হিন্দিতে পাকিস্তানি এক গায়ক কে ভালোবাসা জানাতে ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে দুঃখ প্রকাশ করে ডিলিট করে দিয়েছিলাম একটি মানুষ কে। পরবর্তীতে তার প্রতিক্রিয়া এরুপ-
সালাম।
পসিবলি আপনি আমার সিনিয়র হবেন। তাই ডিয়ু রেসপেক্ট নিয়ে ২টা কথা বলার ছিল।
recent আনরিলিজড সাত খুন মাফ মুভিটির একটি track আমার খুব ভাল লেগেছে। বিষয়টি ব্যাক্তিগত। অন্যদিকে Play for the Game 2011 Cricket World Cup Theme Song - (AKS featuring Various Artists) এর পাকিস্তানি vocal KAMRAAN AHMED এর চোখ দুটো ... ঠিক চোখ নয় তার দৃষ্টি ( তাকানোর ভঙ্গি) আমার খুব ভালো লেগেছে। এটিও নিছক ব্যাক্তিগত বিষয়। অতঃপর আমি ফেবুতে স্ট্যাটাস আপডেট করলাম...
**** ******
: darrrling! aankhon se aankhe charr karne do!! :@:@..........@Kamran Ahmed(pak)
যেটা কিনা
**** *****
: যে সব শহীদদের আত্ম-ত্যাগের বিনিময়ে আজ আশ মিটিয়ে বাংলায় কথা বলছি......অ, আ, ক, খ দিয়ে প্রাণভরে লিখছি..পড়ছি.....সে সব ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
স্ট্যাটাস্টি আপডেট এর বোধকরি কমপক্ষে ১৫ ঘন্টা পর ২য় স্ট্যাটাস্টি আপডেট করা হয়েছে।
আমার মনে হয় না একজন তরুনীর নিছক ব্যাক্তিগত অনুভুতি শেয়ারের কারনে ( একজন পাকিস্তানি vocal এর দৃষ্টি বা তাকানোর ভংগি ভালো লাগার ব্যাপারটি) আমাদের স্মমানিত শ্রদ্ধাস্পদ শহীদ ভাইয়েদের আত্মা ততোধিক কষ্ট পাবে যা কিনা আপনি পেয়েছেন। আমার মনে হয় না দেশের জন্য জীবন উতসর্গ করতে গিয়ে আমার ভাইদের পাকিস্তানিদের হানাদারদের মত একজন racist হতে হয়েছিল। দেশকে দেশের মানুষ কে ভালবাসতে গেলে কি racist হয়ে যেতে হয় ভাইয়া? আমি এখনো শিখছি। তাই না বুঝে ভুল করে ফেলতে পারি। অনিচ্ছাক্রত ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দঃখিত।
ভাল কথা শহীদ মিনারে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ছাড়াতো নিশ্চয়ই যাওয়া হয়?? ওইদিন টি ফুলে ফুলে বেদীটাকে ভরালেও অন্য দিনগুলোতে শৌধটার আশেপাশের নোংরা আবর্জনা দেখেছেন? আপনার কেমন লাগে জানি না তখন আমার খুব কষ্ট হয়। আপনার ও যদি কষ্ট হয়ে থাকে তাহলে শহীদ ভাইদের স্মমান রাখার জন্য তখন কি করেন ভাইয়া??
আমার বোন ফেলানী কে নিয়ে ওরা এত কিছু করলো। কই আমরা কি পেরেছি ভারতকে বাংলাদেশের মাটিতে এসে খেলা থেকে আটকাতে? তাদের সাথে বানিজ্যিক চুক্তি witdrw করতে পারি নাই! আমরা কি পেরেছি তাদের সব পন্য বরজন করতে?
আমার ভুল হয়েছে বুঝলাম। কারন হয়ত প্রতিটা মুহুর্তে বিবেককে জাগ্রত রেখে চলতে নাও পারতে পারি। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে আপনি একজন জাগ্রত বিবেক সম্পন্ন মানুষ। আপনার যদি সত্যি মনে হয়ে থাকে আমার ভুল হয়েছিল তাহলে সেটি শুধরানোর পরিবর্তে আমাকে friendlist থেকে delet করে দেয়াটা আপনার কাছে অত্যাধিক গুরুত্তপূর্ন মনে হয়েছে ভাইয়া??? একজন জাগ্রত বিবেকবান দেশপ্রেমিক হিসেবে আপনার জন্য কি আমার ভুল শুধ্রে দেয়াটা অধিক গুরুত্তপুর্ন ছিলনা?? ভুল শুধ্রে দেয়ার পর আপনি ১০ বার friendlist থেকে কেটে দিতেন। তাতে আমার আক্ষেপ থাকত না।
যাই হোক অনিচ্ছাক্রতভাবে আপনার অনুভুতিকে আঘাত করার জন্য আবারো আন্তরিকভাবে দুঃখিত। অনেক কথা বললাম। আঘাত করে থাকলে অথবা ভুল হলে ক্ষমা করবেন। ভাল থাকবেন।
পুনশ্চঃ আমি আসলেই আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। স্পেশালি এইজন্য যে আপনি আমাকে বুঝতে ভুল করেছেন, আমাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বললে আমি স্ট্যাটাস টি ডিলিট করে দিয়ে মাফ চেয়ে নিতাম। কিন্তু আমার কষ্ট এটুকুই যে আপনি লিবারালি ব্যাপারটি বিচার না করে আমাকে ভুল বুঝে ডিলেট করে দিলেন। আমার একটা 'ডাফ' এর মতো এক্টিভিটি আপনার অনুভুতিকে হার্ট করেছে বুঝতে পারছি, তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে আবারো কষ্মা চাচ্ছি, সরি!
আমার উত্তর ছিলো-
আপুনি,
একটা কথা কি, আমরা হই একদিনের বাঙ্গালী। একুশে ফেব্রুয়ারীতে আমরা বাঙ্গালী হয়ে যাই, তার পনের ঘন্টা পরেই আমরা আমাদের 'অঊকাত' এ ফেরত আসি! darrrling! aankhon se aankhe charr karne do!! বাংলার উপর হিন্দীর আগ্রাসন জানা ও বোঝার পরো আমরা নিজেরাই তার চর্চা চালিয়ে যাই, স্পেস দিয়ে দেই একটা ডিসকোর্সের যা হয়তো পুরোটাই সেই বিদেশি ভাষায়, যে ভাষা আমাদের গিলে খেতে চাচ্ছে।
খুব ঠিক এটা তোমার ব্যাক্তিগত একটি এক্সপ্রেশন। তবে সেটা একই সাথে আমার উপর ও প্রভাব ফেলে বইকি, যখন তুমি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে আছো। ঠিক সেখানেই আমার আপত্তি। আমি চাই না এমন কারো সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক রাখতে যে কিনা হিন্দিতে ভালোবাসা জানায় একটি পাকিস্থানি ছেলেকে! রেসিজমের কথা বলতে তুমি পারো, হ্যাঁ আমি রেসিস্ট। যখন জাতিগত ভাবে আমাদের পঙ্গু করে দেয়ার চক্রান্ত হয়, তখন সেই জাতির প্রতি আমার রেসিস্ট ঘৃণা ছাড়া আমার কিছু থাকে না। আরো জানতে চাইলে আমার এই লেখাটা পড়তে পারো-
'ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ইসলাম ও তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ'
জাতিগতভাবে, সংস্কৃতির দ্বারা যখন তারা আমার সাথে রেসিজম এর চুড়ান্ত করে, তখন আমি শুধু নিজের অবস্থান থেকে ঘৃণাই করতে পারি।
বাংলা ভাষার জন্য কি করেছি? আফসোস কিছু করতে পারিনাই, পারছি না কারণ তোমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে আছে হিন্দি, আছে পাকিস্থানি যুবকের প্রতি বাসনা। কার জন্য করবো? তোমাদের জন্য? ছোঃ!
আমি শহীদ মিনারে যাই না। গভীর রাতে ফুল দিয়ে আমার বাঙালীত্ব আমাকে প্রমান করতে হয় না। আমার বাঙালীত্ব আমার প্রাণে, আমার মনে। সেখানে আমার গরম রক্তের একেক টি ফোঁটাই অর্ঘ্য। পায়ের স্যান্ডেলের চাপে দলিত করে ধর্ষিত শহীদ মিনারে আমার কোন বাসি ফুলের ডালা পৌঁছুনো লাগে না।
"শুধরানোর পরিবর্তে আমাকে friendlist থেকে delet করে দেয়াটা আপনার কাছে অত্যাধিক গুরুত্তপূর্ন মনে হয়েছে ভাইয়া???"
কোনটি তোমাকে বেশি আঘাত করেছে? নিজেকে প্রশ্ন করো, তাহলেই বুঝবে।
ভালো থেকো। নিজের অবস্থান ও নিজের চেতনাকে সুদৃঢ় করো। ৩০ মিনিটের ইতিহাসের মাঝে বন্দী না থেকে নিজের শেকড় কে খুঁজে ফিরো, তবেই তোমার আত্মশুদ্ধি হবে।
তা না চাইলে আজই একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দিয়ো-
হায় হায়! শীলা কি জাওয়ানি
আফ্রিদি প্লীজ ম্যারি মি!
তার উত্তর-
ভাইয়া আপনার মেসেজের রিপ্লাইয়ে আমি অনেক অনেক তর্ক করতে পারতাম। কিন্তু তাতে বোধকরি আপনার বা আমার... আমাদের কারোরই খুব একটা লাভ হবে না। কারন বিশ্বাসেতে মিলায় বস্তু... তর্কে বহুদূর। আপনার বিশ্বাস ও বোধের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছি। অতঃপর ভালো থাকবেন। শুভকামনা।
প্রাসঙ্গিক একটি সংবাদ-
বঙ্গদেশের হিন্দি দর্শক
ন্যাশনাল মিডিয়া সার্ভে অনুযায়ী বাংলাদেশে টিভি দর্শকদের সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ১২ লাখ। এই দর্শকদের সবার বয়স ১৫ বছরের ঊধর্ে্ব। বাচ্চাদের গণনায় ধরা হয়নি। তবে ১৫ বছরের নিচের দর্শকের সংখ্যা কম নয়। সে হিসেবে দর্শক সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার কথা। এই বিপুল পরিমাণ দর্শক তাদের প্রতি ১০০ মিনিটের মাত্র ৩০ মিনিট দেখেন বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো। বাকি ৭০ মিনিট সময় তাঁরা বিদেশি চ্যানেল দেখে থাকেন। আশঙ্কার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশি চ্যানেল দেখার পরিমাণ কমছে। তাঁরা বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান দেখার পরিবর্তে বেছে নিচ্ছেন হিন্দি চ্যানেলের সিরিয়াল, সিনেমা, গান আর রিয়েলিটি শোগুলো। অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুর চেয়ে বাহ্যিক চাকচিক্যে মুগ্ধ বাংলার আকাশ সংস্কৃতির ভোক্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা চলতি পথে কান পাতলে শোনা যায় হিন্দি কথোপকথন। মার্কেটে ম্যানিকিন বলিউড নায়িকার পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকে।
বাংলাদেশে দেখা যায় এমন টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ২৭২টির মতো। এই চ্যানেলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি চ্যানেল মাত্র ১২/১৩টি। আরো কয়েকটির পরীক্ষামূলক প্রচার চলছে, যা অচিরেই সম্প্রচারিত টিভির তালিকায় যুক্ত হবে। এই বাংলাদেশি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান বাংলাদেশের দর্শকরা প্রতি ১০০ মিনিটের মাত্র ২৯.২০ শতাংশ সময় দেখেন। ভারতীয় হিন্দি ১৮.৭৮ শতাংশ, ভারতীয় বাংলা ৭.৫২ শতাংশ, ইংরেজি ৪.৫ শতাংশ এবং বাকি ৪০ শতাংশ অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখে থাকেন। এই ৪০ শতাংশের মধ্যে আরবি, ফার্সি, উর্দু, তামিল, রাশান, জার্মান, চাইনিজ, ফ্রেঞ্চ। ৪০ শতাংশের ব্যাপারটা আরো একটু ব্যাখ্যার দাবি রাখে। আমাদের দেশে টিভি অনুষ্ঠান মনিটর করা হয় একটা ডিভাইস দিয়ে। কেউ যখন চ্যানেল পাল্টায়, এই পাল্টানোর সময় সে হয়তো চায়নিজ কিংবা আরবি কোনো চ্যানেল পাল্টিয়ে গেল। কিন্তু চ্যানেলটি দেখল না। পাল্টানোর সময় ওই যে এক সেকেন্ড গেল, সেটাও ডিভাইস হিসেব রাখে। এভাবে ৪০ শতাংশ সময় এসেছে।
বাংলাদেশের টিভি দর্শকদের অনুষ্ঠান দেখার মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে। বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশি চ্যানেগুলোর দর্শক সংখ্যা বেশি থাকে। এ সময়ে চ্যানেলগুলোতে বাংলা সিনেমা দেখানো হয়। এ সময়ে হিন্দি ও অন্য চ্যানেলগুলোর দর্শক সংখ্যা বেশ কম থাকে। আবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা সময়কালে হিন্দি চ্যানেলগুলোর দর্শক সংখ্যা বেশি থাকে। এ সময়ে হিন্দি চ্যানেলগুলোতে সিরিয়াল ও রিয়েলিটি শো দেখানো হয়। তবে সন্ধ্যার সংবাদের সময়ও বাংলাদেশি টিভির দর্শক সংখ্যা বেশি থাকে।
হিন্দি সিরিয়াল ও সিনেমাবাহিত সংস্কৃতি আমাদের অন্দরে ঢুকে পড়েছে। মাঝেমধ্যেই সে তার নখ-দাঁত বের করে। এ নিয়ে আমাদের মিডিয়ায় আলোচনাও কম হয় না। কোনো কোনো আলোচনায় জাতীয়তাবাদের তীব্র আবেগও উথলে ওঠে। মুক্তবাজারের এই সময়ে দর্শকদের জাতীয়তাবাদের ধুয়া তুলে হিন্দি সিরিয়াল কিংবা সিনেমা দেখানো বন্ধ করা যাবে না। বরং আমাদের টিভি অনুষ্ঠানগুলোর দৈন্য দূর করে প্রতিযোগিতায় টিকেই নিজেদের সংস্কৃতির ধ্বজা তুলে ধরতে হবে।
http://dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Career&pub_no=440&cat_id=3&menu_id=77&news_type_id=1&index=4
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



