেশ ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াগুলো। অশ্লীল চলচ্চিত্রের বিস্তার নীল পর্দায়। অবক্ষয়ের শেষ প্রান্তে চলে যাচ্ছে যুব সমাজ। স্বাধীনতার সময় যা খুন হয়েছে, স্বাধীনতার পরবর্তী ৩৬ বছরে তার চেয়ে কম হবে না। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় ২ লাখ নারী ধর্ষিতা হয় বলে ধারণা করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের উচিত ছিল মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তায় যোগ্য ভূমিকা পালন করা। আমাদের দেশে যৌন উত্তেজক মাদক ইয়াবা তৈরি হচ্ছে। মিডিয়া ও পাঠ্যপুস্তক সন্তান না নিয়ে অথবা এইডস থেকে মুক্ত থাকা অবস্খায় কিভাবে ছেলেমেয়ের মিলন সম্ভব তার জন্য যুবসমাজকে উৎসাহ দিচ্ছে। বিয়ের আগে ছেলেমেয়ের মিলন যে সমাজজীবন ব্যবস্খার জন্য ক্ষতিকর- এ বিষয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ধর্ম বই ব্যতীত কোন পাঠ্যপুস্তকে উল্লেখ নেই। প্রতিমাসে ধর্ষণের শিকার নারীর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অনেকে মুখ খুলে বলেন, আবার লোক-লজ্জার কারণে অনেকে বলে না। যারা বলেন, তাদেরটাই আমরা দেখি মিডিয়াগুলোতে। বর্তমানে যে দুর্নীতি, ঘুষ, চোরাকারবারী, মাদক ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, একাধিক দল ও সংগঠন অনেক আগে তার সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। ছাত্রদের মাঝে ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তোলার কাজে অবদান রাখছে। যার কারণে একজন যুবক শুধু লোক-লজ্জার ভয়ে নয়, খোদার ভয়ে খুন-ধর্ষণ থেকে বিরত থাকে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়াও অপরাধ। তাই এ শিক্ষাও তাদের মধ্যে প্রবল থাকে। জাতির জন্য এরা সচেতন একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা পালন করে। ইদানীং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ঘিরে প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে ঢালাওভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বানানোর চেষ্টা চলছে। আজ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় ৩৬ বছর অতিবাহিত হতে চলছে। স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য দেশ গঠনের কাজ করাই শ্রেয়।
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×